ঢাকা শুক্রবার ১৯ ফাল্গুন ১৪১৮, ৮ রবিউস সানি ১৪৩৩, ২ মার্চ ২০১২

নিউইয়র্কের ‘ঠিকানা’ পত্রিকার প্রতিবেদন

আগামী নির্বাচনে হাসিনা সরকারের ভরাডুবির তথ্য ভারতের হাতে?

এনা, নিউইয়র্ক
ভারতকে অনেক কিছু দিয়েও তেমন কিছুই পেল না বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রত্যাশা ও গভীর আস্থা ছিল প্রতিবেশী ভারতের সাথে উন্নত সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। কিছু ক্ষেত্রে আলোচনাও হয়েছে এবং হচ্ছে। দু’-একটি ক্ষেত্র ছাড়া বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে আসেনি কিছুই। ভারত বাংলাদেশের সমস্যাগুলো অনিষ্পন্ন থাকায় তার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বৈরী প্রতিক্রিয়া ভারতে যতটা না হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের অস্তিত্বের জন্যই তা বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

এ সব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না-এমন তথ্য দিল্লি প্রশাসন জানতে পেরেছে বলে বুধবার ২৯ ফেব্রুয়ারি বাজারে আসা নিউইয়র্কের ‘ঠিকানা’ পত্রিকা তার শীর্ষ সংবাদে উল্লেখ করেছে।

‘আগামী নির্বাচনে হাসিনা সরকারের ভরাডুবির তথ্য ভারতের হাতে’ শিরোনামে প্রকাশিত এ সংবাদে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ বরাবরই ভারতের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু বলে পরিচিত। বিরোধী দল বিএনপির মতে, আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন সরকার শুধু তা-ই নয়, ভারতের স্বার্থকেই তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকেও তারা দায়ী করছে। ক্ষমতাসীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে বিরোধী দলের আক্রমণের ভাষা যতটা ক্ষুরধার, বাস্তবতা ততটা নয়। তবে সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা, মন্ত্রীর ভূমিকায় জনমনে এই ধারণাই স্পষ্ট হয়েছে, তারা ভারতের স্বার্থরক্ষা করার জন্যই যেন দায়িত্বপ্রাপ্ত। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা সাধারণভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। এর পাশাপাশি ভারত সরকারের ভূমিকা, তাদের সিদ্ধান্তহীনতা ও বিলম্বিত সিদ্ধান্ত সমস্যার ব্যাপকতাই সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ক্ষমতাসীন দল ও তার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আগামী নির্বাচনে সরকারের ভারত-তোষণ নীতিই হবে বিরোধী দলের সরকারবিরোধী প্রচারণার প্রধান বিষয়।

অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালে আজকের বিরোধী দল ভারতের সাথে বিদ্যমান কোনো একটি সমস্যারও সুরাহা করতে পারেনি। বরং পারস্পরিক আস্থা, অবিশ্বাসের মাত্রা আরো বাড়িয়েছিল। ভবিষ্যতে তারা যদি আবার ক্ষমতায় আসেও, সমস্যাগুলোর সমাধানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে সরকারের ব্যর্থতাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে তারা। এতে জনসমর্থনও পাচ্ছে। এ অবস্থাটা ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রীরা উপলব্ধি করতে না পারলেও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী বুঝতে পারছেন, সামনে সুসময় নয়। তাদের চেয়েও ভালোভাবে আঁচ করতে পারছেন ভারতের কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের প্রধান ড. মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। বাংলাদেশে সরকারের জনপ্রিয়তা যে হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে তাদের নির্মম পরাজয় হলেও বিস্ময়ের হবে না বলে তথ্য রয়েছে ভারত সরকারের হাতে। হাসিনা সরকারের প্রতি ভারতের অনমনীয় আচরণই যে হাসিনার ভাগ্য বিবর্তনের অন্যতম প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে, ড. মনমোহন তাও উপলব্ধি করছেন। ভারতীয় পত্রপত্রিকায়ও তাদের সরকারের বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আচরণের সমালোচনা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হাসিনা সরকারকে রাজনৈতিকভাবে উদ্ধারে সম্ভাব্য করণীয় কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

ভারত একের পর এক তার স্বার্থ আদায় করে নেয়ার বিষয়টি যতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে, বাংলাদেশের ন্যূনতম প্রয়োজনকে তারা সেভাবে দেখছে না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পরীক্ষামূলক আর কোনো পণ্য পরিবহণের সুযোগ দিতেও সরকার রাজি হয়নি। আসাম, ত্রিপুরার স্বার্থ এতে দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সব রাজ্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে যত দ্রুত সম্ভব সমঝোতায় আসার তাগিদ দিচ্ছে। তাদের জরুরি তাগিদ এবং বাংলাদেশ-ভারত উন্নত সম্পর্কের স্বার্থে তিস্তাচুক্তি সম্পাদন ও ছিটমহল বিনিময় চুক্তি মেনে নিতে মমতাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। ৩০ হাজার টন খাদ্যশস্য পরিবহনে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। মানবিক কারণে হয়তো সরকার তা বিবেচনা করবে। কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ বছরই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হবে। এ উপলক্ষে ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রীর সাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও ঢাকায় আসবেন। তবে সময়টা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী মোট প্রবাহের ২০ শতাংশ পানি নদীর জন্য রেখে অবশিষ্ট পানি ভারত বাংলাদেশকে আধাআধি হারেই দেবে। তবে এই ৪০ শতাংশ পানির পুরোটা তিস্তা সেচ প্রকল্পভুক্ত উত্তরাঞ্চলের মানুষ পাবে না। ২৫ শতাংশ পানি ভাটিতে বাংলাদেশকে দেয়া হবে, যা তিস্তা সেচ প্রকল্পে বাকি ২৫ শতাংশ গজলডোবা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রবাহিত তিস্তার ভারতীয় এলাকাতেই থাকবে। এখান থেকে দেমোহনী হয়ে ছোট কয়েকটি নদী, খাল দিয়ে বাংলাদেশে ছাড়া হবে। অর্থাৎ গজলডোবা থেকে উজানে ভারতীয় অংশে তিস্তার পানিপ্রবাহ থাকবে শতভাগ। বাংলাদেশ পাবে এর ২৫ শতাংশ। গজলডোবার পর বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ভারতের কোনো সেচ প্রকল্প নেই। নদীর ভূগর্ভস্থ পানি এবং আশপাশের নদী-খাল-বিলের পানি ও বৃষ্টিতে যে পানি তিস্তায় জমবে, তা থেকে চুক্তির অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশকে দেয়া হবে। অনাবৃষ্টি হলে তিস্তা-তীরবর্তী ভারতীয় অংশের ছোট ছোট নদী-খাল-বিল শুকিয়ে যাবে।

তিস্তার এই অংশেও পানির প্রবাহ থাকবে অনেক কম। চুক্তিমাফিক আধাআধি হারে অর্থাৎ এই ২৫ শতাংশ পানি পাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করবে প্রকৃতির ওপর। সবচেয়ে বড় কথা, গজলডোবা থেকে ২৫ শতাংশ হারে পানি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করবে না। এই সেচ প্রকল্প আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে। বগুড়া সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা কল্পনাই থেকে যাবে। দেমোহনী দিয়ে ভারত যে পানি বাংলাদেশে ছাড়বে, সেখানে কোনো সেচ প্রকল্প নেই। বাংলাদেশ ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। তবে এই হারেও পানি বণ্টনের ব্যাপারে মমতাকে চূড়ান্তভাবে রাজি করাতে মনমোহন সিংকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে এই চুক্তির বিরোধিতা না করতে মমতাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com