সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শফিউল আলম প্রধান
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হঠাতে কঠোর আন্দোলনের বিকল্প পথ নেই
শফিউল আলম প্রধান
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, নিরীহ মানুষের ছোপ ছোপ রক্ত। এ আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার করার এ লড়াই কঠোর আন্দোলন ছাড়া সম্ভব নয়। এ লড়াই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আধিপত্যবাদী শক্তির সেবাদাসরা খুব সহজে ছেড়ে যাবে মনে হয় না। কারণ তারা দেশ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নয়। আজন্ম ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই। তাই এ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হঠাতে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে, এর বিকল্প কোনো পথ নেই। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন হারুন ইবনে শাহাদাত। ছবি তুলেছেন : নোমান তালুকদার।
সোনার বাংলা : ১৮ দলের প থেকে বলা হচ্ছে সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ, কিন্তু আপনারা সরকার বিরোধী জোর আন্দোলন করতে পারছেন না কেন?
শফিউল আলম প্রধান : আমি বিষয়টিকে এভাবে দেখি না। কারণ ব্যর্থতা সফলতার প্রশ্ন এখানে আসে না। কারণ একটি স্বাধীন ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারেরই ব্যর্থতা সফলতা মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী স্বাধীন সরকার নয়। এ সরকার মতায় এসেছে ১-১১ এর সুড়ঙ্গ পথে হিন্দুস্থানের বস্তাভর্তি টাকায় ইন্ডিয়ান এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। যেমন মীর জাফরও নবাব ছিলেন কিন্তু তার দায়িত্ব ছিলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বার্থ সংরণ করা।
ব্যর্থতা সফলতা চিহ্নিত করতে পারতাম যদি এ সরকার স্বাধীন সরকার হতো। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান সরকার কতটুকু সফলভাবে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারলো, সেটাই দেখার বিষয়। আমি মনে করি ভারতের সেবাদাস আধিপত্যবাদী শক্তির তিনটি এজেন্ডা আছে। তারা দেশটাকে ১. মেধাশূন্য ২, নেতাশূন্য ও ৩. সেনাশূন্য করতে চায়।
আপনারা দেখেন, মেধা তৈরির প্রতিষ্ঠান শিা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে অস্থিতিশীল করা। সরকার দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাস, লুটপাট, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে আজ সেখানে লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। পরিকল্পিতভাবে অযোগ্য লোকের ভিসি পদে বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মেধা তৈরির পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার মধ্যদিয়ে দেশকে নেতাশূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আধিপত্যবাধী শক্তি। আজ পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। শুধু সামনে থাকা কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা ও সদস্যের বিচার হয়েছে। নেপথ্যের কারো বিচার হয়নি। শেখ হাসিনা মতায় আসার পর তথাকথিত মানবতাবিরোধী বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে বিচারের মুখোমুখি করা, চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, ছাত্রশিবিরের নেতা ওয়ালিউলল্লাহ ও মোকাদ্দেসকে গুম করা সবই দেশকে নেতাশূন্য করার এজেন্ডার অংশ।
শেখ হাসিনার ক্ষমতা দখলের ৪০ দিনের মাথায় ইন্ডিয়ান এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য পিলখানায় নির্মম ট্যাজেডির মধ্য দিয়ে আমাদের সেনাবাহিনীর চৌকস মেধাবী অফিসারদের হত্যা করা হলো। সাথে সাথে ধ্বংস করা হলো, আমাদের অসীম সাহসী বিডিআর বাহিনীকে যারা মোটামুটিভাবে আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত রেখেছিল। এখন আমরা যদি সীমান্তের দিকে তাকাই দেখতে পাই, আমরা কত অসহায়। এটা হচ্ছে আমাদের দেশকে সেনাশূন্য করার প্রথম এজেন্ডা, যেটা সফলভাবে শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করেছে এবং করছে। অতএব বর্তমান সরকার স্বাধীন নয়, আধিপত্যবাদী ভারতের সেবাদাস। একটি স্বাধীন সরকারের সফলতা বিফলতা বিচার করা যায়। আধিপত্যবাদী শক্তির সেবাদাসের এমন মূল্যায়ন করার কি আছে?
সোনার বাংলা : সরকারের সাড়ে তিন বছর পর গণসংযোগের মতো প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মসূচি কি বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের ব্যর্থতা নয়?
শফিউল আলম প্রধান : আপনার কথায় যুক্তি আছে। তবে আওয়ামী লীগের দেশের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই, তাই তারা যা খুশী তাই করতে পারে। কিন্তু আমাদেরকে সবার আগে দেশ ও জনগণের কথা ভাবতে হয়। এ কথা ঠিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেমন এ্যাক্ট করা দরকার ছিল আমরা পারিনি। আমরা ্এ্যাক্ট-এর চেয়ে রিএ্যাক্ট করেছি বেশি। কিন্তু বিরোধীদলের কাজ রিএ্যাক্ট করা নয়। বিরোধী দল এ্যাক্ট করবে, রিএ্যাক্ট করবে সরকার। আমরা তা পারিনি। পিলখানায় সরকার যখন ইন্ডিয়ান এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত আমাদের দায়িত্ব ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে বন্দী সেনাকর্মকর্তাদের মুক্ত করতে রাজপথে বেরিয়ে পরা, কিন্তু আমরা তা পারিনি। শেয়ারবাজার লুট করে সরকার এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার পরিবারকে জিন্দা লাশ করে রেখেছে। কিন্তু বিরোধী দল তাদের পাশে দাঁড়িয়ে লুটেরাদের প্রতিহত করতে পারেনি। দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, পানি গ্যাস সমস্যা প্রভৃতি ইস্যু বারবার আমাদের সামনে এসেছে, কৃষকের সার সমস্যা আরো হাজারো সমস্যায় আমাদের দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের পাশে যেভাবে দাঁড়ানো দরকার ছিল সেভাবে পারিনি। সরকার কি করবে? কি ভাববে? এমন ভাবনায় আমরা জনগণ থেকে দূরে থেকেছি, এটা বিরোধী দলের কাজ নয়। আমরা আওয়ামী লীগের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নেবো না, তার মানে এই নয় দেশ ও জনগণের সমস্যায় তাদের পাশে দাঁড়াবো না?
সোনার বাংলা : সরকারি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিরোধী দলের প্রতি জনসমর্থন নেই তাই কঠোর কর্মসূচি দিতে ভয় পাচ্ছে?
শফিউল আলম প্রধান : আমি প্রগতিশীল রাজনীতি করি। কোন নেতা কি বললো তা নিয়ে ভাবি না। দেশ ও জনগণের কথা ভাবি। আমাদের সবার ওপরে দেশ ও জনগণ।
সোনার বাংলা : ১৮ দলীয় জোটের শরীক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রথম সারির কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী তাদের মুক্তির দাবিতে কোনো কর্মসূচি নেই কেন?
শফিউল আলম প্রধান : জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মুক্তির দাবি করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। হ্যাঁ আফসোস! আমরা এক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছি। সরকার হিন্দুস্থানি এজেন্ডায় দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করতে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু আমরা তা প্রতিহত করতে তেমন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করছি না। দেশ ও জাতির কাছে সরকারের এ ষড়যন্ত্র তুলে ধরছি না।
সোনার বাংলা : জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে ১৯৭১ সালে ভারতীয় আগ্রাসনের আশঙ্কায় যারা পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৪০ বছর পর শেখ হাসিনা তাদেরকে তথাকথিত মানবতাবিরোধী বিচারের মুখোমুখি করেছে। আপনি কি মনে করেন, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার বিচারের নামে এ আয়োজন করেছে?
শফিউল আলম প্রধান : মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠাতার বৃহত্তর স্বার্থে চল্লিশ বছর আগে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে গেছেন। তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী বিচারের নামে আজ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা হিন্দুস্তানি এজেন্ডা দেশ নেতৃত্ব করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিচারের নামে এ প্রহসনের আয়োজন করেছে।
সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষনেতা ও বিএনপি নেতাকে যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা অভিযোগে আটক রেখেছে। এ মামলা করার ন্যায্যতা ঐতিহাসিকভাবে নেই। প্রথম কথা হচ্ছে যুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তীতে মিত্রের বেশে ভারতীয় বাহিনী এ যুদ্ধে অংশ নেয়। তাহলে প হচ্ছে তিনটা ১. পাকিস্তানি আর্মি, ২. মুক্তিবাহিনী ও ৩. ইন্ডিয়ান আর্মি। যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞানুযায়ী লুণ্ঠন ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি সাথে জড়িত তৎকালীন মুজিব সরকার অনেক যাচাই বাছাই করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জনকে চিহ্নিত করেছিল। পরবর্তীতে ভারতের ইচ্ছায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। লুণ্ঠন ধর্ষণের কথা আসছে, ইন্ডিয়ান আর্মি এদেশ ছাড়ার আগে এ দেশে থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে। আমার কথা হলো আগে মুজিব সরকার চিহ্নিত ১৯৫ জন আসল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে হবে, দ্বিতীয়ত যুদ্ধের তৃতীয় প ইন্ডিয়ান আর্মি, তাদের একটা তালিকা করে তাদেরকেও এর আওতায় আনতে হবে। এসব মিলিটারিদের বিচার করার পর দেখবো আমার বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ আছে কি না? যারা হুকুমের আসামি ফিল্ডে ছিল সামরিক বাহিনীর সদস্য তাদের বাদ দিয়ে আমার দেশের বেসামরিক লোকদের বিচার করা হবে, এ বিচারটাকেই আমি মানি না। এ বিচার স্বচ্ছ হচ্ছে কি হচ্ছে না এ কথা বলার অর্থ হলো এ অবৈধ এবং ষড়যন্ত্রমূলক বিচারকে সমর্থন করা। আমি তাই সেদিকে না যেয়ে সরাসরি বলছি এ বিচার প্রক্রিয়াটিই অবৈধ। এ বিচার আমি মানি না।
সোনার বাংলা : আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবে এ ব্যাপারে আপনার ও দলের অবস্থান কি?
শফিউল আলম প্রধান : আমরা ১৮ দলীয় জোটভুক্ত প্রতিটি দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিদর্লীয় তত্ত্বাবায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবো না।
সোনার বাংলা : কেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মনে করছেন?
শফিউল আলম প্রধান : আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবে একটি ফ্যাসিস্ট দল। দে ডু নট বিলিভ ইন ডেমোক্রেসি। দে কিল ডেমোক্রেসি ইন ১৯৭৫. এমন দলের সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
সোনার বাংলা : আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠির এ দেশকে ধর্মনিপেক্ষতার নামে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, সংবিধান থেকে মুসলিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারা বাতিল করেছে, আপনারা সে সব বিষয় তুলে না ধরে কেন শুধু নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন?
শফিউল আলম প্রধান : আওয়ামী লীগের মতো একটি আধিপত্যবাদী সরকারের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করতে এ দেশের জনগণকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। অনেককে জেলজুলুম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। চল্লিশ হাজার তরুণকে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। দিল্লির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হাসিনা আল্লাহর ওপর আস্থা বাতিল করেছে। কিন্তু আমরা সেই চেতনা ধরে রাখতে সরকারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করিনি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ-অনুভূতির সাথে সরকার বেঈমানি করেছে। কিন্তু আমরা বিরোধী দল জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে পারিনি, একথা সত্য।
সোনার বাংলা : চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাফল্য তরুণ, যুবক ও ছাত্রদের সংশ্লিষ্ট করা ছাড়া কি সম্ভব?
শফিউল আলম প্রধান : আমি বিশ্বাস করি ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ না হলে কোনো আন্দোলন সংগ্রাম সফল হবে না। আমি ছাত্রদল, শিবির ও জাগপা ছাত্রলীগসহ ১৮ দলের ছাত্র সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সোনার বাংলা : কঠোর আন্দোলন ছাড়া কি বর্তমান সঙ্কটের সমাধান সম্ভব?
শফিউল আলম প্রধান : আমি দেখতে পাচ্ছি, নিরীহ মানুষের ছোপ ছোপ রক্ত। এ আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার এ লড়াই কঠোর আন্দোলন ছাড়া সম্ভব নয়। এ লড়াই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আধিপত্যবাদী শক্তির সেবাদাসরা খুব সহজে ছেড়ে যাবে মনে হয় না। কারণ তারা দেশ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নয়। আজন্ম ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই। তাই এ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হঠাতে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে, এর বিকল্প কোনো পথ নেই।
এক নজরে শফিউল আলম প্রধান
শফিউল আলম প্রধান জাগপার সভাপতি এবং ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা। তার জন্ম একটি রাজনৈতিক পরিবারে। তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সর্বশেষ স্পিকার গমীর উদ্দীন প্রধানের সুযোগ্য চতুর্থ সন্তান। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ দিনাজপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে তিনি ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ বায়তুল মোকাররমের এক গণসমাবেশে তৎকালীন মুজিব সরকারের ৬৪ জন মন্ত্রী, এমপি ও দুর্নীতিবাজ নেতার তালিকা প্রকাশ করেন। অথচ তখন তিনি মতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। দুর্নীতিবাজদের তালিকা প্রকাশের অপরাধে তাঁকে ১৯৭৪ সালের ৭ এপ্রিল গ্রেফতার করে কারাগারে নিপে করা হয়। কারাবন্দী থাকা অবস্থায় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে তাঁকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রতিষ্ঠা করেন।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- পদ্মা সেতু হচ্ছে না : থলের বিড়াল বের করলেন মসিউর রহমান
- ১৯৪৭ সালে আশ্রয় গ্রহণকারী ও বর্তমান রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সরকারের একই নীতি হওয়া উচিত নয় কি?
- সঙ্কটে মধ্যবিত্ত
- হলমার্কের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কি মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণ?
- ১৯৭১ সালে প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন পত্রিকার ৫০টি নিউজ কাটিং প্রদর্শনী
- ঢাবির ১৩ বিভাগে মাদরাসা শিার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা
- ‘দেশে বিশেষ মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে’
