বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মকপর্যায়ে পৌঁছেছে। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং তাদের পরিবারগুলো পড়ছে মারাত্মক সমস্যায়। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখা যায়। আর প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজন করে হতাহতের খবর থাকে। প্রতিনিয়ত এসব সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এআরসি) এক সমীক্ষায় জানা গেছে বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং আহত হয় ৩৫ হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার যানবাহনের মধ্যে ৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। অবশ্য এসব তথ্য ও পরিসংখ্যান হচ্ছে যেসব দুর্ঘটনার তথ্য সরকারি বা পত্রপত্রিকায় রেকর্ডকৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যেগুলোর তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় না বা সরকারের কোনো দফতরে রেকর্ড হয় না। আসলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিসংখ্যান আরো বেশি হবে।
কোন সড়ক দুর্ঘটনায় যদি কোন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি নিহত বা আহত হন তাহলে সে পরিবারটিতে নেমে আসে চরম দুরবস্থা। সেটা রাষ্ট্র বা সরকারের কর্তাব্যক্তিরা উপলব্ধি করতে পারছেন কি না তা বুঝা যাচ্ছে না। কারণ কোনো সময়ই ছোট দুর্ঘটনাগুলোর পর হতাহতদের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না। অপর দিকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে সমাজ ও রাষ্ট্র আর্থিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক হারে বৃদ্ধির কারণ কি তা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ যানবাহন খাতের লোকজনকেও ভাবতে হবে। বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণায় বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশের রাস্তাঘাট যেমন খারাপ তেমনি যারা যানবাহন চালায় তাদের দক্ষতা, সচেতনতা ও সতর্কতার মাত্রাও অনেক কম। আর তাই সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশের সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন বিভাগ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের একটি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও বলেছেন তিনি সড়ক মহাসড়কগুলোতে চাঁদাবাজি ও দুর্ঘটনা নিয়ে বেশ চিন্তিত। মন্ত্রীর এ চিন্তা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সড়ক দুর্ঘটনার হার বাড়ছে তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো চিন্তা বা তৎপরতা আছে বলে মনে হয় না। তবে আশা করি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী দেশের একটি মারাত্মক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা ও পদক্ষেপ নেবেন।
