গত ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর একেএম নাজির আহমদ
সোনার বাংলা রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর একেএম নাজির আহমদ বলেন, একটি দেশে দায়িত্ববোধসম্পন্ন সাংবাদিক সমাজ সুদৃঢ় দুর্গের মতো। সেই দুর্গের সৈনিকদের সম্মানেই আজকে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজান মাসে মুক্তির সনদ হিসেবে আল-কুরআন নাজিল হয়েছে। আল-কুরআন এমনি এক জীবন বিধান, যা পূর্ণাঙ্গ, কোন ব্যক্তি বিশেষ বা দল বা দেশ বিশেষের জন্য নয়। সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য মুক্তির সনদ আল-কুরআন। যারা এর অনুসরণ করবে তারা শান্তি, নিরাপত্তা, সুন্দর ও সভ্যসমাজ নির্মাণ করতে পারবেন। কুরআন অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজে সুখ ও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি গত ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম। ইফতার মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে-এর সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে-এর সভাপতি আবদুশ শহীদ, জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল। সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, দ্য নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস কাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, কলামিস্ট সাদেক খান, প্রফেসর ড. তারেক শামসুর রেহমান, শাহ আহমদ রেজা, সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা খোন্দকার মনিরুল আলম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেয়াজ খান, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, অনলাইন পত্রিকা বার্তা২৪ ডট কম-এর সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ, দৈনিক সংগ্রামের সহকারী সম্পাদক নুরুল আমিন, নগর সম্পাদক শেখ এনামুল হক, সহকারী বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসাইন, নয়াদিগন্তের বার্তা সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, চিফ রিপোর্টার হারুন জামিল, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রধান সহকারী সম্পাদক সঞ্জিব চৌধুরী, দৈনিক অর্থনীতির খবর-এর বার্তা সম্পাদক হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস কাবের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাপ্তাহিক সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমদ ভূঁইয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ-এর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু, সাব এডিটর কাউন্সিলের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মঞ্জুরুল ইসলাম ভঁইয়া প্রমুখ। ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক একেএম নাজির আহমদ আরো বলেছেন, কুরআন যে মুক্তির দিশা, মুক্তির সনদ তা আমরা ভুলে গেছি। এ কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস কথাটাই তুলে দেয়া হয়েছে। এটা আল্লাহর প্রতি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য মুক্তির সনদ আল-কুরআন। যারা এর অনুসরণ করবে তারা শান্তি, নিরাপত্তা, সুন্দর ও সভ্য সমাজ নির্মাণ করতে পারবেন। কুরআন অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজে সুখ ও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
নায়েবে আমীর বলেন, কুরআন যে মুক্তির দিশা, মুক্তির সনদ তা আমরা ভুলে গেছি। এ কারণেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস কথাটাই তুলে দেয়া হয়েছে। কত বড় ধৃষ্টতা! এটা আল্লাহর প্রতি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তিনি বলেন, কুরআনের রাজ যারা কায়েম করতে চায়, তাদের অগ্রপথিক অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ এনে গ্রেফতার করে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। তাদের অপরাধ একটাই তারা বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামের ঘাঁটি বানাতে চায়। তারা সসম্মানে ফিরে এসে আবার নেতৃত্ব দিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নাজির আহমদ বলেন, আল্লাহ রমজানে রোজা ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। রমজানের শিা নিয়ে যারা গড়ে ওঠে, তারা যদি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হন, তাহলে দেশ ও জনগণের কল্যাণ হবে। তাকওয়া বর্জিত মানুষ রাষ্ট্রের নেতৃত্বের অধিকারী হন, তাহলে তাদের গাড়িতে বাড়িতে টাকা পাওয়া যায়। তাদের মাধ্যমেই গুম, খুন, ধর্ষণ করা সম্ভব। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে তাকওয়া ভিত্তিক মানুষ প্রয়োজন। এ জন্যই আল্লাহ রোজা ফরজ করেছেন।
তাসনীম আলম বলেন, মানুষ কিভাবে তাদের জীবন পরিচালিত করবে সে জন্যই আল্লাহ বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ হিসেবে আল-কুরআন নাজিল করেছেন। আল্লাহ আমাদের ওপর অনেক কিছুই ফরজ করে দিয়েছেন। আর সিয়াম একটি ফরজ ইবাদত। মূলত তাকওয়ার গুণাবলী অর্জনের জন্য আল্লাহ আমাদের ওপর রোজাকে ফরজ করে দিয়েছেন। সমাজকে শান্তিময় করে তোলার জন্য তাকওয়াভিত্তিক সমাজের কোন বিকল্প নেই।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই। সরকার জাতীয় নেতৃবৃন্দের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে গণতন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে। সরকারের এসব অপতৎপরতা মোকাবেলায় আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আব্দুস শহীদ বলেন, আমরা ভালো নেই, নিরাপদেও নেই। এ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ১৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, শান্তি, কল্যাণ ও মানবতার ধর্ম ইসলাম। রমজান আমাদের আত্মসংযমের শিা দেয়। তাই আমাদের রমজানের শিা কাজে লাগাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পবিত্র মাহে রমজান একটি বরকতপূর্ণ ও মহিমান্বিত মাস। কিন্তু সরকার রমজান মাসেই কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে নিজেরাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে। তারা কথিত বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে শাস্তি দিয়ে রাজনৈতিক ময়দান থেকে বিদায় করে নিজেরা দেশে রাম রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু সরকারের এ ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি কুরআনের সমাজ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারে সকল জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
