সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
বর্তমান সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীকে বহাল রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীকে বহাল রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, আমরা ১৮ দলীয় জোট বিষয়টি সরকার ও জনগণের কাছে তুলে ধরছি। একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে বহাল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে অবশ্যই তিনি প্রশাসনকে প্রভাবিত করবেন। বিষয়টির আমরা জোর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
এ সমস্যা সমাধানে দুটি পথ আছেÑ এক. সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী আনতে হবে অথবা দ্বিতীয়ত. সুপ্রিমকোর্ট যে রায় দিয়েছেনÑ আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। এ রায় এখনো লেখা হয়নি। সুপ্রিমকোর্ট যদি এ রায় সুলিখিতভাবে প্রকাশ করেন তার উপর ভিত্তি করে সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা পদ্ধতি বের হয়ে আসতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কেয়ারটেকারের প্রয়োজনে সরকারকে একটি পদক্ষেপ নিতেই হবে।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন : হারুন ইবনে শাহাদাত
সোনার বাংলা : ঈদের পর ১৮ দলীয় জোট সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে, এমন ঘোঘণা দিলেও তেমন কোনো লক্ষণ জনগণ দেখছে না। আপনারা গণসংযোগ কর্মসূচি দিয়েছেন। এমন কৌশলের কারণ কী?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : ১৮ দলীয় জোট কর্মসূচি ঘোষণা করে মাঠে আছে। বড় বা কঠোর কর্মসূচি বলতে আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত হরতাল, অবরোধকেই বোঝে। কিন্তু গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেভাবেই এ আন্দোলন পর্যায়ক্রমে একটি মাত্রা পাবে ইনশাআল্লাহ।
১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দু’মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দ্’ুমাসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলায় জেলায় সফর করে ১৮ দলের সংগ্রাম কমিটি গঠন করবেন, সভা-সমাবেশ করেছেন। এর মধ্যে যে হরতাল-অবরোধ আসবে না, তা তো বলা যায় না। আন্দোলনের প্রয়োজনেই এমন কর্মসূচি আসে, সব সময় আগে থেকে দিনক্ষণ ঠিক করে কঠোর কর্মসূচি আসে না। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এক এক ধাপে কর্মসূচি আসে। জনগণ যাকে বড় বা কঠোর কর্মসূচি মনে করে তার আগে ওয়ার্মআপ বা মাঠ গরম করার জন্য কিছু কর্মসূচি দিতে হয়। কিছু গ্রাউন্ডওয়ার্ক করতে হয়। এই লক্ষ্যেই গণসংযোগ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনগণের দাবি পূরণের জন্য কঠোর কর্মসূচি আসবে।
সোনার বাংলা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরসহ নায়েবে আমীর সেক্রেটারি জেনারেল ও তিনজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জেলে, ১৮ দলীয় জোট তাদের মুক্তির দাবিতে কোন কর্মসূচি ঘোষণা করছে না কেন?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : যারা কারাবন্দী আছেন তারা জামায়াতে ইসলামী এবং ১৮ দলীয় জোটেরও শীর্ষনেতা। ১৮ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অন্যায়ভাবে আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করেছেন। সরকারের এ অন্যায় আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন, নিন্দা জানিয়েছেন।
আমাদের ১৮ দলের পক্ষ থেকে কেয়ারটেকার সরকারের দাবি জানানো হচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, শেয়ারবাজার লুট, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, হত্যা-সন্ত্রাস, গুম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সকল ব্যর্থতা তুলে ধরা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিও এর সাথে করা হচ্ছে। আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি শুধু এখন কোনো একটি ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিও এ সব দাবির সাথে একীভূত হয়ে গেছে। ১৮ দলীয় জোটের ঘোষিত কর্মসূচির পাশাপাশি তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে প্রহসনের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে সরকারবিরোধী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সোনার বাংলা : ১৮ দলীয় জোট কোন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য গঠন করেছেন?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : ১৮ দলীয় জোট গঠনের লক্ষ্য বিভিন্ন সেক্টরের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত ১৮টি দল একত্র হয়ে জোটভুক্ত হওয়ায় সরকার বিরোধী আন্দোলনের শক্তি ও ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃবৃন্দ একত্র হওয়ায় জনগণের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটেছে। চারদলীয় জোটকে সম্প্রসারিত করায় জোট আরো শক্তিশালী হয়েছে। জনগণের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি আস্থা ও কর্মীদের অংশগ্রহণ ও অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোনার বাংলা : জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য ইসলাম প্রতিষ্ঠা, ১৮ দলীয় জোট কি আপনাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সহায়ক শক্তি?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : ১৮ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন ১৮টি দল নিয়ে। সব দলেরই আলাদা আলাদা উদ্দেশ্য লক্ষ্য ও কর্মসূচি আছে। কিন্তু জোট গঠন করা হয়েছে ১৮টি দলের একটি অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য, সেই লক্ষ্য হলো একটি স্বৈরাচারী সরকারের দুঃশাসন ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র থেকে জনগণকে মুক্ত করা। এই একটি অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আসবে। তখন জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজের পরিবেশ অবশ্যই তৈরি হবে। একটি দেশের প্রত্যেকটি দলের মধ্যে যদি পরমতসহিষ্ণুতা থাকে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকে, তাহলে যেকোনো গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে তার নিজস্ব কর্মসূচির প্রচার, প্রসার ও জনমত গঠন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা সহজ হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলামী সমাজ ও জনগণের কল্যাণের জন্য ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একটি কমন ইস্যুতে আমরা এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছি।
সোনার বাংলা : ১৮ দলীয় জোটের দুই মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির লক্ষ্য কী?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : এ কর্মসূচির লক্ষ্য প্রথমপর্যায়ে সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডÑ যেমন: দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যর্থতা এবং এর কারণে যে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে তা জনগণকে অবহিত করে সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টি করা। মাঠপর্যায়ে জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা। এই সময় আমাদের সংগ্রাম কমিটিগুলো গঠন হচ্ছে। জেলাপর্যায়ে নেতৃবৃন্দ সফর করছেন। একটা সফরে কমিটি গঠন হবে, পরবর্তী সফরে গণমিছিল ও জনসভার মতো কর্মসূচি পালন করা হবে।
আমরা এ কর্মসূচির পর যে কর্মসূচি ঘোষণা করবো তা যেন শতভাগ সফল হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথমপর্যায়ের কর্মসূচি গণসংযোগ কর্মসূচির লক্ষ্য। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশ সফর করছেন, বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। এ কর্মসূচির লক্ষ্য সকলপর্যায়ের জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা। জনশক্তির মানসিকতাকে আন্দালনের জন্য প্রস্তুত করা। ওয়ার্মআপ করা। আন্দোলনকে শক্তিশালী করা। বিরোধীদলের মূল আন্দোলনের মেসেজ জনগণের কাছে পৌঁছানো।
সোনার বাংলা : ১৮ দলীয় জোট কি সরকারের হামলা, মামলা, গ্রেফতার নির্যাতনের ভয়ে হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি না দেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য এটা সরকারি দলের একটি অপপ্রচার। আমরা অর্থাৎ বিরোধী দল সরকারের নির্যাতন নিপীড়নের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত নই। আমরা নির্যাতনকে ভয় পাই না। সরকার তো আমাদের ওপর নির্যাতন করছেই। নেতৃবৃন্দকে জেলে রেখেছে। গ্রেফতার করছে, ডাণ্ডাবেড়ি পরাচ্ছে। আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি মিছিল-মিটিংয়ে বাধা দিচ্ছে। তারপরও তো জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা সরকারের অন্যায় আচরণ ও দুঃশাসনের প্রতিবাদ করেই যাচ্ছি। আমরা তো আন্দোলনের মাঠেই আছি। আমাদের সকল কর্মসূচি অব্যাহত আছে। বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য সরকার যে ধরনের অপপ্রচারের কৌশল গ্রহণ করে, তাদের এ বক্তব্য তারই অংশমাত্র।
সোনার বাংলা : আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর এ দেশকে ধর্মনিপেক্ষতার নামে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, সংবিধান থেকে মুসলিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারা বাতিল করেছে, আপনারা সে সব বিষয় তুলে না ধরে কেন শুধু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : আমাদের ১৮ দলের যুক্ত ঘোষণায়, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ তুলে দিয়ে বর্তমান সরকার ধর্মনিরপেক্ষতা সংযুক্ত করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে ও ঈমান বিরোধী কাজ করছে। এ বিষয়গুলো আছে। কেয়ারটেয়ার ইস্যু তো আমাদের সাময়িক ইস্যু। কেয়ারটেকার সরকার না হলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে, যে সংসদ হবে তাতে দেশের জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে না। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ না হলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানে উল্লিখিত ধারা সংযুক্ত করা সম্ভব হবে না। জনগণের কোনো দাবিই পূরণ করা যাবে না। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেই জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৮ দলীয় জোট কেয়ারটেকার সরকার ইস্যুকে বেশি হাইলাইট করছে।
সোনার বাংলা : সাংবিধানিক যেসব জটিলতার কারণে সংবিধান সংশোধন না করে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় সেই জটিলতাগুলো একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : বর্তমান সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীকে বহাল রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, আমরা ১৮ দলীয় জোট বিষয়টি সরকার ও জনগণের কাছে তুলে ধরছি। একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে বহাল থেকে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে অবশ্যই তিনি প্রশাসনকে প্রভাবিত করবেন। বিষয়টির আমরা জোর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
এ সমস্যা সমাধানে দুটি পথ আছেÑ এক. সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী আনতে হবে অথবা দ্বিতীয়ত. সুপ্রিমকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, আগামী দু’টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। এ রায় এখনো লেখা হয়নি। সুপ্রিমকোর্ট যদি এ রায় সুলিখিতভাবে প্রকাশ করেন, তার উপর ভিত্তি করে সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা পদ্ধতি বের হয়ে আসতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কেয়ারটেকারের প্রয়োজনে সরকারকে একটি পদক্ষেপ নিতেই হবে, তা না হলে সরকারকে একটি কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
সোনার বাংলা : ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে না কেন?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : শিবির ও ছাত্রদল আন্দোলনের মাঠে আছে। কিন্তু চারদলীয় জোটের সময় যেমন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হয়েছিল এখনো তা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই হবে বলে আশা করা যায়।। এ ব্যাপারে জোটের শরিকদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এখনো ছাত্ররা সর্বশক্তি নিয়োগ করেই ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে।
সোনার বাংলা : কঠোর আন্দোলন ছাড়া কি সঙ্কটের সমাধান সম্ভব?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : সরকারের যদি বোধোদয় হয়, সরকার যদি গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখে আমার মনে হয় কঠোর আন্দোলন ছাড়াই চলমান সঙ্কট নিরসন সম্ভব। কিন্তু যদি সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা না রাখে, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মুখে শোচনীয় পরিণতির পর জনগণের দাবি মানতে অবশ্যই বাধ্য হবে।
সোনার বাংলা : দেশবাসীর উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার : দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান জাতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের বিরোধী জাতিসত্তা বিরোধী, ভারতের সেবাদাস এই ফ্যাসিবাদী দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণজাগরণের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে শামিল হয়ে দেশ ও ঈমান রক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের সংক্ষিপ্ত জীবনী
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সংগ্রামী নাম। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, মজলিশে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য। তিনি ১৯৫৯ সালের ৮ জানুয়ারি খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার শিরোমণি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতার নাম আলহাজ মিয়া আবদুল হামিদ, মাতা ফাতেমা বেগম। শৈশবকাল থেকেই সমাজ সচেতন মিয়া গোলাম পরওয়ারের রাজনীতি শুরু জাসদ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে। ১৯৭৭ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কাজ শুরু করেন। সফল ছাত্রনেতা মিয়া গোলম পরওয়ার ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফুলতলা উপজেলা, খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি এবং খুলনা মহানগরী শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত খুলনা বিএল কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে ১৯৮৩ সালে বিকম সম্মান এবং সরকারি আলম খান কমার্স কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৮৫ সালে খুলনা ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দৈনিক সংগ্রামের খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতাও করেন। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে খুলনা প্রেস কাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৮৫ সালেই সহযোগী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি ইউনিট সভাপতি থেকে শুরু করে সংগঠনের বিভিন্নপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি খুলনা মহানগরী আমীর এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মজলিশে শূরার সদস্যের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ১৯৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের খুলনা-৫ ( ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০১০ সালে গ্রেফতার হন। খুলনার একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। সরকার অন্যায়ভাবে তাঁকে প্রায় এক বছর কারাগারে আটক রেখেছিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত। তিনি দীর্ঘ দিন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এ শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। তিনি খুলনা শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা আল ফারুক সোসাইটির চেয়ারম্যান, খানজাহান আলী ফাউন্ডেশন ও ইসলামী পাঠাগারের উপদেষ্টা, খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। সভা সেমিনারে অংশ নিতে তিনি জাপান, থাইল্যান্ড, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড ও সৌদি আরব সফর করেছেন। সৃজনশীল মনের মানুষ মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ : ১. মোমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার; সবর ও সালাত ২. জেলখানার ডায়েরি।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার
- রাষ্ট্র ও সংবিধান সবই মানুষের জন্য
- ইলিশের দেশে ইলিশ আমদানি
- ‘প্লুটোক্রেসি’ : বাংলাদেশ স্টাইল
- রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিনিধিদল
- চালকদের অসতর্কতায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গিয়েছে : অধ্যাপক মুজিব
- ছাত্রলীগের তাণ্ডবে অস্থির শিক্ষাঙ্গন
- তুরস্কে নৌকাডুবি ও চীনে ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে মকবুল আহমাদের শোক
- বিশ্ব প্রতিযোগিতা সমতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে
