ঢাকা শুক্রবার ২০ আশ্বিন ১৪১৯, ১৮ জিলক্বদ ১৪৩৩, ৫ অক্টোবর ২০১২

ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটে ধানের আমদানি বেশি ক্রেতা কম

শাহনেওয়াজ খান সুমন, ঝিনাইদহ থেকে : সব ধরনের কৃষিপণ্যের দরপতনে হতাশা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। বিশেষ করে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান, পাটসহ সব ধরনের কৃষিপণ্যের দাম কম থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চরম মন্দা চলছে। আউশ ধান ৪শ’ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিসহ ুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে অর্থের অভাব দেখা দিয়েছে। মরিচ, বেগুন ছাড়াও অন্যান্য সবজির পাইকারি দামও কমে গেছে।

নতুন আউশ ধান ওঠার পর প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধানের দাম আরো ৫০ টাকা কমেছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন ধানের হাটে নতুন আউশ ধান প্রতি মণ ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এ দাম সামান্য বেড়ে ৪৫০ টাকা মণে দাঁড়িয়েছে। এ দরে ধান বিক্রি করে চাষির উৎপাদন খরচ উঠছে না। লোকসান হচ্ছে বলে চাষিরা জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যশোর অঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, চলতি মওসুমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় দু’ লাখ হেক্টরে রোপা আউশ ধান চাষের ল্যমাত্রা ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষের ল্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তিনি জানান, এক লাখ ৪৭ হাজার হেক্টরে রোপা আউশ চাষ সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরাদমে আউশ ধান কাটা চলছে। অনেক স্থানে ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ প্রায় শেষ। হেক্টর প্রতি ৪ টন ফলন হচ্ছে বলে তিনি জানান। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি সাড়ে ১৩ মণ গড় ফলন হচ্ছে। এ হিসাবে প্রায় ৬ লাখ টন আউশ ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ধান চাষে বিঘাপ্রতি খরচ বাড়ছে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামের চাষি আকমল হোসেনের দেওয়া খরচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক বিঘাতে আউশ ধান চাষের ব্যয় হচ্ছে চারা তৈরি সাড়ে ৫শ টাকা, জমি চাষ ও চারা রোপণ ১৮শ’ টাকা, সার ও কীটনাশক ২২৮০ টাকা, নিরানি ৩ হাজার টাকা, কাটা ও মাড়াই ৪ হাজার টাকা ও এবার সেচ লেগেছে এক হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী বিঘাপ্রতি ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। বিঘাতে এভাবে চাষ করলে ১৫ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদন হয়।

বর্তমানে এ অঞ্চলের ধানের হাট ঝিনাইদহের তেঁতুলতলা, শৈলকূপা, হাটগোপালপুর, লাঙ্গলবাঁধ, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, বারোবাজার, কালা, ভৈরবা, খালিশপুর, ঝিনাইদহ সদর, ভাটই, হলিধানি ও ডাকবাংলা; মাগুরা জেলার শত্র“জিৎপুর, মহম্মদপুর, শালিখা, আড়পাড়া, বুনাগাতি ও শ্রীপুর; যশোর জেলার চৌগাছা, পুরাপাড়া, ঝিকরগাছা, বারিনগর, নাভারন, রূপদিয়া, কেশবপুর, মনিরামপুর, খাজুরা, নারিকেলবাড়িয়া ও বাঘারপাড়া; নড়াইল জেলার মহাজন, নড়াগাতি পুলম, লোহাগড়া, বড়দিয়া ও কালিয়া; চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা সদর, বদরগঞ্জ ও হাটবোয়ালিয়া; মেহেরপুর জেলার গাংনী, বামুনদী ও মেহেরপুর সদর; কুষ্টিয়া জেলার বিত্তিপাড়া, উজানগ্রাম, পান্টি, হরিনারায়ণপুর, মশান, ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর ও প্রাগপুর হাটে নতুন ওঠা আউশ ধান ৪শ’-৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে বলে ধানের চাতাল ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়। এতে এক বিঘার জমির ধান বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা থেকে ৭২শ’ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাষিদের বিঘাতে কম করে ৬ হাজার টাকা লোকসান হবে।

যারা নিজেরা জমিতে কাজ করে তাদের নিজেদের শ্রম লাভ থাকে বলে মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের চাষি বাবলু মিয়া জানান। তিনি জানান, বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকা মণ। শৈলকূপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামের বড় চাষি নূর আলি ও তাহের মোল্লা জানান, বড় চাষিরা নিজেরা চাষ কমিয়ে দিয়ে জমি বরগা বা লিজ দিয়ে দিচ্ছে। বোরো সংগ্রহ অভিযান চলছে। প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ১৮ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মণ ৭২০ টাকা। চাষিরা জানান, সরকারি সংগ্রহ মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে লাভ থাকে। কিন্তু তাদের সে সুযোগ নেই।

পাটের দামও কমে গেছে। যে পাট ১৪শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছিল সে পাট এখন ১২শ’ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। নতুন পাট ওঠার শুরুতে ১৪শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। এতে কৃষক খুশি হয়েছিল। এবার পাটের ফলন কম হচ্ছে। অপর দিকে চাষের খরচ বেড়েছে। এক বিঘা জমির পাট ক্ষেত থেকে কেটে এনে জাগ দিতে ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পুকুর ভাড়া ৫শ’ টাকা। ধুতে কামলারা নিচ্ছে ২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলন কম হওয়াতে পাট চাষেও চাষির লাভ হচ্ছে না বলে বিজুলিয়া গ্রামের চাষি তবারক হোসেন ও বাচ্চু মোল্লা জানান। মেহেরপুর জেলায় পাট বিক্রি হচ্ছে ৯শ’ টাকা থেকে ১১শ’ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ উঠবে না।

মরিচ ও বেগুন ছাড়া অন্যান্য সবজির পাইকারি দাম কমে গেছে। ঝিঙ্গা পাইকারি প্রতি কেজি ৬ - ৮ টাকা, পটল ১০- ১২ টাকা, করলা ১০-১২ টাকা ও বেগুন ১৫ -১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম কমে যাওয়ায় চাষির লাভ থাকছে না। তাদের বিকল্প কোনো পেশা না থাকায় লোকসান হলেও চাষ করতে হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকরা তুলনামূলক ভালো আছে। দৈনিক মজুরি ৪শ’ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে ৩ বার খোরাকিসহ দৈনিক মজুরি ২২০ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com