জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানকে তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানোর প্রতিবাদে ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী গত ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীতে বিােভ মিছিল বের করে : সোনার বাংলা
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতেই সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় মাওলানা আব্দুস সুবহানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্ম দিচ্ছে। জামায়াতের নিরপরাধ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার চালিয়ে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। অবিলম্বে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বন্ধ করে মাওলানা আব্দুস সুবহানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি না দিলে সরকারের পতন আন্দোলন শুরু হবে বলেও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিােভ মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মো. সেলিম উদ্দিন, রমনা থানা আমীর ড. রেজাউল করিম, শিল্পাঞ্চল থানা আমীর আবুল আলা মোহাম্মদ ইকবাল, তেজগাঁও থানা আমীর সালাহউদ্দিন, ক্যান্টনমেন্ট থানা আমীর নাজিমুদ্দিন মোল্লা, গুলশান থানা আমীর এ আর এম মনির ও বাড্ডা থানা আমীর অধ্য হারুন অর রশিদ ও সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ কেফায়াতুল্লাহ প্রমুখ।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বর্ষীয়ান জননেতা ও সাবেক পার্লামেন্টারিয়ান মাওলানা আব্দুস সুবহানকে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানোর প্রতিবাদে ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিােভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহান জাতীয় সংসদে ৩ বারের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। বিজ্ঞ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রা ও দেশের উন্নয়নে তিনি জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। শুধু রাজনীতিবিদই নন বিশিষ্ট একজন আলেমে দ্বীন হিসেবেও তিনি সারাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কোনো ভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সরকার মাওলানা সুবহানকে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। তাদের চিন্তা-চেতনায় বাকশাল আর স্বৈরতন্ত্র। কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে তারা জামায়াতকে ধ্বংস করে দেশে আবারো বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের কর্মকান্ডে প্রমাণিত হয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে সরকার জামায়াতকে ধ্বংস করতে চায়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ৩০ দিন করায় প্রমাণ হয়েছে তারা জামায়াতের নিরপরাধ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে শাস্তিপ্রদানের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কথিত বিচারের নামে প্রহসনের চেষ্টা করা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
পল্টন থানা : শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি ও অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বন্ধের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর পল্টন থানার উদ্যোগে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হোসাইন ও লুৎফুর রহমান, পল্টন থানা আমীর অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, শাহবাগ থানা আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দীন, পল্টন থানা সেক্রেটারি শাখাওয়াত হোসাইন, শিবির নেতা রাশেদুল হাসান ও শরিফুল ইসলাম ও থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কাদের জুয়েল প্রমুখ।
বিােভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার বারবার কথিত অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করে প্রমাণ করেছে তারা কখনোই ন্যায় বিচার চায় না বরং সাজানো ও পাতানো বিচারের নামে প্রহসন করে জনপ্রিয় জাতীয় নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দিতে চায়। তারা কথিত অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আপিলের সময়সীমা কমিয়ে সে কথাই প্রমাণ করেছেন। কিন্তু দেশের সচেতন মানুষ সরকারের সে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি কথিত বিচারের নামে গঠিত অবৈধ ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে বন্ধ করে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।
তারা বলেন, সরকার জনগণের কাছে পর্বত প্রমাণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতায় এসে এখন সবকিছু বিস্মৃত হয়েছে। তারা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এখন সকল সময়ের চেয়ে খারাপ পর্যায়ে। সরকারি দলের আত্মীয়করণ-দলীয়করণে দেশের এখন বেহাল অবস্থা। দেশে দুর্নীতি এখন সর্বগ্রাসী রূপ লাভ করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পরে তারা নাকে খত দিয়ে বিশ্বব্যাংককে অর্থায়নে রাজী করেছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে কুঠারাঘাত করা হয়েছে। মূলত সরকার গোটা দেশকেই দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। তাই এই ব্যর্থ ও দুর্নীতিবাজ সরকারের কাছে দেশ ও জনগণ কখনোই নিরাপদ নয়। তিনি ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে মতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
