ঢাকা শুক্রবার ২৬ শ্রাবণ ১৪১৯, ২১ রমজান ১৪৩৩, ১০ আগস্ট ২০১২

রুপিতে বিনিয়োগ, রুপিতে রফতানি : বাংলাদেশকে কোনো করও দেবে না
দেশের ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদদের তীব্র বিরোধিতা
॥ আহমাদ সালাহউদ্দীন॥
বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত প্রতিবেশী ভারতের কর্তৃত্বে চলে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের বৃহৎ পুঁজির নজর পড়েছে বাংলাদেশের প্রতি। যদিও এই পুঁজি বিনিয়োগ অন্য দেশগুলোর মতো স্বাভাবিক নিয়মে ঘটছে না। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনোমোহনের ঢাকা সফরের পথ ধরে গতমাসে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ লাভ করতে ভারতের ব্যবসায়ী-শিল্পপতি নেতাদের ১৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তারা বাংলাদেশে ডলারের পরিবর্তে ভারতীয় মুদ্রা ‘রুপি’তে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশে এই বিনিয়োগ থেকে উৎপাদিত পণ্যসমূহ রফতানির মূল্যও তারা রুপিতে পরিশোধ করবে এবং বাংলাদেশে কোনো কর পরিশোধ করবে না বলে জানিয়েছে। তারা এই বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারতে আয়কর পরিশোধ করবে। তা ছাড়া ভারত থেকে কোনো পণ্য বা কাঁচামাল তারা এ দেশে আনলেও এর জন্য কোনো আমদানি কর বা শুল্ক দেবে না। মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের ৮টি রাজ্যের বাজারকে লক্ষ্য করেই তারা বিনিয়োগের নামে বিনা করে আমদানি-রফতানির ব্যবসা করতে চায় এখানে। এ জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের লক্ষ্যে তারা সিলেট ও চট্টগ্রামে শুধু ভারতের জন্যই দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। ভারতের ১৫টি কোম্পানির এই ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন গোদরেজ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (সিআইআই) প্রেসিডেন্ট আদি বি গোদরেজ। তিন দিনের সফরে এসে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র ও অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি ও ড. মশিউর রহমান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আবদুস সামাদ এবং বেপজা ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাাৎ করেন। এ ছাড়াও সিআইআই প্রতিনিধি দলটি ঢাকাস্থ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসে। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (আইবিসিসিআই) সভাপতি আব্দুল মতলুব আহমাদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে এয়ারটেলসহ প্রায় দেড় শতাধিক ভারতীয় কোম্পানির ৫শ’ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ ভারতীয় নাগরিক এ দেশে কাজ করছে। গত ২০ জুলাই কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (সিআইআই) নেতৃত্বে ভারতের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় পৌঁছে প্রথমেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাাৎ করে। এ সময় ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের এই ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, রাসায়নিক সার, এয়ার-কন্ডিশনিং এ্যান্ড রেফ্রিজারেশন, অটোমোবাইল, স্টিল, শিা, স্বাস্থ্যসেবা, আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যাল, বায়োটেক, প্রসাধনী ও ভোগ্যপণ্য, নির্মাণ অবকাঠামো, প্রকৌশল, হাউজিং, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ, উদ্যোক্তা প্রশিণ, ুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতসহ সম্ভাবনাময় সকল শিল্পখাতে পর্যায়ক্রমে আরো প্রায় ৫শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিনিধি দলে টাটা, অশোক লে-ল্যান্ড, বাজাজ, গোদরেজ, থারম্যাক্স, কেভেন্টর এগ্রো লিমিটেড, ম্যাক্স হেলথ, ফিডব্যাক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিস লিমিটেড, সিইএটি (সিট) এবং এনআইআইটির শীর্ষ নির্বাহীরা ছিলেন। এ সফর উপলে সিআইআইর দণি এশিয়ার পরিচালক মনিশ মোহন অনেক আগেই বাংলাদেশে আসেন। ভারতীয় ব্যবসায়ী-শিল্পপতি প্রতিনিধি দলের নেতা গোদরেজ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে ন্যাচারাল গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি সরকারের জন্য রিজার্ভ রয়েছে। এটা ওপেন করলে আরও বিনিয়োগের সুযোগ আছে। বাংলাদেশে পণ্য তৈরি করে বাংলাদেশের বাজার ও বাংলাদেশের নিকটবর্তী ভারতীয় এলাকাতে শুল্কমুক্তভাবে তা বিক্রি করার সুযোগ দিতে হবে আমাদের। ভারতে যেহেতু ‘এলডিসি’ বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পায়, তাই বাংলাদেশের কাছেও আমরা এই সুবিধা চাইছি। তবে এলডিসি দেশ না হয়েও তারা কেন এ সুবিধা চাইছে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরা সফরকালে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে বলে নিশ্চয়তা দেন। এরপর ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা বিশেষ সুবিধার বিষয়ে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের কাছে চিঠি পাঠায়। পরবর্তীতে সরকারের উচ্চমহল থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয় ভারতীয় ব্যবসায়ী গ্রুপকে। ভারতীয় শীর্ষ কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা এরই অংশ হিসেবে সফরে এসেছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের অবকাঠামো, অটোমোবাইলস এ্যান্ড ফাইন্যান্স, শিা, আবাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতীয় এ ব্যবসায়ী গ্রুপ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিষয়টি ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বারের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়কে অবহিত করা হয়েছে। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার এ বিষয়ে সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। অবকাঠামো উন্নয়নে কোম্পানিগুলো নিজেরা শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায় বলেও জানান তিনি। এজন্য জমিসহ সরকারের কাছে বিশেষ কিছু সুবিধা দেয়ার দাবি জানায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। অন্য দিকে নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা নিজেরাই মেটাবে এমন প্রস্তাবও দেয়া হয় সরকারের উচ্চপর্যায়ে। এ জন্য সরকারের প থেকে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা। একই সঙ্গে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো চায় কর অবকাশ ও বন্দর সুবিধাসহ অন্যান্য আরো কিছু ছাড়। সস্তা শ্রমকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের েেত্র সবচেয়ে বড় সুবিধা উল্লেখ করে সিআইআই-প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে দেশী-বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগের সুবিধা উন্মুক্ত করে দেয়ারও সুপারিশ করেন। আদি গোদরেজ বলেন, আমরা এ দেশে শিল্প খাতে বিনিয়োগ করতে চাই। এসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্যে প্রথমে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ করা হবে। তারপর কিছু পণ্যরফতানি করা হবে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। এরপর বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য রফতানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের দণি-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিও অনুরোধ জানান।

তবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও এফবিসিসিআইর উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ ভারতীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিতর্কিত শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটা একটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের কোনো বিনিয়োগ আর আসতে পারবে না। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। তাছাড়া বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারীরাও এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলো মূলত বাংলাদেশেরই পণ্যের বাজার। এখন বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ওই বাজারও তারা দখল করতে চাইছে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের এজন্য বিশেষ সুযোগ দেয়া হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা বঞ্চিত হবে। পাশাপাশি দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার সঙ্কট আরো বাড়বে। তিনি বলেন, যে কোনো বিদেশী বিনিয়োগ এ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হতে হবে। কাউকে কোনো বিশেষ সুযোগ দেয়া যাবে না। ভারতেও এ ধরনের বাড়তি সুযোগ কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারীকে দেয়া হয় না। বিনিয়োগ আইন কারো জন্য আলাদা হতে পারে না। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রিমস আইনেরও এটা বিরোধী। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা কেন অন্যায় সুবিধা নিতে চাইছে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এ দেশের কিছু পলিটিক্যাল টাউট সাহারাসহ এ ধরনের অসৎ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসছে। ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশের বিনিয়োগকারীরা তো এ ধরনের সুযোগ চায় না। কোনো বিশেষ দেশের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বরাদ্দেরও বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এর ফলে দেশ জিম্মি হয়ে পড়বে। তারা এসবের নিরাপত্তার কথা বলে একসময় নিজ দেশের সৈন্যও সেখানে নিয়ে আসবে। বিদেশী বিনিয়োগ বা এফডিআই সম্পর্কে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া আর কোনো বিদেশী বিনিয়োগ আনা যাবে না। টেলিযোগাযোগ সেক্টরসহ যেসব খাতে ইতিমধ্যেই বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে, তা এখন বাংলাদেশের জন্য বোঝায় পরিণত হয়েছে। এসব বিনিয়োগের বিপরীতে দশগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার দেশ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের  নিজস্ব শিল্পপতি ও শ্রমিকদের কষ্টার্জিত রফতানি ও রেমিটেন্স দিয়ে মেটাতে হচ্ছে।         

এদিকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে’ ভারতের শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে বাংলাদেশের বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগের জন্য বিশেষ এলাকা বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের জন্য বাংলাদেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী। ভারতের শিল্পখাতে অর্জিত অভিজ্ঞতা সরেজমিনে দেখতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশী শিল্পোদ্যোক্তা ও সরকারি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করবে।’ বাংলাদেশ সফররত কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদলের সাথে আয়োজিত বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।  শিল্পমন্ত্রীর  দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পখাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক যোগাযোগ সম্পর্ক (মাল্টি ডাইমেনশনাল কানেকটিভিটি) স্থাপনের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এসব শর্তের ব্যাপারে তাৎণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের সঙ্গে ভালো একটি বৈঠক হয়েছে এবং আমরা খুশি। অর্থমন্ত্রী জানান, তাঁদের দাবী হলো কর ছাড় এবং রুপিতে ব্যবসা। তবে কর ছাড়ে বাংলাদেশের কাঠামোটা ভালো। শূন্য শতাংশ থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে এবং সব সময় তা পরিবর্তন করা হয় না। আইবিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়ে গত অর্থবছরে ৫৬০ কোটি ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ভারত একাই করে ৫শ’ কোটি ডলারের মতো। অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য বা চোরাচালান হিসেব করলে ভারত থেকে এর বাইরে আরো প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার পণ্য বাংলাদেশে আসে। প্রধানত তুলা, ভোজ্য তেল, গাড়ি, লোহা ও ইস্পাত, খনিজ জ্বালানি, মাছ, গরু ও ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য, জৈব রাসায়নিক পণ্য বাংলাদেশে রফতানি করে থাকে। আর বাংলাদেশ থেকে প্রধানত কাগজের সুতা ও কাপড়, মাছ, সিমেন্ট, তামা ও তামাজাতীয় দ্রব্য, অজৈব রাসায়নিক দ্রব্য, পশুর চামড়া ও সার আমদানি করে থাকে।

ওদিকে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রফেসর ড. আনু মুহাম্মদ ভারতীয় বিনিয়োগ সম্পর্কে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এখন ভারতেরই একচ্ছত্র আধিপত্য। এ অবস্থায় বাংলাদেশের গতি কোনদিকে, ভবিষ্যৎ দশা কী হবে, সেটি একটি বড় রাজনৈতিক এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পুঁজির ধর্ম হলো- পুঁজি যত বড় আকার ধারণ করবে, তার ুধা তত বাড়বে। যত বেশি ঘনীভবন, তত বেশি তার বিস্তৃত হওয়ার চাহিদা জন্ম নেয়। অর্থাৎ পুঁজি যত বড় হয় ততো তার আরও বিনিয়োগ ত্রে দরকার, আরও অঞ্চল দরকার, আরও বাজার দরকার। পুঁজির সম্প্রসারণ ঘটে মূলত তার জৈবিক এ বৈশিষ্ট্যের কারণে। সম্প্রসারণ এবং ঘনীভবন পুঁজির অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য। আর পুঁজির নিরাপত্তার জন্য রাজনীতিও দখলে থাকা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ভারতে বৃহৎ পুঁজিপতি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে যে বিপুল পুঁজির পুঞ্জিভবন হয়েছে তার সহজ সম্প্রসারণ ঘটছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। নিজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সে পুঁজি এখন বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে কিংবা থাবা বিস্তারেও উদ্যত হচ্ছে। আরও মুনাফার ত্রে সন্ধান করছে উন্মাদের মতো। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি মানতে চাইছে না। কারণ পাশে যদি এমন একটি দেশ থাকে, যার শাসকশ্রেণী অধীনস্থ থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, যে দেশে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা জুনিয়র পার্টনার হিসেবেই নিজেদের নিরাপত্তা সন্ধান করে, যেখানে নিজের মেরুদণ্ড তৈরির উদ্যোগ নেই, তাহলে সেটিই হয় সবচেয়ে সুবিধাজনক গন্তব্য। আর বাংলাদেশের েেত্রও তাই ঘটছে। বাংলাদেশে এখন টেলিযোগাযোগসহ অনেক খাতেই ভারতের পুঁজি বিভিন্নভাবে ক্রিয়াশীল। এখন পর্যন্ত সার্ভিস সেক্টর বা পরিসেবা খাতেই তার বৃহদংশ, তবে ক্রমেই উৎপাদন খাতেও তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। চোখ রয়েছে অর্পিত সম্পত্তির জমির দিকেও, যদি এগুলো মালিক হয়ে ফের বিক্রি করা যায়। মুরগির খামার ও ফিডমিলসহ শত শত একর জমি কেনার বিষয়েও তারা কথাবার্তা বলছে। কোনো কোনো বিনিয়োগ তারা করছে বহুজাতিক পুঁজির সঙ্গে যৌথভাবে, আবার কোনো কোনো খাতে তারা সরাসরি বিনিয়োগ করছে। যেমন, টেলিকমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগ করেছে ভারতের এয়ারটেল কোম্পানি। টাকা বা ডলারের অঙ্কে কতটা বিনিয়োগ করেছে তা নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে, তবে তারা কর্তৃত্ব পেয়েছে বিশাল। এর মধ্যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, বাংলালিংকের সব টাওয়ার কিনে নিচ্ছে ভারতের এক কোম্পানি। কিউবির মূল কোম্পানির প্রধান অংশ ভারতের এক কোম্পানির কেনার খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসা, শিা, বিনোদন, আইটি ও মিডিয়ায় তাদের বিনিয়োগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্নভাবে। স্বনামে-বেনামে দোকানদারির খুচরা বাণিজ্য থেকে শেয়ারবাজার পর্যন্তও রয়েছে তাদের তৎপরতা। বিনোদন, ফ্যাশন, অডিও-ভিডিও, বিজ্ঞাপন সংস্থা, চলচ্চিত্র প্রভৃতি েেত্র ভারতীয় পুঁজি ক্রমেই স্পষ্ট আকার নিচ্ছে। পরিচয় গোপন করে অনেক পেশায় কর্মসংস্থানও হতে দেখা যাচ্ছে তাদের। ঢাকার গুলশান-বনানী-উত্তরার প্রায় ৬০ শতাংশ বড় বড় দোকানপাট ও হোটেলের মালিক আসলে ভারতীয়রাই। এখানে কিছু বাংলাদেশীকে হয় তারা সাথে রেখেছে নতুবা নিজেরাই বাংলাদেশী সেজে এবং ভুয়া পাসপোর্ট বানিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আর হুন্ডির মাধ্যমে লভ্যাংশ ডলার করে পাঠাচ্ছে ভারতে।

আনু মুহাম্মদ জানান, বাংলাদেশে গত দুই দশকে গার্মেন্ট, মুরগির খামার, ওষুধÑ এগুলোয় তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল। সেটা এখন ভারতীয়রা দখল করে নিতে চাইছে। গত কিছু দিনে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ৫০টিরও বেশি গার্মেন্ট কারখানা কিনে নিয়েছে। এ বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়। এ ছাড়া আরো প্রায় ১০০টিরও বেশি গার্মেন্ট কারখানা দর কষাকষির মধ্যে আছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরি ও ভারতের গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরির অনুপাত ১ : ৩। ভারতে যদি একজন গার্মেন্ট শ্রমিককে মজুরি দিতে হয় ৮ হাজার রুপি বা ১২ হাজার টাকা, তাহলে বাংলাদেশে একই কাজের জন্য দিতে হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এ কারণে ভারতীয় মালিকদের জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে পুঁজি বিনিয়োগ খুবই লাভজনক। এ দেশীয় ছোট বা মাঝারি পুঁজিকে হজম করে কিংবা সঙ্গে নিয়ে অথবা পরাস্ত করে ভারতের বৃহৎ পুঁজি এখন এখানে ঘাঁটি গাড়ছে। বহুজাতিক পুঁজির বাংলাদেশে বিনিয়োগও এখন অনেক েেত্রই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতীয় কোনো না কোনো গোষ্ঠী অনেক বিদেশী বিনিয়োগের সঙ্গেই সম্পর্কিত। অনেক েেত্র তারা অংশীদার, কোথাও কোথাও তারা সাব-কনডাক্টর। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ভারতের বৃহৎ পুঁজির দৃশ্যমান তৎপরতা অনেক বেড়েছে। যদিও সংবাদপত্রে এ বিষয়ে খবর খুবই কম। এর মধ্যে ভারতের একটি বহুল বিতর্কিত বৃহৎ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ‘সাহারা’র প্রধান এ দেশে সফর করে ল একর জমির ওপর উপশহর তৈরির ব্যাপারে অনেক দূর অগ্রসর হওয়ার পর এটি নিয়ে সংবাদপত্রে কিছু খবরাখবর প্রকাশিত হয়েছে। তা থেকেই জানা গেছে, তাদের লোকাল এজেন্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন আওয়ামী লীগ সরকারেরই প্রভাবশালী এক ব্যক্তি, যিনি গোপালগঞ্জেরও এমপি। সাহারা শুধু আবাসন খাতেই নয়; বিদ্যুৎ, পর্যটন, হোটেলসহ বহু খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারতের আধিপত্য অনেক বেশি। ভারত থেকে গরু, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, সার, কীটনাশক, ফেনসিডিল, কাপড়, প্রসাধনী, সিডি, রঙ, ওষুধ প্রায় সবকিছুই আসে বাংলাদেশে, বৈধ কিংবা চোরাচালানের দুই পথেই। বাস, ট্রাক, গাড়ি, অটোরিকশা, টায়ার-টিউব, যন্ত্রপাতি তো আসছেই। বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলসহ বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানিকৃত কিছু কিছু পণ্য আবার চোরাচালানির মাধ্যমে ভারতেও পাচার হয়ে যায়। আশি ও নব্বুইয়ের দশকে ভারতে ইলেক্ট্রনিক পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ছিল। সে সময় বাংলাদেশ থেকে ক্যাসেট প্লেয়ার, রেডিও-টিভি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বিদেশী পণ্য ভারতে চালান হতো। এখন এগুলো কমলেও চোরাই পথে যাচ্ছে ইট, তৈরী পোশাক, ওষুধ, সার, তেল ইত্যাদি। নারী ও শিশু পাচারও চোরাই বাণিজ্যের অন্যতম দিক। তাছাড়া ভারত থেকে অনেক অপ্রয়োজনীয় বা তিকর পণ্যও আমদানি হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প, কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য রা বিবেচনায় তা অবশ্যই ঠেকানো প্রয়োজন ছিল। তাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমত, বাণিজ্য-ব্যবধানও কমত। অথচ তেমনটি ঘটছে না। অন্যদিকে ভারতে বাংলাদেশের আরও রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ আছে। গার্মেন্ট, ব্যাটারি, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশ আরও বেশি পরিমাণে রফতানি করতে সম। তবে পারছে না ভারতেরই সংরণবাদী নীতি ও শুল্ক-অশুল্ক বাধাসহ বিভিন্ন পদেেপর কারণে। সামনে হয়তো দেশের এসব খাতে ভারতীয় পুঁজির বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পণ্য ভারতে রফতানির পথ সুগম হবে। অর্থাৎ সে েেত্র ভারতই রফতানি করবে ভারতে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে গত দুই দশকে অর্থনীতিতে নানামুখী সংস্কারের সম্পর্ক আছে। দুই দেশে সংস্কার দর্শন এক রকম হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও ফল অবশ্যই ভিন্ন। এ সংস্কারের অংশ হিসেবে দুই দেশেই দেখা গেছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ সম্পত্তি ব্যক্তির মুনাফার ত্রে বানানোর নীতি, যা এক শব্দে প্রাইভেটাইজেশন নামে পরিচিত। এছাড়া বাংলাদেশে আমদানি উদারীকরণও (লিবারেলাইজেশন) একই দর্শন অনুযায়ী হয়েছে। এসব েেত্র ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের গতি অনেক প্রি। ফলে বাংলাদেশে পাবলিক সেক্টরের প্রতিষ্ঠানকে যে কোনো ধরনের পর্যালোচনা ছাড়া নামমাত্র মূল্যে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়, অন্যগুলো দেশী-বিদেশী বৃহৎ ব্যবসার পে পঙ্গু করা হয়। কোনো পর্যালোচনা ছাড়া বেসরকারিভাবে আমদানির পথও খুলে দেয়া হয়। জাতীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যখন বাংলাদেশে পঙ্গু, তখন বেসরকারিকরণের পরও ভারতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাতীয় প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি শক্তিশালী এবং শিল্পায়নের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার েেত্র ভারতের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বেশি দতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়। ঐতিহাসিক কারণে কাজের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের এ দতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে পাটশিল্প যখন বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ আক্রমণে ত-বিত হলো, তখন ভারতে পাটশিল্প পেল রাষ্ট্রের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত যখন বহুজাতিক পুঁজির শিকার, তখনো ভারতে এ খাতের জাতীয় সংস্থাগুলোই প্রধান ভূমিকায়। বাংলাদেশে একদিকে ধ্বংস করা হয় বৃহৎ পাটশিল্প, অন্যদিকে বৃহৎ শপিংমল গড়ে তোলার জন্য বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়। আজ পর্যন্ত যতগুলো রাষ্ট্রীয় শিল্প-কারখানাকে ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই হয় বন্ধ বা রুগ্ণ কিংবা প্রায় বন্ধ করে দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। লবিস্ট হিসেবে যে যত সক্রিয়, সে অনুযায়ী প্রাইভেটালাইজড হয়েছে। লাভবান হয়েছে বিভিন্ন সরকারের আমলে দেশী-বিদেশী কিছু লুণ্ঠনকারী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। সম্প্রতি দেশী-বিদেশী দখলদারদের আইনি পথে জমি তুলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অর্থনেতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা ‘উদ্বৃত্ত’ জমি চিহ্নিত করে তা ব্যক্তির হাতে তুলে দেবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত কিছু লুটেরাদের হাতে আইনসম্মতভাবেই চলে যাবে। তাদের মধ্যে কোথাও না কোথাও ভারতের ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সামনে বা পেছনে অবশ্যই থাকবে।

ভারতের মিডিয়ার বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, সে দেশে এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিলিয়নিয়ারের (শত কোটিপতি) বসবাস, যা আগে সবচেয়ে বেশি ছিল জাপান ও আমেরিকায়। ভারতে বিশ্বের সর্বাধিক দরিদ্র মানুষ বসবাস করলেও সেখানেই আবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ধনীর আবাসস্থল। বৃহৎ সামরিক বাহিনী ও ভয়ঙ্কর নিপীড়নের মধ্যে বাস করে ভারতের মানুষ। সুতরাং সেখানেও অভ্যন্তরীণ লড়াই জারি আছে। জল, জমি ও জঙ্গলের লড়াই নামে যা ভারতজুড়ে বিস্তৃত। উৎপাদনশীল তৎপরতা ও বিদেশী বিনিয়োগের মধ্যে যোগসূত্র থাকার কারণে ভারতের েেত্রও সব বিদেশী বিনিয়োগ সবেেত্র শিল্পবিনাশী হয়নি। ভারতে এখন অন্যান্য দেশের বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির অনেক যৌথ কারখানা তৈরি হয়েছে। গাড়ি, সেলফোন, সিম, টেলিফোন, টেলিভিশন, প্রসাধনসামগ্রী, যন্ত্র, ওষুধসহ নানা পণ্য উৎপাদন হচ্ছে ভারতে। তার বাজার কোথায়? বহুজাতিক সংস্থাগুলো কম খরচে বেশি মুনাফায় উৎপাদনের জন্য কারখানা তৈরি করছে ভারতে। বাজার অনুসন্ধান করছে ভারতসহ আশপাশের দেশগুলোয়। বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। তাই বাংলাদেশ যত আমদানি উদারীকরণ করছে, বাণিজ্য উদারীকরণ ও মুক্তবাজার নীতি গ্রহণ করছে, দেশকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে বহুজাতিক পুঁজির জন্য; তা থেকে ততই লাভবান হচ্ছে ভারত। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি কিংবা দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র প্রভৃতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে গত দুই দশকে বাংলাদেশে যে আমদানি উদারীকরণ করা হয়েছে, শিল্পবিরোধী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বা অবাধ বাণিজ্যনীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার প্রত্য সুফলভোগী ভারতের বৃহৎ পুঁজি। বিশ্বব্যাপী পুঁজির বিকাশ ধারাতেই একচেটিয়া বহুজাতিক পুঁজির সঙ্গে ভারতের বৃহৎ পুঁজির জৈব সংযুক্তি ঘটেছে। ফলে ভারতীয় বৃহৎ পুঁজিকে বহুজাতিক পুঁজি থেকে এখন আর আলাদা করা কঠিন। কোনো কোনো েেত্র বিরোধ থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর বহুজাতিকের স্বার্থ এবং ভারতের বৃহৎ পুঁজির স্বার্থ প্রধানত এক ও অভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের বর্তমান কৌশলগত সামরিক ঐক্য এ পরিপ্রেেিতই দেখতে হবে সে দেশের বৃহৎ পুঁজির আধিপত্যের ধারায় ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ প্রকৃতপে বিশ্বপুঁজিরও মুখোমুখি। তাই সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের পরিণতি কি তাহলে ভারতের বৃহৎ পুঁজির একটি ত্রে হওয়া? বাংলাদেশের নিজস্ব পুঁজি কি তার কাছে আত্মসমর্পণ করবে? বাংলাদেশ কি নিজেকে শেষ পর্যন্ত একটি খোলসে পরিণত করবে?

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com