সংবাদ শিরোনামঃ

মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনের শাহাদাত ** মুজাহিদের বিরুদ্ধে সরকারের করা মামলার ইতিহাস ** দুই জাতীয় নেতাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা ** অপরাজিত শহীদ মুজাহিদ পরাজিত সরকার ** শহীদ মুজাহিদের কবরের পাশে অশ্রুভেজা জনতার ঢল ** প্রতিহিংসা চরিতার্থে মুজাহিদকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সরকার ** মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন মার্সি পিটিশন করেননি ** মুজাহিদকে হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতাল পালিত ** বিরোধী নেতাদের ফাঁসি রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াবে ** আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে ** একজন নির্দোষ মানুষকে হত্যার বিচার আল্লাহ করবেন ** দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে হবে ** ধাওয়া-খাওয়াদের খবর ** নতুন উদ্যোক্তা গড়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ ** শহীদ মুজাহিদের রক্ত এদেশের মাটিকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য উর্বর করবে ** প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন মুজাহিদ ** শাহাদাতের মৃত্যু গৌরবের **

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ অগ্রহায়ন ১৪২২, ১৪ সফর ১৪৩৭, ২৭ নভেম্বর ২০১৫

মুমিনের নিকট ঈমানের অপরিহার্য দাবি শাহাদাত। সৃষ্টির আদি হতে এ যাবতকাল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণহীন ধারাবাহিকতা, সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন সংঘাত, কল্যাণ ও অকল্যাণের রশি টানাটানি, আলো ও আঁধারের বৈপরীত্য সুন্দরের আরোহী কাঠিন্যতার প্রাচীর মাড়িয়ে ফুলের উৎসব অসুন্দরের আস্ফালন ও হীনতার অতল গহ্বরে পতন ঠেকাতে একজন মুমিনের সমগ্র জীবনের প্রকাশ জীবনাচার হবে শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত। তার জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়; হৃদয়ের আবেগ অনুভূতির প্রকাশ, সামাজিক তৎপরতায় অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি, সাংস্কৃতিক রুচিবোধ ও মননশীলতা, অবসর ও বিনোদন, শয়ন ও জাগরণ সব কিছুই বিপ্লবী ঘোষণা দেবে শাহাদাতের চূড়ান্ত- প্রত্যাশা, মুমিনের জীবন চলার প্রতিটি কদম, তাদের প্রতিটি স্পর্শ, চাহনীর প্রতিটি পলক, জিহ্বার প্রতিটি বুলি, লেখনীর প্রতিটি আঁচড়, ব্যয়ের প্রতিটি কপর্দক, সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত, রক্তের প্রতিটি ফোঁটা এবং হৃদয়ের সবগুলো অনুভূতি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করার জন্য থাকে সতত নিবেদিত। শাহাদাত শব্দের অর্থ হলো স্যা। এ থেকে শহীদ ও শাহেদ শব্দ এসেছে। শাহেদ মানে যে দেখেছে বা স্যা দিয়েছে। সাক্ষী সেই দেয় যে নিজে স্বচে দেখেছে। আশ-শাহিদ মানে আমি দেখার জন্য ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলাম, আমি নিজে দেখেছি, এভাবেই দেখা, স্যা দেয়া অর্থে শাহাদাত শব্দ ব্যবহার করা হয়। ইমাম রাগিব ইসপাহানী এবং অন্যান্য আরবী ভাষাতত্ত্ববিদ  শব্দটির অর্থ মোটামুটি একইরূপ লিখেছেন।

কেউ লিখেছেন শহদ মানে উপস্থিত হয়ে স্বচে দেখে কিংবা অন্তর দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করে স্যা দেয়া। আবার কেউ বলেছেন শাহাদাত হচ্ছে এমন জ্ঞান বা জ্ঞানের বিবরণ যা চোখে দেখে বা অন্তর দৃষ্টির মাধ্যমে অর্জিত হয়। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি শাহাদাত শব্দের অর্থের সাথে জড়িত রয়েছে নিম্নোক্ত শব্দগুলো : উপস্থিতি, জানা, দেখা, দর্শন, অন্তর্দৃষ্টি, জ্ঞান কিংবা (স্বচে অথবা জ্ঞান চু দ্বারা অর্জিত) জ্ঞানের বিবরণ বা স্যা প্রদান, মন মগজ ও বিবেক বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা প্রভৃতি।

কুরআনে শাহাদাত শব্দের অর্থ/ব্যবহার : আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার েেত্র প্রেরণাদাত্রী মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ভূমিকা অপরিসীম। শাহাদাত শব্দটি তাই ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্নভাবে। আমরা এখানে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত কয়েকটি আয়াত নিম্নে উপস্থাপন করছি :

ক) আদর্শের স্যা (নমূনা Model) অর্থে- “হে নবী। আমরা তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে।” (আল-আহযাব : ৪৫)

“আর এভাবেই আমরা তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মাহ করেছি, যাতে করে তোমরা মানব জাতির উপর সাক্ষী হতে পারো।” (সূরা বাকারা ১৪৩)।

“যেন রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন, এবং তোমরা গোটা মানব জাতির উপর সাক্ষী হতে পারো।” (আল-হজ্জ ৭৮)

খ) আল্লাহর পথে নিহত হবার অর্থে : “তোমাদের উপর এ দুরবস্থা এ জন্য চাপানো হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা এভাবে জেনে নিতে চান তোমাদের মধ্যে কারা সাচ্চা ঈমানদার এবং এইজন্যে যে তিনি তোমাদের কিছু লোককে শহীদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান।” (আলে-ইমরান : ১৪০)

“যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে ঐসব লোকদের সঙ্গী হবে যাদের নিয়ামত দান করা হয়েছে, তারা হলো-নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সালেহ, আর তাদের সান্নিধ্যই হলো উত্তম।” (আন নিসা : ৬৯)

গ) উপস্থিত থেকে স্বচে প্রত্য করা অর্থে :

“আর তাদেরকে শাস্তি দেয়ার সময় একদল ঈমানদার লোক যেন উপস্থিত থেকে প্রত্য করে।” (আল-নূর : ২)

ঘ) জ্ঞান, অবগতি ও জানা অর্থে :

“আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের উপর স্যা অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ে তিনি অবগত, তার জ্ঞানের বাইরে কোনো কিছু নেই।” (সূরা আহযাব : ৫৫)

ঙ) আদালতের স্যা অর্থেঃ

“আর যারা পবিত্র চরিত্রের নারীদের সম্পর্কে মিথ্যা দোষারোপ করবে অতঃপর (দাবির সপ)ে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারবে না তাদের আশিটি কড়া মারো এবং এ ধরনের লোকদের স্যা আর কখনো গ্রহণ করো না।” (আন নূর : ৪)

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায় বিচারের ধারক হও এবং আল্লাহর জন্যে সাক্ষী হও, তোমাদের এই সুবিচার ও স্যা যদি তোমাদের নিজেদের, তোমাদের পিতামাতার এবং তোমাদের আত্মীয় স্বজনদের বিপওে যায়।” (আননিসা : ১৩৫)

এমনি করে বহু জায়গায় আল-কুরআনে শাহাদাত শব্দের প্রয়োগ হয়েছে।

শাহাদাত ঈমানের অপরিহার্য দাবি : মুমিনের নিকট “শাহাদাত” ঈমানের অপরিহার্য দাবি। শাহাদাতের কামনা যদি কোন মুমিন জীবনে থাকে তাহলে সে আল্লাহর পথে লড়াইয়ে কোন সময় গাফেল হতে পারে না। কারণ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ছাড়া শাহাদাতের দ্বিতীয় কোন পথ নেই। একজন ভালো ছাত্র যেমনভাবে ফলাফলের প্রমাণ দেবার জন্য পরীক্ষা কামনা করে তেমনি একজন মুমিন শাহাদাতের মাধ্যমে বিজয়ী হবার জন্য বাতিলের বিরুদ্ধে হকের সংগ্রামে আপোষহীনভাবে লড়াই করে যাবে। আন্দোলনের কর্মকাণ্ডে বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যদি সে উৎসাহ পায় মৃত্যু অথবা অন্যান্য প্রতিকূলতা তাকে গাফেল করে না রাখে তাহলে বুঝতে হবে শাহাদাতের কামনা তার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহর পথে লড়াই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

“আল্লাহর পথে লড়াই করা কর্তব্য সেই সব লোকেরই যারা পরকালের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে দেয়, আল্লাহর পথে যে লড়াই করে ও নিহত হয়, কিংবা বিজয়ী হয়, তাকে আমরা অবশ্যই বিরাট ফল দান করব।” (আন নিসা :৭৪)

শাহাদাতের মর্যাদা : একজন মু’মিনের শাহাদাতের তামান্নায় সততঃ উজ্জীবিত, শাহাদাতের এই অমিয় সুধা পান করতে কেন এই তীব্র আকাক্সা? কেন জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও তার এই পরম চাওয়া-পাওয়ার শাহাদাত চানই? সব রকম নেকীর উপর আরেকটা নেকী থাকে। সকল কুরবানির উপরই কুরবানি আছে। সকল ত্যাগের উপরই ত্যাগ আছে। কিন্তু আল্লাহর পথে শহীদ হবার চেয়ে বড় কোন নেকী, এর চেয়ে বড় কোন ত্যাগ ও কুরবানি হতে পারে না, এটাই মানব জীবনের সকল নেকী ও পুণ্যের চূড়ান্ত শিখর। আর এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা শহীদকে অকল্পনীয় উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান দান করেন, শাহাদাতের এই দরজা নবুয়্যতের দরজার চেয়ে বড় না হলেও শহীদ হবার জন্য স্বয়ং নবীও তীব্র আকাক্সা পোষণ করেন। এ সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্যেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এবং বহু সংখ্যক হাদীসে বর্ণিত আছে শহীদদের মহা পুরস্কার ও সম্মান মর্যাদার ব্যাপারে। আমরা দেখব শাহাদাতের এ মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.) কী বলেন :

১। শহীদরা অমর : ইহলৌকিক এ জীবন থেকে শহীদরা বিদায় নিয়েও পৃথিবীতে তারা অমরত্ব লাভ করেন। আর পরজগতে যাওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা তাদের জীবিত করে নিজের মেহমান হিসেবে জান্নাতে থাকতে দেন। আলে-ইমরানের ১৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের মৃত বলো না, প্রকৃত পক্ষে তারা জীবন্ত, কিন্তু তাদের জীবন সম্পর্কে তোমরা অনুভব করতে পারো না।” (আল-বাকারা : ১৫৪) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, “তাদের প্রাণ সবুজ পাখীর মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে তাদের আবাস। ভ্রমণ করে বেড়ায় তারা গোটা জান্নাত, অতঃপর ফিরে আসে আবার নিজ নিজ আবাসে।” (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

২। শহীদরা নিহত হবার কষ্ট অনুভব করে না

আপন মালিককে সন্তুষ্ট করার জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে, দয়াময় মালিক তাদের শাহাদাতের আঘাতকে ব্যথাহীন বেদনাহীন করে দেন। শহীদ করার জন্য যতো বড় আঘাতই তাদের উপর হানা হোক না কেন, তাতে তাদের কোন কষ্ট হয় না। তারা পায় না কোন যন্ত্রণা। প্রিয় রাসূল (সা.) বলেছেন :

“শাহাদাত লাভকারী ব্যক্তি নিহত হবার কষ্ট অনুভব করে না। তবে তোমাদের কেউ পিঁপড়ার কামড়ে যতটুকু কষ্ট অনুভব করে, কেবল ততটুকুই অনুভব করে মাত্র।” (তিরমিযী- আবু হোরায়রা)

৩। শহীদের লাশ পচে না : মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিকের সূত্রে কুরতুবীতে আলোচিত হয়েছে এভাবে : হজরত ইবনে জামুহ (রা.) এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রা.) উভয় আনসার সাহাবীই উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। তাদের উভয়কে একই কবরে সামাধিস্থ করা হয়। এর চল্লিশ বছর পর একবার প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তাদের কবর ভেঙ্গে যায়। পানির প্রবল চাপ দেখে যখন অন্যত্র সমাধিস্থ করার জন্য তাদের কবর খনন করা হলো তখন তাদের ঠিক সে অবস্থায় পাওয়া গেল যে অবস্থায় তাদেরকে দাফন করা হয়েছিল। মুয়াবিয়া (রা.) তার শাসনামলে মদীনায় কূপ খনন করতে মনস্থ করলেন। কূপ খননের আওতায় উহুদ যুদ্ধের শহীদের কবর পড়ে গেল। মুয়াবিয়া (রা.) ঘোষণা দিলেন তোমরা তোমাদের আত্মীয় স্বজনের মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে যাও। এ ঘোষণার পর শবদেহ উঠিয়ে ফেলা হলো। দেখা গেল তারা যে অবস্থায় নিহত হয়েছিলেন ঠিক সেই অবস্থায়ই রয়েছেন। খনন কাজের কোন এক পর্যায়ে হজরত হামজার (রা.) পায়ে কোদালের আঘাত লেগে গেলে সাথে সাথে তা থেকে রক্ত রণ শুরু হয়। এ ঘটনা ঘটে উহুদ যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পর।

বস্তুত এসব ঘটনা দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে আল্লাহ তায়ালা শহীদদের লাশ পচতে দেন না।

৪। কিয়ামতের দিন শহীদরা তাজা রক্ত নিয়ে উঠবে

যে ব্যক্তি যুদ্ধ েেত্র শাহাদাত বরণ করেন তাকে রক্ত ভেজা কাপড়ে রক্তাক্ত দেখে কোন প্রকার গোসল ছাড়াই দাফন করা হয়। তাকে নতুন কাপড়ের কফিন পরানো হয় না। শাহাদাতের সময় তার দেহে যে কাপড় থাকে সে কাপড়েই তাকে দাফন করা হয়। শহীদদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান এটাই। এবং এ অবস্থায়ই তারা হাশরের ময়দানে উঠবে। তস্থান থেকে তখনও রক্ত বের হতে থাকবে। রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে কিয়ামতের দিন সেই আঘাত নিয়েই সে উঠবে আর তার তস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে এবং রং হবে রক্তের মতই, কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের মতো।” (বুখারী ও মুসলিম : আবু হোরায়রা (রা)। অন্য হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, নবী পাক (সা.) বলেন, “কসম সেই সত্তার মুহাম্মদের প্রাণ যার হাতের মুঠোয়, কেউ আল্লাহর পথে কোনো আঘাত পেলে কিয়ামতের দিন সে আঘাত নিয়ে হাজির হবে। আর সে আঘাতের অবস্থা হবে ঠিক মিশকের মতো” (বুখারী ও মুসলিম)। এটা শহীদদের কত বড় সৌভাগ্য যে, সে দিন তারা রক্তাক্ত দেহ এবং রক্ত ভেজা কাপড় চোপড় নিয়ে হাশর ময়দানে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে।

৫। কবর আজাব থেকে রেহাই এবং সুপারিশ করার অধিকার লাভ

মহান আল্লাহ শহীদদের জন্যে অসংখ্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের জন্যে নির্ধারিত মা, মর্যাদা ও বিরাট পুরস্কারের কথা শুনে কার না ঈর্ষা হবে? আমার প্রিয় রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নিকট শহীদদের জন্যে ছয়টি পুরস্কার রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে :

ক) প্রথম রক্ত বিন্দু ঝরতেই তাকে মাফ করে দেয়া হয় এবং জান্নাত যে তার আবাসস্থল তা চাুষ দেখানো হয়। খ) তাকে কবরের আজাব থেকে রেহাই দেয়া হয়। গ) সে ভয়ানক আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকে। ঘ) তাকে সম্মানের টুপি পরিয়ে দেয়া হবে, যার এক একটি ‘ইয়াকুত’ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকেও উত্তম। ঙ) তাকে উপঢৌকন স্বরূপ আয়ত নয়না হূর প্রদান করা হবে এবং চ) তাকে সত্তর জন আত্মীয় স্বজনের জন্যে সুপারিশ করার মতা প্রদান করা হবে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মেকদাম ইবনে মা’দীকরব)।

আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি শত্রুর সম্মুখীন হলো এবং তার মুকাবেলায় অটল অবিচল এমনকি এমন অবস্থায় নিহত হয়ে গেল তাকে কবরে কোন প্রকার চিন্তার সম্মুখীন হতে হবে না।” (তাবরানী)

৬। শহীদের জন্য রিযকে হাসানা ও সন্তোষজনক জান্নাত : শহীদের বিভিন্ন নিয়ামত এবং অনুগ্রহ রাজির ব্যাপারে আল কুরআনে বহু প্রমাণ মেলে। তাদের সুসংবাদের কোন শেষ নেই। আল্লাহ বলেন, “যে সব লোক আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, পরে নিহত হয়েছে কিংবা মরে গেছে আল্লাহ তাদেরকে রিযকে হাসানা দান করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ উৎকৃষ্টতম রিযকদাতা। তিনি তাদের এমন স্থানে পৌঁছাবেন যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।” (আল-হজ্জ : ৫৮-৫৯)

“তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মরে যাও তবে আল্লাহর যে রহমত ও দান তোমাদের নসীব হবে, তা এইসব লোকেরা যা কিছু সঞ্চয় করেছে তা থেকে অনেক উত্তম।” (আলে ইমরান : ১৫৭) যারা শাহাদাতের জযবা নিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে অতঃপর এ সংগ্রামে তারা শহীদ হোক কিংবা গাজী হিসেবে মৃত্যুবরণ করুক উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর নিকট থেকে তারা সমান প্রতিদান পাবে বলে এ আয়াতগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৭। শহীদদের জন্যে রয়েছে মহা পুরস্কার : মুজাহিদরা খোদাদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে শহীদ কিংবা গাজী উভয় অবস্থাতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের জন্য মহা পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। এই মহা পুরস্কার তারাই লাভ করবে যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে দেবার মতো সৎ সাহস রাখে। আল্লাহ ঘোষণা করেন

“সেইসব লোকদেরই আল্লাহর পথে লড়াই করা কর্তব্য যারা পরকালের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করে দেয়, যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং নিহত কিংবা বিজয়ী হয়। আমরা তাকে অবশ্যই বিরাট পুরস্কার দান করবো।” (আন নিসা : ৭৪)

সূরা আলে ইমরানে শহীদদের প্রাপ্য পুরস্কারসমূহ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন : “তাদের সকল অপরাধ আমি মা করে দেব। আর এমন জান্নাত তাদের দান করবো যার তলদেশে রয়েছে সদা প্রবাহমান ঝর্নাধারা; এ হচ্ছে আল্লাহর নিকট তাদের পুরস্কার আর আল্লাহর নিকট রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার।” (আলে-ইমরান : ১৩৬)

৮। আল্লাহর সান্নিধ্য এবং যা খুশি তাই পাবার অধিকার লাভ : কুরআন মজীদে বলা হয়েছে কোন দৃষ্টিই আল্লাহর দর্শন লাভ করতে সম নয়। কোন নবীও আল্লাহকে দেখতে পাননি কিন্তু শহীদরা মৃত্যুর পর পরই আল্লাহর দর্শন লাভ করেন। ওহুদ যুদ্ধে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম শাহাদাত লাভ করেন। যুদ্ধের পর রাসূল করীম (সা.) শহীদের পুত্র প্রখ্যাত সাহাবী হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেন, “হে জাবির, আমি কি তোমাকে তোমার পিতার সঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাক্ষাতের সুসংবাদ দেব না? জাবির বললেন অবশ্যই দিন হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বলেন ঃ আল্লাহ কখনো অন্তরালবিহীন মুখোমুখি কথা বলেন নি। তিনি বলেন ঃ হে আমার গোলাম তোমার যা খুশি আমার নিকট চাও। আমি তোমায় দান করবো।” তিনি জবাবে বলেছেন, “হে আমার মনিব। আমাকে জীবিত করে আবার পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন আবার আপনার পথে শহীদ হয়ে আসি।” তখন আল্লাহ তাকে বলেন, “আমার এ ফয়সালা তো পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি যে, মৃত লোকেরা ফিরে যাবে না।” তখন তোমার পিতা আরজ করেন, “আমার মনিব তবে অন্তত আমাকে যে সম্মান ও মর্যাদা আপনি দান করেছেন, তার সুসংবাদ পৃথিবীবাসীদের জানিয়ে দিন।” তখন আল্লাহ নিুাক্তে আয়াতটি নাজিল করেন।

“যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, তারা জীবিত।” (জামে আত-তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী ঃ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্)

৯। শহীদ পরিবারের গৌরব : তিরমিযী, ইবনে মাজাহ হাদীস গ্রন্থে মেকদাম ইবনে মাদীকরব বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) বলেছেন, “একজন শহীদকে তার সত্তর জন আত্মীয় স্বজনের জন্য সুপারিশ করার অধিকার দেয়া হবে।”

তাই আল্লাহ তায়ালা যদি কারো সন্তানকে শাহাদাতের মর্যাদা প্রদান করেন তবে তারা শহীদের পিতামাতা হবার গৌরব অর্জন করেন। তাদের জন্য এর চেয়েও খুশীর বিষয় হলো তারা তাদের শহীদ সন্তানের সুপারিশ লাভের আশা পোষণ করতে পারেন। একজন শহীদ যেমন তার বংশে, পরিবারে এক শাশ্বত ঐতিহ্য সৃষ্টি করে যান তেমনি আবার তার অনুসারীদেরকে ছাড়াও তার আপন বংশের লোকদেরকে চিরদিন জিহাদের জন্য অনুপ্রাণিত করে থাকেন। সুতরাং মুমিনদের দৃষ্টিতে শহীদ পরিবার অত্যন্ত সম্মানীয় এক আদর্শ পরিবার। শহীদের পিতা-মাতা মুমিনদের নিকট শ্রদ্ধাস্পদ, শহীদের সন্তান, স্ত্রী, ভাইবোন ও আত্মীয়-স্বজনকে সকল মুমিন নিজেদেরই আত্মীয়-স্বজন মনে করে। এসব দিক থেকেই শহীদ পরিবার গৌরবান্বিত।

১০। শাহাদাত উচ্চ মর্যাদার মডেল : শহীদের অফুরন্ত মর্যাদার আরেক বিশেষ দিক হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে শহীদদেরকে উচ্চ মর্যাদার এক বিশেষ মডেল হিসেবে নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করবে, সে ঐসব লোকদের সঙ্গী হবে, যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা নিয়ামত দান করেছেন। তারা হচ্ছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সালেহ লোকগণ। ...প্রকৃত অবস্থা জানার জন্যে আল্লাহর জ্ঞানই যথেষ্ট।” (নিসা : ৬৯-৭০)

এ আয়াতে পরকালীন উচ্চ মর্যাদার কয়েকটি স্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে -

অর্থাৎ (১) নবীগণের স্তর, (২) সিদ্দীকগণের স্তর, (৩) শহীদগণের স্তর, (৪) সালেহ বান্দাদের স্তর।

রাসূলে খোদা (সা.) নিজেও কিছু সংখ্যক লোককে উপরোক্ত লোকদের সাথীত্ব লাভে সম হবার সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। যেমনÑ একবার এক ব্যক্তি নবী পাকের (সা.) নিকট এসে বললো, “ওগো আল্লাহর রাসূল, আমি স্যা দিয়েছি আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, আমার মালের জাকাত পরিশোধ করি এবং রমজান মাসের রোজা রাখি।” তার বক্তব্য শুনে নবী পাক (সা.) বললেন, “তুমি যা বললে এর উপর কায়েম থেকে যে মারা যাবে কিয়ামতের দিন সে নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সাথে থাকবে” (মুসনাদে আহমদ, আমর ইবনে মুররাহ আল জুহহানী)। এখন আমাদের কাছে একথা পরিষ্কার হলো, শাহাদাত এমন একটি উচ্চ মর্যাদা, যে পর্যায়ে উপনীত হওয়া প্রকৃত ঈমানদার মাত্রেরই কাম্য। সিদ্দীক ও শহীদের চাইতে উচ্চ মর্যাদায় উপনীত হবার আর কোনো অবকাশই নেই। সুতরাং শাহাদাত উচ্চ মর্যাদার মডেল।

এ সব সম্মান ও মর্যাদার কারণেই সাহাবায়ে কিরামগণ শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করার জন্য ছিলেন সর্বদা ব্যাকুল, পাগলপারা। একটি ঘটনাই তার উজ্জ্বল নমুনা, একবার রাবী আবিবকর ইবনে আবী মুসা আশয়ারী (রা.) বললেন, “তারা দু’জনেই যুদ্ধের সময় উপস্থিত ছিলেন, রাসূল (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাগুলো তলোয়ারের ছায়াতলে।” একজন লোক দাঁড়িয়ে গেল যার কাপড়-চোপড় তেমন ছিল না, বললো, “হে আবী মুসা, রাসূল (সা.) কি বললেন শুনলেন তো? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনলাম। তো তারপর লোকটি বন্ধুদের কাছে গিয়ে বললেন, তোমাদেরকে সালাম দিয়ে যাচ্ছি। আর আসবো না।” তারপর তার তলোয়ারের খাপটা ভেঙ্গে ফেলে দিলেন। এরপর তলোয়ার নিয়ে দুশমনদের দিকে চললেন, তাদেরকে মারতে থাকলেন যে পর্যন্ত না তিনি নিহত হলেন। শাহাদাতের মর্যাদা পাওয়ার খাঁটি কামনা যারা করবে তাদের জন্য রাসূল (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন, “তারা বিছানায় মারা গেলেও আল্লাহ্ তাদেরকে সে মর্যাদা দান করবেন।”

উপসংহার : শাহাদাতের রক্ত আল্লাহ বৃথা যেতে দেন না। এটাই আল্লাহর বিনিময়। শহীদের উত্তরসূরীরা যখন সংগঠিতভাবে শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় তখন তাদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে পড়ে। স্বয়ং আল্লাহ্ বলেন, “মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।” বিংশ শতকের কর্মকান্ত সূর্য যখন পাশ্চাত্যের আকাশে বিদায়ের পটে, আমরা বিশ্ববাসী উৎসুক চোখে মহাসাগরের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করছি। পাশ্চাত্য সভ্যতার অহংকার বিশাল টাইটানিক সব কিছুসহ কালের অতল গহ্বরে বিলীন প্রায় অবস্থায় ক্যাপ্টেন টি.সি. ইলিয়ট বিশ্ববাসীকে জরুরি মেসেজ দিয়ে বলেছেন, ‘Pray for us now, we are at the time of our death’. “আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, বাঁচাও আমাদেরকে, আমরা মৃত্যুর দ্বারে।” গোটা মুসলিম বিশ্বও আজ যেন সন্দেহ, অবিশ্বাস, ভোগবাদ, নেশা ও যৌনাচারের এ ভয়াল সমুদ্র থেকে গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে ঘোষণা করছে কুরআনের সেই অমিয় বাণী- “হে মনিব, তুমি আমাদের এই জালিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে বের করে নাও।” এই মজলুম, যৌনাসক্ত, দিশেহারা পথিককে অপসংস্কৃতির গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে ডাস্টবিন থেকে তুলে এন হেরার রাজতোরণ দেখানোর দায়িত্ব নিতে হবে এমন একদল মর্দেমুমিনকে যারা ঈমানের চেতনায় তেজদীপ্ত এবং শাহাদাতের উদ্দীপনায় সদা উদ্বেলিত, আর যারা বাতিলের রক্তচুকে উপো করে উমার ফারুক, উসমান, হামজা, জাফর বিন আবু তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, হুসাইন, মুসাইয়্যিব, সাইয়্যেদ আহমদ ব্রেলভী, তিতুমীর, সালাহ উদ্দীন, ইবনে কাশিম, হাসানুল বান্নাহ, আব্দুল কাদের আওদাহ, সাইয়্যেদ কুতুব, আবদুল মালেক, সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব, জব্বার-এর মত ভুবন কাঁপানো সে ঘোষণা সদম্ভে উচ্চারণ করতে পারে, আল্লাহ্ তায়ালা কুরআন পাকে যেমন উল্লেখ করেন “হে প্রভু, আমরা তোমার উপর ঈমান আনলাম, আর শহীদদের কাতারে আমাদের নাম লিখে দাও।” বিশ্বজাহানের মালিকের কাছে সিজদাবনত চিত্তে আমাদেরও মুনাজাত, হে আল্লাহ! এই দিক ভ্রান্ত জাতির কণ্ঠে সত্যের অবিনাশী গান তুলে দিতে আমরাও শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করতে প্রস্তত। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।     [সংকলিত]

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com