চতুর্থ সাীর জেরা শেষ॥ পঞ্চম সাী ১৩ আগস্ট
যুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের নামই শোনেনি সাী ফকির আব্দুল মান্নান
সোনার বাংলা রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপরে চতুর্থ সাী মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল মান্নানকে জেরা সম্পন্ন করেছেন ডিফেন্স প। গত ৭ আগস্ট মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে-২ এ তাকে জেরা শেষ করেন আসামিপরে আইনজীবী এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী। জেরাতে সাী বলেন, তিনি যুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের নামই শোনেননি। তবে পরে শুনেছেন। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে পঞ্চম সাীর স্যা গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
জেরার বিবরণ
প্রশ্ন : আপনি তালুত খানের সম্পত্তি জোর করে দখল করেন।
উত্তর : সত্য নয়। বরং সেই আমার সম্পত্তি দখল করতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন : আপনার বাহিনীর পিটুনিতে তালুত খান মারা গেছে।
উত্তর : ইহা সত্য নয়, আমার কোনো বাহিনী ছিল না এবং তাদের পিটুনিতে তালুত খান মারা যায়নি।
প্রশ্ন : আপনার তিন ছেলে স্বাভাবিক বিয়ে করেনি।
উত্তর : আমার তিন ছেলে তাদের পছন্দমত বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে আমরা তা মেনে নিয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার ছেলেরা আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে জোর করে বিয়ে করেছে।
উত্তর : সত্য নয়, আমার ছেলেরা রাজনীতি করে না, আমিও রাজনীতি করি না।
প্রশ্ন : আপনি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ঝিনাইগাতি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ। সেক্রেটারিও ছিলাম। ১৯৭৫ সাল থেকে ৯৭ সাল পর্যন্ত প্রথমে সেক্রেটারি পরে সভাপতি ছিলাম।
প্রশ্ন : আপনার ছেলে সাইফুল যুবলীগ করে?
উত্তর : সাইফুল যুবলীগের সদস্য, আরও দুই ছেলে ছাত্রদলের সদস্য।
প্রশ্ন : ১৯৮০ সালে আপনি রিফিউজিদের সম্পত্তি আপনার নামে রেকর্ড করে নেন এবং পরে আন্দোলনের মুখে তা ফেরত দেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৮৭-৮৮ সালে আপনি জেল খেটেছেন?
উত্তর : এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করার কারণে ৫ মাস ১৮ দিন হাজতে ছিলাম।
প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান তালুকদারকে চেনেন?
উত্তর : আগে চিনতাম না বর্তমানে চিনি, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর একটি বই লেখার সময় আমার কাছ থেকে কিছু তথ্য নিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় আমার অঞ্চল ঝিনাইগাতি সম্পর্কে আমি যে তথ্য দিয়েছিলাম তা বইতে উল্লেখ করেননি। ওই বইটি আমি পড়িনি।
প্রশ্ন : বইতে বদিউজ্জামানের মৃত্যু সম্পর্কে ভিন্ন বক্তব্য থাকায় এবং মুক্তিযুদ্ধে আপনার কোনো অবদানের কথা উল্লেখ না থাকায় আপনি বইটি পড়েননি বলছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার বিচার চাওয়ার বিষয়টি একটি রাজনৈতিক স্লোগান।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ’৭২ সালে আপনার বিরুদ্ধে ৬০ থেকে ৬৫টি অভিযোগ করা হয়।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে লুটপাট ও জায়গা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ছিল।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার এলাকার তালুত খানকে চেনেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামান কোন এলাকার মানুষ?
উত্তর : বদিউজ্জামান ও আমরা ’৭১ সালে নালিতাবাড়ির বাসিন্দা ছিলাম।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামানের আপন চাচা মাওলানা সাইদুল হক রাজাকারের সংগঠক ছিলেন?
উত্তর : তিনি রাজাকারের সংগঠক ছিলেন কিনা তা আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে বদিউজ্জামান বা তার পরিবারের কোন তি হয়েছে কিনা জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামানের পরিবারের অন্যান্যদের চেনেন?
উত্তর : বদিউজ্জামানের ভাই হাসানুজ্জামান ছাড়া আর কাউকে চিনি না।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামানের পুরো পরিবার বাবা ও নানা বাড়ির আত্মীয়-স্বজনেরা ছিল মুসলিম লীগ ও স্বাধীনতাবিরোধী, আপনি জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামান কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : বদিউজ্জামান আহমদ মেম্বারের আশ্রয়ে কতদিন ছিলেন তা মকবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করেছেন?
উত্তর : আমি মকবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করিনি কতদিন তাদের বাড়িতে ছিল।
প্রশ্ন : যে দিন আওয়ামী লীগ অফিসে তথ্য দিতে দেখেন ওই দিন আর কত লোককে তথ্য দিতে দেখেন?
উত্তর : যখন ঝিনাইগাতি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের কাছে সৈয়দুর রহমান বদিউজ্জামান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছিলেন তখন সেখানে আরও অনেক লোক ছিল। তবে লোকের সংখ্যা বা কারো নাম আমি এ মুহূর্তে বলতে পারব না।
প্রশ্ন : সৈয়দুর রহমানের যে তথ্য দেয়ার কথা বলেছেন সে বিষয়ে মকবুল হোসেন ছাড়া অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করেছেন?
উত্তর : করিনি।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে আপনি কামারুজ্জামানকে চিনতেন কিনা?
উত্তর : কামারুজ্জামানকে চিনতাম না, তার নামও শুনিনি।
প্রশ্ন : সৈয়দুর রহমান ও মকবুল হোসেনের সাথে কামারুজ্জামানের কোনো আত্মীয়তা আছে কিনা?
উত্তর : আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি কামারুজ্জামানকে দেখেছেন?
উত্তর : এখনো পর্যন্ত কামারুজ্জামানের সাথে মুখোমুখি সাাৎ হয়নি।
প্রশ্ন : আপনি কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে জনশ্রুতির কথা বলেছেন কারণ তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
উত্তর : আমি ’৭২ সালে জনশ্রুতিতে শুনেছি কামারুজ্জামান বদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন, তা সত্য কিনা যাচাই করিনি।
প্রশ্ন : কথিত স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার জন্য তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : যার সম্পর্কে জনশ্রুতি শুনেছেন সেই কামারুজ্জামান কোথায় কি করতেন জানেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছাত্র না ব্যবসায়ী ছিলেন?
উত্তর : ছাত্র ছিলেন না ব্যবসায়ী ছিলেন তা আমার জানা নেই। কারণ ওই সময় আমি ওই নামের কোনো ব্যক্তিকে চিনতাম না।
প্রশ্ন : ’৭২ সালে জনশ্রুতি শোনার কথা বলেছেন কারণ কামারুজ্জামান জামায়াত করে ও আপনি আওয়ামী লীগ করেন।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- নির্যাতন সত্ত্বেও শিবিরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে
- পবিত্র কুরআনের আলো থেকে দূরে যাওয়ার কারণেই মুসলমানদের জীবনের অন্ধকার দূর হচ্ছে না
- ঈমান রার তাগিদেই পল্টন মহাসমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হোন : ইসলামী ও সমমনা ১২ দল
- রমজানের শিা সারা বছর কাজে লাগাতে হবে : শিবির সেক্রেটারি জেনারেল
- জেল জুলুম নির্যাতন করে ইসলামী আন্দোলনের গতি রোধ করা যাবে না
- গেল সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত খবর
- তদন্ত কর্মকর্তার অসত্য বক্তব্য নিজের লেখা ডায়েরিতে ফাঁস হয়ে গেল
- সাীর ছোট ভাই লিখিত গ্রন্থে কাদের মোল্লার অপরাধের কোন বর্ণনা নেই
- ইসলামের অনুসারীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে
- লিগ্যাল হোল্ডিংস লিমিটেডের ইফতার প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
- চট্টগ্রামে বীকন গ্র“পের ইফতার অনুষ্ঠান
- বীকন গ্র“পের ৫৫তম বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত
- নিবরাসের আলোচনা ও ইফতার মাহফিল
- সাংবাদিক-কলামিস্ট আমীর খাসরুর ইন্তেকাল
- আব্দুল মতিন চৌধুরীর ইন্তেকাল
- র্যাকস ডেভেলপারস লিমিটেডের ডিরেক্টর অব ল্যান্ডের সৌদি আরব গমন
- হলিল্যান্ড ডেভেলপারস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের সৌদি আরব গমন
- মুরাদনগর ফোরামের কমিটি গঠিত আলোচন সভা ও ইফতার মাহফিল
