৭ বৈশাখ ১৪১৯, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৩, ২০ এপ্রিল ২০১২

মাহবুবুল হক

কল্যাণীয়াসু,

আসসালামু আলাইকুম।

তোমার শাহ সাহেব চাচার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়নি। আমাদের এই বন্ধু শাহ আব্দুল হালিম আজকাল প্রায় অসুস্থই থাকেন। মাত্র কিছুদিন আগে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলেন। বয়োবৃদ্ধজনিত নানা রোগের সাথে উচ্চরক্তচাপ তাঁকে  আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। চোখের রক্তচাপও নানামাত্রিক। মাঝে মাঝে কিছুক্ষণের জন্য দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন। শারীরিক এ অবস্থার মাঝেও দিন-রাত ইসলামের ব্যবহারিক দিক নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশ্চাত্যে ইসলাম ও মুসলিম জীবনের যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় এবং যে সকল বিষয় নিয়ে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করা হয়Ñ মূলত তাঁর গবেষণার উপজীব্য হলো সেসব বিষয়। যেমন, পর্দা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী স্বাধীনতা, বহুবিবাহ, সঙ্গীত, সহাবস্থান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নিবিড় ছাত্র ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সমাজের নানামাত্রিক বিষয়ের ওপর অসংখ্য গবেষণাপত্র তিনি তৈরি করেছেন। তিনি মূলত গবেষক। সাধারণ লেখক বা প্রবন্ধকার নন। সমসাময়িক বিষয়ের ওপর আলোচনার সূত্রপাত করলেও বক্ষ্যমাণ রচনাটির পরিসমাপ্তি ঘটে কালোত্তীর্ণ আবহে। কালের গণ্ডিতে তাঁর গবেষণা সীমাবদ্ধ থাকে না। মহাকালের দিগন্ত স্পর্শ করার মহীমায় তা চনমন ও সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অবশ্যই তাঁর গবেষণা কালজয়ী। ইংরেজি ভাষায় লেখেন বলে বাংলাদেশের মনীষায় তাঁর তেমন স্থান হয়নি অথচ বিশ্বের ইসলামী মনীষায় তাঁর স্থান অত্যুজ্জ্বল। প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় ওয়েব মিডিয়ায় তাঁর লেখার বিস্তার অনেক বেশি। তাঁর নিজস্ব ওয়েব সাইটে বিস্তর গবেষণাপত্র রয়েছেÑ যা সারা দুনিয়ার গবেষকদের অনুসঙ্গ যোগাচ্ছে। দেশ-বিদেশের যেসব বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেনÑ তার মূল লক্ষ্য হলো ‘ইসলামের বিজয়’। মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে তিনি বিজয়ের আসনে সমাসীন দেখতে চান। বহমান মানবতার সকল উৎকর্ষে ইসলাম যে একমাত্র আলোর স্তম্ভ তা’ তিনি নিজের মেধা, মনন ও পরিশ্রম দিয়ে বারবার কাল-মহাকালের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এই মহান বন্ধুটির সাথে আমাকে ১৯৬৯ সালে পরিচয় করে দিয়েছিলেন আমাদের আরেক মহান বন্ধু সানাউল্লাহ আখুঞ্জি। শাহ আব্দুল হালিম তখন মুক্তবুদ্ধি সাহিত্য সংঘের সভাপতি। বেশি ব্যস্ত থাকতেন শিশু সংগঠন শাহীন ফৌজ-এর কাজে। শাহীন ফৌজের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান এবং প্রধান পরিচালক ছিলেন বর্তমানে নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক কাজী শামসুল হক। শাহ সাহেবের আবাল্য বন্ধুদের মধ্যে শুধু ডা. শামসুদ্দৌলা ‘মুক্তবুদ্ধি’তে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যরা অর্থাৎ শহীদুল আলম (বর্তমানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মহাজাতক) কাজী মাহতাব উদ্দীন আহমদ (চেয়ারম্যান, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লি.) মুহম্মদ মুসা (ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক) পৃথকভাবে মৌসুমী সাহিত্যগোষ্ঠী গড়ে তুললেন। মুক্তবুদ্ধির প্রাণ ছিলেন সানাউল্লাহ আখুঞ্জি। শাহ সাহেবের নেতৃত্বে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সচল ছিল। এ সময়ে ‘নিবেদিতপ্রাণ অনির্বাণ নামে একটি অনবদ্য কবিতা সংকলন এবং কলকণ্ঠ নামে চারটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশিত হয়, যা সময়ের চেয়ে অগ্রগামী ছিল। মুক্তবুদ্ধি সঙ্গীত ও নাটক প্রযোজনা করেছিল। ইসলামী ঘরানায় যা ছিল সূচনার সামিল।

একটি দেশীয় ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরির পর সৌদী দূতাবাসে প্রায় ১৮ বছর চাকরি করেছেন আব্দুল হালিম। এ সময়ে দেশ, জাতি, আদর্শ ও জাতীয় রাজনীতির কল্যাণ ও মঙ্গলে অকান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি। দল-মত ও আদর্শ নির্বিশেষে এ দেশের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী মহল সেসব প্রশংসার  চোখে অবলোকন করেছেন। সৌদি-ইরাক যুদ্ধের পটভূমিতে কূটনীতির চাকরি ছেড়ে গবেষণায় মনোযোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে কিছুকাল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার দায়ভার তাঁকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে, ‘প্রফেশনাল লাইফ’ তিনি বজায় রাখতে পারেননি। উপার্জনহীন জীবন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অনেক কষ্ট দিলেও এই ত্যাগ ও তিতিক্ষা অবশ্যই বৃথা যায়নি। গবেষণার মাধ্যমে নিজের আদর্শ, দেশ, জাতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, চাকরিতে অবস্থান করলে এতো মহান ও বিশাল কাজ তিনি করতে পারতেন না। অনেকে মিলে একটি জায়গায় মলত্যাগ করলেও সে জায়গা বা স্থানটি উর্বর হয়ে ওঠে। কোনো কিছু উৎপন্ন হওয়ার জন্য স্থানটি তৈরি হয়ে যায়, হয়ও। আবার কেউ কোনো ক্ষেত্রে একাধারে ত্যাগ স্বীকার করলেও সেই ক্ষেত্রটি উৎপাদনের জন্য বা সৃজনশীলতার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ইসলামী গবেষণার ক্ষেত্রে আব্দুল হালিম অনেক অবদান রেখেছেন, শুধু এ কথা বললে তাঁর প্রতি সুবিচার করা হবে না, বলতে হবে তিনি এককভাবে নবতর মাত্রা সংযোজন করেছেন। ইসলামিক ইনফরমেশন ব্যুরো এবং পরবর্তীতে সেন্টার ফর ইসলাম এন্ড প্লুরালিজম নামে দু’টি থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করে গবেষণা ও মনন চর্চার ক্ষেত্রে নতুন আলো ফেলেছেন। বিদ্বেষ নয়, বিভক্তি নয়, বিভাজন নয়, সম্মিলিতভাবে বাঁচা, সুন্দরভাবে বাঁচা এবং শান্তি, স্বস্তি ও মুক্তির পথ আবিষ্কারের মধ্যেই তিনি অবগাহন করছেন। একক, স্বতন্ত্র এবং পৃথক সংস্কৃতি নয়, মিশ্র সংস্কৃতির মধ্যে আপন বিভায় তিনি উজ্জ্বল করতে চান বিশ্ববাসীকে। ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চান মানবজাতিকে। জাতি-জাতিতে বিরোধ দূর করে আপন আপন সংস্কৃতি নিয়ে সুখ ও শান্তির নিলয় তিনি গড়ে তুলতে চান। দল-মত-বর্ণ-ভাষা ও জাতি নির্বিশেষে পারস্পরিক প্রীতি ও প্রেমের  মাধ্যমে একটা সহাবস্থানের মধুর আলয় বানাতে চান গোটা বিশ্বকে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের মডেলটি তাঁর হাতে উজ্জ্বল মশাল হিসেবে দেদীপ্যমান।

সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মহৎ ও ত্যাগী এই ব্যক্তিটি বর্তমানে সেন্টার-এর কাউন্সিল ডাইরেক্টর্স-এর চেয়ারম্যান। গবেষণার পাশাপাশি সেন্টারটিকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্লোভ এই মানুষটির একরোখা সত্য কথন ও প্রতিবাদী রূপ অনেকে নিরীক্ষণ করেছে কিন্তু তাঁর অন্তঃসলীলা ফল্গুধারার মতো মনের নাগাল হয়তো অনেকে পায়নি। সততা ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অবিচল ও অটল এই মানুষটিও যে প্রেমময়, এই মানুষটিও যে ভালোবাসার কাঙ্গাল, আমরা ক’জন ছাড়া কেউ তা’ আঁচ করতে পারেনি। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ও মাৎসর্যের আবেষ্টনীমুক্ত এই মহান মানুষটির সুস্থতার জন্য আসো কায়মনোবাক্যে দু’আ করি। দু’আ করি আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মান ও মর্যাদা দান করুন। তোমার জন্যও রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ইতি।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com