১৮ দলের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সরকারের গলা পর্যন্ত দুর্নীতির কাদায় ডুবে গেছে
গত রোববার নয়াপল্টন বিএনপি অফিসের সামনে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে যোগদানের প্রাক্কালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপির নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের গলা পর্যন্ত দুর্নীতির কাদায় ডুবে গেছে। শুধু তানভীর নয়, হলমার্কের নামে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা লুটের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা জড়িত। তাই এ টাকা লুটের ঘটনায় শুধু সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আর তানভীরের বিচার নয়, মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের বিচারও করতে হবে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রোববার নয়াপল্টনে পদ্মা সেতুসহ সর্বেেত্র সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বেহায়া ও বিশ্বচোরদের থেকে দেশকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, বিজেপি মহাসচিব শামীম আল মামুন, ন্যাপ ভাসানীর গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জামায়াতের ঢাকা মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আজগর মাতববর, মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, শিবিরের সেক্রেটারি আবদুল জব্বার প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা বা হলমার্ক এমডি তানভীর মাহমুদকে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের নিচের কর্মচারী ও তানভীরকে শাস্তি দিয়ে লাভ কি। তানভীর উপলমাত্র। এর সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোক জড়িত। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এ সময় এ সরকার মতায় আসার পর থেকে পুঁজিবাজার, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, কুইক রেন্টালসহ যত দুর্নীতি হয়েছে সব ক’টির সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকজনই জড়িত বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিয়ে দুর্নীতির আইওয়াশের যে নাটক চলছে, সে নাটক বন্ধ করে ওয়ার্ল্ডব্যাংক দুর্নীতির যে চিঠিগুলো দিয়েছে সেগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। তাহলেই বোঝা যাবে কারা জড়িত। সৈয়দ আবুল হোসেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ড. মোদাচ্ছের আলীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদক এদের ডেকে কিন সার্টিফিকেট দেয়ার নামে জিজ্ঞাসাবাদ করার যে নাটক করছে সে মহড়া বন্ধ করে জড়িতদের শাস্তি দেয়া হোক। দুর্নীতির কারণে এ সরকার গলা পর্যন্ত কাদার মধ্যে ডুবে গেছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আর নয়, আপনারা মতায় এসে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতির সব পরিবেশ ধ্বংস করেছেন। এখনও সময় আছে নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল সংসদে তুলুন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হোক। আপনারা বিদায় নিন। বিকল্প চিন্তা করলে পালানোর পথ পাবেন না।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আ’লীগের চারিত্রিক সনদ দিয়ে গেছে তাদের নেতা শেখ মুজিব। তিনি বলেছিলেন, সবাই পেয়েছে স্বর্ণের খনি আমি পেয়েছি চোরের খনি। আজ শেয়ার বাজার, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, কুইক রেন্টালসহ সর্বেেত্র দুর্নীতি করে সার্টিফিকেটের মর্যাদা অুণœ রেখেছে। তিনি বলেন, সুরঞ্জিতকে ফিরিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি চোরদের নিয়েই থাকতে চান। এরপর আবুল হোসেনের পদত্যাগের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের পুরো মন্ত্রিপরিষদ দুর্নীতির সাথে জড়িত। তিনি বলেন, দেশকে এ সরকারের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। এদের পতন ঘটিয়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করতে হবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ সরকারের ন্যূনতম লজ্জা থাকলে দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে মতা থেকে পদত্যাগ করত। এরা এতই বেহায়া যে সমাজের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন সবাই তাদের পদত্যাগের কথা বললেও তারা মতা আঁকড়ে ধরে আছে।
তিনি বলেন, এই সরকার ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন দমাতে হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এসব করেও তাদের শেষ রা হবে না। তিনি অবিলম্বে জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আ’লীগ যখনই মতায় আসে তখনই দুর্নীতি আর লুটপাট করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করে। এরা বারবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে। ৭২-৭৫ সালেও তারা সর্বেেত্র ব্যাপক লুটপাট করেছিল। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মা চেয়ে পার পাওয়া যাবে না। আ’লীগকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- বিরোধী দল নয় শাসক দলই সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করছে
- গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে মিসর
- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নিরপে নির্বাচন সম্ভব নয় : আকবর আলি
- ঢাবি ও রাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় শিবিরের নিন্দা
- ৩১ বছর পর মিসরে হিজাবপরা বিমানবালা
- ১৮ দলীয় জোটের দেশব্যাপী গণসংযোগের ৮ জেলার সফরসূচি চূড়ান্ত
- লবণ শিল্প রায় ১৬ সদস্যের উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করা হয়েছে
