খবরে প্রকাশ, পুলিশের হামলায় আহত যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির মারা গেছেন। গত ১৩ মে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে বিএনপির মিছিলে পুলিশের পূর্বপরিকল্পিত হামলায় হুমায়ুন কবির মাথায় গুরুতর আঘাত পান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পুলিশের ‘কৃতিত্বপূর্ণ’ কাজ এটিই প্রথম নয়, এর আগেও পুলিশের লাঠির আঘাত ও গুলিতে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী প্রকাশ্য দিবালোকে নিহত হয়েছেন। ক্রসফায়ার ও গুমের হিসাবের বাইরের এসব ঘটনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কখনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর হরতালের পিকেটিং বা মিছিলে নয় কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিলে অংশ নেয়ার ‘অপরাধে’ পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়ে প্রাণ দিয়েছেন। মিছিল-মিটিং করা একজন নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। সংবিধানপ্রদত্ত এ অধিকার রক্ষা করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। পুলিশ কোনো দলীয় ক্যাডার বাহিনী নয়, জনগণের অর্থে লালিত তাদের জানমাল রক্ষায় নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান। সরকারের রাজনৈতিক আশকারায় এ বাহিনী সকল প্রকার পেশাগত শিষ্টাচার ভুলে গেছে।
সম্প্রতি পুলিশের পানিকামানের আঘাতে আহত হয়ে নিহত হয়েছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজিজুর রহমান। তিনি শিক্ষকদের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেয়ার জন্য। তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের স্লোগান যেন প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছে তার শান্তিতে ব্যাঘাত না ঘটায় ‘আওয়ামী’ পুলিশ অতি দক্ষতার সাথে সেই কাজ করেছে, বিনিময়ে প্রাণ দিয়েছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক।
পুলিশ কর্তৃক জীবন নেওয়ার জন্য জনগণ সরকারি কোষাগারে টাকা দেয় না। কোনো গণতান্ত্রিক সরকার পুলিশকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করতে পারে না। ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য মিছিল, মিটিং, হরতাল করা সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। জনগণ যেন শান্তিপূর্ণভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে পারার মধ্যেই পুলিশের দক্ষতার পরিচয়। লাঠিপেটা করা বা গুলি করে নিরীহ মানুষ হত্যা করার ফলাফল কারো জন্য শুভ হয় না।
আমরা আশা করি, আজ যারা ক্ষমতায় আছেন তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন। পুলিশকে রাজনৈতিক কর্মীর মতো ব্যবহার বন্ধ করবেন।
