জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে গত ৮ অক্টোবর সোমবার ঢাকা মহানগরী যাত্রাবাড়ী থানা জামায়াতের উদ্যোগে বিােভ মিছিল বের করা হয় : সোনার বাংলা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, সরকার নিজেদের মতাকে চিরস্থায়ী করার হীন মানসিকতায় ও বিরোধী দল নির্মূলের অংশ হিসেবেই কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের আটক করে নিজেরাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে। কিন্তু সরকারের এই বিরোধী দল নির্মূলের ষড়যন্ত্র ও জুলুম-নির্যাতন আর মেনে নেয়া হবে না। তিনি জুলুম-নির্যাতন বন্ধ ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় বীর জনতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি গত ৮ অক্টোবর সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানা আয়োজিত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে বিােভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ কথা বলেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর মাহমুদ হোসাইন, সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ তাজ উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম আকন্দ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, জামায়াত নেতা নাজির আহমেদ ভূঁইয়া, খন্দকার আবু ফতেহ, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দেিণর সভাপতি শাহীন আহমদ খান ও সেক্রেটারি মাঈন উদ্দীন প্রমুখ।
মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকার যে কথিত বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চায় তার প্রমাণ মেলে কথিত বিচারে ডিফেন্স পকে পর্যাপ্ত সময় না দেয়া। কিন্তু ডিফেন্স প আত্মপ সমর্থনের পর্যাপ্ত সময় না পেলে ন্যায়বিচার বিঘিœত হবে। প্রসিকিউশন সাবেক আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১১৬ জন সাীর তালিকা জমা দিলেও কথিত বিচারের নামে প্রহসন অতি দ্রুতসম্পন্ন করার জন্যই তা কমিয়ে মাত্র ১৬ জনে আনা হয়েছে। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে সাী হাজির করতে নয় মাস পেলেও মাত্র এক মাস পরেই ডিফেন্স পরে সাফাই সাী বন্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিফেন্স পরে প্রধান কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, মাওলানা সাঈদীর েেত্র অবিচার করা হচ্ছে এবং আমরা সুবিচার পাচ্ছি না। এতে যথার্থভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকার কথিত বিচার নিরপে বা বিধি সম্মতভাবে করতে চায় না। তারা বিচারের নামে প্রহসন করে জনপ্রিয় জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হনন করতে চায়। কিন্তু সরকারকে সে ষড়যন্ত্র কখনোই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারি দলের শীর্ষ নেতা ও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়েই ইতিহাসের সর্ববৃহত ব্যাংক কেলেঙ্কারি হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এত বড় অর্থ কেলেঙ্কারির পরও ব্যাংক কর্তৃপ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। কিন্তু মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে ঘটনার গভীরে না গিয়ে দুদক চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জনগণের আইওয়াশ করতে চায়। হলমার্কের এমডি তানভীরকে গ্রেফতার করা হলেও ঘটনার রথী-মহারথীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই বিশ্বচোর খেতাব পেয়েছে। তাই এই বিশ্বচোরদের হাত থেকে দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে দুর্বার গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকার পতনের গণআন্দোলনকে সফল করার জন্য জামায়াত-শিবিরের সকল স্তরের নেতা-কর্মীসহ সকল স্তরের জনগণকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনে নিজেদের লজ্জাডুবি আঁচ করতে পেরেই জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। তারা দলীয় সরকারের অধীনে পাতানো, ষড়যন্ত্র ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো মতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে।
কিন্তু দেশের মানুষ সরকারের সে স্বপ্নবিলাস কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের গণদাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী সরকারকে রাজপথেই মোকাবেলা করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
