বাংলাদেশে খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়া একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে রকমারি মুখরোচক খাদ্য। কিন্তু এই খাদ্য তালিকার কয়টি খাদ্য ভেজালমুক্ত তা কি আমরা জানি? জানার কথাও নয়। কারণ আপনি-আমি সকলেই খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যের েেত্র প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও স্বাস্থ্যহানির শিকার হচ্ছি। আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত মাছ, ডিম, দুধ, দই, ঘি, গুঁড়োদুধ, সেমাই, আইসক্রিম, মিষ্টি, গুড়, মুড়ি, বিস্কুট, শুঁটকি, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ খাদ্যেই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হচ্ছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আর খাদ্যে এ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রিপোর্টে জানা গেছে, মাছে ব্যবহার করা হচ্ছে ফরমালিন। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারত থেকে আসা মাছে ফরমালিন থাকে। দীর্ঘ দিন এর ব্যবহারে লিভার সিরোসিস হতে পারে। আমে ব্যবহার করা হয় কার্বাইড। কার্বাইডের তেজষ্ক্রিয়তায় আম গরম থাকে। এর প্রভাবে চোখ ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। আবদ্ধ চুল্লি জাতীয় ঘরে কেরোসিনকে গ্যাসে পরিণত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলাকে পাকানো হয়। মুড়িতে ব্যবহার করা হয় ইউরিয়া। বিস্কুটে ব্যবহার করা হয় পোড়া মবিল, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া-বাই-কার্বনেট, সোডিয়াম সাইকামেট। মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয় টেক্সটাইল মিলের ডাইং রঙ। এ রঙ ব্যবহার করা হয় লাল মিষ্টি, লাল দই ও কেক প্রস্তুত করতে। আইসক্রিম ফ্যাক্টরিগুলোতে ব্যবহার করা হয় ওয়াসার পানি, টেক্সটাইল কালার। দুধের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ময়দা ও ফেভার। চকলেট কারখানায় ডাইং রঙ ও তিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। গুঁড়োদুধে মেশানো হয় মেলামিন। হলুদ গুঁড়োতে মেশানো হচ্ছে রেড ক্রোমেট ও মেটানিল ইয়েলো। গুঁড়ো মরিচে ব্যবহার করা হয় সুদান রেড ও পেপরিকা। এর মধ্যে মেটানিল ইয়েলো ও সুদান রেড শরীরের জন্য মারাত্মক তিকর।
সত্যিকার অর্থে আমরা কী খাচ্ছি তা এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। দেশের খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মান পরীক্ষা ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় সরকারের বেশ কয়েকটি বিভাগ ও অধিদপ্তর রয়েছে। এসব বিভাগ যদি যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতো তাহলে দেশের খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে যে মাত্রায় ভেজাল সংক্রমণ হয়েছে তা এ ধরনের চরম মাত্রায় পৌঁছতো না। আমরা মনে করি সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সরকার যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয় তাহলে খাদ্যে ভেজালের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনস্বাস্থ্য। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আর দেরি না করে দেশের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপে সর্বশ্রেণীর মানুষের সমর্থন থাকবে।
