স্যাম বাসিলের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই
বিতর্কিত চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করা হোক
ঠগ ও প্রতারণার অভিযোগে হাজতখাটা আসামি নকুলা বাসেলি নকুলা ওরফে স্যাম বাসিল নামের এক ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মহান চরিত্র বিকৃত করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে। আমরা তার এই বিকৃত সাম্প্রদায়িক কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্যাম বাসিল এ অপকর্ম করে বিশ্বের এক শ’ পঞ্চাশ কোটি মুসলমান ও কয়েক শ’ কোটি মানবিকবোধসম্পন্ন বিভিন্ন ধর্মের মানুষের হৃদয়ে কষ্ট দিয়েছে। বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করেছে। সে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। আমরা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের প থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বের দলমত নির্বেশেষে সকল ধর্মের মানুষের কাছে পরম মহান শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তৎকালীন আরবের অন্ধকার যুগে তিনি ছিলেন ধ্র“বতারার মতো উজ্জ্বল। সত্যবাদিতা ও উন্নত চরিত্রের জন্য তাঁকে সে সমাজের লোকেরা আল আমিন ও আস সাদিক বলে ডাকতেন। যুগে যুগে মুক্তচিন্তার মানুষরা তাঁর জীবন ও ধর্ম-দর্শন নিয়ে গবেষণা করে তাঁকে সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মানুষ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি, তিনি বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প থেকে প্রেরিত মহামানব। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসূল (সা.)। আমরা তাঁকে আমাদের জীবন, স্ত্রী, সন্তান, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ-সমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি, ইসলামই একমাত্র আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। কিন্তু অন্য ধর্মে বিশ্বাসীদের শ্রদ্ধা করি। জোর করে কারো বিশ্বাস পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা এ শিা পেয়েছি, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট থেকে।
সূত্রে প্রকাশ, চলচ্চিত্রটির নির্মাতা নকুলা একজন মিসরীয় খ্রিস্টান। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়াবাসী নকুলা মাদক ব্যবসা ও ঠকবাজির দায়ে হাজত খেটে গত বছরের জুন মাসে জেল থেকে বেরিয়েছে। এ প্রতারক চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সময় এর কলাকুশলীদের সাথেও ঠগবাজি করেছে। ২১ বছর বয়সী গুরজি চলচ্চিত্র নির্মাতা নকুলার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, অভিনয়ের সময় তিনি একজনের স্ত্রীর চরিত্রে একটি নির্দিষ্ট নামে অভিনয় করলেও কিছুদিন আগে প্রচারিত বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা গেছে তার নাম-পরিচয় বদলে গেছে। আমরা মনে করি, আমেরিকান সরকারের উচিত এ প্রতারককে গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করা। তথাকথিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অধিকার কারো নেই। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ। তাই তাকে মা করলে হত্যা সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটতেই থাকে।
আমরা মনে করি, আমাদের মতো যাদের হৃদয়ে তের সৃষ্টি হয়েছে, ােভ ও প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাদেরও সীমালঙ্ঘন করা উচিত নয়। কারণ আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। একজনের অপরাধের শাস্তি আরেকজনকে দেয়াও ন্যায় ও ইনসাফের পরিপন্থী। আমরা নকুলা বাসেলি নকুলা ওরফে স্যাম বাসিল ও তার নেপথ্যের ইহুদিশক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
