ঢাকা শুক্রবার ১ আষাঢ় ১৪১৯, ২৪ রজব ১৪৩৩, ১৫ জুন ২০১২

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেবার আহ্বান জাতিসংঘের, ঢাকার ‘না’

সাগরে ভাসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা

সাগরে ভাসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা

ফেরদৌস আহমদ ভূঁইয়া : মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংস পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। থেমে থেমে চলছে রাখাইন-রোহিঙ্গা সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে সেনাবাহিনী। গত কয়েকদিনে আসা আহত শরণার্থীদের অনেকেই এমন বুলেটে বিদ্ধ হয়েছেন, যেগুলো মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীগুলো ব্যবহার করে বলে স্থানীয় পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপ জানিয়েছে। এদিকে সংঘর্ষ বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি সামাল দিতে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি কিনটন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, দেশটি যেন মিয়ামনমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতার পরিপ্রেেিত পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ায় কয়েকশত রোহিঙ্গা মুসলমান গত কয়েকদিন ধরে সাগরে ভাসছে। আরাকানে রাখাইনদের সন্ত্রাসী হামলায় এসব মুসলমান জীবন বাঁচাতে নৌকায় করে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে আশ্রয়ের জন্য আসে। কিন্তু বিজিবি ও কোস্টগার্ড তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়ায় নৌকায় করে সাগরে ভাসছে অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলমান।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সঙ্কটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেতা ও এনএলডি প্রধান অং সান সু চিও সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিগত এ দাঙ্গায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করায় সরকারের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এদিকে, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার জের ধরে পালিয়ে আসা কমপে ৬টি নৌকাভর্তি শরণার্থীকে সীমান্ত দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তরী বাহিনী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ করতে দিতে বিশেষ করে সহিংসতায় যারা আহত হয়েছে তাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্স।

গত মাসে এক রাখাইন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর গত সপ্তাহে যাত্রীবাহী একটি বাসে হামলায় সংখ্যালঘু ১০ মুসলিম রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এরপর গত ৮ জুন শুক্রবার রাখাইন প্রদেশের মুয়াঙদাওয়ে রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যে সংঘর্ষ দাঙ্গায় রূপ নিলে আরো হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে প্রদেশের রাজধানী সিটো, শহরতলী বুথিদাঙ্গ ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে চলছে রাষ্ট্রীয় দমনাভিযান

চট্টগ্রাম থেকে বার্তা ২৪ ডটনেট খবর দিয়েছে যে, গত কয়েকদিনে আসা আহত শরণার্থীদের অনেকেই এমন বুলেটে বিদ্ধ হয়েছেন, যেগুলো মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীগুলো ব্যবহার করে বলে স্থানীয় পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপ জানিয়েছে। শরণার্থীরা বলছেন যে, মিয়ানমারের সীমান্তরী ‘নাসাকা’ বাহিনী ও পুলিশসহ নতুন করে মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যরা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর গুলি চালাচ্ছেন। গত রোববার রাষ্ট্রপতি থেন সেইন প্রদেশটিতে জরুরি সামরিক আইন জারি করার পর সেনা মোতায়েন করা হয়। তাছাড়া সবসময় মোতায়েন থাকা নাসাকা বাহিনীও বরাবরের মতোই রোহিঙ্গাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করছে।

গত ১২ জুন মঙ্গলবার চট্টগ্রামে যে শরণার্থী মারা গেছেন, তার নাম কালা হোসেন? পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মিয়ানমার থেকে আসা এই ব্যক্তি। আহতাবস্থায় কালা হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি গত ৮ জুন মিয়ানমারের মংডু শহরে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত হন। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের এই শহর থেকে আহত অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেন তিনি। নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে আরো দুই গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শরণার্থী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, তার মাথায় গুলি লেগেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের এমন ধারণার সমর্থনে তথ্য দিয়েছেন আরাকানের বুথিডংভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী ও ব্লগার বা সেইন। তিনি জানিয়েছেন, গত ৮ জুন শুক্রবার মংডু শহরে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ওপর গুলি চালায় সরকারি বাহিনী। আহতদের মধ্যে শুধু রোহিঙ্গারাই নন জাতিগত বার্মিজ মুসলমানরাও ছিলেন। অন্য কয়েকটি অনলাইন ভিত্তিক বিকল্প সংবাদমাধ্যমের বরাতে বা সেইনে জানাচ্ছেন, শুক্রবারের আগেও উত্তেজনা মূলত ছিল পুলিশ ও মুসলমান সংখ্যালঘুদের মধ্যে, রাখাইনদের সঙ্গে নয়।

মিয়ানমারের আশ্রয়প্রার্থীদের বাংলাদেশে

ঢুকতে দেবার আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, দেশটি যেনো মিয়ামনমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়।

এর আগে মিয়ানমারে মুসলমান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চলমান সহিংসতার জের ধরে পালিয়ে আসা কমপে ছটি নৌকাভর্তি শরণার্থীকে সীমান্ত দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরী বাহিনী বিজিবি।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, “দুই সীমান্তেই নিজ নিজ দেশের বাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। অল্পসংখ্যক শরণার্থীই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে।”

তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি, তারা যেনো যতটা সম্ভব সীমান্ত শিথিল রাখে। আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়। বিশেষ করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে যারা আহত হয়েছে।”

একজন বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণের জের ধরে রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ-মুসলমান দাঙ্গা বাধে। এ ঘটনায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭।

এরই মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘ ওই অঞ্চল থেকে সংস্থাটির কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করছে। -বিবিসি

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ও বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় আরাকানে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার মধ্যে গত সোমবার আরাকান থেকে ফেরত আসা ৫৫ বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী মংডু শহরাঞ্চলেই তারা কমপে শতাধিক লাশ দেখেছেন। তবে দেশটির সরকারি হিসাবে গত শুক্রবার থেকে মৃতের সংখ্যা কমপে ২৫। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ‘ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি’। রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করা সংগঠন, ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’এর দাবি হচ্ছে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা কয়েক ডজন।

গত ১২ জুন মঙ্গলবার চট্টগ্রামে যে শরণার্থী মারা গেছেন, তার নাম কালা হোসেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মিয়ানমার থেকে আসা এই ব্যক্তি।

আহতাবস্থায় কালা হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি গত ৮ জুন মিয়ানমারের মংডু শহরে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত হন। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের এই শহর থেকে আহত অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেন তিনি।

আরাকান প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় গৃহহারা বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার জন্য এলে কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্টগার্ড ও বিজিবির ধাওয়ার মুখে নৌকা ও ট্রলারে করে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থান করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, দেশটি যেন মিয়ামনমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকার আরাকান প্রদেশে (রাখাইন) রোববার রাত থেকে সামরিক আইন জারির পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রদেশটি থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা নৌকায় ও ট্রলারের করে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাবে বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সহিংসতার পরিপ্রেেিত পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেবে না বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “এটা আমাদের স্বার্থ নয় যে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে শরণার্থী আসুক।”

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানানোর খবরের প্রেেিত এ কথা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে ইউএনএইচসিআর থেকে এ ধরণের কোনো আহ্বান আসেনি বলে দাবি করেন দীপু মনি।

বিবিসি বাংলা জানিয়েছিল, মিয়ানমার সহিংসতার পরিপ্রেেিত রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নতুন করে অনুপ্রবেশ না করতে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক শরণার্থী আছে। অবৈধভাবেও অনেকে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এমনিতেই বেশি। মিয়ানমারের শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের ফলে সামাজিক, পরিবেশগত ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়ে।”

বাংলাদেশের মিয়ানমারের যেসব শরণার্থী আছে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে উল্টো আলোচনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ। সেখানে কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়ায়।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাস প্রধানের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব ও দণি এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক আলোচনা করেছেন। মিয়ানমারে বাংলাদেশের দূতাবাসও সে দেশের কর্তৃপরে সার্বণিক যোগাযোগ রাখছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সীমান্তে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীকে সতর্ক রাখার কথা বলেছে।

রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলায় ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের মধ্যে শুক্রবার দাঙ্গা শুরু হয়। এ সহিংসতার জের ধরে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করার সময় সোমবার রোহিঙ্গাদের নৌকা ফিরিয়ে দেয় সীমান্তরী বাহিনী বিজিবি।

প্রায় দুই দশক আগে থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখনো প্রায় ২৫ হাজার নাগরিক টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও অনেকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়।

বাংলাদেশের প থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও তথ্য রয়েছে।

বহু জাতি ও সম্প্রদায়ের দেশ মিয়ানমারের বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী আরাকান প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানদের নাগরিক স্বীকৃতি নেই দেশটির সংবিধানে। প্রদেশটিতে জাতিসংঘের ভাষায় ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’ মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের চলাফেরার ওপর সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রাখে। দেশটির প্রশাসন প্রায়ই এদের ‘বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী’ বলে প্রচারণা চালায়।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠাপোষকতায় দমন-পীড়ন সহ নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। সেই থেকে কয়েক দফা’য় বাংলাদেশ ও থ্যাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নেয়। এখনো ২ লাখের মত শরণার্থী চট্টগ্রাম বিভাগে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সংখ্যাগুরু বার্মিজ সামরিক জান্তার অধীনে মিয়ানমারের অন্যান্য অবার্মিজ জনগোষ্ঠীÑ শান, কাচিন, কারেনরাও নির্যাতিত হলেও বৌদ্ধ ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ও পরিধি অনেক বেশি বলে দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের।

মিয়ানমার সামরিক শাসনাধীনে ছিল টানা ৫ দশক। এ সময় বিরোধী রাজনীতি দমনের পাশাপাশি জাতিগত দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকত। সেনা সমর্থিত বর্তমান বেসামরিক সরকারের জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য গড়ে তোলার অঙ্গীকার দেশটিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিল। রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কল্যাণে যখন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছেও মিয়ানমার গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে ঠিক সে সময়ই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আবারো দেশটিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ওই প্রদেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com