ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে ১৪ নম্বর রুমে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ফার্মাসিস্ট রেজওয়ান আলী
মো. আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি : ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী রোগীদের জিম্মি করে গাইনি চিকিৎসকের কিনিক বাণিজ্য করার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এছাড়াও ফার্মাসিস্ট দিয়ে রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান, হাসপাতাল চলাকালীন ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের চেম্বারে রোগী দেখা, রোগীদের সাথে চিকিৎসকদের দূর্ব্যবহারে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সঙ্কট তো আছেই। এ সুযোগে এখানে কর্তব্যরত কিছু অসাধু চিকিৎসক এবং কর্মচারি সিন্ডিকেট করে ফায়দা লুটছে। এ যেন যেমন খুশি তেমন চলো হাসপাতাল। নবাগত সিভিল সার্জনের এখন পর্যন্ত সেদিকে কোনো সুদৃষ্টি না পড়ায় রোগীরা এখানে এসে হয়রানির পাশাপাশি সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে সরকারি বেতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে অবৈধ ভাবে টাকা কামিয়ে নিচ্ছে গাইনি চিকিৎসকসহ এ সিন্ডিকেট।
গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রোগীদের। বিগত জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর থেকেই তিনি এখানে বহাল তবিয়তে কর্মরত থেকে দুর্নীতি ও কিনিক বাণিজ্য করছেন প্রকাশ্যেই। তিনি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক হলেও এখানে আগত অধিকাংশ গাইনি রোগীকে কিনিকে গিয়ে অপারেশনের পরামর্শ দেন। ঝালকাঠিতে তার পছন্দনীয় কয়েকটি কিনিকের রেফারেন্স রেজিস্টার দেখলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে রোগীরা জানিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হাসপাতাল সংলগ্ন বাণী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার প্রাইভেট চেম্বার। তাই অফিসে হাজিরা দিয়ে ঐ কিনিকে এসে তিনি প্রায়ই রোগী দেখে ফি নেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে নলছিটির বারৈকরণ গ্রামের মো. রনির স্ত্রী গর্ভবতী নাজমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রসব বেদনায় সে কাতরাতে থাকায় তার নিকট আত্মীয়রা ডাক্তার মৃণালের স্মরণাপন্ন হয়। নাজমার নিকট আত্মীয় মনির হোসেন জানান, আমি নিজেই মৃণালের কাছে গিয়ে ভর্তি করা নাজমাকে দেখার অনুরোধ করি। তখন সে আজ সিরিয়াল না থাকায় এ রোগীকে কিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। বিষয়টি তাৎণিক হাসপাতালের আরএমওকে অবহিত করা হলে এব্যাপারে তিনি অসহায় বলে জানিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেন। মনির হোসেন জানান, শেষ পর্যন্ত রোগী নাজমাকে কিনিকে না নেয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানোর ছাড়পত্র দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান মৃণাল কান্তি। তাই অনুপায় হয়ে এ রোগী হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার জোয়াহের আলীর স্মরণাপন্ন হয়ে সিজার অপারেশন করিয়েছে বলে নাজমার নিকট আত্মীরা জানান। এভাবে প্রায় দিনই হাসপাতালে আসা রোগীদের অভিযোগ, মৃণাল কান্তি অনুপায় হয়ে ২-১টি অপারেশন হাসপাতালে করেন। এছাড়া অধিকাংশ ডেলিভারি রোগীকে তিনি নির্দিষ্ট কিনিকে পাঠিয়ে সিজার অপারেশন করিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এভাবেই। রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারকারী ও কিনিকের চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত মৃণাল কান্তিকে দ্রুত বদলীর দাবি জানিয়েছে হাসপাতালে আসা রোগী ও ভুক্তভোগীরা।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল দীর্ঘদিন চলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই। বিশেষ করে শিশু, গাইনি, হাড়, নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এখানে নিয়োগ দেয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রতিদিন এ রোগীদের চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এখানে কর্মরত বহির্বিভাগের কিছু অসাধু ডাক্তার ও কর্মচারী দীর্ঘদিন ফায়দা লুটছে। আশ্চর্য হলেও সত্য বহির্বিভাগে এ হাসপাতালে ডাক্তারের পরিবর্তে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা। দু’বছর ধরে শিশু চিকিৎসক দিলশাদ হোসেনের বহির্বিভাগের ১৬ নম্বর রুমে তার সহকারী সঞ্চিতা সরকার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। সঞ্চিতার দাবি তিনি এ বিষয়ে প্রশিণ প্রাপ্ত হওয়ায় কর্তৃপ তাকে চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বহির্বিভাগের ডা. জহুরুল হকের ১০ নম্বর রুমে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ফার্মাসিস্ট রেজয়ান আলী হাওলাদার। তিনি কিভাবে এখানে রোগী দেখে ব্যবস্থপত্র দিচ্ছেন জানতে চাইলে চুপ করে থাকেন। জানা গেছে তাকে আরএমও প্রায়ই এ দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। সেদিন ১০ নম্বর রুমে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগী কৃষ্ণকাঠির ইয়াকুব খানের স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, হাসপাতালের স্লিপ নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসে দেখছি তার চেয়ারে ফার্মাসিস্ট। তাই চিন্তা করছি কি করব। এভাবেই প্রতিদিন এখানে এসে রোগীরা প্রতারিত এবং দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েন তাদের চিকিৎসা নিয়ে।
এ ব্যাপারে গাইনী চিকিৎসক মৃণাল কান্তি জানান, হাসপাতাল সংলগ্ন আমার চেম্বার আছে। আমি সেখান থেকে কিনিকে রোগী পাঠালেও হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী কিনিকে পাঠানোর প্রমাণ নেই। রোগীর সমস্যা থাকলে হাসপাতাল থেকে আমি বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করি। আরএমও ডাক্তার মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমি ১ মাসের মধ্যে এখান থেকে চলে যাব। এত কমপ্লেইন আর ভালো লাগে না। এরকম প্রতিদিন সব কমপ্লেইন আমার শুনতে হয়। ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. মাসুম আলী জানান, এ হাসপাতালে ডাক্তার সঙ্কট আছে। কিন্তু ডাক্তারের চেম্বারে একজন ফার্মাসিস্ট অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই চিকিৎসাপত্র দিতে পারে না। ডা. মৃণাল কান্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, তার ব্যাপারে এরকম লিখিত কোনো অভিযোগ পেলেই আমি দেখব। তবে ডাক্তার সঙ্কটের কারণে ১ জন মহিলা ফার্মাসিস্টকে চিকিৎসা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত
- ওয়াপদা কর্তৃক সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ রোডের উপকারভোগীদের পাঁচশত গাছ কর্তন
- শিবগঞ্জে চরাঞ্চলে নদী ভাঙন অব্যাহত
- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটারে ২ শতাধিক গর্ত
- জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ
- ভূমিদস্যু চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
- পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সঙ্কট॥ বেনাপোলে ৮ কি. মি. জুড়ে রফতানির ট্রাকের সারি
- রামপালে পোল্ট্রি খামারি রোগাক্রান্ত মুরগি খাওয়াল স্থানীয়দের
- মাওলানা আবদুস সুবহানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে পাবনায় হরতাল পালিত
- ইসলামী সমমনা ১২ দলের ডাকে বরিশালে সর্বাত্মক হরতাল পালিত
- সরকারি কসাইখানা থাকার পরও ছাগলনাইয়ায় যত্রতত্র পশু জবাইয়ে পরিবেশ দূষিত
- কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে কোটি কোটি টাকার সুপারি ভারতে পাচার
- কুড়িগ্রাম শহরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশুখাদ্য
- ভোলা শহরের মেস থেকে ঘুমন্ত ৪ ছাত্রশিবির কর্মী গ্রেফতার
- বরগুনার বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের ৫ নেতা গ্রেফতার
- ঝালকাঠিতে জামায়াত শিবিরের ৩ নেতা আটক
- বরগুনায় ৬ বাড়িতে একই রাতে চুরি
- চরফ্যাশনে জামায়াত নেতা গ্রেফতারের প্রতিবাদ
- মান্দায় ভটভটি উল্টে নিহত ১॥ আহত ৩
- কালাইয়ে পৌরমেয়রের মোটরসাইকেল ছিনতাই লালবাহিনীর ৫ সদস্য গ্রেফতার
- কলারোয়া ডেকোরেটর ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠিত
