দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও স্তরে হরেক রকম অর্থ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি হচ্ছে। শুধু দুর্নীতি বললে চলবে না বলা যায় রাষ্ট্রীয় অর্থের লুটপাট চলছে। বিশেষ রাষ্ট্র ও সরকারের উপর মহলের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনা। হলমার্ক নামের একটি শিল্প গ্রুপ সরকারের উপর মহলের সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ডেসটিনি নামের আরো একটি কথিত মাল্টিলেভেল কোম্পানির একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও সরকার সমর্থিত একটি বিশেষ সংগঠনের নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় সাধারণ জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সরকার সমর্থিত বেশ কয়েকজন কারবারীর দ্বারা শেয়ার বাজারের সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়ে বড় দুর্নীতির ঘটনা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নির্মিতব্য পদ্মা সেতুর আর্থিক কেলেঙ্কারি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক খোদ সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাংক সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রক্রিয়াই স্থগিত করে দিয়েছে। আর এসব ঘটেছে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত চার বছরের মধ্যে। এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সর্বোপরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ ও দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তার নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটি অগ্রাধিকারের দ্বিতীয় দফাটি ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। তাদের এ দফায় বলা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে। এর কারণ সরকার ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা দুর্নীতি দমনের কথা মুখে বললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ না করে বিরোধী দল দমন ও বিভিন্ন পুরনো ও প্রতিহিংসাপরায়ণ ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা এসব উন্নয়ন বিরোধী ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দেশের পুরো প্রশাসন জড়িত হয়ে পড়ে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে। আর এ সুযোগে সরকারের বড় অংশটি বিশেষ করে ওপর মহলের আশীর্বাদে রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ জনগণের অর্থ লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে সরকারেরই আশীর্বাদে দেশে দুর্নীতি কমেনি বরং বেড়েছে। তাই আমাদের পরামর্শ সরকারকে তার প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা এবং দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ। সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক !
