খোশ আমদেদ মাহে রমজান! মুসলিম উম্মাহর প্রশিক্ষণের মাস রমজান সমাগত।
ইসলামের পাঁচটি মৌলিক ইবাদত বা রুকনের মধ্যে সিয়াম বা রোজা তৃতীয়। সুস্থ সবল প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম বা রোজা পালন ফরজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেনÑ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। তাকওয়া শব্দের সরল অর্থ আল্লাহভীতি। আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য। এই ইবাদত বা উপাসনা আমরা কিভাবে করবো, সেই গাইড লাইন তিনি দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন পবিত্র রমজান মাসের শবে কদরের রাতে। আল্লাহভীতির সাথে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি করার মাধ্যমে একজন মানুষ কামেল ইনসান বা সত্যিকারে মানুষে পরিণত হয়, এতে তার মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে।
আমরা জানি, মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষরা কখনো অন্যায় বা পাপাচারে লিপ্ত হন না। দুনিয়ায় সত্যিকারে শান্তির ফল্গুধারা প্রবাহের জন্য প্রয়োজন আল্লাহভীরু মানুষ। শুধুমাত্র আইনের শৃঙ্খলে বেঁধে কাউকে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখা যায় না, যদি তার মাঝে আল্লাহভীতি না থাকে।
সাওম পালনের ফলে মানুষ সর্বাধিক ত্যাগ-সংযম-ধৈর্য ও কষ্টসহিষ্ণুতার গুণাবলি অর্জন করে। শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, আত্মিকসহ সকল ক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটে।
মাহে রমজানুল মুবারক বরকত, রহমত, গুনাহ-খাতা মাফ ও দোয়া কবুলের মাস। প্রত্যেক মোমিন বান্দার উচিত এ মাসের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া। দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে রোজাদারকে কষ্ট না দিয়ে, বেশি বেশি সওয়াব হাসিলের প্রতিযোগিতা করা।
আসুন, আমরা তাকওয়া অর্জনের প্রশিক্ষণের এ মাসের মর্যাদা রক্ষা করি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে নিজের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাই।
