ঢাকা শুক্রবার ৩০ ভাদ্র ১৪১৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১২

শেয়ারবাজার থেকে হলমার্ক : লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠনের কাহিনী

মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার

॥ জামশেদ মেহ্দী ॥
কথায় বলে, ‘মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার’। কে বলে যে আওয়ামী সরকারের নজর ছোট? ছোট ছোট কাজকি মাছ, মলা মাছ প্রভৃতির ওপর তাদের নজর না থাকতে পারে। কিন্তু তাদের নজর ঠিকই আছে রুই, কাতলা, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি বড় মাছের প্রতি। তাই তারা মিডিয়ার রিপোর্ট মোতাবেক দাঁও মারছে বড় বড় মাছ। তাদের আমলেই লুট হয়েছে শেয়ারবাজার। লুণ্ঠিত হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, লক্ষ কোটি টাকা। প্রতারণা ও আনিয়মের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডেসটিনি নামক প্রতিষ্ঠান ও তার কাণ্ডারিবৃন্দ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খাওয়ার। পদ্মা সেতু নিয়ে শত শত কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের কান ধরে টান দেয়ার পর এখন একাধিক মাথাও বেরিয়ে এসেছে। ইংরেজিতে বলে, ‘লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট’। অর্থাৎ সর্বশেষ হলেও সবচেয়ে ছোট নয়। তিন হাজার টাকা বেতনের এক কেরানি মাত্র ১০ বছরের মাথায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সহায় সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থাৎ এই হলমার্কের মালিক তানভীর মাহ্মুদ প্রতি বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে তিনি বানিয়েছেন গড়ে ৫শ’ কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকের সাবেক শেরাটন এবং বর্তমান রূপসী বাংলার ব্রাঞ্চ হতে কোনো কোল্যাটারাল বা জামানত ছাড়াই তাকে ঋণ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬ শ’ ৬ কোটি টাকা। এই ‘কর্মবীর’ তানভীর বড়াই করে বলেছেন যে, মাত্র সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে হইচইয়ের কোনো ভিত্তি নেই। ঐ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তিনি যখন তখন ফেরত দিতে পারেন। কারণ তার সহায় সম্পদের পরিমাণ ঋণ নেয়া অর্থের ২০ গুণ বেশি।

অথচ কারো বিরুদ্ধে কোনো এ্যাকশন নেই

শেয়ার কেলেঙ্কারি, সুরঞ্জিতের ঘুষ, ডেসটিনির অনিয়ম ও অনাচার, পদ্মা সেতুতে উৎকোচ এবং হলমার্কের পুকুর চুরি, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার থেকে লুণ্ঠিত হয়েছে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এই বিশাল অঙ্ক বাংলাদেশের জিডিপির বা মোট দেশজ উৎপাদনের ৭ ভাগের ১ ভাগ। দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি সম্পর্কে যাদের বিন্দুমাত্রও ধারনা হয়েছে তারা বিলক্ষণ বুঝতে পারবেন যে লুণ্ঠন ও অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ কি বিশাল। এই অর্থ কেলেঙ্কারি দেশের উন্নয়ন ও রাজস্ব বাজেট অর্থাৎ সম্মিলিত বাজেটের দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ তিন ভাগের দুই ভাগের বেশি।

শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন তিনি কয়েকটি পরিভাষা আবিষ্কার করেছিলেন। নতুন নতুন পরিভাষা রচনায় তার উদ্ভাবনী শক্তি প্রশংসা করার মতো ব্যাপার। মানুষ আগে বলতো ভোট চুরি। শেখ হাসিনা সেটির নাম দিলেন ‘ভোট ডাকাতি’। মানুষ আগে বলত নির্বাচনে কারচুপি। শেখ হাসিনা তার নাম দিলেন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। যখন তিনি এই ধরনের ঘটনার যে সব নতুন নামকরণ করেন তখন তিনি বিরোধী দলে ছিলেন। তখন সেগুলোর বাস্তব রূপ দেখা যায়নি। এই সরকারের আমলে সেগুলো আপন অবয়বে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আওয়ামী ঘরানারই লোক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদকে দিয়ে শেয়ার কেলেঙ্কারির তদন্ত করার জন্য এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইব্রাহিম খালেদের ঐ রিপোর্টটিতে অনেক অসম্পূর্ণতা ছিল। তৎসত্ত্বেও তিনি কয়েকজন রাঘব বোয়ালকে ঐ রিপোর্টে চিহ্নিত করেছিলেন। অথচ তাদেরই তদন্ত কমিশন কর্তৃক চিহ্নিত রুই কাতলাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করা হয়নি। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সেদিন বলেছেন, ওদেরকে স্পর্শ করা  যাবে না। ওদের হাত অনেক লম্বা। সচেতন মানুষরা সেদিন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন এই জন্য যে ওদের হাত যদি এত লম্বা হয়, যেটি একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীও স্পর্শ করতে পারেন না, তাহলে সেই হাত প্রসারিত হয়ে কোন্ জায়গায় পৌঁছে যায়? অর্থমন্ত্রীর এই হতবাক করা বক্তব্যের পর ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার স্ক্যান্ডালের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পুরু কার্পেটের অনেক নিচে চলে যায়।

প্যান্ডোরার বাক্স খুলতে

 শুরু করেছে

হলমার্কের কর্ণধার তানভীর আহমদকে ধন্যবাদ! তিনি এমন একটি কর্ম করেছেন যেটি ধরা পড়ার পর কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। শুধুমাত্র হলমার্কের নয়, সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেই কত যে ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে এবং ঐসব ছিদ্র দিয়ে কত হাজার হাজার কোটি টাকা যে বেরিয়ে গেছে, আমাদের মিডিয়ার কল্যাণে সেগুলো দিনের আলোতে আসতে শুরু করেছে। এখন আর শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংক নয়, অথবা সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখাই নয়, ঐ ব্যাংকের গুলশান শাখা এবং অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক প্রভৃতি ব্যাংক থেকেও লুণ্ঠনের খবর বেরিয়ে আসছে। কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এলসি খোলায় মারাত্মক অনিয়মের কারণে ১৭৪ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটেছে। সোনালী ব্যাংকের গুলশান শাখায় বিগত আড়াই বছরে স্থানীয় ও বিদেশী ক্রয় বিল পরিশোধের নামে ১৫৯ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। ২০১০ সালে শেয়ার কেনার জন্য বেক্সিমকোকে ২৪৪ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে অগ্রণী ব্যাংক। শেয়ারের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি মূল্য দেখিয়ে ঐ ঋণ দেয়া হয়। অথচ সেই ঋণদানের আগে বাজার যাচাইসহ কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়নি বলে অভিযোগে প্রকাশ। ডেসটিনিসহ ৫টি কোম্পানিকে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রতারণামূলক ঋণ দেয়া হয়েছে। এসব কোম্পানি হলো ইউনিপেইউ টু, ইউনিগেটওয়ে টু, ইউনি রুট, মা পলিকম ও ডেসটিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে আওয়ামী সরকারের বশংবদ কোম্পানি দুদকের তদন্ত থেকে। ডেসটিনি গ্রুপ কর্তৃক জনগণের নিকট থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। ব্যক্তিগত হিসাবে সরিয়ে ফেলা অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করেছে ৪২০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

২৫ ব্যাংক কেলেঙ্কারির

সাথে জড়িত

২০০৯ থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, কৃষি ও বেসরকারিসহ ২৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়। ব্যাংকগুলো রফতানি মূল্য কম দেখিয়ে এবং আমদানি মূল্য বেশি দেখিয়ে এ সব টাকা লোপাট করেছে। ব্যাংকগুলো থেকে এই বিপুল অর্থ সরিয়ে ফেলার সঙ্গে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তার প্রত্য ও পরো সহযোগিতার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খুলে এ সব ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্তে দেখা গেছে, করপোরেট গ্রাহকের অনুকূলে ঋণপত্র স্থাপনের েেত্র বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই শাখা ব্যবস্থাপকরা মতাবহির্ভূতভাবে ঋণপত্র খুলেছেন। কোনো ধরনের সহায়ক জামানত ছাড়াই অনেক সময় নন-ফান্ডেড ঋণ (ডেফার্ড এলসি ও সাইট এলসি) সুবিধা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নিরীায় সোনালী ব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলার তথ্য বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ একাই তুলে নেয় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এখন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আত্মসাতের ঘটনা যে কোনোভাবে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। অথচ বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা ওপর মহলের চাপে এ কাজে বাধ্য হয়েছে বলে জানালেও সোনালী ব্যাংকের পর্ষদ সব দায় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপরে ওপর চাপিয়েছে। আর অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকারের পরও হলমার্কের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে হলমার্কের ঋণ কেলেঙ্কারিতে এ দেশে ব্যবসারত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক আল ফালাহ লিমিটেড এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংক ছাড়াও আরও ২২টি ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলোর শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এলসি বিল কিনে পে-অর্ডার ও ড্রাফটের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

ভুয়া এলসি, ভুয়া ড্রাফট ছাড়াও ভুয়া জমির দলিল বা অল্প মূল্যের জমি বেশি মূল্য দেখিয়ে দলিল জমা দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণের নামে লুটে নিচ্ছে চক্রটি। সূত্র জানায়, মিরপুর এলাকার একাধিক মালিকানা দাবির জমির দলিল, ভুয়া দলিল জমা দিয়ে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করছে। এছাড়া অল্প মূল্যের জমিও কয়েকগুণ বেশি দেখিয়েও হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ আত্মসাতের অর্থ ফেরত দিতে এরই মধ্যে নগদ ও এক্সপোর্ট বিল বাবদ ২৭৭ কোটি টাকা দিয়েছে। আর বন্ধক হিসেবে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ২১৪৩ শতাংশ জমির কাগজপত্র জমা দিয়েছে। যার মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি শতাংশ জমির দাম ধরা হয়েছে ৯৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ এলাকার উঁচু জমির দাম সর্বোচ্চ শতাংশ প্রতি ৫ লাখ টাকা। ফলে সোনালী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা জমির মূল্য বাজার দরের চেয়ে ১৯ গুণ বেশি দেখিয়েছে হলমার্ক গ্রুপ। এছাড়া ব্যাংক জালিয়াতির আরও অভিনব ফাঁদ আবিষ্কার করেছে চক্রটি। জালিয়াত চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগ দিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তাও। চক্রের সদস্যদের মধ্যে একই ব্যক্তি বিভিন্ন ছদ্মনাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে এমনকি ভুয়া পিতার নাম, ভুয়া জন্ম তারিখ ও নীলতে থেকে ভুয়া জাতীয়তার সনদ তৈরি করে রাজধানীতে বেসরকারি ১৬টি ব্যাংক, একটি সরকারি ব্যাংক এবং চট্টগ্রামের একটি ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলে। পরে সেই ব্যক্তিই আবার এক ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে আরেক ব্যাংকে জমা করে এবং সেই টাকা কৌশলে তুলে নিয়ে যায়। এ েেত্র তারা ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় ভুয়া ব্যাংক ভাউচার, ভুয়া জমার রসিদ, পে-অর্ডার প্রভৃতিও তৈরি করে। চক্রটি সোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা থেকে কৌশলে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সরিয়ে ওই ১৮টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে তুলে নেয়। এরও আগে ২০০২ সালে ওম প্রকাশ আগারওয়াল নামে এক ব্যবসায়ী পাঁচটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান।

কঠোর? শুধুই বিরোধীদের

প্রতি? অন্যদের বেলায়?

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে, কঠোর কিভাবে হতে হয় সেটা তার জানা আছে। এই হুঁশিয়ারি তিনি উচ্চারণ করেছেন বিরোধী দলসমূহের প্রতি। ভালো কথা। কিন্তু যারা হাজার হাজার তথা লক্ষ কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন করছে তাদের প্রতি তিনি এই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন না কেন? সেই শেয়ার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে হলমার্ক- সকলের প্রতি তার সরকারের একটি দৃষ্টিকটু দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। এরা পুকুর চুরি করেছে। অথচ আজ পর্যন্ত তাদের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। পলিটিশিয়ান ক্রিমিনাল এবং লুটেরাদের প্রতি সরকারের এই বৈষম্যমূলক আচরণ সচেতন মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছে না।

আওয়ামী শাসনামলের বিগত পৌনে ৪ বছরে যে লুণ্ঠন হয়েছে তার ফিরিস্তি ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। পর্যবেক্ষক মহলের মতে আগামী দিনগুলোতে কেঁচো খুঁড়লে সাপ যেভাবে বেরিয়ে আছে সেভাবে আওয়ামী কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসবে। পাঠকদেরকে তাই লুণ্ঠন ও দুর্নীতির পূর্ণ বিবরণ লাভের জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

jamshedmehdi15@gmail.com

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com