ঢাকা শুক্রবার ২০ আশ্বিন ১৪১৯, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৩, ৫ অক্টোবর ২০১২

পদ্মা সেতু ভারতের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা

॥ আহমাদ সালাহউদ্দীন॥
বাংলাদেশের বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও অর্থায়নের দায়দায়িত্ব ভারতের হাতে তুলে দেয়ার আয়োজন চলছে। টেন্ডারপর্বে দুর্নীতির অভিযোগে এই সেতুতে বিশ্বব্যাংক ও অন্য তিন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়ন প্রক্রিয়া গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত রয়েছে। সরকারের একটি শক্তিশালী মহল দিল্লির বিশেষ আগ্রহে এখন ট্রানজিট বা করিডোর বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে পদ্মা সেতুটি নির্মাণের যাবতীয় কর্তৃত্ব ভারতকে দেয়ার পক্ষপাতী বলে জানা গেছে। কারণ তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ‘সিল্ক রুট’ হিসেবে ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু হবে মূলত ভারতের ট্রানজিট সেতু। তাই এ সেতু নির্মাণের সাথে করিডোর বা ট্রানজিটের স্বার্থে ভারতকে শুরু থেকেই জড়িত করা গেলে ভবিষ্যতে বহুল বিতর্কিত ট্রানজিট বা করিডোর বাস্তবায়নে আর কোনো সমস্যা হবে না। আর এ উদ্দেশ্যেই ভারতসহ সরকারের ওই মহলটি বিশ্বব্যাংককে এ সেতু থেকে সুকৌশলে দূরে রাখতে চাইছে। এজন্য তারা বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে নানাভাবে বিষোদগারও করে  চলেছে। এমনকি বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ভারতীয়রাও নেপথ্যে চাইছে, পদ্মা সেতু এখন ভারতীয় ঋণেই নির্মিত হোক। ভারত সরকার এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নেও প্রস্তুত রয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেবার বিনিময়ে এ সুযোগে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত তার বহু আকাক্সিত করিডোর বাস্তবায়ন করে নিতে চায়। তাছাড়া বাংলাদেশের এই বৃহৎ অবকাঠামোটি নির্মাণের সুযোগ একবার পেলে ভবিষ্যতে ভারত এদেশে আরো অনেক বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবসাও সহজে লাভ করতে পারবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাথে কর্মসূত্রে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন কিছু বাংলাদেশী সাবেক কর্মকর্তাও এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের বর্তমান শীর্ষনেতৃত্ব ও অন্যান্য দাতারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু একদিকে ভারতীয় লবির দোর্দণ্ড প্রতাপ, অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক মহল ভারতের প্রতি এত অনুগত যে, তারা সবকিছু বুঝতে পেরেও এর বিপরীতে এখন অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। দাতারা বাংলাদেশকে তার প্রকৃত স্বার্থের অনুকূলে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে চাইলেও সরকারের একটি বিশেষ মহলের অনীহার কারণে পরিস্থিতি কার্যকরভাবে এগুতে পারছে না। সরকারের শীর্ষরাজনৈতিক মহল মুখে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও ভেতরে ভেতরে তারা বিশ্বব্যাংকের ঘোর বিরোধী। বিশ্বব্যাংক যাতে কোনোভাবে পদ্মা সেতুতে যুক্ত হতে না পারে, সেজন্য তারা সচেষ্ট রয়েছেন। বিশ্বব্যাংক না থাকলে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন ছাড়াও দুর্নীতি করা তখন আরো সহজ হয়ে পড়বে। আর ভারত তার ট্রানজিটের স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে পারলে দুর্নীতি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাবে না। বরং দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করবে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন সরকারের দু’জন প্রভাবশালী উপদেষ্টা। এদের একজন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে ছুটিতে পাঠানোর কথা বলা হলেও তিনি নিজে তা অস্বীকার করেছেন। কথিত ছুটি ভোগকারী ড. মসিউর গতমাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একই প্লেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে বিশ্বব্যাংক আরো বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিউইয়র্কে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আবারো বিষোদগার করেন এবং পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে জানান। সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী মহলের এসব আপত্তিকর ও অসম্মানজনক বক্তব্য আর অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকও রুষ্ট হয়ে পড়েছে। যে কারণে গত ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দলের পদ্মা সেতুর পুনঃ অর্থায়ন সম্পর্কিত আলোচনায় ঢাকায় আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অবিবেচনাপ্রসূত কথাবার্তার কারণে এই বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। একদিকে তারা (সরকার) বাতিল করা ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে বলে জনগণকে জানাচ্ছে, অন্যদিকে জাতিসংঘে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের সংস্কারের কথা বলছে, তাদের অর্থ জরুরী নয় বলেও মন্তব্য করছে। ‘বিশ্বব্যাংকের কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিবাজ, তাদের কোনো অডিট হয় না’ প্রভৃতি বলেও প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে একাধিকবার বিশ্বব্যাংককে গালাগাল করেছেন। তদন্তাধীন দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একে প্রভাবিত করতে আবারো জোর দিয়ে বলছেন যে, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি বলেই বিশ্বব্যাংক ফিরে এসেছে। অথচ বিশ্বব্যাংক প্রধানমন্ত্রী ও তার অন্যান্য মন্ত্রীর এ অপব্যাখ্যার জবাব দিতে ফের আরেকটি বিবৃতি দিতেও বাধ্য হয়েছে। এর ফলে মনে হচ্ছে, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের ভিন্ন কোনো গোপন উৎস সরকারের কাছে আছে, যার নাম কৌশলগত কারণেই এখন প্রকাশ করতে পারছে না তারা। বিশ্বব্যাংক একপর্যায়ে ুব্ধ হয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হলে ওই উৎসকে তখন জনগণের সামনে আনা হবে।

বিশ্বব্যাংকের কিছু বাংলাদেশী সাবেক কর্মকর্তা ও ইআরডি সূত্র জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর বাতিলকৃত ঋণ পুণরায় ছাড়ের ব্যাপারে ব্যাংকটির বর্তমান শীর্ষনেতৃত্ব রাজি থাকলেও ভারতীয় প্রভাব বলয়ের কর্মকর্তারা নেপথ্যে এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। বিশ্বব্যাংকে কর্মরত প্রভাবশালী ভারতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চাইছেন, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু  বিশ্বব্যাংকের পরিবর্তে একপর্যায়ে ভারতীয় ঋণেই যেন নির্মিত হতে পারে। সে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে নানাভাবে উস্কিয়ে বিশ্বব্যাংককে সুকৌশলে এ সেতু থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় তারা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে এক পর্যায়ে ভারতের দ্বারস্থ হলে পদ্মা সেতু নির্মাণে ভারত সরকার প্রয়োজনে বিনা সুদে পুরো অর্থই দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসেবে, এমনকি একটি বড় অংশ অনুদান হিসেবেও দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এর পেছনে ভারতের শর্ত একটাই করিডোর বা কথিত ট্রানজিট। ভারতের অর্থায়নে এই সেতু নির্মিত হলে এর ওপর দিয়ে যেন ভারত চিরস্থায়ী করিডোর পায়। সেই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারত নিজেই এর পুরো অর্থ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য ভারতের এককভাবে ৩-৪ বিলিয়ন ডলার ঋণদানেও কোনো আপত্তি নেই। করিডোরের জন্য তারা এ মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ যেন তিস্তা কিংবা অন্য কোনো অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগিকে এর সাথে না জড়ায়। ভারত এ সেতুর অর্থায়নে কোন সুদ দাবি না করলে কিংবা একটি অংশ অনুদান হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো বিতর্কেরও সৃষ্টি হবে না এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণের চেয়ে বাংলাদেশের জন্য এই ভারতীয় অর্থ বেশি লাভজনক বলে তারা সবাইকে বোঝাতেও পারবে। ইতোমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র বিভাগ এর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে এবং গত বছর বাংলাদেশের জন্য মঞ্জুরীকৃত ভারতের ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণের একটি অংশকে (২০ কোটি ডলার) আগাম অনুদান হিসেবেও ঘোষণা করে মূলা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা ঋণচুক্তি গত জুনে প্রথম দফায় বাতিল করার ঘোষণা দিলে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর তখন বাংলাদেশের পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহী বলেও প্রকাশ্যে জানায়। আবার পদ্মা সেতুতে মালয়েশিয়ার বিকল্প অর্থায়ন প্রস্তাবের মুখে বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাংকের চেয়েও চমকপ্রদ প্রস্তাব তাদের কাছে রয়েছে। যথাসময়ে এটা সামনে আনা হবে। বিশ্বব্যাংকের ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল শাখার নির্বাহী পরিচালক, ভারতের সাবেক মুখ্য সচিব এমএন প্রসাদ বর্তমানে পদ্মা সেতুর বাতিলকৃত ঋণ ছাড়ের আলোচনায় মূল ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় মহলটি বর্তমানে ড. মসিউরের ছুটি বা পদত্যাগের ব্যাপারেও জটিলতা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি এ্যাডভাইজার ড. মসিউর রহমান জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে চাইলেও এ সরকারের আমলে আর পদ্মাসেতু নির্মাণ কিংবা তাদের ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমার ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি গৌণ। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো গুপ্তচরবৃত্তির সাথে যারা জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করা। যারা বিশ্বব্যাংকের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছে, তাদের মুখোশ খুলে দেয়ার বিষয়টিই এখন মুখ্য।” তবে কারা গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছে তাদের কারও নাম উল্লেখ করেননি ড. মসিউর। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু করার মতো সংগতি আমাদের নিজেদেরই আছে। তিনি জানান, এই সরকার বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাবে না। যতই চিঠি চালাচালি হোক না কেন, এ সরকারে আমলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে কোনো ঋণ দেবে না। কারণ বিশ্বব্যাংক গত জুনে চুক্তি বাতিলের পর ঋণের বিষয়ে নতুন করে আর কোনো কাজ করেনি। মসিউর বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পুণরায় ঋণচুক্তি অসম্ভব। পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তির বিষয়ে দৃঢ়ভাবে অনাস্থা প্রকাশ করে আলোচিত এই উপদেষ্টা বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সেটিই বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মসিউর বলেন, যারা পয়সা দেবে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা কোনো এক সময় আমাদের দেশের কিছু লোককে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তারা গোপনে তাদেরকে তথ্য সরবরাহ করে, যার কোনো ভিত্তি নেই। তাদেরকে তারা পরামর্শ দিয়েছে কি করতে হবে। বিশ্বব্যাংক যে স্পাই নেটওয়ার্ক করেছে সেটা গর্হিত। এই ‘গুপ্তচরদের’ কিছু ই-মেইলও তার কাছে আছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

এদিকে পদ্মা সেতুর নির্মাণপর্ব নিয়েও নতুন বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এ সেতুর অর্থায়নে ফের সিদ্ধান্ত নিলেও পদ্মা সেতুর নির্মাণ আসলে কবে শুরু হবে তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের কথাবার্তায় মানুষ প্রকৃত সত্য বুঝে উঠতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই পদ্মাসেতুর নতুন টেন্ডার আহ্বান এবং এপ্রিল-মে মাস নাগাদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী গতমাসের শেষার্ধে সাংবাদিকদের একথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ অন্য সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে সরকারের এই কর্মপরিকল্পনা ও ইচ্ছার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা কঠিন হবে। বিশ্বব্যাংক ফিরে এলেও বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদকালে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা খুব একটা সহজ হবে না। একটি পদ্মা সেতুই দেশের সব সমস্যার সমাধান নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের যেসব শর্ত এখনো রয়েছে তার কারিগরি, প্রক্রিয়াগত ও কৌশলগত সব সমস্যার জট খুলতে অনেক সময় লাগবে। বিকল্প অর্থায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণের যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সরকারের ছিল তা থেকে সরে আসারও কোনো সুযোগ নেই মন্তব্য করে বলেন, মালয়েশিয়াকেও ‘না’ বলা যাবে না। যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার অর্থ এই নয় যে, খুব শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। কিছু প্রক্রিয়াগত, পদ্ধতিগত এবং টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে যা সুরাহা করা পর্যন্ত অপো করতে হবে। তিনি বলেন, অর্থায়ন কে করলো সেটা মূল বিষয় নয়। অর্থায়ন যেই করুক, সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করাই সরকারের ‘মূল ল্য’। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “দাতাদের অর্থায়নেই হোক, আর মালয়েশিয়ার বিকল্প কিংবা নিজস্ব অর্থায়নেই হোক, আমাদের ল্য হচ্ছে সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা।’ আর পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের আগে মূল সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হলে মূল সেতুর কাজ আরও সাত-আট মাস পিছিয়ে যাবে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে এ কাজ শুরু হতে পারে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এই অক্টোবর মাসের মধ্যেই পদ্মাসেতুর নতুন টেন্ডার আহ্বান এবং এপ্রিল-মে মাস নাগাদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চায় সরকার। বিশ্বব্যাংক গতমাসের শেষার্ধে পদ্মা সেতুতে পুণরায় ফেরার ঘোষণা দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যেভাবে হিসাব করেছি ফর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন, বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে এগ্রিও করেছে। আরও কিছু টেন্ডার ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে। সেগুলো তারা পরীা-নিরীা করেছে। উই শুড গো ফর টেন্ডার।’ তবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আগের দরপত্র কার্যক্রম যেখানে থেমে গিয়েছিল, সেখান থেকে আবার শুরু করলেও আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের আগে মূল সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হলে মূল সেতুর কাজ আরও সাত-আট মাস পিছিয়ে যাবে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে এ কাজ শুরু হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা নিরসন, আগামী দিনে আর্থিক ও কারিগরি দিক দিয়ে কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার জন্য কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে, সেসব বিষয়ে মন্তব্যকালে তিনি এ হিসাব দেন। জামিলুর রেজা চৌধুরী যমুনা সেতুরও বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ছিলেন। আগামী এপ্রিল-মে মাসের দিকে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জামিলুর রেজা চৌধুরী সাহেব যে হিসাবটা দিয়েছেন তা হলো, সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হলে। পদ্মা সেতুর ফিজিবিলিটি স্টাডি, ডিজাইন, প্রাক যোগ্যতা, জমি অধিগ্রহণ ইত্যাদিসহ অনেক কাজ যেহেতু আগে থেকে করাই আছে তাই আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, এর ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই নতুন করে দরপত্র আহ্বান এবং এপ্রিল-মে মাসে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা। আরও কিছু টেন্ডার ডকুমেন্ট বিশ্বব্যাংকের কাছে আছে। আমরা শুনেছি তারা সেগুলো পরীা-নিরীা করেছে। এখন কণ্ট্রাক্টর-ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত মোবিলাইজেশন প্রয়োজন হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, পদ্মা সেতুতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক নতুন আর কোনো শর্ত দেয়নি। তাছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক বাতিলকৃত ঋণ চুক্তি পুণর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ফের নতুন করে চুক্তি করতে হবে, নাকি পুরনো চুক্তিই বহাল থাকবে, সে বিষয়টি সম্পর্কে ইআরডি সচিব ইকবাল মাহমুদ জানান, যেহেতু এ প্রকল্পে কো-ফাইনান্সিং আছে এবং বিশ্বব্যাংক ছাড়া অন্য তিন সহযোগী অর্থায়নকারী সংস্থা এখনো চুক্তি বাতিল করেনি, তাই নতুন করে তাদের সাথে আর চুক্তি করতে হবে না। সরকার বিশ্বব্যাংকের পুরনো চার শর্ত পূরণে সম্মত হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ায় সবাই ফিরে এসেছে। তবে বিশ্বব্যাংকের বাতিল করা চুক্তিটি ফের নতুনভাবে করতে হবে কিনা, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে তিনি বলতে পারেননি। এ মাসের মধ্যেই বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইডিবির প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসলে তখন বিষয়টি জানা যাবে। সবাই মিলে তখন যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং দুর্নীতির তদন্ত একই সাথে চলবে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে সহ-অর্থায়নকারীদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার প্রতিনিধিবৃন্দ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব কৌশল নির্ধারণ করবেন। প্রকল্পটিকে সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ইআরডি সচিব ইকবাল মাহমুদ। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রকাশের একদিন পর ইআরডির পক্ষ থেকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন ও পরে এক বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সরকারের এ বক্তব্যকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে ফের আরেক বিবৃতিতে বলেছে, দুর্নীতির সন্তোষজনক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অর্থায়নের ব্যাপারে নতুন কোনো চুক্তি সম্পাদনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের দেয়া চার শর্তের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র একটি শর্ত (সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের পদত্যাগ) পূরণ হয়েছে। বাকি তিন শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকার এ তিন শর্ত পূরণেরও প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বিশ্বব্যাংক তার আগের অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বদলায়। বাকি তিন শর্ত হচ্ছে- সেতুর নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পে নতুন ঠিকাদার বা ক্রয় ব্যবস্থায় অধিকতর ও নিবিড় পর্যবেণের জন্য দাতাদের আরো সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করা; আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও দ্রুত তদন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং তদন্ত পর্যালোচনা করে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠন করা। ওদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কতদিনে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে কেবল বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের পরই। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দলের এ মাসের মধ্যেই ঢাকায় আসার কথা। ওয়াশিংটন থেকে আসা প্রতিনিধিদলটির অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের একটি বিশেষ তদন্ত দল নিয়োগ করার কথা, যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই দলের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সব তথ্যের পূর্ণ ও পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার কথা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের নিয়োগ করা একটি প্যানেলের কাছে। এ জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে বলে জানা গেছে। এই এমওইউ স্বাক্ষরের পর পরবর্তী কর্মকাণ্ড  এগুতে থাকবে। পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সহ-অর্থায়নকারী অন্য দাতা সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাংকের কাছে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেবে বলে জানা গেছে। কারণ হিসেবে দাতা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের কিছু কাজে বিশ্বব্যাংক একক অর্থায়নে করবে, আবার বেশকিছু কাজ হবে অন্যসব দাতার যৌথ অর্থায়নে। তাই পুরো প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেয়া হবে।  পদ্মা সেতুর পরবর্তী কাজ শুরুর আগে তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ করতে হবে দ্রুত। শর্ত অনুযায়ী এসব কাজে এখন ঋণদাতাদের খবরদারি বাড়বে আরো।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারের শীর্ষস্তরের ব্যক্তিদের দুর্নীতি তদন্তে ও ভবিষ্যতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের বাতলানো শর্ত পূরণে বাংলাদেশ সম্মত হয়ে চারটি পদপে সরকার সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত করার পর সেতু প্রকল্পটিতে নতুন করে সম্পৃক্ত হবার ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকটি বলেছে, সরকার নতুনভাবে বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দ্বারা সম্মত পদপেগুলোর সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়ন হলে, ব্যাংকের পরিচালনা কর্তৃপরে সমর্থনসহ পদ্মা বহুমুখী সেতুতে আবার নতুন করে সম্পৃক্ত হবে বিশ্ব ব্যাংক। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দুর্নীতির ব্যাপারেও ছাড় দেবে না বলে বিশ্বব্যাংক আবারো হুঁশিয়ার করে দিয়ে বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের জনগণ সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন ও উন্নত মানের একটি বহুমুখী সেতু দেখতে চায়। এতে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে বাংলাদেশের জনগণের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন হবে। বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করার আগে বিশ্ব ব্যাংক এ প্রকল্পে দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ সরকারকে দেয় এবং চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদপে নিতে বলে, যা সময়মতো পূরণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়। বিশ্ব ব্যাংকের এই শর্তগুলো ছিল- ১. এ প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন সব সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগ কিংবা ছুটিতে পাঠাতে হবে। ২. দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে এ দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। ৩. এই তদন্তের সার্বিক তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেলকে পাঠাতে হবে, যাতে তারা সুষ্ঠু ও নিরপে তদন্তের স্বার্থে বিশ্ব ব্যাংক এবং অন্য ঋণ দাতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারে এবং ৪. সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে যাতে বিশ্ব ব্যাংক ও অপর ঋণদাতারা প্রকল্পের ক্রয় কর্মকাণ্ড আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেণের সুযোগ পায়। বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী বিনিয়োগকারীদের প্রকল্পের খুঁটিনাটি পর্যবেণেরও সুযোগ দিতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেরীতে হলেও এসব পদপে নেয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনার অনুরোধ’ জানায়। প্রকল্পের ক্রয় নীতিমালা পরিবর্তন, দুর্নীতির সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা এবং এ সংক্রান্ত সকল তথ্য বিশ্ব ব্যাংককে জানাতেও সরকার সম্মত হয়েছে।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবার পর জাপানী আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা জাইকার মাধ্যমে এর সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করা হয়। তখন এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল মাত্র ১২০ কোটি ডলার। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারেরও অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে গত বছরের প্রথমদিকে বিশ্বব্যাংক, এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক), আইডিবি (ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ও জাইকা’র (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) সঙ্গে প্রাথমিক প্রাক্কলনের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থের ঋণচুক্তি করে সরকার। ২৯০ কোটি ডলারে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তখনও এ সম্পর্কে দুর্নীতির একদফা অভিযোগ উঠে এবং সংসদীয় কমিটি এই দ্বিগুণেরও বেশি বাজেট নির্ধারণের ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাদ সাধে এর আন্তর্জাতিক কনসালটেন্ট নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায়। এতে কাজটি প্রথমে পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেই ৩৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পায় বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষস্তরের ব্যক্তিদের এই দুর্নীতির তদন্তে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে গত ২৯ জুনে প্রকল্পটিতে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে প্রধান অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংক। এরপর দুর্নীতি তদন্তে বিশ্ব ব্যাংকের বাতলানো পথে ফিরে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজি করাতে তিন মাস সময় নেয় সরকার। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি বাতিল করা বিশ্ব ব্যাংককে এই প্রকল্পে আবার ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংক দুই পই ‘বেশকিছু ছাড়’ দিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আশা করি, আপনারা শিগগিরই সুখবর পাবেন। কিন্তু তেমন কোনো সুখবর আসলে মেলেনি বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে। সদর দফতর থেকে ইংরেজিতে দু’দফায় দেয়া বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায় যে, সরকারের শুরু করা তদন্ত একটি আন্তর্জাতিক প্যানেলের সহযোগিতায় পূর্ণাঙ্গভাবে, নিরপেতার সাথে ও দ্রুততায় শেষ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন টেন্ডার বা ক্রয় প্রক্রিয়া প্রণয়ন হলেই কেবল প্রকল্পটিতে অর্থছাড়ে নতুন করে সম্পৃক্ত হবে তারা। তার আগে নয়। এ অবস্থায় দুর্নীতির আন্তর্জাতিক তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলটি এখন এ প্রক্রিয়া কৌশলে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। তাই অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতু বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আর এখন এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে এর দখল ও কর্তৃত্ব নিতে ভারতীয় মহলটি সরকারের ওই বিশেষ অংশের সহযোগিতায় তৎপর হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

সম্পাদকঃ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com