১২ আগস্ট হুইল চেয়ারে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হবে মাওলানা সাঈদীকে
তদন্ত কর্মকর্তার অসত্য বক্তব্য নিজের লেখা ডায়েরিতে ফাঁস হয়ে গেল
সোনার বাংলা রিপোর্ট : তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বললেন, আমি ১৯৭১ সালের তিগ্রস্ত মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়িতে গিয়েছিলাম। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম জিজ্ঞেস করলেন ঐ বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেলেন, জবাব এলো আমার নোটে নেই, ঐ বাড়িতে গিয়ে কার সাথে কথা বললেন, কী করলেন এ বিষয়ে আপনার কেস ডায়রি বা নোটে কী লিখেছেন তা একটু আদালতকে পড়ে শুনান। তখনই বেকায়দায় পড়ে যান হেলাল উদ্দিন। কিছুণ এদিক-ওদিক কথা বলে কাটানোর চেষ্টা করলেন। তখন আদালত নিজেই কেস ডায়রি দেখে বলেন, আইও সাহেব মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়িতে যাননি। ডায়রিতে লিখা আছে লোকজন ঐ বাড়িটি দেখিয়ে দিয়েছিল। সত্য বলার শপথ নিয়ে এভাবেই ধরা পড়লেন তদন্ত কর্মকর্তা যে তিনি মিথ্যা বলেছেন। আশিসকুমার মণ্ডল, সুমতি রানী মণ্ডল ও সমর মিস্ত্রির জবানবন্দী আদৌ তিনি নেননি এবং নিজে তাদের প্রত্যেকের নামে একটি করে জবানবন্দী লিখে আদলতে দাখিল করেছেন মর্মে অভিযোগ করেন এডভোকেট মিজান। পরে তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন আদালতের কাছে। এই অভিযোগও করেন মিজানুল ইসলাম। হেলাল উদ্দিন অবশ্য অভিযোগ সত্য নয় বলে উল্লেখ করলেও কোনো জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মেফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুপস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের চলমান জেরায় গতকাল এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ৫ আগস্ট সকাল সোয়া ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত একটানা জেরা করা হয় তাকে। এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন। মাওলানা সাঈদীকে আগামী দিন আদালতে আনা সম্ভব কি না সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান প্রসিকিউটর হায়দার আলীর কাছে। তিনি জানান, তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো তবে হাঁটতে পারেন না। ট্রাইব্যুনাল তখন আগামী ১২ আগস্ট হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে আদালতে আনার ব্যবস্থা করতে হায়দার আলীর প্রতি নির্দেশ দেন বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। জেরার বিবরণ নিম্নরূপ :
প্রশ্ন : নলবুনিয়ার সিরাজ ওরফে সাহেব আলীর বাড়িতে পাকিস্তান আর্মি কত তারিখে গিয়েছিল বলে আপনি তদন্তকালে তথ্য পেয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে তারিখ উল্লেখ নেই।
প্রশ্ন : তারিখ অনুসন্ধানের জন্য কাকে কাকে জিজ্ঞেস করেছেন?
উত্তর : সাী মোস্তফা ও তার আরেক ভাই তোতা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।
প্রশ্ন : তোতা মিয়া ও মোস্তফা কি একই বাড়িতে থাকে?
উত্তর : জি, একই বাড়িতে থাকে।
প্রশ্ন : সাহেব আলীর আর কোনো আত্মীয়-স্বজন নলবুনিয়া গ্রামে ছিল কি না সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই বলে বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : নলবুনিয়া গ্রামের ৫৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের খোঁজ করেছিলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : সাহেব আলীকে তার নলবুনিয়ার বাড়ি থেকে আটক করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়?
উত্তর : পিরোজপুরে।
প্রশ্ন : নলবুনিয়া গ্রাম বর্তমানে কোন থানার অন্তর্গত?
উত্তর : জিয়ানগর থানা।
প্রশ্ন : নলবুনিয়া থেকে পিরোজপুর যেতে পারের হাট হয়ে যেতে হয়।
উত্তর : আলাদা রাস্তা দিয়েও যাওয়া যায়।
প্রশ্ন : পথে চালনা ব্রিজ পড়ে?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : চালনা ব্রিজ সাহেব আলীর বাড়ি থেকে কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : আধা কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।
প্রশ্ন : চালনা ব্রিজের আশপাশে জনবসতি আছে?
উত্তর : জি, আছে।
প্রশ্ন : চালনা ব্রিজের আশপাশের জনবসতির কাউকে আপনি সাহেব আলীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : সেতারা বেগম, রানী বেগম ও মোস্তফা কখনো চিথলিয়ায় গিয়েছিলেন মর্মে কোনো তথ্য আপনার কাছে আছে?
উত্তর : আমার রেকর্ড নেই।
প্রশ্ন : সাহেব আলীর চাচা আতাহার আলী হাওলাদারের বাড়ি বাদুরা গ্রামে।
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে তৎকালীন এসডিওর বাংলোয় তদন্তকালে গিয়েছিলেন?
উত্তর : না, যাইনি।
প্রশ্ন : আদালতে হাজির করার জন্য সাী সেতারা বেগম, রানী বেগম ও মোহাম্মদ মোস্তফা হাওলাদারের সমন তাদের বাড়িতে কি একই সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনার সাথে তখন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা কে ছিলেন?
উত্তর : এস আই আবদুল মালেক খান।
প্রশ্ন : তার বাড়ি যাওয়ার বিষয়টি আপনার নোটে আছে?
উত্তর : নোটে নেই, স্মরণে আছে।
প্রশ্ন : এস আই মালেকের সাথে তাদের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ আপনার সাথে কবে কথা হয়?
উত্তর : আমার স্মরণ নেই।
প্রশ্ন : এস আই আব্দুল মালেক সর্ব প্রথম যেদিন যান তার সাথে আর কে কে ছিলেন?
উত্তর : নাম বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : এস আই আবদুল মালেক সর্বশেষ সাহেব আলীদের বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেয়েছিলেন?
উত্তর : কে কে ছিলেন সে মর্মে কোন রিপোর্ট তিনি দেননি।
প্রশ্ন : আবদুল মালেক সর্বশেষ বার নলবুনিয়ায় গেলে কার কার সাথে দেখা হয়?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : অন্যান্যের হাজিরার ব্যাপারে আবদুল মালেক একই কথা আপনাকে বলেছিল।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই সাীদের হাজির করার জন্য এস আই মালেক স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের সাথে যোগাযোগ করেছিল কিনা?
উত্তর : তিনি আমাকে নির্দিষ্ট করে বলেননি।
প্রশ্ন : এই ৩ সাীকে হাজির করার বিষয়ে ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে খুলনায় কাউকে পঠিয়েছিলেন?
উত্তর : পাঠাইনি। কারণ সাীরা আশপাশে লুকিয়ে আছে বলে জানিয়েছিল।
প্রশ্ন : এই ৩ সাীকে হাজির করার জন্য নলবুনিয়া গ্রামে কোন বাড়ি তল্লাশী করেছিলেন?
উত্তর : করেছিল বলে মালেক জানিয়েছেন।
প্রশ্ন : চালনা ব্রিজের দিকে আসার পথে পার্শ্ববর্তী গ্রাম কোনটি?
উত্তর : হোগলাবুনিয়া।
প্রশ্ন : নলবুনিয়ার অপরদিকে গ্রামের নাম কি?
উত্তর : ওমেদপুর।
প্রশ্ন : এস আই আব্দুল মালেক খান যে সমস্ত বাড়ি তল্লশি করেছিলেন তার কোনো সিজার লিস্ট আপনাকে দিয়েছিলেন?
উত্তর : দেয়নি, আমি দেয়ার প্রয়েজানও মনে করি নাই।
প্রশ্ন : এই সাীদের হাজির করার ব্যাপারে এস আই মালেক প্রতিদিন (ডে টু ডে) যেসব রিপোর্ট থানায় দাখিল করেছে তা কি আপনি পর্যালোচনা করেছেন?
উত্তর : আমাকে দেয়নি। দেখার প্রয়োজনও মনে করি নাই।
প্রশ্ন : মার্চ মাসের পরে অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে সাীদের সম্পর্কে প্রতিবেদন দেয়ার পরে কি এই ৩ সাীর ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন?
উত্তর : নেইনি, কারণ আমি নিজেই সাী দেয়ার কাজে ব্যস্ত আছি।
প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্যা দেয়ার জন্য তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে ঢাকায় তদন্ত সংস্থায় এসে তথ্য দেয়ার জন্য কোনো নোটিশ দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টি ও সাহেব আলীদের বাড়িতে (নলবুনিয়া) ১৯৭১ সালে ১ অক্টোবর মোতাবেক বাংলা ১৩ আশ্বিন শুক্রবার ১৩৭৮ তারিখে পাকিস্তান আর্মি এবং তাদের সহযোগীরা গিয়েছিলেন এই তথ্য আপনি তদন্তকালে পেয়েছেন।
উত্তর : সত্য নয়
প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে ঐদিন ঐস্থানেই ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করা হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে, ঐদিন সিরাজ ওরফে সাহেব আলী ও তার মাকে পাকিস্তান আর্মি ধরে পিরোজপুরে নিয়ে যায়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে এই তথ্যও পেয়েছিলেন যে, পিরোজপুরে সাহেব আলী ওরফে সিরাজকে মেরে ফেলা হয় এবং তার মাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে, ঐ দিন পাকিস্তান আর্মির সাথে দানেশ মোল্লা, আজাহার আলী, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান হাওলাদার, আইয়ুব আলী চৌকিদার, কালাম চৌকিদার, রুহুল আমিন পিতা আনোয়ার হোসেন, সাং-পারের হাট, আবদুল হাকিম মুন্সী, মোমিন উদ্দিন, সেকেন্দার আলী সিকদার, শামসুর রহমান সিএসআই, মোসলেম মওলানা সাহেব আলীদের বাড়িতে গিয়ে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে। তার পিতাকে নির্যাতন করে এবং সাহেব আলী ও তার মাতাকে ধরে নিয়ে নৌকায় করে পিরোজপুরে নিয়ে যায়।
উত্তর : বর্ণিত বক্তব্য সর্বাংশে সত্য নয়। তবে, সাীদের বক্তব্য অনুযায়ী তার ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ২-৩ মাস পর রাত ৩টার সময় অস্ত্রধারী রাজাকার, পিস কমিটির সদস্য দানেশ মোল্লা, সেকেন্দার সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু আরো অনেককে লইয়া পাকিস্তান আর্মি আজাহার আলীর বাড়িতে আসে। তার ঘর তল্লাশী করিয়া আজাহর আলী, তার স্ত্রী সেতারা বেগম এবং সাহেব আলীকে আটক করে। আজহার আলীকে বাড়িতে মারধর করিয়া সাহেব আলীকে পিরোজপুরে নিয়ে গিয়ে গুলী করে হত্যা করে এবং সেতারা বেগমকে ছাড়িয়া দেয়।
প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১/১০/১৯৭১ তারিখে নলবুনিয়ায় তার স্বামীকে হত্যা, তার পিতামাতাকে নির্যাতন এবং তার মাতা ও ভাই সাহেব আলী ওরফে সিরাজকে ধরে পিরোজপুরে নিয়ে তাকে হত্যা ও তার মাকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে পিরোজপুর এসডিও আদালতে পাকিস্তান আর্মি এবং উল্লিখিতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এই নালিশি মামলাটি পরবর্তীকালে এসডিও পিরোজপুরের নির্দেশনায় পিরোজপুর থানার মামলা নম্বর ৯, তারিখ ১৬/৭/১৯৭২ এজাহার হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি এই তদন্তে আরও পেয়েছিলেন যে ঐ নালিশি এজাহারে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সাী করা হয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়বে বলে আপনি ঐ সাীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, সাীও করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টি ও সাহেব আলীকে হত্যা, সাহেব আলীর পিতা-মাতাকে নির্যাতনের বিষয়ে আপনার আনীত অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হবে বলে সেতারা বেগম, রানী বেগম, মোস্তফা হাওলাদারদের আপনি ট্রাইব্যুনালে হাজির করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : একই উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মমতাজ বেগমের দায়েরকৃত ঐ মামলায় বাকি ৭ জনকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, সাীও করেনি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি আরও পেয়েছিলেন যে ঐ মামলাটি জি.আর ৩৭৮/৭২ হিসেবে নিবন্ধিত আছে।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে আরও পেয়েছিলেন যে, ঐ মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ঐ মামলার অভিযোগপত্রে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম না থাকায় আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাী সুখরঞ্জন বালীর বাড়ি কোন গ্রামে?
উত্তর : ওমেদপুর।
প্রশ্ন : তার জবানবন্দী নেন কত তারিখে?
উত্তর : ২০/৮/২০১০ তারিখে।
প্রশ্ন : তার বাড়িতে আপনি সর্বপ্রথম কবে যান?
উত্তর : ঐ তারিখেই।
প্রশ্ন : উনার পিতার পেশা কী ছিল?
উত্তর : সেটা আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : বিশাবালীর পেশা কী ছিল?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : তার বৈবাহিক অবস্থা কী ছিল?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : বিশাবালীর কাকা, জ্যাঠা কেউ আছে কি না সে ব্যাপারে খোঁজ করেছেন?
উত্তর : পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালীর বর্তমান পেশা কী?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আদালতের সমন নিয়ে তার বাড়িতে আপনি কতবার গিয়েছিলেন?
উত্তর : আমি নিজে একবার গিয়েছি, তারিখ সময় মনে নেই।
প্রশ্ন : তার বাড়িতে যখন উপস্থিত হন তখন আপনার সাথে অত্র মামলার অন্য কোনো সাী ছিল?
উত্তর : মিজানুর রহমান তালুকদার ছিল।
প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালীর বাড়িতে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল মিজানুর রহমান তালুকদারের আদালতে সাী দেয়ার আগে?
উত্তর : না, পরে।
প্রশ্ন : মিজানুর রহমান তালুকদারকে কোথায় পেয়েছিলেন?
উত্তর : পারেরহাটে।
প্রশ্ন : পিরোজপুরে মিজানুর রহমান তালুকদারের বাড়ি কোথায়?
উত্তর : ইন্দুরকানী থানার টগরা গ্রামে।
প্রশ্ন : আপনি কি টগরা গ্রামে উনার বাড়িতে গিয়েছিলেন?
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : মিজানুর রহমান তালুকদারের জবানবন্দী আপনি কত তারিখে কোথায় নিয়েছিলেন?
উত্তর : ২০/১/২০১১ তারিখে ঢাকায় তদন্ত সংস্থার অফিসে।
প্রশ্ন : ঐ তারিখের আগে কি উনার সাথে আপনার দেখা হয়েছিল?
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : উনার পেশা কী?
উত্তর : ব্যবসায়ী।
প্রশ্ন : ব্যবসা কি ঢাকায় না অন্য কোথায়ও করে?
উত্তর : ঠিকাদারী ব্যবসা আছে। তবে কোন এলাকায় ব্যবসা করে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : আদালতের সমন নিয়ে যখন যান সুখরঞ্জন বালীর বাড়িতে কাকে পেয়েছিলেন?
উত্তর : তার স্ত্রী ও মেয়েকে।
প্রশ্ন : আশপাশের কাউকে জিজ্ঞেস করেছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : সেখানে কতণ ছিলেন?
উত্তর : এক-দেড় ঘণ্টা।
প্রশ্ন : এই সমনের মধ্যে আপনারা অন্য কোনো বাড়িতে যাননি?
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : স্থানীয় যারা ঐ সময় উপস্থিত হয়েছিল তাদের নাম আপনার স্মরণ নেই।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আপনি কি পরে পিরোজপুর ফিরে যান?
উত্তর : না, পারেরহাটে পুলিশ ক্যাম্পে যাই।
প্রশ্ন : তখন ঐ ক্যাম্পের ইনচার্জ কে ছিলেন?
উত্তর : নাম মনে নেই।
প্রশ্ন : পরবর্তীতে সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কাকে দায়িত্ব দেন?
উত্তর : ওসি ইন্দুরকানী থানাকে বলেছিলাম এবং তার মেয়েকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেছিলাম।
প্রশ্ন : ডায়েরি আপনার উপস্থিতিতে হয়েছিল?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মেয়ের নাম কি?
উত্তর : মনিকা রানী মণ্ডল।
প্রশ্ন : ডায়েরি কত?
উত্তর : ইন্দুরকানী থানার ডায়েরি নম্বর ৭৭৩ তারিখ ২৫-২-২০১২। যাতে শুধু নিখোঁজ সংবাদ ছিল।
প্রশ্ন : ঐ ডায়েরির তদন্তভার কাকে দেয়া হয়েছিল?
উত্তর : এসআই মোহাম্মদ ওসমান গনি।
প্রশ্ন : তদন্ত করার জন্য উনি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়েছিলেন?
উত্তর : উনি আমার কাছে প্রদত্ত রিপোর্টে তা উল্লেখ করেননি। সিডিটি এখনো তদন্তাধীন আছে বলে আমি জানি।
প্রশ্ন : স্থানীয় রাজাকার যারা ছিল তারা তো ঐ এলাকারই (ইন্দুরকানী থানাধীন)।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : বিশাবালীকে জনৈক রাজাকার গুলী করে হত্যা করে বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ আছে। ঐ জনৈক রাজাকার কে? এ ব্যাপারে অসুন্ধান করেছেন?
উত্তর : চেষ্টা করেছি। নাম পাইনি।
প্রশ্ন : মাহবুবুল আলম হাওলাদার ইন্দুরকানী থানায় যে মামলা করেছিলেন তাতে এই সুখরঞ্জন বালী একজন সাী।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : মাহবুবের বাড়ির নিকটেই সুখরঞ্জনের বাড়ি।
উত্তর : একেবারেই নিকটে নয় কোয়ার্টার কি. মি. দূরে।
প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালী আপনার কাছে জবানবন্দী প্রদানকালে মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়ি ১৯৭১ সালে লুণ্ঠন হওয়া সম্পর্কে কোন কথা নেই।
উত্তর : জি, নেই।
প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালী প্রকৃতপে আপনার নিকট কোন জবানবন্দী দেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি সাঈদী সাহেবকে জড়িয়ে ১৯৭১ সালের ঘটনা সম্পর্কে স্যা প্রদানের জন্য সুখরঞ্জন বালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এতে তিনি রাজি হননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সুখরঞ্জন বালী আদালতে সাী দিতে রাজি না হওয়ায় আপনি তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাী আশিসকুমার মণ্ডলের সাথে আপনার প্রথম যেদিন সাাৎ হয় সেই দিনই জবানবন্দী নিয়েছেন।
উত্তর : জি, ২০/০৯/২০১০ তারিখে প্রথম সাাতের দিনই তার জবানবন্দী নিই পিরোজপুর শহরে মাছিমপুরে উনার বাড়িতে।
প্রশ্ন : তার পিতার নাম কি?
উত্তর : হরিপদ মণ্ডল।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে তিনি কী করতেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : তার পিতার পেশা কী ছিল?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আপনি তার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সাাৎ পেয়েছিলেন?
উত্তর : তার মা সুমতি রানী মন্ডল, তার বয়স ৭৬ বছর।
প্রশ্ন : আশিসকুমার মণ্ডলরা কয় ভাই-বোন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আপনি যখন তদন্তে যান তখন আশিসকুমার মণ্ডলের পেশা কি ছিল?
উত্তর : ব্যবসা করে। কী ব্যবসা তা বলতে পারব না। পিরোজপুর শহরেই ব্যবসা করে।
প্রশ্ন : আপনি উনার ব্যবসাস্থলে তদন্তকালে এবং তদন্তের পরেও যাননি।
উত্তর : জি, যাইনি।
প্রশ্ন : উনার বাড়ি থেকে মধ্যমাছিমপুরের বাসস্ট্যান্ডের পেছনের জায়গাটি কত বড় ছিল?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : মধ্যমাছিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আশিসকুমার মণ্ডলের বাড়ি কোন দিকে কত দূরে?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আশিসকুমার মণ্ডল ও তার মা সুমতি রানী মণ্ডল একই বাড়িতে বাস করে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আশিসকুমার মণ্ডলের নানা বাড়ি কোথায়?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : সুমতি রানীরা কত ভাই-বোন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়ি আশিসকুমার মণ্ডলের বাড়ির কোন দিকে, কত দূরে?
উত্তর : ৩-৪টি বাড়ি পরে। দিক আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়ি গিয়েছিলেন আপনি?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : ঐ বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেলেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই। মিস্ত্রিদের কাউকে পাইনি।
প্রশ্ন : তার বাড়িতে কত তারিখ ক’টায় যান?
উত্তর : ২০/০৯/১০ তারিখ ১৫টা থেকে ১৬টা ১৫ মি. তার মধ্যে।
প্রশ্ন : মনীন্দ্রনাথের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে আপনি ডায়েরিতে কী লিখেছেন?
উত্তর : এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। ডায়েরিতে কিছু লেখা নেই, ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা ডায়েরি দেখে বলেন, বাড়িতে যাওয়া হয়নি। লোকজন মনীন্দ্রনাথের বাড়ি দেখায়ে দেয়। আদালত বলেন, মনীন্দ্রর বাড়িতে তদন্ত কর্মকর্তা যাননি।
প্রশ্ন : উপেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি যগেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, সুরেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, মতিলাল মিস্ত্রি যোগেশচন্দ্র মণ্ডল, সুরেন মন্ডলের বাড়িতেও আপনি তদন্তকালে যাননি।
উত্তর : তাদের বাড়িতে গিয়েছি কি না সে সম্পর্কে আমার নোটে কিছু নেই।
প্রশ্ন : অজ্ঞাতনামা আরো ৬ জনকে হত্যার বিষয়ে ঐ এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রবীণ লোকদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আশিসকুমার মণ্ডল যে এলাকায় থাকেন ঐ এলাকায় মন্ডল পদবীর অন্য কোনো লোককে পেয়েছেন?
উত্তর : আমার নোটে নেই।
প্রশ্ন : আশিসকুমার মণ্ডলের জবানবন্দী নেয়ার দিন আপনি সুমতি রানী মণ্ডলের ও সমর মিস্ত্রির জবানবন্দীও নিয়েছেন সুমতি রানীর বাড়িতে।
উত্তর : জি, একই বাড়িতে একই দিন ২০/০৯/২০১০ তারিখে।
প্রশ্ন : সুমতি রানী মণ্ডল তার জবানবন্দীতে কোনো বিধবার নাম বলেননি।
উত্তর : জি, বলেননি।
প্রশ্ন : মধ্যমাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে যে ১৯/২০ জনকে হত্যা করার কথা সাী আশিসকুমার মণ্ডল, সুমতি রানী মণ্ডল ও সমর মিস্ত্রি উল্লেখ করেছে, সেই ১৯/২০ জনের কোনো তথ্য বা পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ৩ জনের জবানবন্দীর বক্তব্যে এলজিইডি এবং পেছনে অবস্থিত ধোপাবাড়ি এলাকায় নিহতদের সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : সমর মিস্ত্রির পেশা ১৯৭১ সালে কী ছিল, এখন কী পেশা?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : সুমতি রানীর স্বামী কোন সালে মারা গেছে?
উত্তর : আমার নোটে নেই বলে বলতে পারছি না।
প্রশ্ন : সাী আশিসকুমার মন্ডল, সুমতি রানী মন্ডল ও সমর মিস্ত্রির যে বক্তব্য আপনি আদালতে দাখিল করেছেন তা ঐসব সাীর প্রদত্ত জবানবন্দী নয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি তাদের নামে যে জবানবন্দী দাখিল করেছেন তা আপনার বর্ণিত বক্তব্য।
উত্তর : সত্য নয়।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- নির্যাতন সত্ত্বেও শিবিরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে
- পবিত্র কুরআনের আলো থেকে দূরে যাওয়ার কারণেই মুসলমানদের জীবনের অন্ধকার দূর হচ্ছে না
- ঈমান রার তাগিদেই পল্টন মহাসমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হোন : ইসলামী ও সমমনা ১২ দল
- রমজানের শিা সারা বছর কাজে লাগাতে হবে : শিবির সেক্রেটারি জেনারেল
- জেল জুলুম নির্যাতন করে ইসলামী আন্দোলনের গতি রোধ করা যাবে না
- গেল সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত খবর
- যুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের নামই শোনেনি সাী ফকির আব্দুল মান্নান
- সাীর ছোট ভাই লিখিত গ্রন্থে কাদের মোল্লার অপরাধের কোন বর্ণনা নেই
- ইসলামের অনুসারীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে
- লিগ্যাল হোল্ডিংস লিমিটেডের ইফতার প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
- চট্টগ্রামে বীকন গ্র“পের ইফতার অনুষ্ঠান
- বীকন গ্র“পের ৫৫তম বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত
- নিবরাসের আলোচনা ও ইফতার মাহফিল
- সাংবাদিক-কলামিস্ট আমীর খাসরুর ইন্তেকাল
- আব্দুল মতিন চৌধুরীর ইন্তেকাল
- র্যাকস ডেভেলপারস লিমিটেডের ডিরেক্টর অব ল্যান্ডের সৌদি আরব গমন
- হলিল্যান্ড ডেভেলপারস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের সৌদি আরব গমন
- মুরাদনগর ফোরামের কমিটি গঠিত আলোচন সভা ও ইফতার মাহফিল
