ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১২, ৫ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৯ শাবান ১৪৩

সাগরে জাল ফেলে ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলেরা হতাশ

বরিশালের মোকামগুলোয় মহাজন ও জেলেদের হাহাকার
বরিশাল থেকে সংবাদদাতা : মাঝে ক’দিন উদার থেকে আবার ঝাঁপি বন্ধ করেছে খেয়ালী প্রকৃতি। হঠাৎ করেই ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে নদী ও সাগর। শূন্য হাতে তীরে ফিরছে মাছ ধরার নৌকা-ট্রলার। খরচের টাকাও উঠছে না মহাজন আর জেলের। লোকসান এড়াতে শত শত ট্রলার ঘাটে বেঁধে রেখেছেন মালিকরা। এতে আবারও বেড়ে গেছে ইলিশের দাম। আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে মাছের রাজার মূল্য। ইলিশের এ সঙ্কটে জটিলতায় পড়েছে উপকূলের অর্থনীতি। ব্যাংকগুলোতে কমে গেছে নগদ অর্থের প্রবাহ। উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে কয়েকশ’ বরফকলের। সেই সঙ্গে নিম্নমুখী বরফের দাম। বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার জেলে। থেমে গেছে মোকামগুলোর কর্মচাঞ্চল্য। জেলেপাড়ায় ছায়া ফেলেছে অভাবের থাবা।

৭০ হাজার টাকার তেল, বরফ আর খাবার নিয়ে বৃহস্পতিবার আলীপুর থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায় মহিপুরের মালেক মিয়ার ইলিশ ট্রলার এফবি জাহাঙ্গীর। ৬ দিন সমুদ্রে থেকে মঙ্গলবার রাতে তীরে ফেরে সেটি। ধরা পড়া মাছ বিক্রি করে ২৮ হাজার টাকায়। একই ঘটনা ঘটে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা কাজল আকনের ট্রলার এফবি জান্নাতের েেত্র।

মাছ ধরতে শুক্রবার সাগরে যায় জান্নাত। জেলেদের খাবার, তেল আর বরফ বাবদ ব্যয় হয় ৩০ হাজার টাকা। ৬ দিন সাগরে থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকার মাছ নিয়ে তীরে ফেরে ট্রলারটি। বুধবার রাতে তা বিক্রি হয় আলীপুর বাজারে। মহিপুর-আলীপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আকালের কারণে অনেকেই এখন আর ট্রলার সাগরে পাঠাচ্ছে না। ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৯ হাজার টাকার ইলিশ নিয়ে ফিরেছে এফবি মায়ের দোয়া। লোকসানের মুখে সেটিকে আর সাগরে পাঠায়নি মালিক গলাচিপার আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে মহিপুরে ঘাটে বাঁধা আছে সেটি। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘গত মাসের শেষের দিকে উদার হয়েছিল প্রকৃতি। সাগর এবং নদী মোহনায় ধরা পড়ে বিপুল ইলিশ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সোয়া থেকে দেড় কোটি টাকার বিকিকিনি হয়েছে আড়তে। সরকারও পেয়েছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে সাগরে মিলছে না ইলিশ। ১০ জুলাই মঙ্গলবার পাথরঘাটার সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকার ইলিশ। অথচ অন্য বছর এ সময় বিক্রি হতো কম করে হলেও দেড়-২ কোটি টাকা। সঙ্কটের কারণে কমে গেছে মৎস্য বন্দরের চাঞ্চল্য। ঝিমিয়ে পড়েছে ইলিশনির্ভর পাথরঘাটা বন্দর।’

পাথরঘাটা বরফকল মালিক সমিতির সভাপতি বাবুল খান জানান, ‘ইলিশ সঙ্কটের সঙ্গে সঙ্গে কমে গেছে বরফের দাম। ৭০ থেকে ৮০ টাকা ক্যান দরে বিক্রি হচ্ছে বরফ। এ মূল্যে উৎপাদন খরচও উঠছে না আমাদের। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও পর্যাপ্ত বরফ দিতে পারিনি আমরা। বরিশালের মৎস্য ব্যবসায়ী সিকদার ফিশ ট্রেডিংয়ের মালিক জহির সিকদার বলেন, ‘আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে মাছের প্রবাহ। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম। মাত্র ক’দিন আগেও দৈনিক গড়ে দেড় থেকে ২ হাজার মণ ইলিশ এসেছে বরিশালের মোকামে। কিন্তু এখন দিনে দেড়-২শ’ মণও আসছে না। সঙ্কটের কারণে এরই মধ্যে বেড়ে গেছে ইলিশের দাম। মাত্র ক’দিন আগেও কেজি সাইজের ইলিশের মণ ছিল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।

১১ জুলাই বুধবার তার মূল্য ছিল ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা। একইভাবে ১২-১৫ হাজার টাকার মাঝারি ইলিশের দাম এখন ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।’ নগরীর চৌমাথা বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা খসরু হাওলাদার বলেন, ‘পাইকারি বাজারে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার পর খুচরা বাজারে এসে এর দাম দাঁড়াচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতার েেত্র প্রতি কেজি ইলিশের দাম দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ৭ থেকে ৮শ’ টাকা।’

পাথরঘাটা এবং আলীপুরের সাধারণ দোকানিরা জানান, ‘ইলিশের সঙ্কট দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কপাল পুড়েছে উপকূলের প্রায় সব মানুষের। ইলিশের সঙ্গেই মূলত জড়িয়ে আছে সাগরপাড়ের অর্থনীতি। ইলিশ এলে বাড়ে দোকানের বেচাকেনা। খাবার হোটেলসহ অন্য সব ব্যবসায়ও ফিরে আসে প্রাণ। কিন্তু সঙ্কটের কারণে বর্তমানে সবাই বসে ঝিমুচ্ছে। বলতে গেলে কোথাও কোনো বিকিকিনি নেই। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে জেলেপাড়ার লোকজন। এ বছর মৌসুমে মাত্র ৩-৪ দিন সাগর নদীতে ধরা পড়েছে ইলিশ। তা দিয়ে পুরনো দেনাই মেটাতে পারেনি জেলেরা। তার ওপর আবার শুরু হওয়া এ সঙ্কটে চোখে অন্ধকার দেখছে জেলেপাড়ার সবাই।’ পাথরঘাটার এক ব্যাংক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘বছরে দু’বার ইলিশ মৌসুমে বিপুল অঙ্কের তারল্য আসে ব্যাংকিং সেক্টরে। কিন্তু এবার সে রকম কোনো কিছুর আলামত মিলছে না। মাছ না থাকায় কমে গেছে নগদ টাকার প্রবাহ। জাল ও তেল খাতও হয়ে পড়েছে স্থবির। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মুখ থুবড়ে পড়বে উপকূলের অর্থনীতি। সেেেত্র পথে বসবে এ অঞ্চলের বহু ব্যবসায়ী।’

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

সম্পাদকঃ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com