তৌহিদুর রহমান
অনন্য একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। এমন সুন্দর দেশ দুনিয়াতে বিরল। নিরস্ত্র অবস্থায় স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু করেও মাত্র নয় মাসের এক সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সম হয়েছে এ জাতি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ প্রমাণ করে ছেড়েছে, এ জাতি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করে না। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো সারা বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এ দেশের মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে। এ জাতি সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সেই সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবই যেন আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুসংস্কার, দুর্নীতি, অশিা, কুশিা এখনো আমাদের পিছনের দিকে টানছে। তার ফলে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও আমরা এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি না। অথচ এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একটা পথ আমাদের জন্য সবসময় খোলা ছিল। তা হলো পরিপূর্ণ মুসলিম হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। তাহলে সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ একটা জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম।
কিন্তু সে পথে আমরা পা রাখিনি। সেই পথ ধরে চলার দূরদর্শিতা আমরা দেখাতে পারিনি। ফলে আমাদের জাতীয় অগ্রগতি কাক্সিত মানে হয়নি। বিষয়টি যেকোনো সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকের জন্য পীড়াদায়ক। তবে একজন মানুষ ছিলেন যিনি আমৃত্যু দেশ নিয়ে ভেবেছেন, দেশের মানুষ নিয়ে ভেবেছেন আর ভেবেছেন মুসলমানদের নিয়ে এবং কাজ করেছেন কিভাবে আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে মানুষের জন্য দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। আর সেই মানুষটি ছিলেন লেখক, গবেষক, সম্পাদক, অনুবাদক ও সর্বোপরি এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের প্রাণপুরুষ আল্লামা আবদুল মান্নান তালিব। তার সম্যক উপলব্ধি ছিল আর সব দেশ থেকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে দ্রুত সামনে এগিয়ে নিতে হলে মোম হাতিয়ার হচ্ছে সংস্কৃতি। তিনি জানতেন যে জাতি যত বেশি সংস্কৃতিবান সে জাতি তত উন্নত।
আবদুল মান্নান তালিব একজন কিংবদন্তী তুল্য মানুষ। তিনি ইসলামী সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন মহীরূহ। আবদুল মান্নান তালিবের তুলনা শুধু তিনি নিজেই। ইসলামী সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন, এই উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তাঁর এই অবিরাম পথ চলা। টাকা-পয়সা, খ্যাতি কোনো কিছুর মোহ তাকে কখনো টলাতে পারেনি। উপমহাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির পৌত্তলিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে যারা একটি নবতর খালেছ ইসলামী সংস্কৃতির ধারা প্রতিষ্ঠিত দেখতে চেয়েছেন তিনি তাদের অন্যতম। তাই তিনি প্রতিটি শব্দই লিখেছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের মুক্তির জন্য।
আর এ েেত্র আবদুল মান্নান তালিবের উপলব্ধি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। সে উপলব্ধিতে তাড়িত হয়েই তিনি মাত্র তের বছর বয়সে নিজের জন্মভূমি ছেড়েছিলেন। ভেবেছিলেন মুসলমানদের যে স্বতন্ত্র আবাসভূমি হচ্ছে সেখানে গেলে অবশ্যই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা সহজ হবে। কিন্তু তাঁর সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিনি তাঁর স্বপ্ন এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ শুরু করেন প্রথমে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশে, পরে অবশ্য চলে আসেন পূর্ব অংশে। এখানে এসে তিনি পরিপূর্ণভাবে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রথমেই চিন্তা করেন, দুশো বছরের ইংরেজ শাসনের ফলে মুসলমানরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতির পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে আর সেই লইে কাজ শুরু করেন আবদুল মান্নান তালিব। প্রথমেই তিনি কাজ শুরু করেন, ‘জাহানে নও’ পত্রিকায়। ‘জাহানে নও’ নামটাও কিন্তু তাঁরই দেয়া। ‘জাহানে নও’-তে তিনি শেষ অবধি সম্পাদকের দায়িত্বেই ছিলেন। এটা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি এ দেশে সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক কাজের শুধু সূচনাই করেননি, সেই সাথে সূচনা করেন একটি আন্দোলনের। সে আন্দোলন এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার আন্দোলন। এ দেশের ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন এবং অকপটে স্বীকার করেন, মরহুম আবদুল মান্নান তালিব এ আন্দোলনে অসমান্তরাল অবদান রেখে গেছেন। এই অবদান সূত্রেই তিনি বাংলাদেশে এখন অভিহিত হচ্ছেন ‘বাংলাদেশের ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনের অগ্রপথিক’ অভিধায়।
এরপর তাঁকে ‘মাসিক পৃথিবী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। তখন থেকে সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে তাঁকে প্রচলিত সাংবাদিকতার অর্গল ভাঙতে হয়েছে। প্রতি মাসে একটি করে পত্রিকা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি সময়ের চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে যখন যা দরকার, সাধ্যমতো তাই করেছেন।
আয়োজন করেছেন সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ের ওপর সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ও সাহিত্য সভার। এর বাইরে সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক বই প্রকাশ করে তা তুলে দিয়েছেন একঝাঁক তরুণ বিশ্বাসী পাঠকের হাতে। তার পর তিনি শুরু করেন, সাহিত্য পত্রিকা ‘কলম’ প্রকাশের কাজ। আসলে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল স্বভাবজাত। তাই আমরা তাকে ছাত্রজীবনেও ‘জিয়াউল ইসলাম’ নামে বার্ষিকী সম্পাদনা করতে দেখেছি। তবে ‘পৃথিবী’ তার এ েেত্র সফল উদ্যোগ। কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ পত্রিকাটি এ দেশের নিয়মিত, সর্বাধিক প্রচারিত ও সবচেয়ে প্রভাবশালী পাঠকপ্রিয় ইসলামী গবেষণামূলক মাসিক হওয়ার গৌরব নিয়ে আজও প্রকাশিত হয়ে আসছে। আর তাই এই চল্লিশ বছরের ইসলামী সংস্কৃতি অঙ্গনের মিছিলে অবধারিতভাবে উঠে আসে আল্লামা আবদুল মান্নান তালিবের নাম। তাই তো সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের একদল কর্মীকে উপলব্ধি করতে অসুবিধা হয় নাÑ আল্লামা আবদুল মান্নান তালিব কী করে গেছেন আর কী করতে প্রয়াসী ছিলেন।
অনেকেই দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করেন, আবদুল মান্নান তালিব তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে অনেক ওপরে তুলে রেখে গেছেন। তিনি একজন ব্যক্তি মাত্র নন, একটি প্রতিষ্ঠান। একটি ইনস্টিটিউশন। এ ইনস্টিটিউশন কাজ করে গেছেন একটি মাত্র ল্য নিয়ে : এ জাতিকে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আর এ েেত্র তিনি প্রধানতম হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন সাহিত্য-সংস্কৃতিকে। সেখানেই তিনি ছিলেন অনন্য এক প্রেরণাপুরুষ। ভাবলে অবাক হবেন, তিনি বিপরীত মেরুর কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, রাজনৈতিক সর্বোপরি আম জনতার কাছে ইসলাম তথা ইসলামী সংস্কৃতির দাওয়াত পৌঁছে দিতে অভাবনীয় শ্রম, মেধা ও শক্তি ব্যয় করে গেছেন। যার ফলশ্র“তিতে আমরা দেখতে পাই কবি আল মাহমুদ থেকে শুরু করে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ পর্যন্ত তাঁর গুণমুগ্ধতা। সাংবাদিক নূরুল আমীন থেকে রুহুল আমীন গাজী সকলেই তাঁর অনুগামী। দিনের পর দিন অকান্ত পরিশ্রম করে যাদেরকে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আনতে চেয়েছিলেন তাদের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে, তা আজ আমাদের পে অনুমান করাও সত্যিই কষ্টসাধ্য। শুধুই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অবিরাম ছুটেছেন কারকুন বাড়ি লেন থেকে মেরাদিয়া, যাত্রাবাড়ী থেকে পল্লবী। নিজ উদ্যোগে নীরবে-নিভৃতে ঢাকা থেকে একাই চলে গেছেন কুষ্টিয়ার অধ্যাপক আবু জাফরের বাড়িতে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইন্তেকাল করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবদুল মান্নান তালিব (৭৬)। এই মহান ব্যক্তিত্ব সারা জীবন মুসলমানদের কল্যাণ ও ইসলামী জীবনাদর্শের প্রতিষ্ঠা প্রচার ও প্রসারে অতিবাহিত করেছেন। আবদুল মান্নান নামের আধিক্যের কারণে লেখক সত্তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য তিনি পিতৃপ্রদত্ত নাম আবদুল মান্নান-এর সাথে যুক্ত করেছিলেন ‘তালিব’। যা পিতা তালেব আলী মোল্লা নামের অংশ বিশেষ। এই তালিব শব্দের অর্থ-সন্ধানী, অন্বেষণকারী, তালাশকারী। নিজের ধর্ম, ঐতিহ্য, জাতীয় úরিচয় ও সত্যের সন্ধানে পুরোটা জীবন ব্যয় করে তিনি ‘তালিব’ নাম ধারণকে অর্থবহ ও সার্থক করে তুলেছিলেন। তাঁর গবেষণা ও অনুসন্ধানের ফলে বাঙালি মুসলমানরা পেয়েছে সঠিক দিকনির্দেশনা। তাঁর চিন্তা-চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে পূর্ণতা পেয়েছে অজস্র মুসলমানের জীবন। ধন্য হয়েছে অনেকেই। তাঁর লেখার মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থারূপে ইসলাম উপস্থাপিত হয়েছে।
আবদুল মান্নান তালিবের সাহিত্য কর্মের একটি সংপ্তি পরিচিতি এখানে উপস্থাপিত হলোÑ
মৌলিক গ্রন্থ : অবরুদ্ধ জীবনের কথা (১৯৬২), মুসলমানের প্রথম কাজ (১৯৭৫), বাংলাদেশে ইসলাম (১৯৭৯), ইসলামী সাহিত্য : মূল্যবোধ ও উপাদান (১৯৮৪), আমল আখলাক (১৯৮৬), ইমাম ইবনে তাইমিয়ার সংগ্রামী জীবন (১৯৮৭), ইসলামী আন্দোলন ও চিন্তার বিকাশ (১৯৮৮), সাহিত্য সংস্কৃতি ভাষা: ঐতিহ্যিক প্রোপট (১৯৯১), ইসলামী জীবন ও চিন্তার পুনর্গঠন (১৯৯৪), সত্যের তরবারী ঝলসায় (২০০০), আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম (২০০১)।
শিশু-কিশোর সাহিত্য : সহজ পড়া (১৯৮২), ছোটদের ইসলাম শিা ১ম ভাগ (১৯৮০), ২য় ভাগ (১৯৮১), ৩য় ভাগ (১৯৮২), ইসলাম শিা ১ম ভাগ (১৯৭৬), ২য় ভাগ (১৯৭৬), এসো জীবন গড়ি ১ম ভাগ (১৯৭৫), ২য় ভাগ (১৯৭৫), পড়তে পড়তে অনেক জানা (২০০০), মা আমার মা (২০০১), আমাদের প্রিয় নবী (১৯৭৫), মজার গল্প (১৯৭৬), কে রাজা (১৯৮১), হাতিসেনা কুপোকাত (১৯৯০), আদাবুল আরারিয়া (১৯৮৪)।
সম্পাদিত গ্রন্থ : আমাদের শিা ব্যবস্থা (১৯৬৯), সহীহ্ আল বুখারী, ১ম খ (১৯৮২), সহীহ আল বুখারী ৩য় খ (১৯৯৬), রিয়াদুস সালেহীন ১ম খ (১৯৮৫), মুসলিম শরীফের মুকদ্দমা (১৯৮৬), নির্বাচিত গল্প (১৯৮৫), সত্য সমুজ্জ্বল (১৯৮১), রসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ১ম খ , ২য় খ ও ৪র্থ খ (১৯৯৫-২০০৪)।
অনুবাদ সাহিত্য : খতমে নবুয়ত (১৯৬২,) পয়গামে মোহাম্মদী (১৯৬৭,) ইসলামের নৈতিক দৃষ্টিকোণ (১৯৬৪), ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন (১৯৬৫), ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বীমা (১৯৬৬), ইসলামের সমাজ দর্শন (১৯৬৭), সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং (১৯৭৯), আত্মশুদ্ধির ইসলামী পদ্ধতি (১৯৭৬), আত্মশুদ্ধি কিভাবে (১৯৭৬), ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাহেলিয়াত (১৯৭৫), ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার মূলনীতি (১৯৬৮), মুসলিম নারীর নিকট ইসলামের দাবী (১৯৮২), মহররমের শিা (১৯৭৭), ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী (১৯৭৫), কুরবানীর শিা (১৯৭৬), চরিত্র গঠনের মৌলিক উপদান (১৯৬৮), রাসায়েল ও মাসায়েল ২য় খ (১৯৯১), ৩য় খ (১৯৯১), যরবে কলিম (কাব্য গ্রন্থ, ১৯৯৪), সীরাতে সরওয়ারে আলম ১ম খ (১৯৮১), রাসায়েল ও মাসায়েল ৩য় খ (১৯৯১), রাসূলের যুগে নারী স্বাধীনতা ৩য় খ (১৯৯৪), রিয়াদুস সালেহীন ২য় খ (১৯৮৬), ৩য় খ (১৯৮৬), ৪র্থ খ (১৯৮৭), ইরান বিপ্লব একটি পর্যালোচনা (১৯৮২), সহীহ আল বুখারী ৪র্থ খ (১৯৮২), তাফহীমুল কুরআন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭তম, ৮ম, ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম, ১৩তম ও ১৯তম খ (১৯৮৯-১৯৯৪), ভারত যখন ভাঙলো (২০০২), প্রত্যয়ের সূর্যোদয় (২০০৩), অপরাজিত (২০০৩)।
সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকা সম্পাদনা : সাময়িক পত্র ‘জিয়াউল ইসলাম’ সম্পাদনা (বার্ষিকী ১৯৫২, বীরভূম পশ্চিম বঙ্গ), সহ-সম্পাদক, উর্দু দৈনিক ‘রোজনামা তাসনীম’ (লাহোর ১৯৫৭-৫৯), সহ-সম্পাদক ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’ ঢাকা (১৯৫৯-৬০), সম্পাদক ‘সাপ্তাহিক জাহানে নও’ (১৯৬২-৬৬), সম্পাদক ‘মাসিক পৃথিবী’ (১৯৬৯-৭১ ও ১৯৮১-৯৯), ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ‘সাপ্তাহিক মীযান’ (কলিকাতা ১৯৭৩-৭৫) সম্পাদক, ‘ত্রৈমাসিক ও মাসিক কলম’ (১৯৭৭-৯৪) সম্পাদক শাহীন শিবির, দৈনিক সংগ্রাম (১৯৭০-৭১), ১৯৮৩ থেকে দৈনিক সংগ্রামের কলামিস্ট ও ফিচার এডিটর হিসেবে ছিলেন।
যা হোক, তিনি জাতিকে যা দেবার দিয়ে গেছেন হৃদয় নিংড়ে। আজ জাতির কাছে সবকিছু চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তিনি। তবে জাতি হিসেবে আমাদের উপর তাগিদ বর্তেছে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান আর শ্রদ্ধা জানানোর। সেই সাথে তাগিদ আসে তাঁর অবদানের জাতীয় স্বীকৃতির।
