বাংলাদেশ দণি এশিয়ার একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বের পরাশক্তিসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের সকল কূটনৈতিক তৎপরতার লক্ষ্য হচ্ছে তাদের নিজ নিজ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও আদায়। আর এভাবেই সবাই তার নিজ নিজ দেশের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে থাকে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও তার সরকার এ চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সময়ে। বর্তমান সরকারের ভুল ও প্রতিশোধমূলক নীতি ও পদক্ষেপের কারণে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বসহ প্রতিটি বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ থেকে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে পত্রপত্রিকায় বেশকিছু রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীল সরকারব্যবস্থা চায়। দেশের জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশের বাইরে-ভিতরে এমন সব পদক্ষেপ নিতে শুরু করে যার পরিণতিতে বিভিন্ন স্তরে বিরোধ সৃষ্টি হতে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুরু করে দমন-নির্যাতন আর পররাষ্ট্রনীতিতে এমন সব নীতি গ্রহণ করার কারণে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো হয়ে পড়ছে ুব্ধ। সরকার এসব করছে কি নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে না কি অন্য কোনো মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে? অভিজ্ঞমহলের অভিযোগ বর্তমান সরকার একটি প্রতিবেশী দেশ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের ইচ্ছামাফিক বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতি পরিচালনা করছে, যার কারণে দেশে-বিদেশে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এতে করে বাংলাদেশ কার্যত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণ।
আমরা মনে করি সরকার দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে বড় বড় ভুল করছে যার কারণে দেশে-বিদেশে সরকার বিশেষত বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আমাদের পরামর্শ সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হবে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশা তথা সাধারণ জনগণের চিন্তা-চেতনাকে লালন করে। সরকার দেশ ও দেশের জনগণের মালিক নয়, প্রতিনিধিত্ব করেমাত্র। তাই সাধারণ জনগণ যে চিন্তা ও চেতনা লালন করে তা সরকারকে বুঝতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা সরকার দেশের সাধারণ জনগণের আশা আকাক্সার বিষয়টি চিন্তা করে দেশ পরিচালনার নীতি গ্রহণ করবে। সরকার যদি জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করত তাহলে বাংলাদেশ আজ এতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত না এবং দেশ, সরকার ও জনগণ এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। সরকার এ বিষয়গুলো অনুধাবন করবে এ প্রত্যাশা আমাদের। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এ কামনা করি।
