ষষ্ঠ সাী শফিউদ্দিনের জেরা অব্যাহত
সাীর ছোট ভাই লিখিত গ্রন্থে কাদের মোল্লার অপরাধের কোন বর্ণনা নেই
সোনার বাংলা রিপোর্ট : কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাী শফিউদ্দিন মোল্লার জেরা অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার তাকে জেরা করেন ডিফেন্স পরে আইনজীবী এডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার। জেরাতে সাী বলেন, সাীর ছোট ভাই কর্তৃক লিখিত মিরপুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বইটিতে কাদের মোল্লার কোন অপরাধের ঘটনাই সেখানে বর্ণনা করা হয়নি। এমনকি ঘটনার সময়কাল ১৯৭০ বা ৭১ সালে কাদের মোল্লা কোথায় ছিলেন বা কোন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন তাও বলতে পারেননি সাী শফিউদ্দিন মোল্লা।
জেরার অংশবিশেষ দেয়া হলো
প্রশ্ন : ১৯৭০/৭১ সালে পরিবারের সদস্যরা কি রাজনীতি করতেন?
উত্তর : আমি একাই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম। আর কেউ রাজনীতি করতেন না। তবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতেন।
প্রশ্ন : বাড়িঘর কবে জ্বালিয়ে দিয়েছে আপনাদের।
উত্তর : ১৯৭১ সালে ২৪ এপ্রিল পাক বাহিনী ও তাদের দোসররা গ্রামের সব বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন : নিহত চাচা নবীউল্লাহকে তো আপনারা কবর দেননি।
উত্তর : হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন : ২৪ এপ্রিলের পরে আপনারা কোথায় থাকতেন?
উত্তর : স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত আমরা সাভারে থাকতাম। তবে বোনের বাসায় ছিলাম না।
প্রশ্ন : সাভারে কাদের বাসায় বা বাড়িতে আপনারা ছিলেন?
উত্তর : কারো বাড়িতে নয় ফাঁকা স্থানে ছাপড়াঘর তুলে থাকতাম।
প্রশ্ন : সাভারে আপনি কি কাজ করতেন?
উত্তর : কোন কাজ করার মতো সুযোগ ছিল না।
প্রশ্ন : আপনাদের আশপাশের বাড়ির লোক কোথায় অবস্থান নিয়েছিলেন?
উত্তর : তারাও সাভার এলাকায় ছিল।
প্রশ্ন : ৭০/৭১ সালে আপনি আব্দুল কাদের মোল্লাকে আপনি চিনতেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কাদের মোল্লা ৭০/৭১ সালে কোন সময়েই আপনাদের গ্রামে যায়নি।
উত্তর : ইহা সত্য নয়।
প্রশ্ন : ’৭০ সালে জহিরউদ্দিন সাহেবের নির্বাচনী এলাকা কোন পর্যন্ত ছিল?
উত্তর : নির্বাচনী এলাকার বিস্তৃতি কতদূর ছিল বলতে পারবো না। এমনকি ভোটার সংখ্যা বা কেন্দ্র সংখ্যাও বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : মিরপুরের আগের অবস্থা এখন আর নেই। মিরপুরে এখন শহর হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সুবিধা আছে।
উত্তর : হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন : ’৭০ সালে আপনাদের গ্রাম কোন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
উত্তর : হরিরামপুর ইউনিয়নে ছিল। তবে আমাদের গ্রাম থেকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। ৭০/৭১ সালে চেয়ারম্যান ছিলেন হারুন মোল্লা।
প্রশ্ন : ঐ সময়ে হ্যালিকপ্টার পাক আর্মিরা ব্যবহার করতেন?
উত্তর : হ্যাঁ, আর্মিরা ব্যবহার করতেন।
প্রশ্ন : ’৭০ সালে আপনার বয়স ১৯ বছর ছিল না। আপনি নাবালক ছিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ঘটনার সময় আপনার ঝোঁপের নিচে গর্তে লুকিয়ে থাকার কথা সত্য নয়।
উত্তর : সঠিক নয়।
প্রশ্ন : এই মামলার ঘটনার পূর্বে আপনি কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে কয়জন ছিলেন?
উত্তর : আমি একাই ছিলাম।
প্রশ্ন : আপনাকে পল্লবী থানায় কে ডেকে নিয়ে আসে?
উত্তর : থানার লোক আমাকে ডেকে আনে।
প্রশ্ন : আপনি আদালতে এসে যে স্যা দিয়েছেন তা অসত্য বলেছেন।
উত্তর : আমি যা বলেছি সত্য বলেছি।
প্রশ্ন : কাদের মোল্লাকে জড়িত করে আদালতে দেয়া বক্তব্য অসত্য বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ইব্রাহিমকে আপনি চেনেন?
উত্তর : ইব্রাহিম আমার চাচাতো ভাই।
প্রশ্ন : ইব্রাহিম এবং আলতাফউদ্দিন স্বাধীনতার পতাকা বাড়িতে উড়ানোর কারণে ’৭১ সালে পাক বাহিনী বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।
উত্তর : তারা ছোট ছিল। স্বাধীনতার পতাকা তারা উড়াতেই পারে। কিন্তু পতাকা উড়ানোর কারণে আগুন দেয়নি। আগুনতো সারা গ্রামেই দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন : মতি মাস্টারকে চিনতেন?
উত্তর : মতি মাস্টারকে চিনি। তিনি জীবিত আছেন। এখনো তাকে আমি চিনি। ঘটনার সময় তিনি গ্রামেই ছিলেন।
প্রশ্ন : আকতার গুণ্ডাকে চিনতেন?
উত্তর : তাকে আমি শুধু নামেই চিনতাম।
প্রশ্ন : ‘মুক্তিযুদ্ধে মিরপুর’ বইটির লেখক কে?
উত্তর : বইটির লেখক হিসেবে আমার ভাই আলতাফ উদ্দিন মোল্লা নাম লেখা আছে।
প্রশ্ন : এই বইটি পড়েছেন আপনি।
উত্তর : না পড়িনি। এই প্রথম বইটি দেখলাম।
প্রশ্ন : মতি মাস্টারকে আপনার ভাই চিনেন?
উত্তর : যেহেতু আমরা একই গ্রামের তাই সবাই সবাইকে আমরা চিনি।
প্রশ্ন : আপনার ভাই আলতাফউদ্দিন কর্তৃক এই বইটি লেখার সময় মতি মাস্টার সাহায্য করেছিল।
উত্তর : আমার জানা নাই।
প্রশ্ন : এই বইয়ে বর্ণিত ঘটনার সাথে আবদুল কাদের মোল্লা জড়িত ছিলেন না বলেই বইটি আপনি পড়েননি বলে বলছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ’৭০ সালে আপনি যে ভোটার ছিলেন তার স্বপে কোন কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে কিংবা তদন্তকর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন?
উত্তর : না, দেইনি।
প্রশ্ন : ৭০/৭১ সালে আপনি কাদের মোল্লাকে কোনভাবেই চিনতেন না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : ধানকাটার লোক ও গ্রামের লোকজনকে আপনি পাক আর্মি কর্তৃক একত্রে জড়ো করতে দেখেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : লোকজনকে কোথায় জড়ো করেছিল?
উত্তর : গ্রামের উত্তরপাশে যেখানে ধান কেটে মাড়াই করে সেখানে লোকজনকে জড়ো করেছিল।
প্রশ্ন : সে সময়ে কাদের মোল্লার কোন বাহিনী ছিল না।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কাদের মোল্লা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং রাইফেল নিয়ে উপস্থিত ছিলেন না বা আর্মিদের সাথে উর্দুতে কথা বলেননি বা গুলী করেনি।
উত্তর : সত্য নয়। কাদের মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্ন : আপনি এখন কি করেন।
উত্তর : ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সাথে বিজ্ঞাপনের কাজ করি।
প্রশ্ন : আপনার জন্ম তারিখ কত?
উত্তর : ২৪/১১/১৯৫৩ (জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে)
প্রশ্ন : আপনি আদালতে শপথ গ্রহণ করে মিথ্যা স্যা দিচ্ছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার বিয়ের তারিখ মনে আছে?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার সন্তানদের জন্ম তারিখ বলতে পারবেন?
উত্তর : না, মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার ভাই আলতাফউদ্দিন কি করেন?
উত্তর : রাজনীতি করেন তবে এর বাইরে আর কি কি করেন বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : আলতাফউদ্দিন মোল্লা আর আপনি কি একই বাড়িতে থাকেন?
উত্তর : না। এক বাড়িতে থাকি না।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- নির্যাতন সত্ত্বেও শিবিরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে
- পবিত্র কুরআনের আলো থেকে দূরে যাওয়ার কারণেই মুসলমানদের জীবনের অন্ধকার দূর হচ্ছে না
- ঈমান রার তাগিদেই পল্টন মহাসমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হোন : ইসলামী ও সমমনা ১২ দল
- রমজানের শিা সারা বছর কাজে লাগাতে হবে : শিবির সেক্রেটারি জেনারেল
- জেল জুলুম নির্যাতন করে ইসলামী আন্দোলনের গতি রোধ করা যাবে না
- গেল সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত খবর
- তদন্ত কর্মকর্তার অসত্য বক্তব্য নিজের লেখা ডায়েরিতে ফাঁস হয়ে গেল
- যুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের নামই শোনেনি সাী ফকির আব্দুল মান্নান
- ইসলামের অনুসারীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে
- লিগ্যাল হোল্ডিংস লিমিটেডের ইফতার প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
- চট্টগ্রামে বীকন গ্র“পের ইফতার অনুষ্ঠান
- বীকন গ্র“পের ৫৫তম বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত
- নিবরাসের আলোচনা ও ইফতার মাহফিল
- সাংবাদিক-কলামিস্ট আমীর খাসরুর ইন্তেকাল
- আব্দুল মতিন চৌধুরীর ইন্তেকাল
- র্যাকস ডেভেলপারস লিমিটেডের ডিরেক্টর অব ল্যান্ডের সৌদি আরব গমন
- হলিল্যান্ড ডেভেলপারস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের সৌদি আরব গমন
- মুরাদনগর ফোরামের কমিটি গঠিত আলোচন সভা ও ইফতার মাহফিল
