সংবাদ শিরোনামঃ

সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো সমঝোতা নয় ** কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নাই ** ইসলামী আন্দোলনের পথ ফুল বিছানো নয় : নাজির আহমদ ** বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অচলাবস্থার জন্য ক্ষমতাসীনরাই দায়ী ** চাল নিয়ে মহা বিপাকে সরকার ** নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে সরকার ** বিরোধী দলের দাবি মেনে নির্বাচনে আসার সাহস নেই মতাসীনদের ** সংবাদপত্রের পাতা থেকে ** আমার শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ** দোয়া করবেন আল্লাহতায়ালা যেন জুলুম-নির্যাতন থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দেন ** যোগাযোগ মন্ত্রী ৭ মাস আগে উদ্বোধন করে গেলেও যশোর-খুলনা সড়ক সংস্কারে অগ্রগতি নেই ** প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ করে দিনমজুর থেকে কোটিপতি ঝিনাইদহের আব্দুল করিম **

ঢাকা শুক্রবার ১৬ ভাদ্র ১৪১৯, ১২ শাওয়াল ১৪৩৩, ৩১ আগস্ট ২০১২

 ‘তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি আসন্ন! ইকোনোমিস্টে’র গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট’ এ শিরোনামে গত ২৯ আগস্ট- বুধবার ইত্তেফাক রিপোর্ট  প্রথম পৃষ্ঠায় লিড  নিউজ করে। ইত্তেফাকের নিউজটিতে বলা হয়েছে  ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বাংলাদেশে আবারো রাজনৈতিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দ্যা ইকোনোমিস্ট সাময়িকীর গবেষণা সংস্থা দ্যা ইকোনোমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এর বার্ষিক প্রতিবেদনে এ শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ২৬ আগস্ট এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এ ব্যবস্থায় নির্বাচন পরিচালনা ও প্রস্তুতির সব দায়িত্ব পালন করে নির্দলীয় উপদেষ্টা পরিষদ। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কারণে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ২০০৬ সালের মতো দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থাও দেখা দিতে পারে। যদিও আগামী পাঁচ বছরে (২০১২-২০১৬) অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর কর্তৃপরে কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে সম হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের মতায় আসার বিষয়টি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ইআইইউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হলে বিরোধীদল বিএনপি আগামী নির্বাচন বর্জন করবে। দলটি এখনো তাদের অবস্থানে অনঢ় রয়েছে। বিএনপি তাদের এই হুমকি অনুযায়ী কাজ করবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের হুমকিতে আওয়ামী লীগ আপোষমূলক কিছু কথা বলছে। এর মধ্যে তারা আগামী সংসদ নির্বাচন একটি যৌথ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করার কথা বললেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই জানায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার ওপর রাজনৈতিক ব্যবস্থা কীভাবে টিকে থাকবে তা ইঙ্গিত করে।  

ইআইইউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। বিচারে তাদের মৃত্যুদণ্ড ও হতে পারে। এই যুদ্ধাপরাধের বিচার দেশে বিদেশে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। এ বিচার প্রক্রিয়া সৌদি আরব সরকারকে বাংলাদেশ বিরোধী করে তুলতে পারে। কারণ দেশটি জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ সমর্থক। সৌদি আরব বাংলাদেশকে ভর্তুকিতে তেল সরবরাহ ও আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক বর্তমানে দেশটিতে কর্মরত রয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রীর অনাহূত লন্ডন সফর : হাঙ্গার সম্মেলনে বক্তার তালিকায়ও নাম ছিল না শেখ হাসিনার’ এ শিরোনামে আমার দেশ গত ২৫ আগস্ট প্রথম পাতায়  একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আমারদেশ প্রতিনিধি তারেক চৌধুরী লন্ডন থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে ‘ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণ ছাড়াই ঈদের আগে যুক্তরাজ্য সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গ্লোবাল হাঙ্গার সম্মেলনে শেখ হাসিনা যোগদান করেন বলে সরকারের তরফ থেকে প্রচার করা হয়। সম্মেলনের অফিসিয়াল ছবিতেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। আর কোনো দেশের সরকারপ্রধানও সম্মেলনে যোগ দেননি। প্রধানমন্ত্রীর অনাহূত লন্ডন সফর নিয়ে তথ্য-প্রমাণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের একটি জনপ্রিয় বাংলা সাময়িকী। এ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে বিলেতের বাঙালি কমিউনিটিতে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

বিলেতের জনপ্রিয় বাংলা সাপ্তাহিক ‘নতুন দিন’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের অনুষ্ঠানসূচিতে, ডাউনিং স্ট্রিটের প্রেস রিলিজে, পাঠানো ছবিতে, এমনকি সংশ্লিষ্ট কোথাও বাংলাদেশের নাম পাওয়া যায়নি। খোদ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাননি।

অনেকটা অনাহূত হয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টের আহ্বানে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। ৩৬ জন সফরসঙ্গী নিয়ে ১১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সফর শেষে ১৩ আগস্ট ঢাকায় ফিরে যান।

এ অনুষ্ঠানসূচির কোথাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ নেই। ১২ আগস্ট রোববার ৪টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। আমন্ত্রিত হয়ে লন্ডনের সাপ্তাহিক নতুন দিন-এর নির্বাহী সম্পাদক তাইছির মাহমুদ অনুষ্ঠান কভার করতে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছেন সোয়া ৩টায়। দেখতে পান ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের ঠিক সামনে বিবিসিসহ দেশি-বিদেশি মিডিয়ার উপচেপড়া ভিড়। একে একে ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রবেশ করতে দেখেননি তিনি।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সম্মেলন শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে অনুষ্ঠিত হয় রেস অ্যাগেইনেস্ট হাঙ্গার নামে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা। এতে সাদা-কালো ও এশিয়ান পাঁচ কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করে। এ সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে রানারদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল টিমার, ফুটবলের রাজা পেলে, অলিম্পিক গোল্ড মেডেলিস্ট ব্রিটিশ মুসলিম মোহাম্মদ ফারাহসহ অন্যান্য অতিথি। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন না। এতে সম্মেলনে তার উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়।

‘মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি কমছে, সাড়া মিলছে না নতুন বাজারেও’ এ শিরোনামে মানবজমিন গত ২৫ আগস্ট প্রথম পাতায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন  প্রকাশ করে। মানবজমিনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে ‘আমেরিকার বাজারে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের খাত তৈরী পোশাক শিল্পের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ক্রমেই কমছে। গত বছরের জুলাইয়ে আমেরিকা ও কানাডাতে যথাক্রমে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ৪৬২ কোটি ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা ও ৮৯ কোটি ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকার গার্মেন্ট সামগ্রী। চলতি বছরের একই সময়ে ইউএসএ’তে রপ্তানি কমে হয়েছে ৪৫২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার সামগ্রী। আর কানাডায় হয়েছে ৮৭ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। যা শতাংশের হিসেবে প্রবৃদ্ধি কমেছে ইউএসএ’তে ২.০৭ শতাংশ। আর কানাডায় কমেছে ২.২২ শতাংশ। রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমলেও এ বিষয়ে ত্বরিত পদপে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ইইউভুক্ত দেশ ও আমেরিকার মূল বাজারের বাইরে নতুন সম্প্রসারিত বাজারেও বাংলাদেশের পোশাকের তেমন সাড়া দেখা যাচ্ছে না। তবে মার্কিন বাজার নেতিবাচক হলেও ইউরোপের বাজার ভাল রয়েছে দাবি করেছে বিজিএমইএ।

আমেরিকার বাজার এরকম হবে এমন আভাস গত জুন মাসেই দিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, বিশ্বমন্দায় আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা ক্রমশ কমে আসছে। চাহিদা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মূল্য সংকোচন ও অপরদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি ১০%, বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি ২৮%, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ১০% এবং ব্যাংক ইন্টারেস্ট ও চার্জ রয়েছে। বিজিএমইএ আয়োজিত এক বৈঠকে একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানি হুমকির মুখে পড়তে পারে। এদিকে মার্কিন সরকার-সমর্থিত সলিডারিটি সেন্টার (এএফএল-সিআইও) বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের আবেদন করেছে। যদিও এটি এখনও নির্ধারিত হয়নি। এই সুবিধা বাতিল হলে এ দেশের তৈরী পোশাক খাত সরাসরি তিগ্রস্ত হবে না। তবে বাংলাদেশ শ্রম-বান্ধব নয় এমন বার্তা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

সংগঠনের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য ক্রেতারা এ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। ইপিবি’র তথ্যে দেখা যায়, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০% হয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায়। ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্ট সামগ্রী।

‘বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন করতে চায় আ.লীগ’ এ শিরোনামে প্রথম আলো গত ২৬ আগস্ট প্রথম পৃষ্ঠায় লিড নিউজ করে। প্রথম আলোর নিউজটিতে বলা হয়েছে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল নয়, বর্তমান সংবিধানের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না এলে তাদের ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের মধ্যে দৃঢ় অবস্থান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

বিএনপিকে বাদ দিয়ে মতাসীন মহাজোটের শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টিকে (জাপা) সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে চায়। এ জন্য বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করা হতে পারে। বিএনপির একাধিক নেতাও এই আশঙ্কার কথা বলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এ জন্য বিএনপিকে আরও দুর্বল করতে বিভিন্ন মামলায় শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাবু করাসহ বিভিন্ন তৎপরতার ছক কষা হচ্ছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজানো নির্বাচন করতে সরকারের নীলনকশার কথা আমরা জানি, এটা মোকাবিলা করার সামর্থ্য বিএনপির আছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন দেশের ভেতরেই শুধু নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পাবে না। আর একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে মতায় গিয়ে কোনো দল বেশি দিন টিকতে পারবে না। বিএনপিও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ রকম নির্বাচন করে টিকতে পারেনি।

বর্তমান জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, আগামী বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরস্পরবিরোধী শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলছেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া তাঁর দল নির্বাচনে যাবে না। ওই নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। আর আওয়ামী লীগ বলছে, উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলে আসছেন, কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির কাছে মতা দেওয়া হবে না।

এই অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেকেরা; বরং সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন।

হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার: আওয়ামী লীগের নেতারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তাঁদের ল্য হচ্ছে, বর্তমান সংবিধানের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন করা।

রাজনৈতিক পর্যবেকদের মতে, সংবিধানের আলোকে নির্বাচনকালীন যে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলা হচ্ছে, প্রকারান্তরে তা দলীয় সরকারই হবে। আর তাতে প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই থাকবেন। তবে এমন আলোচনাও আছে, শেষ মুহূর্তে উদ্ভূত কোনো পরিস্থিতির কারণে যদি শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হতে না পারেন, সে েেত্র দলের ভেতর থেকেই কাউকে প্রধান করা হতে পারে। কিন্তু অনির্বাচিত কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করা হবে না।

বিএনপিকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর রাখেন এমন একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আরেক মেয়াদে মতায় আসার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য সম্ভাব্য সব রকম কৌশল, চেষ্টা-তৎপরতা চালানো হবে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপিকে কোণঠাসা করতে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বিচারকাজ দ্রুত শেষ করা হতে পারে। মামলায় সাজা হলে এসব নেতা আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার বিএনপির একাংশকে চাপে ফেলে নির্বাচনে আনার চিন্তাও আছে মতাসীন দলের।

সরকার বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করছে বলে কয়েক মাস আগে দলের প থেকে অভিযোগও করা হয়। আওয়ামী লীগের প থেকে তাৎণিক এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও সরকারের একটি সংস্থার মাধ্যমে বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে ুব্ধ-বঞ্চিত নেতাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক মহলের দিকে চেয়ে আছে বিএনপি: বিএনপির কেন্দ্রীয় আরেক নেতা জানান, তাঁরা মনে করছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন হলে বিএনপি মতায় যাবে। আর, আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে এবং বিদেশিদের চাপে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য হবে। মির্জা ফখরুলও এই প্রতিবেদককে বলেছেন, তাঁরা নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরবেন। বিএনপির অনেক নেতার বিশ্বাস, পশ্চিমা প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্দলীয় সরকার প্রশ্নে একটা সমঝোতা হবে।

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেকেরা মনে করেন, সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই কম। পদ্মা সেতু, গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রশ্নে সরকারের সাম্প্রতিক যে ভূমিকা, তাতে নির্বাচন প্রশ্নে পশ্চিমা বিশ্বের চাপকে শেখ হাসিনা কতটা আমলে নেবেন, তা নিয়ে সংশয় আছে।

জামায়াত নিয়ে সতর্কতা : এ ছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে বিএনপির পর জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কোনো দলের উল্লেখ করার মতো সাংগঠনিক শক্তি-সামর্থ্য নেই। সরকারি মহলগুলো মনে করে, বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচি দিলে মাঠে মারদাঙ্গা ভূমিকা রাখার মতো কিছু সামর্থ্য আছে জামায়াতের। তাই বর্তমান সরকার শুরু থেকেই জামায়াতকে চাপে রেখেছে।

এরশাদ ও আ.লীগের একই ল্য : দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এরশাদের জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটা বিষয়ে মতৈক্য রয়েছে, যেভাবে হোক বিএনপিকে দুর্বল করতে হবে, মতায় আসতে দেওয়া যাবে না।

দল দুটির একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে এরশাদ জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। আর বিএনপি না গেলে এরশাদ আলাদা ভোট করবেন। উল্লেখ্য জামায়াত বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বাদ রাখার কূটকৌশল এ বিষয়ে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা গত ১০ আগস্ট সংখ্যায় শেষ পৃষ্ঠায় লিড নিউজ করে।

‘কূটনৈতিক ব্যর্থতায় শ্রমবাজারে ধস’ এ শিরোনামে যুগান্তর গত ২৮ আগস্ট  ১ম পৃষ্ঠায় লিড নিউজ করে। যুগান্তরের নিউজটিতে বলা হয়েছে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের বিপরীতমুখী অবস্থানে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও কার্যকর কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তম জনশক্তি রফতানির বাজার এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়েও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ইমেজ সংকটে সরকার। এখন ভারত ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বন্ধু খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যদিও নানা দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের মতাসীন কংগ্রেস সরকারের অবস্থাও এখন নড়বড়ে। তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে সেই সম্পর্কও থমকে গেছে।

কূটনৈতিক ব্যর্থতা সম্পর্কে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান যুগান্তরকে জানান, বিশ্বে কূটনীতির বিবর্তন ঘটেছে। এ জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্কও দরকার। কূটনীতিতে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা দরকার। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মন্ত্রীর হাতে নাকি উপদেষ্টাদের হাতে তারই কোন ঠিক নেই। এসব বিষয়ে সমন্বয় দরকার ছিল। আর মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে থাকে সৌদি আরব। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক অনেকটা নির্ভর করে থাকে। তিনি বলেন, বিএনপি মতায় থাকাকালে সৌদি আরবে তিন লাখ বাংলাদেশীকে আমরা বৈধ করেছিলাম। আর সেই বৃহৎ বাজার দীর্ঘদিন বন্ধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, পদ্মা সেতু, গ্রামীণ ব্যাংক, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে জনশক্তি রফতানি ইস্যুতে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা তো রয়েছেই। আসলে কূটনীতির দায়িত্ব যাদের ওপর দেয়া হয়েছিল তাদের অদতা চরমভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক এক জায়গায় এসে আটকে গেছে। এসব েেত্র সরকারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবও ছিল। ফলে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানিও বিপর্যয়ে পড়েছে। ... ...’

ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া।

E-mail : ferdous.ab@gmail.com.

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com