সংবাদ শিরোনামঃ

পদ্মা সেতু হচ্ছে না : থলের বিড়াল বের করলেন মসিউর রহমান ** ১৯৪৭ সালে আশ্রয় গ্রহণকারী ও বর্তমান রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সরকারের একই নীতি হওয়া উচিত নয় কি? ** ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হঠাতে কঠোর আন্দোলনের বিকল্প পথ নেই ** আ’লীগে বিভক্তির আলামত ** মহানবী (সা.)কে নিয়ে অবমাননাকর চলচ্চিত্রের নির্মাণের তীব্র প্রতিবাদ ** বিতর্কিত চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করা হোক ** রায়ের ফাঁদে দেশ ও জাতি ** আলোর মিছিলে আবদুল মান্নান তালিব ** ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে : শিবির ** প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ ** টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজে চলছে লুটপাটের মহোৎসব **

ঢাকা শুক্রবার ৬ আশ্বিন ১৪১৯, ৪ জিলক্বদ ১৪৩৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২

ভুয়া বিল ভাউচারে প্রতিষ্ঠানের তহবিল তছরুফ

টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজে চলছে লুটপাটের মহোৎসব

শেখ আজিজুল হক, টঙ্গী থেকে : ব্যবস্থাপনা কমিটি ও আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবান জিনিসপত্র ও তহবিলে রক্ষিত কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মহা আয়োজন চলছে। ভেঙ্গে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক নিয়ম শৃঙ্খলা। সরকার দলীয় দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের কাছে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণীভিত্তিক কথোপকথন (কনভারসেশন বুক) বই ছাপানোর নামে গত ১৭ এপ্রিল ৪৩১৬২১০ নম্বর চেক মূলে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, টঙ্গী কলেজ গেট শাখায় প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট (নম্বর-০০১১১০০০০৩৮০১) থেকে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ টাকা উত্তোলন করা হয়। চলতি শিক্ষাবছর শেষ হতে চললেও এসব বই বিক্রির টাকা এখনো প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়নি। এমনকি এই খাতের আয় ও ব্যয়ের হিসাব বা বিল ভাউচারও প্রতিষ্ঠানে জমা হয়নি।

চলতি ২০১২ সালের শিার্থীদের আইডি কার্ড তৈরির খরচ বাবদ গত ৬ আগস্ট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫১০ টাকা ৪১৯১০২৫ নম্বর চেক মূলে ব্যাংকের উল্লিখিত হিসাব নম্বর থেকে উত্তোলন করা হয়। আইডি কার্ড বিক্রয় বাবদ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। কার্ড বিক্রয় বাবদ টাকাও এই খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব বা বিল ভাউচারও প্রতিষ্ঠানে জমা হয়নি। এসব কার্ড বিলম্বে অর্থাৎ গত মে মাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অত্যন্ত নিম্নমানের এসব কার্ডের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় বছর শেষ না হতেই এগুলো মুছে যাচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সভাপতির ব্যক্তিগত পরিচয়ের দোকান থেকে অস্বাভাবিক মূল্যে ২টি জেনারেটর ক্রয় করা হয়। গত ১৯-০৯-২০১১ ইং ও ২০-০৯-২০১১ ইং তারিখে দুটি চেকে (নম্বর- ৩০১০৭৬৭, ৩০১০৭৬৮) জেনারেটর দুটির মূল্য বাবদ ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে উত্তোলন করা হয়। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পুরনো জেনারেটরের কোনো হদিস নেই।

সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজে গত বছর ৯ অক্টোবর ২০১১  থেকে ১৩ অক্টোবর ২০১১ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের শিকদের যুব প্রশিক্ষণের আওতায় কম্পিউটার প্রশিণ দেয়া হয়। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গাজীপুর সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মনসুরুল ইসলাম মিলন প্রতিষ্ঠানের টাকায় ১২টি ল্যাপটপ ও ১০টি ডেস্কটপ ক্রয় করেন। গত ০৫-১০-২০১১ ও ২৭-০৯-২০১১ ইং তারিখে ৩০৯৫৪৫৪ ও ৩০৯৫৪৫৫ নম্বর চেকে এসব ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ বাবদ মোট  ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টাকা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট থেকে তিনি উত্তোলন করেন। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও তিনি এই টাকা উত্তোলন করেন বলে জানা যায়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিণার্থীদের মধ্যে যারা প্রথম হয়েছেন তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে কম্পিউটার দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। অপরদিকে এসব কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিকরা নিজেদের বাসা বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে ব্যবহার শেষে এগুলো নষ্ট করে প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছেন।

প্রতিষ্ঠানের মাঠে ৬০ থেকে ২০ ফিট আয়তনের একটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬২ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিলের টাকা ২৭-০৭-২০১১ ও ০১-১১-২০১১ ইং তারিখে ৩০১০৬৮৮ ও ৩০৯৫৪৭৭ নম্বর চেকে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম  প্রতিষ্ঠানের বাইরে অপর একটি টিনশেড তৈরি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ দেখান। তিনি স্কুল মাঠে ইট বিছানোর নামে গত ৮ আগস্ট ৪২৮৬৯৭৯ নম্বর চেকে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৪ টাকা উত্তোলন করেন। প্রতিষ্ঠানের এসব ইট তার ব্যক্তিগত বাড়ির কাজেও ব্যবহার করেন।

২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন প্রকাশনার বই সিলেকশন করে ২২ লাখ টাকা উপঢৌকন বাবদ আয় হয়। এই টাকা প্রতিষ্ঠানে জমা না দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী কতিপয় শিক্ষক ও সরকার দলীয় এক প্রভাবশালী নেতা ভাগাভাগি করে নেন। অথচ এই খাতের টাকা ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্কুলের শিক কল্যাণ ফান্ডে জমা হত ।

প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জামানত ও জরিমানার টাকা আদায়ের নিয়ম চালু রয়েছে। টেস্ট পরীক্ষায় যেসব পরীক্ষার্থী কোনো বিষয়ে ৪০ নম্বরের কম মার্ক পায় তাদের কাছ থেকে কম নম্বরের আনুপাতিক হারে জামানত ও জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এসব টাকা তাদেরকে ফেরত দেয়া হতো। অথচ ২০১১ ও ২০১২ সালের এসএসসি পরীার্থীদের জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হলেও জরিমানার টাকা ফেরত দেয়া হয় নাই। যার বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৫৮, তারিখ ১৬-০৬-২০১১ ও ৭২ তারিখ ০৯-০৬-২০১২ ইং। ১১-০৮-২০১১ তারিখে প্রকাশিত ৮৭ নম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১১ সালের  এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হয়। কিন্তু তাদের জরিমানার টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। পরে ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ জরিমানার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জরিমানার প্রায় ১৫ লাখ টাকা শিক্ষক প্রতিনিধি সাদেকুল ইসলাম ও আবুল কাশেমের কাছে গচ্ছিত ছিল। সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ব্যক্তিগত ফান্ডে এই টাকা জমা রাখেন। বর্তমানে এই টাকার কোনো হদিস নেই।

প্রতিষ্ঠানের ডায়েরি ও ক্যালেন্ডার ছাপানো, ড্রেস তৈরির কাপড় ক্রয় ও মজুরি বাবদ এবং  ক্রেস্ট তৈরি, স্ট্যান্ড ফ্যান ও কাঠের আলমারি ক্রয় বাবদও মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

২০১০ সালের ১৫ আগস্ট নামেমাত্র শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়। অপরদিকে সভাপতির একদিনের চা বিল বাবদ খরচ দেখানো হয় ২৮ হাজার টাকা। প্রতি বছর পরীার জমাকৃত উত্তরপত্র বিক্রি বাবদ ৩ লাখ টাকা আয় হতো। এই টাকা শিক কল্যাণ ফান্ডে জমা হত। অথচ গত ৩ বছরে এই খাত থেকে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানে জমা হয়েছে।

বর্তমানে ওয়েব সাইট খোলার দরপত্র আহ্বান করে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে সর্বোচ্চ দরদাতা ব্র্যাক সফ্টকে কাজ দেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জায়গায় ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য গত ২৭ আগস্ট সংবাদপত্রে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অনেক অভিজ্ঞ প্রকৌশলী আবেদন করার পরও নিয়ম ভঙ্গ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ও সাদেকুল ইসলামের বাড়ির নির্মাণ কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরকে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। তার কনসালটেন্সি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। মূলত প্রতিষ্ঠানের তহবিল শূন্য করার উদ্দেশ্যেই তড়িঘড়ি করে এই ১০ তলা ভবনের কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভবন নির্মাণ কমিটির সদস্য করা হয়েছে শিক্ষক প্রতিনিধি সাদেকুল ইসলাম ও অভিভাবক সদস্য মনসুরুল ইসলাম মিলনকে। অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক অপচয় ও জিনিসপত্র লুটপাট চলছে।

শিা কোডের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক ও বিশেষ কমিটির শিক নিয়োগের কোনো বিধান নেই। অথচ তারা ব্যক্তিগত ও দলীয় সম্পর্কের কারণে কারোর শ্যালক, ভাই-বোন ও শ্বশুরকে শিক নিয়োগ দিয়েছেন। আলোচিত শিক্ষক আবুল কাশেমও একইভাবে নিয়োগলাভ করেন। তিনি ৩০-০৬-২০১০ ইং তারিখে সহকারী শিক পদ থেকে পদত্যাগ করেও এখনো অগ্রণী ব্যাংক, টঙ্গী শাখার হিসাব নম্বর ১০৩৩৬ থেকে ২৭৪৬২৬ নম্বর ইনডেক্স মূলে তার সরকারি অংশের বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। তিনি সহকারী প্রধান শিক পদে আবেদন করলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক গৌরচন্দ্র মণ্ডল গত ০৮-০২-২০১২ ইং তারিখে স্বারিত ৪জি২৯৮৮৪ /১১/১০২২/২ নম্বর স্মারকে নানা অসঙ্গতি ও অযোগ্যতার কারণে আবুল কাশেমকে সহকারী প্রধান শিক পদে এমপিওভুক্তি করা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন। এর পরও শিা কোডের প্রচলিত বিধান লঙ্ঘন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কাশেমকে সহকারী প্রধান শিক হিসেবে নিয়োগের জন্য ডিও প্রদান করেন। তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি ডিজি অফিসে জোর তদবির করছেন বলেও জানা গেছে। এমনকি ডিজিকে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আবুল কাশেমকে গত ১০ জুলাই সহকারী প্রধান শিক পদে নিয়োগ দিলেও তাকে অফিস চলাকালীন স্কুলে পাওয়া যায় না।

বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। লেখা পড়ার প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতি মুহূর্তে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভর্তি পরীক্ষা ও নির্বাচনী পরীক্ষায় দলীয় বিবেচনায় ভর্তি ও ফরম পূরণ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠানের নামে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে প্রশাসন লুটপাট করে খাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন অভিভাবক জানান, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কোচিংয়ের নামে ৮০০ টাকা করে আদায় করা হলেও কোনো কোচিং বা পৃথক কাস নেয়া হয় না। যে কোনো পরীক্ষায় ৫০০ টাকা ফি নেয়া হয়। এসব পরীক্ষার ফি ও কোচিংয়ের টাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষকদের চেয়ে প্রায় দশগুণ টাকা প্রশাসনের সদস্যরা ভাগ করে নিচ্ছেন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের বিষয় বণ্টনেও অনেক অনিয়মের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকেরা প্রতিষ্ঠানে অনেক বড় অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না। অপরদিকে অন্য শিক্ষকদের পান থেকে চুন খসলেই কারণ দর্শানো ও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে শাস্তি প্রদান করা হয়।

দুইজন অভিভাবক সদস্য শিক্ষকদের সাথে সামন্তবাদী আচরণ করছেন। অভিভাবক সদস্য মনসুরুল ইসলাম মিলন শুধু এ প্রতিষ্ঠানেই নয় সমগ্র টঙ্গীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপরেও স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করেন। গত কয়েক বছরে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমীর বিভিন্ন কাজের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে কত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বার্ষিক নির্ধারিত বাজেটে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে বাজেট নির্ধারণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে ব্যাপক লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থী সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা না হয়েও সব বিল ভাউচার অনুমোদন করছেন। তার অনুমোদিত বিল ভাউচারই পাস করতে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। সরকার সমর্থক দুর্নীতিবাজ এসব শিক্ষকের কাছে অধ্যক্ষ দৃশ্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সফিউদ্দিন একাডেমীর প্রস্তাবিত প্ল্যানের ১০ তলা ভবন নির্মাণ করতে সর্বোচ্চ ৭ কোটি টাকা খরচ হবে। অথচ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আপাতত এই ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় ধরেছে ১৫ কোটি টাকা।

১২ লাখ টাকায় ক্রীড়ানুষ্ঠান : এ বছর সাদামাটা এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের খরচ দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৯১ হাজার ২৯৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এতে গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারের নামে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। গত ২৭ মার্চ ও ২০ এপ্রিল পৃথক দুটি চেকে (নম্বর- ৪০১৪৫১৫ ও ৪১৩৬২১৭ ) ব্যাংক থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হয়। আওয়ামী লীগপন্থী সহকারী প্রধান শিক আবুল কাশেম, সহকারী শিক সাদেকুল ইসলাম,আব্দুল মতিন, ইলিয়াস আলী আকন্দ, মোস্তফা কামাল, আব্দুল খালেক সরকার ও ওমর ফারুক অস্বাভাবিক এসব বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে টাকা উঠিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ ভাটোয়ারা করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. হাফিজ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে বলেন, প্রত্যেকটি কাজের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। ক্রয়-বিক্রয় বা বিল ভাউচারে অসঙ্গতি থাকলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা দায়ী। বিভিন্ন পরীক্ষার উত্তরপত্র বিক্রয় বাবদ ও বিভিন্ন প্রকাশনা কোম্পানির বুক সিলেকশন বাবদ আয়ের টাকা প্রতিষ্ঠানে জমা হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com