ভারতকে করিডোর সুবিধা প্রদান শুরু
ফি বা শুল্ক নেই, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
কোনো রকম ফি বা শুল্ক ছাড়াই ভারতকে দেয়া ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রদানের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভারতের তিনটি জাহাজ ৩২২৫ টন পণ্য নিয়ে কলকাতা থেকে খুলনা হয়ে আশুগঞ্জে পৌঁছেছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে জাহাজ তিনটি সিমেন্ট তৈরির কেমিক্যাল ও কয়লা নিয়ে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে খুলনার শেখবাড়িয়া দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী এই জাহাজ তিনটি বাংলাদেশ জলসীমানায় প্রবেশ করে। চলতি বছর ভারতের সাথে বাংলাদেশের নৌ প্রটোকল চুক্তি করার পর এই প্রথম ভারতীয় পণ্যবাহী কোনো জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমানা ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশের জলসীমানা ব্যবহারের েেত্র কোনো রকম শুল্ক বা ফি নেয়া হচ্ছে না।
আর তাই কোনো রকম ফি বা শুল্ক ছাড়াই তিন হাজার ২২৫ টন ভারতীয় পণ্য নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দরে নোঙর করা তিনটি জাহাজ থেকে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম শুরু করেছে। ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ গালফ-৩ ও গালফ-৫ থেকে ৭৬০ টন কয়লা ছোট জাহাজ এমভি সাহাবি ও এমভি যেবু-৭ লোড করে গত সোমবার ভোরে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ নৌবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। জানা গেছে নদীর নাব্যতা সঙ্কটের কারণে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে জাহাজ নোঙর করে এসব পণ্য ছোট জাহাজে ট্রান্সশিপমেন্ট করে আসাম রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ভারতের প্রয়োজন। এ ধরনের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্টে ভারতের অনেক আর্থিক লাভ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে। ভারতকে এ ধরনের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রদানের ব্যাপারে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের কোনো ধরনের সমর্থন নেই। কারণ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সাথে ভারত ও ভারত সরকারের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। তার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও নেপাল, চীন ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সাথে ভারতের উপর দিয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রয়োজন। কিন্তু ভারত কখনও তা বাংলাদেশকে দেয়নি। আর বর্তমান সরকার ভারতের কাছে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট জোরালোভাবে চাচ্ছে না।
আমরা মনে করি, ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রদানের ব্যাপারে বাংলাদেশকে তার নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করা উচিত। শুধুমাত্র একটি দেশের সাথে কথিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দোহাই দিয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রদান করা যাবে না। কারণ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট যেটাই দেয়া হোক না কেন এতে করে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। বাংলাদেশ যদি আর্থিক দিক থেকে কিছু টাকা-পয়সা পায়ও তার চেয়ে ক্ষতির পরিমাণটা হবে বেশি। অবশ্য বর্তমানে যে ট্রানজিট ও টান্সশিপমেন্ট চলছে তাতে বাংলাদেশ কোনো ফি বা শুল্ক পাচ্ছে না। তাই সরকারকে ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রদানের বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা ও বিশ্লেষণ করা উচিত।
