মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নির্বাচনী উত্তাপ
পরিবর্তনের হাওয়া দুর্বার হয়ে ওঠছে
॥ খন্দকার মহীউদ্দীন আহমদ॥
মালয়েশিয়ায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ২০১৩ সাল নির্বাচনী বছর হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো এখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ এপ্রিল নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আনোয়ার ইব্রাহিমসহ বিরোধী জোট নেতৃত্ব এক সমাবেশের উদ্যোগ নেয়। কুয়ালালামপুরের দাতারান মারদেকা স্বাধীনতা চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ঐ সমাবেশে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৩ লাখ লোকের জমায়েত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হলেও এর সমাপ্তি ঘটে পুলিশের বেপরোয়া টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও গুলি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। পুলিশের মারমুখী আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জোট নেতারা। স্বাধীনতা চত্বরে সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা অমান্য করে জোটের উদ্যোগে সেখানে বিশালাকার গণজমায়েতের আয়োজন বর্তমান সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি বিরোধী শক্তির শক্তিমত্তার প্রমাণ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার মত দেশে সচরাচর সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার এমন নজির খুবই কম। এদিকে সমাবেশে ভূমিকা রাখার জন্য বিরোধী জোট নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সমাবেশ অনুষ্ঠিত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার একটি উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এমনটি করা হলে তিনি আবারও সমস্যায় পড়বেন। সমকামিতার মামলা থেকে সসম্মানে খালাস পাওয়ার ৪ মাসের মাথায় আরেকটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হল। আনোয়ার ইব্রাহিম এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা লড়াই করব। এটি রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন। তিনি বলেন, নজিব আমার সাথে নির্বাচনে মুখোমুখি হতে ভয় পায়। আমি নজিবকে বলতে চাই, রাজনৈতিক বিরোধীদের ভীতি প্রদর্শন করতে পার্লামেন্টে পাস করা ত্রুটিপূর্ণ আইন ব্যবহার করবেন না। আনোয়ার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নজিব বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের ওপর সরকারকে উৎখাত করার এবং পুত্রাজায়া দখলের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, রাজধানী পুত্রাজায়া দখলের জন্য আয়োজকরা এই সমাবেশের ডাক দেয়। পুলিশের আইজি এই সমাবেশের মূল পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার শীর্ষ সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে, আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে সমাবেশে অংশগ্রণকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করে। পুলিশ বলছে, আনোয়ার সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সামনের দিকে চলার ইশারা দেন আর তাতেই হাঙ্গামা শুরু হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নেতাদের পুলিশের সাথে আলোচনা করার জন্য ইশারা করেছিলেন। এই ঘটনার পর ড. মোহাতের মোহাম্মদ অভিযোগ করেছেন বিরোধী দল মারদেকা স্কোয়ারকে ‘তাহরীর স্কোয়ার’ বানতে চেয়েছিল। মারদেকা স্কোয়ার তাহরীর স্কোয়ারে পরিণত হবে কিনা তাতো মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতিই নির্ধারণ করবে। তবে বাস্তবতা হল রাজনীতিবিদদের ওপর দমন নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে আর সরকার স্বৈরাচারী মনোভাব পরিত্যাগ না করলে মালয়েশিয়ার জনগণও মিসরের জনগণের ন্যায়ভিত্তিক তাহরীর স্কোয়ার আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হতে থাকবে। আর পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে আন্দোলন ভিন্নরূপও ধারণ করতে পারে। বিরোধী দলের সমাবেশে তিন লাখ লোকের জমায়েত তাও মালয়েশিয়ার মত একটি দেশে কোন স্বাভাবিক ঘটনা তো নয়ই এটা সরকারকে মানতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নজিব সরকার আনোয়ার ইব্রাহিমকে জেলেপুরে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার কথা ভাবছেন। এটা করা হলে সরকারের আরেকটি বড় ভুল হবে। মালয়েশিয়ার জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এখন অনেক বেশি সোচ্চার। বিরোধী দল চূড়ান্ত পর্যায়ে মারদেকা স্কোয়ারে জনসমাবেশ করার পূর্বে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের ১২টি স্থানে জনসমাবেশ করেছিল। ঐ সমস্ত জনসমাবেশেও জনতার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এতেই বুঝা যায় যে, রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল ও নির্বাচনমুখী।
স্বাধীনতার পর থেকেই বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর হাতেই মালয়েশিয়া শাসিত হয়ে আসছে। তারা ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার কারণে রাষ্ট্রের সবপর্যায়ে চলছে একদলীয় শাসন। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ, প্রেস মিডিয়া, নির্বাচন কমিশন সবই শাসক দলের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ডেপুটি চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দল আমানূর সদস্য। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কোনো অস্তিত্ব মালয়েশিয়ায় নেই। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কিছু প্রাপ্তির আশা করা যায় না। অর্থনৈতিকভাবে মালয়েশিয়া উন্নতির শিখরে পৌঁছলেও নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের কারণে রাজনৈতিক কালচারে মালয়েশিয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর ধারেকাছেও নেই।
ড. মোহাতের মোহাম্মদ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি এখনও রাজনীতির কলকব্জা নাড়াতে অভ্যস্ত। তা ছাড়া ক্ষমতাসীন দলকে তিনি এখনও নিয়ন্ত্রণ করার মত শক্তি ও সামর্থ্য রাখেন। আর ক্ষমতাসীনরাও নানা কারণে তার মূল্যায়ন করতে বাধ্য। মারদেকা স্কোয়ারের পরিস্থিতি সৃষ্টির পূর্বে প্রধানমন্ত্রী নাজিব জুন ২০১২তে নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি তার জনপ্রিয়তার খুব বেশি আস্থাবান ছিলেন। কিন্তু বিরোধী জোটের প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের পর পরিস্থিতি পাল্টিয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলেই বিভক্তি রয়েছে। কেউ কেউ আক্টোবর মাসে আর কেউ মেয়াদ পূর্তির পর নির্বাচন দেয়ার কথা বলছেন। ড. মোহাতের মোহাম্মদ মেয়াদ পূর্তির পর নির্বাচন করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং এখন আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা আর নেই। তিনি ক্ষমতাসীন দলকে আগে নিজের ঘর গোছাতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্কও করে দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আমানূরের অভ্যন্তরীণ কলহ বিবাদ মিটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচনের ফলাফল ভালো হবে না।
নির্বাচনকে সামনে রেখে মালেশিয়ার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। জোটের রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিরোধী জোট পাকাতন রাকায়েত (পিপলস ফ্রন্ট) নির্বাচনকে সামনে রেখে নানামুখী প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত রয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক রাজ্য সরকার গঠনে প্রথমবারের মত বিরোধী জোট বিপুল সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। ৫টি রাজ্যে বিরোধী জোট সরকার গঠনে সক্ষম হলে সরকারে অস্থিরতা দেখা যায় এবং জোটকে দুর্বল করতে সরকার নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রাখে। আনোয়ারের সংসদ সদস্য পদও বাতিল হয়। এরই মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিম সংসদীয় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে চাইলে মালেশিয়ার রাজনীতির নতুন অস্থিরতা ও চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হতেও দেখা যায়। সরকার পতনের মুখে না পড়লেও দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ পড়ে, ফলে সরকারও বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করে। আর এভাবেই কেটেছে কয়েকটি বছর। সরকার ও বিরোধী দলের কৌশল ও পাল্টা কৌশল মালেশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। প্রথম রাউন্ডে বিরোধী জোট সরকারকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই চাপ সামাল দিতে সরকারী দল হয়ত অপকৌশলের আশ্রয় নেবে। সরকারি দলের অগণতান্ত্রিক আচরণ সামাল দিতে বিরোধী দলকে অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তনের আভাস সুস্পষ্ট। জনগণও পরিবর্তনের পক্ষে। জনগণ এখন পরিবর্তন চাইছে বিরোধী দলকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তারা বিকল্প নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারণা অব্যাহত রেখেই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে হবে আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিরোধী জোটকে। বিরোধী দলের পক্ষে আমজনতা অবস্থান নিলেও সরকারি দল তা মানতে চাইবে না। তারা রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে অনৈতিক ও অরাজনৈতিক পন্থায় বিরোধী জোটকে শায়েস্তা করার অপকৌশলে লিপ্ত। সরকারের লক্ষ্য একটাই তা হল আনোয়ার ইব্রাহিমকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। আনোয়ার যতই জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছেন ততই সরকারের অস্থিরতা বাড়ছে। নজিব সরকার তাকে মালয়েশিয়ার রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করে থাকে। এখন তাকে আইন অমান্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। এটা সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থার মতই কাজ করে। স্বাধীন ও সভ্য দুনিয়ার বিচার বিভাগ বলতে যা বুঝায় মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে সেটা অনুপস্থিত। সুতরাং সরকারের পক্ষে রায় তাদের পক্ষে নেয়া কোনো কঠিন বিষয় নয়। তবুও বিরোধী দলকে আইনানুগ পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
এতকিছু করেও সরকারি দলে স্বস্তি নেই। আমানূর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সঙ্কট লেগেই আছে। নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে বিভক্তি ও বিভাজন সুস্পষ্ট। বাহির থেকে ড. মোহাতের মোহাম্মদ দলের কলকাঠি নাড়াচ্ছেন। মোহাতের মোহাম্মদের ভিত এতটাই মজবুত যে এক সময়ে তিনিই প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বাদাবীকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। বাদাবী উপ-প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজ্জাকের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেন। এই মুহূর্তে নজিবের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও দলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আমানূর শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা উপ-প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তারপর রয়েছেন মোহাতের পুত্র মুখরেজ মাহাতির। আব্দুল্লাহ বাদাবী প্রধানমন্ত্রী না হলেও দলের ভিতর শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। আমানূরের পরবর্তী কনভেনশনে দলের মধ্যে নেতৃত্বের জন্য ত্রিমুখী লড়াইর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাদাবী নজিব ও মহিউদ্দিন ইয়াসিনের ত্রিমুখী লড়াইয়ে দল এখন কোণঠাসা। তার দলের সংহতি ধরে রাখতে তিনি এখনও সক্রিয় রয়েছেন। মোহাতের মোহাম্মদ তিনি নজিব রাজ্জাক, মহিউদ্দীন ইয়াসিন ও পুত্র মুখারেজ মোহাতেরকে পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন।
এদিকে বিরোধী জোট পিপলস ফ্রন্টও নির্বাচনী হিসাব নিকাশে ব্যস্ত। তাদেরকেও নানামুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এ মুহূর্তে সরকারের বড় টার্গেট আনোয়ার ইব্রাহিম। সরকারের আজ্ঞাবহ বিচার বিভাগ দিয়ে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার পথে সরকার এগিয়ে গেলে রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়বে। বিরাধী জোট নেতৃত্বকে জেলে পুরে পরিস্থিতি দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টির পথ পরিহার করা উচিত। বিরোধী জোটের সমাবেশের জবাবে সরকারি দলের ৬ মে’র সমাবেশে লোক সমাবেশ ছিল কম। বিরোধী দলের সমাবেশে লাঠিপেটা হলেও সরকারি দলের সমাবেশ পুলিশকে নিরাপত্তা দিতে দেখা গিয়েছে। জনমত সরকারের পক্ষে প্রমাণ করতে চাইলেও সরকারের সে উদ্যোগে বিপরীতমুখী অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। তবে রাজনীতিতে দু’একটি রাজনৈতিক সমাবেশই শেষ কথা নয়। মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মালয় ও চীনা ভাষাভাষী ছাড়াও ধর্মীয় সংখ্যালঘু অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও পরিবর্তন প্রত্যাশী। এখন প্রয়োজন যুগোপযোগী যোগ্য, সৎ ও নির্ভীক নেতৃত্ব। আনোয়ার ইব্রাহিম পরিবর্তন প্রত্যাশীদের সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন কিনা তা দেখতে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক।
Email : mohi_ahmad15@yahoo.com
