বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গত শনিবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে রাজধানীতে বিােভ মিছিল বের করা হয়
সোনার বাংলা রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে দলীয় তদন্ত সংস্থা, বিতর্কিত আইন, সাজানো সাী দিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যোগসাজশে অভিযোগের ভিত্তিতে জনপ্রিয় জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের আয়োজন করেছে। যে আইনে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে কথিত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে দেশী-বিদেশী আইনজ্ঞ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ আইনকে কালো আইন বলে আখ্যা দেয়ার পরও সরকার একগুঁয়েমির মাধ্যমে কথিত বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার ওপর এ ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ আর দ্বিতীয়টি দেখা যায় না। মূলত সরকার কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে নিজেরাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে। তিনি বিচারের নামে তামাশা বন্ধ করে অনতিবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ঈদের আগেই নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় ঈদের পরে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করা হবে বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন।
গত ১৪ জুলাই ঢাকা মহানগরী জামায়াত আয়োজিত বিােভ মিছিলের পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিােভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ ফরিদ হোসাইন, আব্দুস সবুর ফকির, শ্যামপুর থানা আমীর আ জ ম রুহুল কুদ্দুস, কদমতলী থানা আমীর শাহাদাত হোসেন হেলাল, সুত্রাপুর থানা আমীর এ বি এম সাইফুল্লাহ, গেন্ডারিয়া থানা আমীর আব্দুল জববার, যাত্রাবাড়ী থানা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী দেিণর সভাপতি মাইনুদ্দীন মৃধা প্রমুখ। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গত শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিােভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সেলিম উদ্দীন বলেন, এ সরকার ইতোমধ্যেই বিশ্ব বেহায়া সরকারে পরিণত হয়েছে। নিজেরা দুর্নীতি করে অপরের ওপর দায় চাপাতে তারা মোটেই কসুর করছে না। সরকারের ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর সরকারের ন্যূনতম সৌজন্যবোধ থাকলে পদত্যাগ করতো। অথচ সরকার নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর জন্যই এখন বিশ্বব্যাংককেই দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে দেশকে কূটনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলে দেশের মানুষের সাথে প্রকারান্তরে ধোঁকাবাজি করছে। আসলে তারা বিশ্বব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে ব্যর্থ হয়ে এখন হতদরিদ্র জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারি করার জন্যই দেশী অর্থে সেতু নির্মাণের স্বপ্নবিলাসে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের সে দুরভিসন্ধি কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি দুর্নীতি ও ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদেরকে জনতার রুদ্ররোষে পড়তে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন। স্বাধীনতার পর থেকে সকল সংসদেই জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল ও বর্তমান সংসদেও আছে। অথচ সরকার জামায়াতকে তাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তারা রাজপথে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারছে না। অথচ জামায়াত সকল গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের রাজপথের অগ্রসৈনিক। কিন্তু সরকার তাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন ও বাকশালী রাজত্ব কায়েম করেছে। সংগ্রামী জনতা ইতোমধ্যেই জাগ্রত হতে শুরু করেছে। জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোনো আদর্শকে উচ্ছেদ করা যায়নি এখনো যাবে না। ইতিহাসে কোনো স্বৈরাচারের শেষ রা হয়নি, এদেরও হবে না। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সরকারকে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান, অন্যথায় সচেতন জনতা সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- আওয়ামী বলয়ে অদৃশ্যমান তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব
- পদ্মা সেতু : ঋণ বাতিলে ১২ প্রশ্ন, বিশ্বব্যাংকের জবাব
- নির্যাতন করে আদর্শবাদী দলকে দমানো যায় না : শিবির সভাপতি
- রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা
- গোলাম আযমের জামিন আবেদন খারিজ
- কারা পুড়েছে এমসি কলেজ হোস্টেল মন্ত্রীকে জানালেন এক ছাত্রলীগ কর্মী
- গাজীপুরের উপনির্বাচনে যাবে না বিএনপি
