২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের উপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার কয়েকটি চিত্র
চার বছরে ২৩ ছাত্র খুন, ৬৪ বার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ
॥ ফারুক আহমাদ॥
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ‘শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি’ স্লোগান থাকলেও বাস্তবে ছাত্রলীগ হাঁটছে উল্টো পথে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে গত ৪ বছরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে ৬৪ বারের অধিক, আর হল ছাড়া হয়েছে ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও প্রতিপক্ষ নেতাকর্মী। অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন পড়েছে হুমকির মুখে। ছাত্রলীগের স্লোগান ‘শিক্ষা’র স্থলে তাদের হাতে উঠে এসেছে রাইফেল, বন্দুকসহ নানা আগ্নেয়াস্ত্র, ‘শান্তি’র স্থলে উপহার দিচ্ছে সন্ত্রাস আর সংঘর্ষ। ‘প্রগতি’র স্থলে পদে পদে সৃষ্টি করছে প্রতিবন্ধকতা। বর্তমান আওয়ামী সরকারের পৌনে চার বছরে ছাত্রলীগ ৯ ছাত্রশিবির কর্মীসহ ২৩ জন শিক্ষার্থীকে খুন করেছে। এই ৪৬ মাসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ শতাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের সাথে সংঘর্ষ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে মাদকদ্রব্য বিক্রিসহ নানা ধরনের অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। সাবেক ছাত্রনেতাদের মতে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফলে ছাত্র রাজনীতির উপর সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ সালের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ৪১ বছরে এমন কোনো হীন কাজ নেই যা ছাত্রলীগ করেনি। তাদের কারণে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাস করতে পারছে না। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সংগঠনটিকে আরো অধিক অপরাধ করার সুযোগ করে দেন। তাই ছাত্রলীগ এখন লাগামহীন দুষ্টঘোড়ায় পরিণত হয়েছে।
ছাত্রলীগের হাতে ২৩ খুন : বর্তমান সরকারের প্রায় চার বছরে দেশের বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানের ২৩ জন মেধাবী ছাত্রকে খুন করেছে ছাত্রলীগ, তার মধ্যে ৯ জনই ছাত্রশিবির নেতা-কর্মী। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানীকে হত্যার মধ্যে দিয়ে ছাত্রলীগ খুনের কার্যক্রম শুরু করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৮ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষে দুই শিবিরকর্মী প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদ এবং ইংরেজি শেষ বর্ষের ছাত্র মাসুদকে খুন করে ছাত্রলীগ। এছাড়া ২০১০ সালের ১১ ফেব্র“য়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের মহিউদ্দিন, ২০১০ সালের ২৮ মার্চ মার্কেটিং বিভাগের হারুন অর রশিদ কায়সার, ১৫ এপ্রিল হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আসাদুজ্জামানকে খুন করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সবচেয়ে বেশি ছাত্রকে খুন করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এবং ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে বর্তমান সরকারের মেয়াদে নিহত হয়েছেন ৩ জন ছাত্র। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের পৈশাচিকতায় নিহত হন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী। ২০১০ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী (ছাত্রলীগের দাবি) ফারুক হোসেন। ১৫ আগস্ট নাসিম এবং ১৬ জুলাই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালের ২ ফেব্র“য়ারি ছাত্রলীগ-পুলিশের সংঘর্ষে নির্মমভাবে খুন হন নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র আবু বকর। ৮ জানুয়ারি নিহত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে রাজীব, ২০১০ সালের ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী পলাশ, ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রদল নেতা চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমান। ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি রেজানুল ইসলাম চৌধুরী, ২১ জানুয়ারি পাবনা টেক্সটাইল কলেজের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মোস্তফা কামাল শান্ত, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ নিহত হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাইসুল ইসলাম রাহিদ। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১২ মার্চে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল আজিজ খান সজীবকে খুন করে ছাত্রলীগ।
শিা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ : মহাজোট সরকারের পৌনে চার বছরে সারাদেশে ছাত্রলীগ এবং প্রতিপ সংগঠনের মধ্যে অন্তত ৫শতাধিক ছোট-বড় সংঘর্ষ করেছে ছাত্রলীগ। এসব সংঘর্ষের অধিকাংশই হয়েছে শিা প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে বড় ধরনের রক্তয়ী সংঘর্ষ শতাধিক। এসব সংঘর্ষ ও হামলা হয়েছে আধিপত্য বিস্তার, অন্তর্কোন্দল, দলে পদ না পাওয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হল ও রুম দখল, খাবার লুট এবং প্রেম ও ধর্ষণকে কেন্দ্র করে। এতে ছাত্রলীগ, সাংবাদিক, পুলিশ, সাধারণ ছাত্র, অভিভাবকসহ সাড়ে ৩ হাজার লোক আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। খুন করেছে নিজ সংগঠনের বেশ ক’জন নেতাকর্মীকেও। এছাড়া ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রতিপ ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, বাম ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ছোট-বড় ২০০টি সংঘর্ষ ও হামলা করেছে। সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলছাড়া করা হয়েছে। গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়েছে ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী ছাত্রসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে। গত ৯ অক্টোবর ছাত্রলীগ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আন্দোলনে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আহত করেছে।
শিাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ: ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ এবং ছাত্রলীগ-প্রতিপরে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬০টি উচ্চশিা প্রতিষ্ঠান অনির্ধারিতভাবে বন্ধ হয়েছে। বড় আকারের সংঘর্ষ হয়েছে এমন শিাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ,জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা প্রকৌশল, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল (বুয়েট), শেরে-ই-বাংলা কৃষি, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রাজশাহী প্রকৌশল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষ হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক কলেজ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, খুলনা বিএল কলেজ, মেহেরপুর কলেজ, সিলেট এমএম কলেজ, সিলেট এমসি কলেজ, বরিশাল বিএম কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ, সিলেট মেডিকেল কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ ও সিলেট পলিটেকনিক কলেজ। তাছাড়া বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত হয় ১৮৭টি সংঘর্ষ। তার মধ্যে বিভিন্ন থানা-জেলা শাখায় হয় ৪৮টি। আহত হয়েছে ৩ হাজার ১৪৫ জন। পুলিশ, সাংবাদিক, কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ, ছাত্রীর অভিভাবক বাদি হয়ে ও নিজেরা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের নামে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে ৫৪২ জনের বিরুদ্ধে, যার মধ্যে ৪৯৫ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন এলাকাবাসীর ওপর হামলা হয় ৫৬টি।
শিক ও সাংবাদিক নির্যাতন: আওয়ামী সরকারের পৌনে চার বছরে বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের হাতে অন্তত ৮০ জন শিক লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছাত্রলীগের হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলে অন্তত ২০ শিক লাঞ্ছিত ও হামলার শিকার হয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার হয়ে বেশ কয়েকটি হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করতে পর্যন্ত বাধ্য হন। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকদেরও লাঞ্ছিত করে চলেছে। মতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আড়াই বছরের মধ্যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত শিা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিককে মারপিট ও লাঞ্ছিত করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিককে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। ২৩ নভেম্বর ইউনিফর্ম ছাড়া এক শিার্থীকে পরীার হলে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় নোয়াখালী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জুলফিকার হায়দারকে ছাত্রলীগ নেতা সোহরাব ইকবাল লাঞ্ছিত করে। গত বছরের ২২ জানুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতাদের আবাসিক মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হাতে তিন শিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। শিকরা হলেন প্রাধ্য আজিজুর রহমান, হলের আবাসিক শিক মাহবুব কায়সার ও অধ্যাপক আশফাক হোসেন। ২২ মার্চ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যসহ তিনজন শিককে লাঞ্ছিত করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। এর আগে ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডাররা লাঞ্ছিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিককে। একই বছরের ১০ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাসে হামলা চালিয়ে এক শিকিাকে লাঞ্ছিত ও ১০ ছাত্রীকে আহত করে ছাত্রলীগ। ১১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের দুই শিককে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাদের হামলায় অন্তত দেড় শতাধিক সাংবাদিককে আহত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
অবৈধ ব্যবসায় জড়িত ছাত্রলীগ: ২০১০ সালের ১৩ মার্চে রাজধানীর সরকারি ইডেন কলেজে দেহব্যবসার ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে দু’পরে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ ১০ জন আহত হয়েছিল। ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মী ছাড়াও সাধারণ ছাত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা করানো হতো। এমনকি দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের জোরপূর্বক ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের বাসায় নেয়া ছাড়াও রাজধানীর কাকরাইল, গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, মালিবাগ, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, মিরপুরের আবাসিক হোটেলগুলোতে সংগঠনের জুনিয়র কর্মী ছাড়াও প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীদের বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হতো। শুধু ইডেন কলেজ নয় বরং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা এসব অপকর্ম করে চলেছে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর বক্তব্য : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো.দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছাত্র সংঘাতে পরিণত হয়ে পড়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীদের ঢুকতে দিচ্ছে না। তাদের কারণে অনেক ছাত্র পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারছে না। এ পর্যন্ত শিবিরের ৯ জন নেতাকর্মীকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। এসবের একটিরও বিচার করেনি আওয়ামী সরকার।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। চলতি সরকারের আমলে এমন কোনো হীন কাজ নেই যা তারা করেনি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হত্যা, হল দখল থেকে শুরু করে অবৈধ ব্যবসার সাথেও তারা জড়িত। এদের কোনো অন্যায়েরই বিচার করেনি সরকার। ফলে তাদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈ কমছে না। দেশটাকে তারা অপরাধের সাম্রাজ্যে পরিণত করে ফেলেছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান বলেন, বর্তমানে ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। এরা পরস্পরের সাথে সহযোগিতা বা সহাবস্থানের চেয়ে সংঘর্ষের মাঝেই তাদের মনোযোগ বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। দেশের সাধারণ মানুষ এক সময় ছাত্র রাজনীতিকে অনেক মূল্যায়ন করত। কিন্তু বর্তমানে এদের যে আন্দোলনে অধঃপতন হয়েছে তাতে মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, সংঘর্ষ চালায় এমন ছাত্রদের আমার দরকার নেই। এরা দেশটাকে ডুবাবে। এদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক্সফেল করতে হবে।
এ পাতার অন্যান্য খবর
- বিপর্যয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে সোমালিয়া
- বৌদ্ধপল্লীতে হামলার ঘটনায় তদন্তের আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে থলের বিড়াল বেড়িয়ে গেছে
- ডিফেন্স টিমের আইনজীবীদের অফিসে পুলিশের হানার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডা. শফিক
- সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আটকে রেখেছে : শিবির সভাপতি
- আকিয়াবে মসজিদ ও কুরআন শরীফ জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে
