ঢাকা শুক্রবার ১৯ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৪ রমজান ১৪৩৩, ৩ আগস্ট ২০১২

মালিকরা মানছে না পরিবেশ আইন

কুমিল্লায় ফসলের মাঠ পুড়ছে ইটভাটার আগুনে

চারদিকে সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ। মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। পরিবেশ আইন অমান্য করে এ রকম অসংখ্য ইটভাটা কুমিল্লার ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে। ছবিটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার য়ুক্তিখোলা বাজারের মূল সড়কের পাশ থেকে তোলা

দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, কুমিল্লা থেকে : ইটভাটার আগুনে পুড়ে বিবর্ণ হচ্ছে সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ। কুমিল্লা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে গড়ে উঠেছে অনেক ইটভাটা। পরিবেশ রার দাবি নিয়ে যখন সরকারি ও বেসরকারিপর্যায়ে বিভিন্ন মহল সোচ্চার তখনই এসবের তোয়াক্কা না করে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জমি টার্গেটে নিয়ে ইটভাটা গড়ে তুলছে একশ্রেণীর পরিবেশবিরোধী লোভী ব্যবসায়ি চক্র। তাদের এ কর্মকাণ্ড বর্তমানে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুমিল্লা জেলায় ২৬৭টি ইটভাটার তালিকা রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে। এরমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি অবৈধভাবে ইট উৎপাদন ও বিক্রি করছে। আর ইটভাটা করার জন্য আবেদন জমা রয়েছে ১৫টি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা সদর উপজেলার বালুতূপা, বারপাড়া, নন্দীরবাজার, সদর দক্ষিণ উপজেলার যুক্তিখোলা বাজারের কাছে, দেবিদ্বারের চাপানগর, বারুর গ্রাম, মুরাদনগরের যাত্রাপুর, বিলালপুর, শিবানীপুর, ত্রিশগ্রাম, চান্দিনার বারেরা, কলাগাঁও, পানিপাড়া, কাশারি খোলা, ছয়ঘড়িয়া, কাশিমপুর গ্রামের ফসলি জমিতে ইটভাটা গড়ে ওঠায় সেখানকার আশপাশের কৃষি আবাদি জমিগুলোর উর্বরতা হ্রাস পেয়ে অনাবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওইসব জমির মাটি রবি শস্য ও ধান উৎপাদনে বেশ উপযোগী। ওইসব জমিতে বছরে তিনটি ধানি ফসল উৎপন্ন হয়। ইটভাটার কারণে চাষাবাদ করেও কাক্সিত ফসল পাচ্ছে না কৃষকরা। ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোকে লোকসানের হিসেব কষতে হচ্ছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণের যুক্তিখোলা বাজারে যাওয়ার মূল সড়কের পাশেই বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আকারের ইটভাটা। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ‘চৌধুরীর ব্রিকফিল্ড’ নামে পরিচিত ওই ইটভাটার কারণে আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা অধিকাংশ ইটভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির টপ সয়েল, যা আইনবহির্ভূত। ইট পোড়ানো আইন ১৯৮৯ অনুযায়ী ফসলি জমির মাঝে ও জনবসতির তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ব্রিকফিল্ড স্থাপন করা যাবে না। নিজের জমিতেও ইটভাটা করা যাবে না। আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ আইন করা হয়েছে। অথচ ইটভাটা করার সময় মালিকরা পরিবেশ আইন মানছেন না, বরং পরিবেশবিরোধী ওইসব মালিক গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জমি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। যারা জমি দিতে রাজি হয় না তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার আহবায়ক আলমগীর খান বলেন, ‘একশ্রেণীর মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের জন্য নানাভাবে পরিবেশ বির্পযয় ঘটছে। এ বিপর্যয় থেকে রা পেতে হলে পরিবেশের জন্য তিকর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আর এ উদ্যোগ সচেতন মানুষকেই নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা প্রকৃতিরই সন্তান। আর ফসলি জমিতে একের পর এক ইটভাটা চালু হলে এক সময় ফসলিজমি আর থাকবে না। এমনিতেই কুমিল্লার অসংখ্য কৃষিজমি নানা কৌশলে সহজ সরল জমির মালিক থেকে স্বল্পমূল্যে কিনে নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন প্লট ব্যবসায়ীরা’। ফসলি জমি ঘিরে গ্রামকে নগরায়ন করতে গিয়ে আমরা বারবার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছি। পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে এটা এক ধরনের আত্মঘাতী যুদ্ধ’।
কুমিল্লার গ্রামাঞ্চলে দিগন্তজুড়ে সবুজে ঘেরা ফসলি মাঠ রক্ষায় কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা অপসারণের পাশাপাশি এ ধরনের জমিতে যারা বৈধতার দোহাই দিয়ে আগ থেকেই ইট তৈরির কাজটি সারছেন তাদের ব্যাপারেও পরিবেশ অধিদপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন কুমিল্লার পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। 
উল্লেখ্য এ বছরের ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বালুয়াচর গ্রামে ফসলি জমিতে আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে তৈরি করা ইটভাটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই দিন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশের সহায়তায় সদর দণি উপজেলার বালুয়ারচর গ্রামে সামাজিক বন বিভাগের সংরতি বন ভূমির দেড় কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে তোলা ইটভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুল আলম, পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হয়।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com