রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবা করা। আর এ সেবা করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি থেকে শুরু করে হাজার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তারা রাষ্ট্র ও সরকার থেকে বিভিন্ন বিভাগ স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের কেউ কেউ অবহেলা করেন আবার কেউ কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করেন। এভাবে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ‘দেশের সব জায়গায় দুর্নীতি। বিচার প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি, কর আদায়কারী সংস্থা থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত এই দুর্নীতি বিস্তৃত।’
সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রণালয় হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক রয়েছে। আর সম্পর্কের কারণটা হচ্ছে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের যেকোনো কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অর্থ। এ অর্থ সরবরাহ হয় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। অপর দিকে সরকারের দুর্নীতির প্রধান উপাদানটি হচ্ছে অর্থ। তাই সঙ্গত কারণে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য যথাযথ। কিন্তু এ দুর্নীতি কমছে না বরং দিন দিন বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী দুর্নীতি কমানোর ব্যাপারে তার একটি মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আগামী দিনে দুর্নীতি কমিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে সবার আগে সরকার পরিচালনাকে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে হবে। দুর্নীতি কমানোর জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কথা তিনি বলেছেন। পাশাপাশি তিনি সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার কথা বলেছেন। আমাদের দেশে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে কিন্তু দুর্নীতি না কমে বরং বেড়েছে। অপর দিকে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার শুধু অভাব রয়েছে তা নয় বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে সবাই একমত দুর্নীতি কমাতে হলে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
আর এ জন্য দরকার সরকারের কর্তাব্যক্তিদের নৈতিকমানের উন্নয়ন। নৈতিক মানের উন্নয়ন সম্ভব ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ও অনুশীলনের মাধ্যমে। সর্বোপরি ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমেই সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দেশে দুর্নীতি কমাতে পারে। এটাই সর্বজনগ্রাহ্য পথ। আমরা আশা করি, সরকার তার কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মনোভাব তৈরি করতে ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, এ কামনা করি।
