ঢাকা শুক্রবার ২০ আশ্বিন ১৪১৯, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৩, ৫ অক্টোবর ২০১২

২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় এই মিছিলটি বের করেন আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের রামু উপজেলা সভাপতি আনছারুল হক ভুট্টো। পরে ওই মিছিলই হয়ে ওঠে সহিংসতার কারণ। মিছিলটির শুরুতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন (বাঁ থেকে চতুর্থ, গেঞ্জি পরা), তার বাঁ পাশে যুবলীগ নেতার ভাই হাফেজ মোহাম্মদ (কালো পাঞ্জাবি)। ওই সমাবেশ থেকে হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা দেয়া হয়েছিল

সোনার বাংলা রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন দলের ব্যর্থতা আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জ্বলছে কক্সবাজার। বৌদ্ধমন্দির ও পল্লীতে হামলার ঘটনায় ঘরবাড়ি হারা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের দিন কাটছে ভয় আর আতঙ্কে। অপরদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার নিরীহ জনতা।  উত্তম কুমার বড়ুয়া নামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এক যুবকের পবিত্র কুরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদে কক্সবাজার এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ উত্তেজনাকে পুঁজি করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শাসকদল স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। এ মিছিল পরিকল্পিতভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলা চালায়।  তাদের হামলায় রামু উপজেলায় ১১টি বৌদ্ধমন্দির ও অর্ধশত ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। ভাংচুর করা হয়েছে আরও দুটি বৌদ্ধমন্দির এবং শতাধিক বসতঘর।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার রামুতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ধর্মীয় স্থাপনায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পটিয়াতেও বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো কক্সবাজার জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মিছিলকারীরা, পেট্রোল, গান পাউডার নিয়ে যখন বৌদ্ধপল্লীর দিকে রওনা করে তখন একাধিক বৌদ্ধ ধর্মগুরু থানায় ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, কিন্তু পুলিশ আসেনি। তারা বলেন, পুলিশ সরকার বিরোধী আন্দোলন দমাতে এত তৎপরতা দেখাতে পারে, তাদের লাঠিচার্জ টিয়ারশেল আর শর্টগানের গুলিতে বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু বৌদ্ধ বাঁচাতে কেন একটি টিয়ারশেল, এক রাউণ্ড শর্টগানের গুলিও খরচ হলো না? সরকারের গোয়েন্দা বিভাগই বা কী করলো? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

ঘটনার শুরু যেভাবে : পুলিশ ও প্রত্যদর্শীরা জানান, রামুর চেরাংঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও দলিল লেখক উত্তম বড়ুয়া তার ফেসবুক (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) একাউন্টে মুসলমানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন-এর অবমাননা করে সম্প্রতি ১৭টি ছবি পোস্ট করে। একটি পোস্টে তার ছবিসহ নাম ও মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নজরে এলে তাদের একজন উত্তম বড়ুয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ সময় উত্তম ওই যুবককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল যুবক বিােভ মিছিল নিয়ে উত্তম বড়ুয়ার বাড়ি ঘেরাও করে। রামু ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে প্রথম মিছিল বের হয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে। স্থানীয় প্রত্যদর্শীর বক্তব্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সহিংস ঘটনা শুরু হওয়ার ৩-৪ দিন আগে ফেসবুকের ‘ইনসাল্ট আল্লাহ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে রামু সদরের বড়ুয়া পাড়ার যুবক উত্তম কুমার বড়ুয়া বিতর্কিত ছবিটি শেয়ার করে। শেয়ার করার পর রামু উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টোও ছবিটি দেখতে পান। ছবিটি দেখার পর উত্তম বড়ুয়ার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছেন, মৎস্যজীবী লীগের নেতা ভুট্টোর আপত্তি ছবিটি কেন সে ফেসবুকে শেয়ার করেছে জানতে চাইলে উত্তম বড়ুয়া উল্টো তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ ঘটনায় প্তি হয়ে আনছারুল হক ভুট্টো ‘তুমি দাঁড়াও, আমি আসছি’ বলে মোবাইল রেখে দেন।

সূত্রগুলোর মতে, মোবাইল রাখার পরপরই মৎস্যজীবী লীগ নেতা আনছারুল হক ভুট্টো তার দলীয় ছেলেদের খবর দেন। পরে রাত ১০টার দিকে প্রথম মিছিলটি বের করেন তিনিই। ওই মিছিল থেকে আপত্তিকর ছবি ট্যাগকারী উত্তম বড়ুয়ার শাস্তি দাবি করা হয়। ওই মিছিলে আনছারুল হক ভুট্টো ছাড়া জেলা ছাত্রলীগ সদস্য সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন সভাপতি আজিজুল হক, যুবলীগ নেতা সাব্বিরের ভাই হাফেজ মোহাম্মদসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই ছিলেন।

মিছিল শেষে রামু চৌমুহনী চত্বরে একটি সমাবেশও করেন তারা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুবলীগ নেতা নূরুল ইসলাম সেলিম, মৎস্যজীবী লীগ নেতা আনছারুল হক ভুট্টো প্রমুখ।

এই সমাবেশ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘দুষ্কৃতকারী’দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হলে পরদিন রামুতে বৃহত্তর কর্মসূচিসহ হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের নেতারা মিছিলের সামনে থাকায় পুলিশ কোনো এ্যাকশনে যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতাদের উৎসাহ এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা আস্তে আস্তে মিছিলে লোকসমাগম বাড়তে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যদর্শী জানান, মাত্র ৫০-৬০ জনের ওই মিছিলটিই ছিল এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম মিছিল।

তাদের মতে, মিছিল ও সমাবেশ শেষে আবারও মিছিলটি রামুর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বড়ুয়া পাড়ার দিকে ঢুকে যায়। পরে ওই মিছিলেই আস্তে আস্তে লোক বাড়তে থাকে। একসময় তা হাজার হাজার হয়ে যায়। উত্তেজিত মানুষ তখন কেবলই বড়ুয়াপাড়া ও বৌদ্ধ মন্দিরসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনামুখী।

এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও ওয়েবসাইটে ছবিসহ নিউজ ছাপা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে মৎস্যজীবী লীগ নেতা আনছারুল হক ভুট্টোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  উত্তম বড়–য়া কোথায় : পুলিশের একটি সূত্র বলছে, জনতা বাড়ি ঘেরাও করলে খবর পেয়ে উত্তম বড়ুয়া পালিয়ে যায়। পুলিশ উত্তম বড়ুয়ার মা ও বোনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তম বড়ুয়া পলাতক আছে। তার মা ও বোনকে পুলিশ নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে। উত্তম কুমার বড়ুয়া রামু সদরের বড়ুয়া পাড়া চেরাংঘাটা এলাকার সুদত্ত বড়ুয়ার ছেলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ১ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রামু সদর ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল আছে। জনমনে প্রশ্ন যে উত্তম বড়–য়ার অপকর্মের কারণে এতসব ঘটছে, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না কেন? সে এখন কোথায়? এমনও শোনা যাচ্ছে প্রশাসন তাকে লুকিয়ে রেখেছে নয় তো গুম করেছে। কার প্ররোচনায় সে এ অপকর্ম করেছে জানতে পারলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন, পর্যবেক্ষক মহল।

 এলাকার জনগণের বক্তব্য : মেরংলোয়ার বাসিন্দা অনিল বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আতংকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। এসময় মুসলিম যুবকরা তাদের আশ্রয় দেয়। তবে বৌদ্ধ মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা হলেও কোনো মানুষের তি হয়নি বলে তিনি জানান।

স্থানীয় মাওলানা আবদুল হক জানান, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছরের ইতিহাসে এখানে বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি। ইসলাম ধর্মের কোথাও প্রতিবাদ হিসেবে অপর ধর্মাবলম্বী কিংবা তাদের উপাসনালয়ে হামলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। তিনি ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে মন্তব্য করেন।

স্থানীয় যুবক আবদুল কাইয়ূম জানান, মুসলিম যুবকরা সংগঠিত হয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধ না করলে আরো বড় ঘটনা ঘটতে পারত।

এলাকাবাসী আরো জানান, কক্সবাজারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সময়ও এখানে কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি। বিভিন্ন ইসলামী দল ও আলেমসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কাজ করেছে। এবারের ঘটনায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশ গ্রহণ এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তারা মনে করেন, এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব বেশি থাকায় সরকারের মদদে প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে। ঘটনা পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য এবং হাজার হাজার নিরীহ লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করায় বিষয়টি আরো ষ্পষ্ট হয়েছে।

সরকার ও বিরোধীদলের বক্তব্য : গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, পুলিশের আইজিপি হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার সিরাজুল হক খানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সরকারের মন্ত্রীরা  তদন্তের আগেই বিরোধীদল, দলের নেতা ও সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু ঘটনার নাটের গুরু পবিত্র কুরআন অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোন সুস্পষ্ট কথাও উচ্চারণ করছেন না।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর এ হামলায়  নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ােভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেছেন, একটি কুচক্রিমহল এ হামলা চালিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিচার হবে। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে সাাৎকারে তিনি দু’টি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করে তাদের দায়ী করেছেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এ মন্ত্রী তদন্তের আগেই দু’টি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করলেও, কুরআন অবমানকারীর বিরুদ্ধে একটি বাক্য উচ্চারণ করেননি। সরকারের অন্য মন্ত্রীরাও তার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েই বক্তব্য রাখছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প থেকেও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন,  এ ঘটনা যারাই ঘটাক না কেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ইসলাম কখনও এ ধরনের হামলা সমর্থন করে না। যারা এ ঘটনা  ঘটিয়েছে তারা কখনো ইসলামের প্রকৃত অনুসারি হতে পারে না। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে কেউ গর্হিত কাজ করে থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই তার প্রতিবিধান হওয়া উচিত। ডা. শফিকুর রহমান ঐ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বিএনপি’র প থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পর্যবেক মহল কী বলে: স্থানীয় পর্যবেকরা বলছেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ওই যুবকের দুঃসাহস অবিশ্বাস্য, নজিরবিহীন ও পরিকল্পিত। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তার পারদ যখন দ্রুত নিচে নামছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী দল যখন তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সরকারের প্রতি জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য দেশি-বিদেশি কোনো শক্তির মদতে পবিত্র কুরআন অবমাননার মতো অকল্পনীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা  বলেন, সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশকে মৌলবাদীদের ঘাটি প্রমাণ করার জন্য কর্মসূচি নিয়েছে, মন্ত্রীদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে এটি তারই অংশ। কারণ তারা তদন্তের আগে বিরোধীদলকে দায়ী করে সরকারের দিক থেকে মুখ ফেরানো বিশ্বকে জানাতে চাচ্ছে, আগামীতে আ’লীগ সরকার গঠন করতে না পারলে দেশ মৌলবাদীতে ভরে যাবে, এটা আওয়ামী লীগের নোংরা রাজনীতিরই অংশ।

 দৈনিক ইত্তেফাক গত ১ অক্টোবর বিশেষ সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখেছে,‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলিয়াছেন যে, ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে’ এই ঘটনা সংঘটিত করিয়াছে। তাহা হইলে জনগণের অর্থে প্রতিপালিত সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করিয়াছে সেই প্রশ্ন তোলা যায়। গুরুতর প্রশ্ন তোলা যায় প্রশাসনের ভূমিকা লইয়াও। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির এই যুগে ছোট্ট একটি উপজেলায় ঘন্টার পর ঘন্টা এই ধরনের তাণ্ডব কীভাবে চলিতে পারিল এবং এতো ভয়াবহ একটি ঘটনার প্রায় ১২ ঘন্টা পর চট্টগ্রামের পটিয়ায় কীভাবে তাহার পুনরাবৃত্তি ঘটিতে পারিল তাহা আমরা বুঝিতে অম। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, রামু কোনো দুর্গম কিংবা বিচ্ছিন্ন জনপদ নহে। কক্সবাজার জেলা সদর হইতে এই উপজেলাটির  দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। সেইখানে প্রশাসন, পুলিশ সবই ছিল। সর্বোপরি, ঘটনাস্থল হইতে বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনীর অবস্থানও বেশি দূরে নহে। প্রয়োজনে তাহাদের সহায়তাও গ্রহণ করা যাইত। অতএব, ঘটনার কারণ যাহাই হউক এবং ইহার জন্য যে বা যাহারাই দায়ী হউক, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসন যে ব্যর্থ হইয়াছে তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে হইবে। পাশাপাশি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রশাসন যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়াছে তাহাও আমলে নিতে হইবে যথাযথ গুরুত্বের সাথে।’

এলাকা পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেছেন, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে যে কুচক্রি মহল ইন্ধন যুগিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তিনি বলেন, উত্তম কুমার নামধারী জনৈক ব্যক্তি কুরআন অবমাননা করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, যে যেই ধর্মই অনুসরণ করুক না কেন প্রত্যেক ধর্মের প্রতিই অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তিনি গত ২ অক্টোবর মঙ্গলবার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার উত্তর নলবিলা বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেছেন।

কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সাম্প্রতিক দুর্বৃত্তদের তান্ডবে ভয়াবহ নির্মমতার শিকার রামুর মধ্যম মেরংলোয়া বড়ুয়াপাড়া পরিদর্শন করেছেন, এ সময় এমপি কাজল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উপসনালয় ভস্মীভূত সীমা বিহারে যান এবং উপসনালয়ের পুরোহিত তদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরোর সাথে সৌজন্য সাাতে মিলিত হন। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এমপি কাজলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আগুনে পুড়িয়ে দেয়া বড়ুয়াপাড়া পরিদর্শন করেন। তিনি বড়ুয়াপাড়ার তিগ্রস্ত নারী-পুরুষের সাথে কথা বলেন এবং সম্ভব সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতটি রামু-কক্সবাজারবাসীর জন্য একটি কলংকের রাত। সেটি এতদঞ্চলের বিরল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও সকল ধর্ম-জাতির ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্ত চক্রের এই তান্ডব মেনে নেয়া যায় না। সেদিন রাতে হামলাকারী প্রকৃত দোষীদের নিহ্নিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। সেই সাথে যাকে কেন্দ্র করে এ জঘন্য ঘটনার অবতারণা হয়েছে পবিত্র কুরআন অবমাননায় জড়িত উত্তম বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এমপি কাজল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য অরুপ বড়ুয়া কালু, তপন বড়ুয়া, বিজন বড়ুয়া, তরুন বড়ুয়া, প্রজ্ঞানন্দ ভিু, শিরপ্রিয় ভিু, রামু উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল শুক্কুর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদ আবেদীন সবুজ, প্রচার সম্পাদক সরওয়ার রোমন, উপজেলা যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন মেম্বার, নুরুল আবছার মেম্বার, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাহ্ নূর উদ্দিন বাবু, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শামশুল আলম, আজিজুল আলম, বড়ুয়াপাড়ার মিথুন বড়ুয়া বোথাম, লিমন বড়ুয়া, মাইকেল বড়ুয়া, সজল বড়ুয়া, চয়ন বড়ুয়া, শাওন বড়ুয়া ও পায়েল বড়ুয়া প্রমুখ। কক্সবাজার শহর শাখার সভাপতি আবু নাঈম মোহাম্মদ হারুন ও সেক্রেটারি সরওয়ার কামাল সিকদার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ নিরীহ ছাত্রদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

চকরিয়া বৌদ্ধ সমিতি সভাপতির বিবৃতি : বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক বাবুল বড়ুয়া জানান, রামুর সহিংসতার ঘটনা একশ্রেণীর উগ্রপন্থী চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে এহেন পরিস্থিতি সংঘটিত করেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ ঘটনা নজীরবিহীন, বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। পর্যটন জেলা কক্সবাজারের চকরিয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খৃষ্টান সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় থাকার কারণে রামু সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি এখানে। শ্রমিক নেতা বাবুল বড়ুয়া, ফেসবুকে পবিত্র কুরআন অবমাননাকারী যুবকের জড়িত থাকার সত্যতা পেলে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে, বিুব্ধ জনতা কর্তৃক রামু উপজেলার কালের সাী একাধিক বৌদ্ধ বিহার ও হিন্দু মন্দিরসহ অন্তত ২০টি ধর্মীয় উপসনালয় ও শতাধিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে ভস্মিভূত করার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।

 ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্য আনোয়ারীর আহবান : গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হোয়াইক্যং বাজার থেকে একদল উশৃঙ্খল উত্তেজিত জনতা কর্তৃক পার্শ্বস্থ অমুসলিম পল্লীতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্য মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি বিবৃতিতে বলেন, হোয়াইক্যং বাজার থেকে একদল লোক মিছিল সহকারে জোয়ারিখোলা গ্রামের দিকে যেতে থাকলে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। তিনি তখন ঘটনাস্থল থেকে ৬ কি.মি. দূরে কানজরপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। একই সময় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করার জন্য মোবাইল ফোনে অনুরোধ করেন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখেন উত্তেজিত জনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন তিনি জীবন বাজি রেখে পুলিশের সাথে একত্রিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সর্বশক্তি দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেন। সমবেত বিুব্ধ জনতাকে মাইক দিয়ে বারবার শান্ত করার আহবান জানান। জনপ্রতিনিধি পুলিশ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রয়াসে অবশেষে জনতা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং তিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

গভীর রাতে নিরীহ ছাত্রদের গ্রেফতারে ছাত্রশিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননায় বিুব্ধ জনতার প্রতিবাদ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেেিত  গভীর রাতে শহরের বিভিন্নস্থানে  অভিযান চালিয়ে  নিরীহ ছাত্রদের গ্রেফতার করায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কক্সবাজার শহর শাখার সভাপতি আবু নাঈম মোহাম্মদ হারুন ও সেক্রেটারি সরওয়ার কামাল সিকদার এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের পর্যটন নগরী কক্সবাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত। এ জেলায় জনগণ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। দুঃখের বিষয় যে, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিনষ্টের বারবার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী গোষ্ঠী এখানে অনভিপ্রেত ঘটনার ইন্ধন যোগানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সরকার প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত না করে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে নিরীহ পরীার্থী ছাত্রদের গ্রেফতার করে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মের অবমাননার প্রতিবাদে শান্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিবাদ জানানো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এ অধিকার পালন করতে গিয়ে জানমাল, মন্দির, গীর্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচূরের শিবির ঘোর বিরোধী। এ সমস্ত জ্বালাও-পোড়াও পদেেপ ঐ ধর্মদ্রোহী গোষ্ঠীরাই লাভবান হবে। কারণ দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানাবার যাদের পরিকল্পনা তারাই ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। নেতৃবৃন্দ রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুসলিম ছাত্র জনতাকে ধৈর্যের সাথে শান্ত থাকার ও শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘœ না ঘটে এজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নেয়ার আহবান জানান এবং প্রশাসনকে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অুণœ রেখে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নিরীহ ছাত্রদের মুক্তির দাবি জানান।

সরকাররের উচিত বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চত করা।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com