কূটনীতিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার
সরকার জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে কালো আইনে বন্দী করে নির্যাতন করছে : এ কে এম নাজির আহমদ
গত ২২ জুলাই রোববার স্থানীয় একটি হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে : সোনার বাংলা
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সংগঠনের অন্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মৌলিক মানবাধিকার বিরোধী কালো আইনে সরকার বন্দী করে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি ৯০ বছর বয়স্ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমও বন্দী অবস্থায় সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সন্ধ্যায় আমরা তাঁদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে বর্তমান প্রতিহিংসাপরায়ণ ও গণবিচ্ছিন্ন সরকার যেসব কার্যকলাপ করছে তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
গত ২২ জুলাই রোববার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-বুসাইরি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার আফরাসিয়াব, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জেড মিরজাল জেইন উদ্দিন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এম ভ্রারকুল এ্যারকুল, আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত খালাফান বাটাল আলী আল মানসুরী, রাশিয়া, জার্মান, ফিলিস্তিন, জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত, ভুটান, কানাডা, কোরিয়া, ব্রিটিশ, মিসর, মালদ্বীপ, ইরান, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। এনডিআই এর কান্ট্রি ডিরেক্টরও উপস্থিত ছিলেন।
এ ইফতার পার্টিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, আমিনুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, আহমাদুল্লাহ ভূইয়া, অধ্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, মুমিনুল ইসলাম পাটোয়ারী, অধ্যাপক কোরবান আলী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি, ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আজাদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
এ কে এম নাজির আহমদ ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে তাঁর বক্তব্যে বলেন, এটা প্রকৃত পইে অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সংগঠনের অন্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মৌলিক মানবাধিকার বিরোধী কালো আইনে সরকার বন্দী করে রেখে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি ৯০ বছর বয়স্ক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমও বন্দী অবস্থায় সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সন্ধ্যায় আমরা তাঁদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে বর্তমান প্রতিহিংসাপরায়ণ ও গণবিচ্ছিন্ন সরকার যেসব কার্যকলাপ করছে তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস সর্বশেষ আসমানি কিতাব পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। পবিত্র কুরআন মানবজাতিকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান উপহার দিয়েছে। পবিত্র কুরআন মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যার অত্যন্ত সুন্দর সমাধান দিয়েছে। পবিত্র কুরআনের অনুসারীদের রাজনৈতিক েেত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রার শিা দেয়, অর্থনৈতিক েেত্র শোষণ থেকে রা করে, অশ্লীল সংস্কৃতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি দিয়ে যুবক, বৃদ্ধ, সাদা, কালো, নির্বিশেষে নর-নারী সকলের অধিকার রা করে। কুরআন সামাজিক পরিবর্তনের পদ্ধতি শিা দেয় এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও শান্তির পথ অনুমোদন করে। মানুষের নিকট পবিত্র কুরআন তার বাণী অত্যন্ত সুন্দরভাবে যুক্তির সাথে প্রচার করতে শিা দেয়। কোন কিছু শক্তির জোরে চাপিয়ে দেয়ার শিা দেয় না।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কুরআনের শিার পরিপন্থী। সত্যিকারের একজন মুসলমান কখনো সন্ত্রাসের মত হিংসাত্মক কর্মে জড়িত থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন পূর্বে নাজিলকৃত সকল আসমানি কিতাবকে এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত মুসা (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.) সহ সকল নবীকেই স্বীকৃতি দেয়। পবিত্র কুরআন আল্লাহর প্রেরিত পূর্ববর্তী সকল নবী রাসূলকে সম্মান করতে মুসলমানদের শিা দেয়। তিনি বলেন, মুসলমানেরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, নবী করিম (স.)-এর প্রদর্শিত পথই সত্য, সরল ও আলোকিত পথ। এ পথেই রয়েছে শান্তি, সমৃদ্ধি ও পরকালের মুক্তি। তিনি বলেন, রমজান মাসে রোজা পালন মানুষকে আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও ধৈর্য ধারণ করার শিা দেয়। ধৈর্য ও সহনশীলতা এ দুটি গুণ খুবই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা যদি মানব জাতির ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, নারী-পুরুষ সকলের চরিত্র গঠনের জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিা পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্ম দেয় ও তা বিকশিত করার শিা দেয়। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা এক সংঘাত ও সংঘর্ষপূর্ণ দুনিয়ায় বাস করছি। সংঘাত ও সংঘর্ষপূর্ণ এ দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই আল্লাহর দেয়া আসমানি কিতাবের শিার দিকেই আমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। তিনি বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আমরা যেন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলে মানবতার সেবা করতে পারি। পবিত্র এ রমজান মাসে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আমরা যাতে অনাড়ম্বরভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি, তিনি যেন সে তাওফিক প্রদান করেন।
পরিশেষে, ইফতারের পূর্বমুহূর্তে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- পদ্মা সেতু প্রশ্নে সরকার গোঁফ নামিয়েছে
- কালো টাকা : দুই বছরে এক লাখ কোটি টাকা পাচার
- পদ্মা সেতু ও আমাদের পররাষ্ট্র নীতি
- প্রিয়ভূমে বৃছায়ায় চিরনিদ্রায় হুমায়ূন
- মোবারক হো মাহে রমযান
- বার কাউন্সিলে সরকার সমর্থকদের পরাজয়
- ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে মকবুল আহমাদের অভিনন্দন
- আসামে দাঙ্গায় ৬০ হাজার উদ্বাস্তু, নিহত ২৫
- মাওলানা নিজামীর পে ১০,১১১ জন সাী॥ ৫৮৪৩ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট দাখিল
