বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে দেশের আর্থিকখাতে একের পর এক বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি ঘটেই চলেছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দেশের শেয়ারবাজারে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ঘটে। আর ঐ শেয়ার কেলেঙ্কারির হোতারা হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলেরই লোকজন। ঐ শেয়ার কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের ৩৬ লাখ ুদ্র বিনিয়োগকারী। তারপর ঘটে এমএলএম ব্যবসায়ের নামে ডেসটিনির বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা। এরপর অভিযোগ ওঠে দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মা সেতুর দুর্নীতি। পদ্মা সেতুর আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দেশের বাইরে কানাডায় মামলা চলছে। সর্বশেষ সংঘটিত হয়েছে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা। ব্যাংকিং খাতের এ আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথেও সরকারের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন সরকারদলীয় নেতা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশের আর্থিক খাতে এভাবে একের পর এক বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি কেন ঘটছে তা নিয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ নিয়ে লেখালেখি ও আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। যেহেতেু সব আর্থিক কেলেঙ্কারিই বড় ধরনের তাই এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সবার আলোচনা ও পর্যালোচনায় একটি বিষয় উঠে এসেছে যে সরকারের অতি রাজনৈতিক তৎপরতার কারণেই দেশে একের পর এক বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের প্রধান নির্বাহী থেকে শুরু করে অধিকাংশ মন্ত্রী দেশের আর্থিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণে বেশি ব্যস্ত থেকেছেন। তারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা আর্থিক উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার দিকে কোনো নজর দেয়ার সময় পাননি। তদুপরি তারা দেশের আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক নেতাদের উপর ছেড়ে দিয়ে তাদের দলীয় লোকদের আর্থিক উন্নতির এক অনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। আর এ ধরনের নীতিমালার কারণে দেশের আর্থিক খাতে বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটে চলছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষ।
আর্থিক খাতের এসব দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি বন্ধ করতে হলে সরকারকে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর তার পাশাপাশি সরকারকে অতিমাত্রার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়োগ ও দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। আমরা মনে করি, দেশ ও দেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আর্থিকখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। দেশের আর্থিক খাতে যেভাবে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটছে সরকারের পক্ষ হতে যদি এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে দেশের পুরো অর্থনীতিই হুমকির মুখে পড়বে। আর তখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও দেশের জনগণ। এর দায়ভার বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকেই। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং তার মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এটাই আমাদের ও দেশবাসীর প্রত্যাশা।
