ঢাকা শুক্রবার ২৭ আশ্বিন ১৪১৯, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৩, ১২ অক্টোবর ২০১২

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত॥
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এদেশে আবহমান কাল ধরে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা পাশাপাশি বসবাস করছে। এক সম্প্রদায়ের দুঃখে কষ্টে আরেক সম্প্রদায়ের মানুষ দরদী মন নিয়ে পাশে দাঁড়ায়, মাথায় সান্তনার হাত বোলায়। ধর্মপ্রাণরা স্বধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান এবং অন্যের ধর্মীয় অধিকারের ব্যাপারেও সমান সচেতন। তারপরও বিছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের  দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলা হয়‘, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এর জন্য দায়ী।’ কিন্তু বাস্তবতা বলে, ভিন্ন কথা। এদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণ ধর্মীয় মৌলবাদ নয়, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির উচ্চবিলাসী ক্ষমতালিন্সা ও স্বার্থ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার ঘটনার পিছনেও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই দায়ী, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র উল্লেখ করে বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন এ কথাই বলছে। যেমন ‘ঘটনার রাতে (২৯ সেপ্টেম্বর) ওসি তাঁকে ফোন করে দ্রুত আসতে বললে তিনি আসেন। তিনি এসে দেখেন, রামু বাজারের মোড়ে ফারুকের দোকানে অনেকে জড়ো হয়ে ফেসবুকের ছবি দেখছেন। তিনি দোকানে ঢুকে দেখতে পান, উত্তম কুমার বড়ুয়া নামের এক তরুণের ফেসবুক থেকে পবিত্র কুরআন শরিফ অবমাননার একটি ছবি তাঁর ২৬ জন বন্ধুর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি কম্পিউটারটি জব্দ করে থানায় আনেন। এরপর উত্তমকে গ্রেফতার করতে তাঁর বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, উত্তমের মা ও তাঁর বোন ছাড়া বাসায় কেউ নেই। তিনি তাঁদের আটক করে থানায় আনেন। রামু মোড়ে এসে দেখতে পান, সেখানে সমাবেশ হচ্ছে। এতে রামু নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নূরুল ইসলাম ওরফে সেলিম ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা আনসারুল হকসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। ওসিও বক্তব্য দেন। এক ঘণ্টা পর সমাবেশটি শেষ হয়। এলাকায় তখন উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু ওসি একেবারে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। কিছুণ পর ওসি শ্রীকুলের লালচিং মন্দিরে পাহারার জন্য যেতে বললে তিনি তিন সহকর্মী নিয়ে সেখানে যান। ওই মন্দিরে হামলার চেষ্টা করা হলে তিনি ওসির কাছে অতিরিক্ত লোক চান। বারবার ফোন করলেও ওসি সাড়া দেননি। একপর্যায়ে তিনি ওসির ফোন বন্ধ পান। ফলে তিনজনকে নিয়ে মন্দিরের সামনে তিনি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের সামনেই মন্দিরটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।’ (সূত্র: প্রথম আলো ৭ অক্টোবর ২০১২)। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্ষমতাসীন দলের ইঙ্গিতেই নিস্ক্রিয় ছিলেন এমনটাই মনে করছেন, পর্যবেক্ষকমহল।

ধর্মনিরপেক্ষতার নামাবলি পড়া আওয়ামী লীগের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। স্বাধীনতার পর হতেই তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মাবলন্বলী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপজাতি, ক্ষুদ্র ভাষাভাষী বিহারিরা। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমর বলেন,‘১৯৭২ সাল থেকেই সরকারি মতায় অধিষ্ঠিত লোকরা, তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ব্যাপকভাবে হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছিল। সরকার পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল না করে অর্পিত সম্পত্তি আইন নাম দিয়ে তাকে বহাল রেখে এই লুটপাটের পথ প্রশস্ত করেছিল। এটা দীর্ঘদিন ধরে জারি ছিল, এখনও আছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘আসলে বাংলাদেশে প্রথম থেকেই যে শ্রেণীটি মতায় অধিষ্ঠিত আছে তারা হলো প্রধানত লুণ্ঠনজীবী। নিজেরা উৎপাদন না করে বিদ্যমান ধনসম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে এরা যেভাবে নিজেদের সম্পদ গড়ে তুলেছে, সেই প্রক্রিয়া এ দেশে এখনও শক্তিশালীভাবে জারি আছে। এ লুণ্ঠনের অনেক রূপের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ভূমিদস্যুতা। ১৯৭১-এর ঠিক পরবর্তী সময়ের সঙ্গে এ দস্যুতার পার্থক্য এই যে, আগেকার মতো হিন্দু সম্পত্তি এর ল্যবস্তু নয়। হিন্দু এবং উর্দুভাষী অবাঙালিদের যাবতীয় লুণ্ঠনযোগ্য ভূমি দখল করার পর তাদের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমি আর নেই, যা ব্যাপকভাবে দখল করা যায়। কাজেই এখন ভূমিদস্যুদের দৃষ্টি অন্যদিকে। এখন তাদের লুণ্ঠন ও দস্যুতার মূল ল্যবস্তু হলো সরকারি জমি, নদী, লেক, খালসহ সব ধরনের জলাশয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূসম্পত্তি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, হিন্দুরাই আওয়ামী লীগের রাকবচ। অথচ তারাই হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পদের শতকরা ৯৫ ভাগ এখন দখল করে আছেন।

জাতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ২০১১ মার্চে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮১৩ ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এ নির্যাতনের কারণে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৬৬ জন এবং ৫১টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। ১২ জনের জমি দখল করা হয়েছে, ৪ জনের ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় মতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে, ২০০৯ সালে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনে ৫৬৯ জন এবং ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ৬১ জন আহত হয়েছে। চলতি বছরের ৯ মাসেও নির্যাতনের শতাধিক ঘটনা ঘটেছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মতায় এসেও বিপুলসংখ্যক হিন্দু পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও চলছে নির্যাতন-নিপীড়ন। এসবের মূল উদ্দেশ্য তাদের ভিটেমাটি ও জমিজমা দখলে নেয়া। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এদের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নৌকা প্রতীকের ভোটার। এ কারণে মারলে-কাটলেও তারা কোনো প্রতিউত্তর করতে পারেন না।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা সিআর দত্ত বীরউত্তম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এ কথা সত্য। তবে তারা কেউ ব্যক্তিগতভাবে কাছে গিয়ে প্রতিকার চায়নি। তিনি এর আগেও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি নির্যাতনের বেশ কিছু খবর জেনেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের তারা বিষয়গুলো জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি বলেন, সবার বোঝা উচিত সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের ওপর যে হামলা-নির্যাতন হচ্ছে তা দেশের মানুষ পছন্দ করে না। এগুলো যারাই করুক তারা পার পাবে না। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থরার্থে দেশের গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান সিআর দত্ত।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, বর্তমান সরকার মতায় আসার কিছুদিন পর থেকে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, ভিটেমাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ, মন্দির দখল, সমাধি দখল, মন্দিরে তাদের যেতে বাধা, মারধর ও খুনের ঘটনা ল্য করা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সংখ্যালঘু নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেক েেত্র আমরা দেখেছি, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা বর্তমান সরকারি দলের পরিচয় দিচ্ছে। পিরোজপুর, নাটোর, সীতাকুণ্ড ও গফরগাঁওয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও প্রত্যভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা কয়েক দফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাাৎ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পরিচয়দানকারীদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরিষদের নেতারা বলেছিলেন, দুষ্কৃতকারীরা সরকারি দলের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। ফলে তারা একের পর এক অপরাধ করলেও দলের লোক বলে থানা পুলিশও মামলা নিতে চায় না। ওই সময় আশরাফুল ইসলাম তাদের বলেছেন, তিনিও বিষয়টি কমবেশি জানেন। সরকারি দলবদল না হলে দিনবদল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। পরিষদের প থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদলে প্রধানমন্ত্রীর অধীন একটি সেল ও প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলে একটি সংখ্যালঘু সেল করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাব ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। রানা দাসগুপ্ত আরও বলেন, গত ২৮ আগস্ট জন্মাষ্টমী উপলে পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারি দলের পরিচয়দানকারীদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি তাকে অবগত করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে তার অধীনে একটি সংখ্যালঘু সেল গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ২০১০ সালের কয়েকটি চিত্র তুলে ধরা হলো:

গত ১৯ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের নাজিরপুরে রুহিতলাবুনিয়া গ্রামে মন্দিরের জমি দখল করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মাঝি ও অপর আওয়ামী লীগ নেতা মনোরঞ্জন গোলদার গ্রুপের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় ২৫ জন। মনোরঞ্জনের দাবি, ৪০ বছর ধরে শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দিরের কমিটির নিয়ন্ত্রিত জমিটি দখলের জন্য আলাউদ্দিন মাঝির লোকজন হামলা করে প্রতিমাসহ মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

গত ১১ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুর ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হাজী ইসলাম ও সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক দলীয় লোক দণি মৈশুণ্ডির ২২২, লালমোহন সাহা স্ট্রিটে শ্রী শ্রী রাধাকান্ত ঠাকুরাণী লক্ষ্মী জনার্ধনচক্র বিওবিগ্রহ মন্দিরে হামলা করে। তাদের হামলায় ৩৫টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ওই হামলার পর এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৩৫টি হিন্দু পরিবার।

গত ১২ জুলাই নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার নাকইলে ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর এক পল্ল  ীতে আওয়ামী লীগ কর্মী শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু জমি দখলের জন্য হামলা চালায়। এ সময় ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। হামলাকারীরা সংখ্যালঘু নারী-পুরুষদের মারধর করে।

গত ২৫ মে রাজশাহীর চারঘাটে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আজহার উদ্দিন তার দলবল নিয়ে অনিলচন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা অনিলচন্দ্র, তার স্ত্রী বাসন্তী রানী, ছেলে শ্যামলচন্দ্র মণ্ডল, তার ভাই অভিচরণ মণ্ডল, অভিচরণ মণ্ডলের স্ত্রী শান্তা রানীকে কুপিয়ে জখম করে।

১৭ মে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের সিঙ্গরপুর পানপুঞ্জিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সমাধি দখল করে ক্রুস গুঁড়িয়ে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মতিন ও তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা প্রয়াত এক মন্ত্রীর সমাধি গুঁড়িয়ে দেয় এবং আরও ১০টি সমাধির ক্রুস গুঁড়িয়ে দিয়ে সমাধি দখল করে নেয়।

গত ১৪ মে সাতীরার কালীগঞ্জের উজয়মারিতে ২২টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে নেন আওয়ামী লীগের এক কর্মী। ওই জমিতে ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। দখলে বাধা দেয়ায় রমেশ মণ্ডলসহ তিনজন আহত হন।

গত ২০ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে সালাউদ্দিন, সালাম, মোস্তফা, সাজু, সাজ্জাদ, পিন্টুর নেতৃত্বে একটি দল জমি দখল করতে গেলে বাধা দেয়ায় অজিত করাতি ওরফে খিরমহনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিল ১০ জন হিন্দু।

৫ মার্চ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে হিন্দু তিন পরিবারের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রেজাউলসহ কয়েকজন স্থানীয় হিন্দু নবকুমারের ছেলে প্রদীপকুমারকে রামদা দিয়ে কোপায়। বাবা ও ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে আবদুর রাজ্জাকের বাড়িসংলগ্ন একটি শিমুল গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে গলায় রামদা ধরে তাদের কাছ থেকে মামলা তুলে নিতে কাগজে সইও নেয়া হয়। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দণি সোনাখালীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ছায়েদের লোকজন ১ এপ্রিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী শঙ্করের বাড়িতে হামলা করে তার ভাই সুভাষকে জখম করে। ছায়েদের এক ছেলে এএসপি ও ছোট ছেলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে হিন্দুরা প্রশাসনের তেমন কোনো সমর্থন পায়নি। এর কয়েকদিন পরই হিন্দু ব্যবসায়ী বলরাম বেপারির দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। বলরামের একটি বলদ গরু ধরে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। একই এলাকার অনিলচন্দ্র হালদারের ছেলে শ্যামলচন্দ্র হালদার ও সুধীর রঞ্জন হালদারের ছেলে সুশান্ত হালদারের প্রায় ২৫ বিঘা জমি দখলের চেষ্টায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপ বেশ কয়েক দফা ওই বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমড়াগাছিয়া ইউপি মেম্বার বিকাশকেও নির্বাচনে প্রার্থী না হতে হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেেিত গত ১৯ এপ্রিল ওই এলাকার তিন শতাধিক হিন্দু গণস্বার দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব ঘটনার প্রতিকার চায়। এসব ঘটনার জন্য তারা স্থানীয় এমপিকে দায়ী করে।

গত ৫ এপ্রিল সীতাকুণ্ডে সংখ্যালঘুদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, নির্যাতন ও হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করায় সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ ও কল্যাণ কমিটির সভাপতি আমিরাবাদ মায়াকুঞ্জের বাসিন্দা অমরেন্দ্র মল্লিককে পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। অমরেন্দ্রের বাড়িতে হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ও তাকে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের প্রকাশ্যে পেটাতে পেটাতে পৌর ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভবনের একটি কে আটকে রেখে পৌর মেয়র শফির নেতৃত্বে বাবা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন অমরেন্দ্র। ওই সময় অমরেন্দ্রের বিবাহিত মেয়ে বাবা ও ভাইয়ের খোঁজে কাঁদতে কাঁদতে পৌর ভবনে এলে তাকে পাশের একটি কে নিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। একই দিন বাবা-ছেলের নামে চুরি ও মারধরের মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। এসব ঘটনার পর সীতাকুণ্ডের স্থানীয় এমপি আবুল কাশেম মাস্টারের ভাগ্নের হাতে শতাধিক সংখ্যালঘু জেলে পরিবার অবরুদ্ধ হওয়ার প্রতিকার চাইতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে অমরেন্দ্র লেখেন, চট্টগ্রামে নৌকার কাণ্ডারী ও মাঝিমাল্লা কর্তৃক হামলা-মামলা, নির্যাতন ও বাপ-দাদার ভিটেভূমি, সহায়-সম্পত্তি জবরদখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।’ অমরেন্দ্র আমার দেশ কার্যালয়ে এসে তার ওপর নির্যাতনের করুণ কাহিনীর বর্ণনা দেন।

গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি সঞ্জীব দ্রং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে ২২ জানুয়ারি তার ওপর হামলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যক্রমে তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন।

গত বছর ২২ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ার তাজপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ও খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে রাজবিহারী ঘোষ নামের এক বৃদ্ধ দগ্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঐক্য পরিষদের নেতা এডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসে।

একই বছরের ২০ ডিসেম্বর সাতীরার দেবহাটার ঢেবুখালিতে ৩০০ বিঘার একটি ঘের দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় একটি বাহিনী।

গত বছরের ২৫ জুলাই নরসিংদীর পলাশের চরসিন্দুর গ্রামে শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের চারটি বাড়িঘর ও মূর্তি ভাঙচুর এবং তাদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়।

১১ জুলাই ঢাকার দোহারের নারিশা পূর্বচর গ্রামে সংখ্যালঘু নৃপেন মালাকারের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তা দখল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

২২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সিকদার বাড়িসহ চার সংখ্যালঘু পরিবারের পানের বরজ ও খড়ের গাদা পুড়িয়ে দেয়া হয়।

গত বছরের ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দেয়া একদল সন্ত্রাসী বন্দুক উঁচিয়ে কাফরুল থানার পুলিশের সামনেই ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী রীতা গমেজের বাড়ির একাংশ দখল করে নেয়। রীতার পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে তা নেয়া হয়নি। রীতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনিও আওয়ামী লীগের কর্মী। গত নির্বাচনে নৌকার পে কাজ করেছেন। অথচ এখন আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকজন পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ করছে। রীতা অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে এবং হুমকি দিয়ে বলে তারা রীতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেই ছাড়বেন। ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দলের লোকজনকে নিবৃত্ত না করে উল্টো বলেন, বাংলাদেশে জমিজিরাত দখলের ঘটনা ঘটছে, এগুলো স্বাভাবিক অপরাধ। এগুলোকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে কেন? আপনারা তো বিএনপি-জামায়াত সরকারের তুলনায় অনেক ভালো রয়েছেন। আর কী চান? ওই ঘটনার পরিপ্রেেিত গত বছরের ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুনের উদাসীনতার অভিযোগ আনা হয় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একদল দুষ্কৃতকারী গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বালাশুর গ্রামে নাগমন্দিরে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় মন্দিরের সেবায়েতসহ ৮ জন আহত হন। শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ বেপারির নেতৃত্বে দুষ্কৃতকারীরা এ হামলা চালায়।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের রাজৈরের খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সাতপাড় গ্রামে রামমোহন মণ্ডলের পূজামণ্ডপে পুলিশ এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে। পূজারীরা এর প্রতিবাদ করায় মধ্যরাতে এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা প্রতিমা ভাঙচুর করে।

গত বছরের ২২ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুরের ৯৫, ঋষিকেশ দাস লেনে আওয়ামী লীগ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখল করতে গিয়ে ওই পরিবারের ৯ জনকে মারধর, লুটপাট ও পরে তাদের অপহরণ করে। এর আগে তাদের বাড়িটি বিক্রি করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের ১২ জুন নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার ছাওর ইউনিয়নে বসবাসরত ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। হামলায় ২৫ জন আহত হয়। নূর হোসেন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা জাল দলিল করে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর নেতা নরেন্দ্রনাথ মুর্মু।

গত বছরের ১৪ জুন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের বরাইতলি গ্রামে ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ৩০০ একর জমি স্থানীয় দুর্বৃত্তরা দখল করার চেষ্টার সময় ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে ১৪ ব্যক্তি আহত হন।

২০০৯ সালের মে মাসে সাতীরার আবাদের হাটের ঘোষাল পরিবারের ৩৮ বিঘা জমি দখল করে নেয় স্থানীয় যুবলীগের এক ক্যাডার ও তার সহযোগীরা। পরে গ্রামের পাঁচ শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই জমি থেকে দখলবাজদের হটিয়ে দেয়।

সাতীরার কালীগঞ্জে গোবিন্দকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগের এক নেতা দণি শ্রীপুর ইউপির সাবেক মেম্বার স্মৃতি সরকারকে তার জমি থেকে হটিয়ে দিয়েছেন।

গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর সদর উপজেলার পাড়বড়ইল গ্রামের ১১৩টি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করে জোতদারকে জমি দখল করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ওইসব পরিবারের ঘরবাড়ি।

২০০৯ সালের ৩১ মার্চ সাতীরা দেবহাটার কালাবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের মালিকানাধীন ৩০০ বিঘার ঘের দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। ১৯৭৯ সালে সুভাষ ঘোষের বাবা ওই জমি সরকারের কাছ থেকে নিলামে কেনেন। দখলে বাধা দিলে তার স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

১৫ মার্চ সাতীরা সদর উপজেলার যুগিপোতা গ্রামের রবিন মণ্ডলের ১২ বিঘা জমির চিংড়িঘের দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ আশ্রিত তিন সন্ত্রাসী। এতে বাধা দেয়ায় রবিন মণ্ডলকে তারা মারধর করে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সহযোগিতায় এ ঘটনায় উল্টো রবিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সাতীরা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়।

গত বছরের ২৭ মার্চ ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ বাজারে যুবলীগ ক্যাডার সুমনের নেতৃত্বে বেলাল হোসেন অপেল, মহিউদ্দিন নূরন নবী, অনিক বিশ্বাস, দেলু, মো. ইসমাইল, নিজাম উদ্দিন, মো. আজাদ ও আবদুর রহিম সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘু হীরা বণিকের ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।

গত বছর ২৮ মার্চ জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের পণ্ডিতপুরের হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত সরকারপাড়ার বিমলচন্দ্র সরকারের বাড়িতে সরকারি দল আশ্রিত সন্ত্রাসীরা অগ্নিসংযোগ করলে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং আরও তিনটি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়।

গত বছর ৩০ মার্চ রাজধানীর সূত্রাপুরে ৫০ বছরের পুরনো একটি মন্দির ভেঙে ফেলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। ৩২ কাঠা সম্পত্তি রয়েছে এই মন্দিরের। ওই সম্পত্তিতে হিন্দু-মুসলমান মিলে মোট ৬৮টি পরিবার বসবাস করে। আওয়ামী লীগ সমর্থক সালেহ এবং তার দুই ছেলে দিপু ও আসাদ ১৩টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে নেয়। ওই সময় শিব, কালী ও সরস্বতীর প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়।

একই তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকার উত্তর পৈরতলা দারিয়াপুরে শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুসলিম মিয়া এবং তার পরিবারের হামলার শিকার হয় জেলে পরিবারসহ কয়েকশ’ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক বাঙালিদের সঙ্গে ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে খাগড়াছড়ি পৌরসভার এক কর্মচারী নিহত হন। এ সময় ৬৬টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার গঙ্গারাম ও বেতছড়ি গ্রামে ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রায় ২০০ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।

২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংখ্যালঘুরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

২০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে অজিত করাতি ওরফে ীরমোহনকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় চারটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয়। অজিত করাতিকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ ক্যামেরায় ধারণ করায় পুলিশ সাংবাদিকদের লাঞ্ছিতও করে।

গত বছর ২২ ডিসেম্বর রাতে সিংড়ার তাজপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ও খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে রাজবিহারী ঘোষ নামে একজন বৃদ্ধ দগ্ধ হন। দুই দিন পর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, আমি ওই গ্রামে তদন্ত করতে যাই। পরে দেখি ৯০ একর জমি নিয়েই এ বিরোধের সূত্রপাত। পরিস্থিতি অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরই স্থানীয় সংখ্যালঘুরা দায়ী করেছেন।

গত বছরের ২৫ জুলাই নরসিংদীর পলাশের চরসিন্দুর গ্রামে শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের চারটি বাড়িঘর ও মূর্তি ভাঙচুর এবং তাদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়।

১১ জুলাই দোহারের নারিশা পূর্বচর গ্রামে সংখ্যালঘু নৃপেন মালাকারের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করা হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সিকদার বাড়িসহ চার সংখ্যালঘু পরিবারের পানের বরজ ও খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। মহাজোট সরকার মতাসীন হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় বিদেশ ফেরত এক ছাত্রলীগ নেতা পুরনো সাতীরায় দেবেন্দ্র চ্যাটার্জির মালিকানাধীন জমি দখল করে নেয়।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের আইনসঙ্গত অধিকার সংরণ এবং তাদের ভূমি অধিকার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। (চলবে)

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com