বিরোধী দলের বাঁধন যতই আলগা হয়েছে সরকারের বাঁধন ততই শক্ত হয়েছে
কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নাই
॥ জামশেদ মেহ্দী ॥
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সেই সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট অবশেষে ২ মাসব্যাপী ‘আন্দোলনের কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে। গত ১১ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে ১৮ দলীয় জোট প্রধান বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছিলেন যে, ঈদুল ফিতরের পর এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হরতাল, অবরোধ, ঘেরাওসহ ‘কঠোর কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হবে। তারও আগে গত মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি বিশাল মহাসমাবেশে জোটের তরফ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা করেছিলেন যে, দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে ২ মাসের সময় বেঁধে দেয়া হলো। এই ২ মাসের মধ্যে সরকার যদি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না। তখন সরকার পতনের লক্ষ্যে একদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে অর্থাৎ সরকার পতন কর্মসূচির ভিত্তিতে কঠোর ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
গত মার্চ মাসে বেগম জিয়া সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন সেই আল্টিমেটাম শেষ হয় ১০ জুন। কিন্তু ১০ জুনের মধ্যে হাসিনা সরকার দাবি মানা তো দূরের কথা, বরং সেই দাবির ধারে পাশেও না গিয়ে আরো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তখন ১১ জুনের মহাসমাবেশ থেকে বেগম জিয়া সরকারকে আবার সময় দেন এবং দ্বিতীয়বার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। দ্বিতীয়বার আল্টিমেটামের সময়সীমা ছিল গত ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের কথা পুনরুল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন যে, বিরোধী দল চাইলে সেই অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে সংসদে আসতে হবে এবং সংসদে একটি বিল উত্থাপন করতে হবে। শেখ হাসিনার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া কর্তৃক শেখ হাসিনার প্রস্তাব নাকচ করার পর দেশের গণতন্ত্রমনা, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তি তাকিয়েছিল ঈদুল ফিতরের পরবর্তী দিনগুলোর দিকে। ঈদুল ফিতরের ৮ দিন পর গত ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার সেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিকে বলা হয়েছে ‘আন্দোলনের কর্মসূচি’।
কর্মসূচির রূপরেখা
সদ্যঘোষিত কর্মসূচিতে নেই কোনো হার্ডলাইন, নেই হরতাল, অবরোধ বা ঘেরাও। এই কর্মসূচিতে রয়েছে জনসভা, গণমিছিল ও গণসংযোগ। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর এই ৪৩ দিনের কর্মসূচিতে রয়েছেÑ ১. ১৮ দলীয় নেতাদের দেশব্যাপী গণসংযোগ ২. মহানগর জেলা-উপজেলায় গণমিছিল, গণসংযোগ ও জনসভা ৩. যেসব জেলায় বিগত সাড়ে ৩ বছরে বেগম জিয়া সফর করেননি সে সব মহানগর ও জেলাতে বেগম জিয়ার জনসভা ও জনসংযোগ ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ৫. পদ্মা সেতুসহ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ৬. চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং গ্যাস, পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা-উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ৭. ইলিয়াস আলীসহ বিরোধীদলীয় নেতাদের গুম, খুন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়াসহ নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ।
কর্মসূচির বৈশিষ্ট্য
ঘোষিত ২ মাসের কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, এখানে কোনো হরতাল, অবরোধ বা ঘেরাওয়ের কথা নেই। এমনকি আগামীতে কোনো মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানেরও কর্মসূচি দেয়া হয়নি। বিএনপি মহাসচিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কঠোর এবং লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবেÑ বিএনপির এই ধরনের ঘোষণা থেকে দলটি পিছু হটল কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
নতুন কর্মসূচি : সাধারণ মানুষের মতামত
মির্জা ফখরুল ইসলাম এই কর্মসূচি গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেও বিগত কয়েক দিন ধরেই এই ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে বাতাসে গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছিল। মির্জা ফখরুলের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর অবশেষে সেই গুজবই সত্যে পরিণত হলো। দেশের সাধারণ মানুষ, যারা মনে প্রাণে দারুণভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, তাদেরকে এই কর্মসূচি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাদের প্রশ্ন হলো : জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই যদি এমন সাদামাঠা কর্মসূচি দেয়া হয় তাহলে চলতি বছরের শুরু থেকেই কঠোর কর্মসূচি এবং সরকার পতনের প্রোগ্রাম, একবার দুইবার নয়, অসংখ্যবার দেয়া হয়েছে কেন? এখন বলা হচ্ছে যে, সামনে আছে দুর্গা পূজা, ছাত্রদের পরীক্ষা, কোরবানির ঈদ ইত্যাদি বিষয়। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তারা হার্ডলাইনে যাননি।
কিন্তু জাতীয়তাবাদী জনগণ পাল্টা প্রশ্ন করছে যে, আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে গিয়ে যদি ঐ সব বিষয় সারাক্ষণ বিবেচনায় রাখতে হয় তাহলে বছরের ১২ মাসের কোনো মাসেই কোনো কঠোর কর্মসূচি দেয়া যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে যে, আগামী ২ মাসের জন্য যে কর্মসূচি দেয়া হয়েছে সেই কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। জনগণের প্রশ্ন, বিগত পৌনে ৪ বছর ধরেই তো বিরোধী দলের সমস্ত কর্মসূচিতে প্রবল বাধার সৃষ্টি করছে সরকার। জেল, জুলুম, হামলা, মামলা, হত্যা, নির্যাতন, গুম এবং খুন এই সরকারের প্রধান ও নিয়মিত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এক সাথে ৪০ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাদেরকে এক সাথে গ্রেফতার করে মাসাধিককাল জেলখানায় ফেলে রাখা, বাংলাদেশ আমল কেন, পাকিস্তান আমলেও হয়নি। বিএনপিকে নয়া পল্টনস্থ রেজিয়া ভিলার অফিস থেকে কোনো হরতালেই বের হতে দেয়া হয়নি। তাদেরকে মিছিল করতে দেয়া হয়নি। জামায়াতের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাদেরকে তো তাদের অফিসে ঢুকতেই দেয়া হয় না। ১১ মাস ২৭ দিন বন্দী রাখার পর মাত্র ৪ দিনের জন্য জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারকে মুক্ত করা হয়। মাত্র ৪ দিন পর আবার তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। নবতিপর বৃদ্ধ অধ্যাপক গোলাম আযমকে এই বয়সেও বন্দী জীবন থেকে রেহাই দেয়া হচ্ছে না। এর পরও কি বলতে হবে যে, আওয়ামী সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অধিকারে তেমন জোরেশোরে বাধা দেয়নি?
এভাবে কি দাবি আদায় সম্ভব হবে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলেন যে, এই রকম সাদামাঠা এবং দায়সারা কর্মসূচি দিয়ে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব হবে না। বিগত পৌনে ৪ বছরে সেটি সম্ভব হয়নি। বরং দেখা গেছে যে, বিরোধী দল যতই নরম হয়েছে আওয়ামী সরকার ততই গরম হয়েছে। বিরোধী দলের বাঁধন যতই আলগা হয়েছে আওয়ামী সরকারের বাঁধন ততই শক্ত হয়েছে। বিরোধী দল যতই ছাড় দিয়েছে সরকার ততই হার্ড লাইনে গিয়েছে। বিরোধী দল ধীরে ধীরে যখন রাজপথ থেকে সরে এসেছে আওয়ামী সরকার ততই সেটিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। এই তো কিছু দিন আগে হরতাল এবং মিছিল মিটিং তো দূরের কথা, আওয়ামী সরকার বিরোধী দলকে মানববন্ধনও করতে দেয়নি। তাহলে অবশিষ্ট ১৩ মাস বা ১৬ মাসে এমন হোমিওপ্যাথিক কর্মসূচিতে সরকার ভয় পেয়ে সুর সুর করে দাবি মেনে নেবে, এমন ধারণা কিভাবে হয় সেটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বোধগম্য নয়।
বিগত পৌনে ৪ বছরে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি কোনো গণতান্ত্রিক সরকার নয়। এটি একটি গণতন্ত্র বিরোধী, গণবিরোধী, ফ্যাসিবাদী সরকার। এই সরকার বিরোধী দলকে দমন করার জন্য কি না করেছে? বেগম জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাস ভবন থেকে উচ্ছেদ করে ছেড়েছে। একের পর এক মামলা দিয়ে বেগম জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অসম্ভব করে তুলেছে। জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন শীর্ষ নেতাকে ২ বছর ধরে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে ফেলে রেখেছে। বিএনপির ২ নেতাকেও দেড় বছর ধরে জেল খানায় আটকে রেখেছে। ভারতের নিকট থেকে এই সরকার কোনো কিছু আদায় করতে পারেনি। কিন্তু ভারতকে এক তরফাভাবে সবকিছু দিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নাম করে দেশপ্রেমিক এবং জাতীয়তাবাদী শিবিরের হাজার হাজার কর্মীকে জেলে দিয়েছে। ১৮ দলের শীর্ষস্থানীয় ৪৬ জন নেতাকে মামলা দিয়ে আটকে রেখেছিল। জামিনে মুক্ত থাকলেও তাদের মাথার ওপর দ্রুত বিচার আইনের খড়গ ঝুলছে। এত কিছুর পর বিরোধী দল কিভাবে আশা করে যে, একটি দায়সারা গোছের কর্মসূচি দিলেই সরকার তাদের দাবি মেনে নেবে?
সরকার দাবি মানবে না
আওয়ামী সরকার বিশেষ করে শেখ হাসিনার অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি ধীরে ধীরে সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলকে পয়েন্ট অব নো রিটার্নে ঠেলে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে পরবর্তী দুটি মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ঐ অংশটি বাদ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের অংশটি বাতিল করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী নামে যে আইন করেছে তার ফলে তারা মন্ত্রিসভা বহাল ও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে অর্থাৎ ৩৪৫ জন এমপিকে বহাল রেখেই নির্বাচন করতে পারবে। সদ্য সাবেক হওয়া নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন যে, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র চালু আছে, এমন অন্তত ৭৫টি দেশে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া হয়।
কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নাই
বিরোধী দল হয়তো ভাবছে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তি ক্ষয় না করে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করলেই তো তারা জিতে যাবেন। তাহলে আর কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তির অপচয় কেন? এখানেই বিরোধী দলের হিসাবে একটি বড় ভুল হয়েছে বলে মনে হয়। যদি কঠোর আন্দোলন না হয় তাহলে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে, তার মন্ত্রিসভাকে বহাল রেখে এবং বর্তমান জাতীয় সংসদকে বহাল রেখেই ইলেকশন হবে। সেই ইলেকশনে কি বিরোধী দল যাবে? আর গেলে কি তাদেরকে জিততে দেয়া হবে? দুটোরই উত্তর হলোÑ ‘না’। আর ইলেকশনে না গেলে কি তারা সেই সাজানো নির্বাচন প্রতিহত করতে পারবে? মনে রাখা দরকার যে, বিরোধী দল যদি মাঠ ঘাট এবং রাজপথের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিতে পারত তাহলে হাসিনা সরকার এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ নিতে পারত না। বিগত অর্ধ শতকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আওয়ামী লীগ ‘শক্তের ভক্ত নরমের যম।’ শরীরের অংশবিশেষ নরম হলে নাকি সেই জায়গাটিতে বক পাখি ঠোকর মারে।
jamshedmehdi15@gmail.com
এ পাতার অন্যান্য খবর
- সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো সমঝোতা নয়
- ইসলামী আন্দোলনের পথ ফুল বিছানো নয় : নাজির আহমদ
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অচলাবস্থার জন্য ক্ষমতাসীনরাই দায়ী
- আ’লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে॥ দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত ভারত
- ট্রাইব্যুনালের বিচারক জহির আহমেদের পদত্যাগ॥ ডিফেন্স টিমের উদ্বেগ
- রমনিই রিপাবলিকান প্রার্থী॥ ডেমোক্র্যাটের বারাক ওবামাই
- আজহারের গ্রেফতারে মকবুল আহমাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ
- আসাম ও রাখাইন প্রদেশে মুসলিম নিধন বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে : অধ্যাপক মুজিব
