বর্তমান নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষপর্যায়ে। আর মাত্র এক বছর পর আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিগত ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। আগামী ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য তা হবে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্যরা বহাল থাকবেন। আর সংশোধনীটি করেছে বর্তমান সরকার। পরবর্তী সংসদ নির্বাচন চলাকালে পূর্ববর্তী সংসদ সদস্যদের বহাল থাকার বিধান বিশ্বের কোনো দেশে নেই। দেশের প্রধান বিরোধী দলসহ সর্বস্তরের বুদ্বিজীবীসহ সাধারণ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেই বর্তমান সরকার এ ধরনের একটি সংশোধনী এনেছে।
সরকার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সংবিধানে যে ধরনের সংশোধনী এনেছে তা কোনো মহলেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কারণ এ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে এবং তাদের আওতায়ই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু অতীত ইতিহাস বলে বাংলাদেশে দলীয় সরকারের আওতায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের আওতায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো নজির নেই। তাই প্রধান বিরোধী দলসহ সর্বস্তর থেকেই দাবি উঠেছে বর্তমান সরকারের আমলে করা পঞ্চদশ সংশোধনীটি অবিলম্বে বাতিল করে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের আওতায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগের পদ্ধতিটি বহাল করার।
দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়নি বলেই ১৯৯০ সালে আমাদের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু করা হয়। আর ঐ তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির আওতায় বিগত চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকারও একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ সরকার ঐ পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দিয়ে তাদের অধীনে নির্বাচন করার সর্বনাশা পদ্ধতি চালু করতে চাচ্ছে। আর তাদের এ সংশোধনিটির উদ্দেশ্য যে মহৎ নয় তা সর্বস্তরের জনগণ বুঝতে পেরেছে। তাই বর্তমান সরকারের সংবিধানের এ সংশোধনীটি বাতিলের ব্যাপারে সবমহল থেকে দাবি উঠেছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন সরকারের আওতায় নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সরকারের পক্ষ হতে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের আওতায় হবে তা নিয়ে দেশে একটি অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অথচ বিরোধী দলের পক্ষ হতে বলা হয়েছেÑ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু করা না হলে তারা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আমরা মনে করি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দেশে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু করা উচিত। কারণ বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ব্যতীত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। আমরা আশা করি, সরকার বিরোধী দলসহ সর্বস্তরের জনগণের দাবি দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
