ঢাকা: শুক্রবার: ১১ কার্তিক ১৪১৯, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৩, ২৬ অক্টোবর ২০১২

॥ আবুল ওয়াফী॥
বিগত ১৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক-এগারোর সরকারের মতো অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আবারও এক-এগারো সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ থাকলেও নির্বাচন করার কোনো সাহস নেই। জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেন না। জনগণের উপর তাদের ভরসা নেই, ভরসা অসাংবিধানিক পথে। অসাংবিধানিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চান। তাদের খায়েশের কারণেই দেশ বারবার বিপদে পড়েছে। তারা এখন আবার খেলা শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ এক-এগারোর খেলোয়াড়রাই আবার খেলছে। মধ্যরাতের টকশোওয়ালাদের তিনি ‘রাতের কারবারি’ বলেও তিরস্কার করে এক হাত নিয়েছেন। এর আগেও তিনি অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে দেশবাসীকে অনেকবার সতর্ক করেছেন এবং প্রায়ই এক এগারোর পরে গঠিত ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের সরকারের সমালোচনা করেন এবং তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বিরোধীদলীয় নেত্রীকেও স্মরণ করিয়ে দেন।

পাঠকের স্মরণ থাকার কথা, এক-এগারোর পর যখন সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলো বঙ্গভবনে সেই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে গিয়ে শেখ হাসিনা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন এবং গর্ব করে বলেছিলেন, ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল’।  তাছাড়া তিনি সেই সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ ও সকল কর্মকাণ্ডের বৈধতা দানের ঘোষণাও করেছিলেন এবং তার দল ও জোটের অনেকে তীব্র দাবির মুখে তিনি ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে তাদের দুই বছরের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বৈধতাই দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান থেকে যখন বলা হয়, এক-এগারোর খেলোয়াড়রাই আবার খেলা শুরু করেছেন তখন বিষয়টি হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু এক-এগারোর সরকার তার আন্দোলনের ফসল ছিল তাই সেই খেলোয়াড়দের তারই সবচাইতে ভালো চেনার কথা। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন অসাংবিধানিক ধারার কেউ ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বলে বারবার প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণকে সতর্ক করেন তখন বুঝতে হবে বিষয়টি নিশ্চয়ই খুবই গুরুতর রূপ ধারণ করেছে এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণাদি রয়েছে। ওদিকে গত ১৬ অক্টোবর নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রী সাবেক জাসদ ও গণবাহিনী নেতা হাসানুল হক ইনু বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহের মালিক ও প্রধান কর্মকর্তাদের সাথে এক দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সহযোগিতা কামনা করেছেন। অবশ্য শ্রেণী সংগ্রামে বিশ্বাসী এই জাসদ নেতারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না কখনো। পার্লামেন্টকে তারা শুয়ারের খোঁয়াড় বলে আখ্যায়িত করতেন। ভারতীয় হাইকমিশনে হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও, গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠন করে অনেক রক্তপাত ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ড করার পর এখন মহাজোটের শরিক হয়ে মন্ত্রিত্ব লাভের পরম সৌভাগ্য অর্জন করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার নসিহত দিচ্ছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল দেশে কি গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন বলে তারা মনে করছেন। এ প্রশ্ন এখন অনেকেরই। তবে তার চাইতেও গুরুতর প্রশ্ন হলো দেশে কি আদৌ গণতন্ত্র আছে? গণতন্ত্র থাকলেই না কেবল তা হুমকির সম্মুখীন হওয়া বা ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার কথা আসে।

নির্বাচনের সময় গণতন্ত্র ও সুশাসন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা দিনবদলের সরকার গঠনের পর প্রায় চার বছর হতে চললো। নির্বাচনের সময় জনগণ ভোট দেয়ার যে গণতন্ত্র দেখেছিল সেই গণতন্ত্র তো পালিয়ে গিয়েছে। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের সুশাসনের কোনো অঙ্গীকার কি বাস্তবায়িত হতে দেখেছে? শেখ হাসিনার দিনবদলের সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নেয়া হবে বলে ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সে ওয়াদা রক্ষা করেননি। বিরোধী দলের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্প্রচার না করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ‘আওয়ামী মার্কা বাকশালী গণতন্ত্রের’ যাত্রা। এরপর জাতীয় সংসদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য বক্তব্য বিরোধী দলের কোনো একটি মুলতবি প্রস্তাবও গ্রহণ না করা, বসার আসন নিয়ে বিরোধী দলের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বিরোধী দলকে সংসদে না বসতে বাধ্য করার মাধ্যমে অকার্যকর করে দেয়া হলো সংসদ। রাস্তায় বিরোধী এমপিদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা থেকে শুরু করে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেয়া। বিরোধী দলের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে বাধা দিয়ে কয়েক দিনের জন্য রাজধানীকে গোটা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে শেখ হাসিনার দিনবদলের সরকার যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তা এককথায় নজীরবিহীন।

সরকার গঠন রাত থেকেই শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, আওয়ামী মহাজোট সারা দেশে যে গুণ্ডামি, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি শুরু করলো তাতে উদ্বিগ্ন আওয়ামী ঘরানার পত্রপত্রিকায় বড় বড় শিরোনামে বলা হলোÑ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ছাত্রলীগকে সামলান’। দেশবাসীর ক্ষোভ ও চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। এখানেই শেষ! ছাত্রলীগের নজিরবিহীন গুণ্ডামি, সন্ত্রাস, খুনাখুনি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই শেখ হাসিনা নিলেন না। পক্ষান্তরে বিরোধী দল দমনের জন্য পুলিশের প্রহরায় ছাত্রলীগকেও মাঠে নামানো হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র হত্যার ঘটনায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের আট হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলো। কিন্তু ছাত্রলীগের হাতে অসংখ্য খুনের ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই আওয়ামী গণতান্ত্রিক সরকার গ্রহণ করে না। ছাত্রলীগ ইসলামী ছাত্রশিবির বা ছাত্রদলের উপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত-নিহত করার পরও উল্টো শিবির বা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করে ও মামলা দেয়। অতি সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের উপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতাদের অস্ত্রসহ হামলা চালানোর ছবি দেশের পত্র-পত্রিকা ও সেটেলাইট টেলিভিশনে প্রচার হয়। শেখ হাসিনার গণতন্ত্র এমনই এক বি”িত্র গণতন্ত্র যে, অস্ত্র উঁচিয়ে যে ছাত্রলীগ নেতা শিবিরের উপর হামলা চালায় সেই নেতা অস্ত্র নিয়েই থানায় গিয়ে শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং পুলিশ মামলা গ্রহণ করে বুলেটবিদ্ধ শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। পুলিশের পাশাপাশি থেকে ছাত্রলীগ নেতারা তাদের অস্ত্রে গুলি ভরাট করেছে এমন ছবিও পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কিন্তু কোনো ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি এবং শিবির মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানে বামফ্রন্ট ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে। পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো বাম ছাত্রফ্রন্টের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে। অবশ্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর এটা প্রাপ্য। কারণ এরা সারা জীবন ছাত্রলীগের লেজুড়বৃত্তি করেছে এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে উসকানিদাতার ভূমিকা পালন করে এসেছে। যে কয় স্থানে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর অস্তিত্ব আছে সেখানেই তারা ছাত্রলীগের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে বা তাদের উসকানি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের আদর্শ ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে থাকে।

এদিকে শেখ হাসিনার ডিজিটাল গণতন্ত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কোথাও ছাত্রসংসদ নির্বাচন নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধভাবে ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে দলীয় সেবাদাসদের। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ‘জাহাজ’ ডুবে যাবার পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দেয়নি সরকার। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ৩ মিনিটের মধ্যে জাতীয় সংসদে আইন পাস করে দুই ভাগ করে ফেলা হলো। মেয়াদ শেষ হবার আট বছর পরও নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে সরকার।

শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা। পক্ষান্তরে ক্ষমতাবলে নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ যাবত আট হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে যার মধ্যে হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের মামলা ছিল। ফাঁসির আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত দলীয় নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অন্যায়ভাবে দণ্ড মওকুফ করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আদালতকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আওয়ামী গণতন্ত্রের সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গুম করার ক্ষেত্রে এ কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখছে শেখ হাসিনার সরকার। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য মানুষকে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা গুম করার পর তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ ফ্যাসিবাদী এই সরকার তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে দেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন করছে। সাংবিধানিক অধিকার খর্ব এবং বিচার চলাকালীন বারবার আইন সংশোধন করে সরকার নিজেই মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের অঙ্গীকার শেখ হাসিনার ডিজিটাল গণতন্ত্রের সরকার এখন দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। শেয়ারবাজার লুট করে ষাট হাজার কোটি টাকা লুট করে যে দরবেশরা পঁয়ত্রিশ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির ব্যবস্থায়ই করেনি। ৭৬ লাখ টাকার বস্তা মন্ত্রীর বাড়িতে নেয়ার পথে ধরা পড়ার পরও সেই ভদ্রলোককে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে বহাল তবিয়তে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির জন্য দায়ী মন্ত্রীকে দেশপ্রেমিক বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ। জাতীয় সংসদে সরকারি সদস্যদের বেশিরভাগ দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে সম্প্রতি টিআইবির এক জরিপে বলা হয়েছে। দলীয় মন্ত্রী-এমপি নেতাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়টি নতুন ব্যাংকের অনুমতি দিয়েছে সরকার। ব্যাংক করার মতো এত টাকার মালিক এসব লোক কিভাবে হলেন? অর্থমন্ত্রী নিজে বলেছেন, দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে এবং তৃণমূল পর্যন্ত দুর্নীতি। ঘুষ ছাড়া কোনো চাকরি হয় না। দুর্নীতির জন্য পদ্মা সেতুর কাজ আটকে গেছে। সর্বশেষ সোনালী ব্যাংক হলমার্ক দুর্নীতি দেশবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। পাঁচ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়ে গেছে যা ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ডেসটিনিসহ বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে এবং এই সকল দুর্নীতি ও লুটপাটের সাথে শেখ হাসিনার সরকারের শীর্ষপর্যায়ের লোকেরাই জড়িত। গণতন্ত্র মানে তো শুধু পাঁচ বছর পর একটা নির্বাচন নয় বরং গণতন্ত্র মানে স্বচ্ছতার সাথে সুশাসন। শেখ হাসিনার সরকার কোথাও স্বচ্ছতার স্বাক্ষর রাখতে পারেনি।

সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান হচ্ছে First among the equals কিন্তু বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্ভেজাল একনায়কত্ব। এ ক্ষেত্রে মহাজোটের শরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকেও হার মানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে বিটিভি এখন সত্যিকার অর্থেই বাপ-বেটির বাক্স বিরোধী দলের কোনো খবর বিটিভিতে প্রচার করা হয় না। নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বিটিভির স্বায়ত্তশাসন। অথচ ওয়াদা খেলাফ করে বিটিভিকে দলীয় প্রচারযন্ত্র বানানো হয়েছে। সরকার মিডিয়ার উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।

শেখ হাসিনা বিপথগামী বাম ও স্বৈরাচারের সেবাদাসদের নিয়ে সরকার গঠন করে গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আদর্শ শান্তির ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। এখানে সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ ইসলামের বিরুদ্ধে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করলেও ইসলামী কোনো সংগঠন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার সুযোগ পাচ্ছে না। সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি বিভাগে মাদরাসাপড়–য়া ছাত্রদের ভর্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষাকার্যক্রম থেকে ইসলাম শিক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। ইসলামী বই-পুস্তককে জেহাদি বই বলে আখ্যায়িত করে কারও কাছে তা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। গত বুধবার ইসলামী বই কেনার সময় মগবাজার এলাকায় একটি বইয়ের দোকান থেকে ছাত্রীসহ কয়েক ব্যক্তি ও বিক্রেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই লেখাটি রচনাকালে ১৭-১০-১২ রাতে বিটিভিতে একজন উপস্থাপিকা কর্তৃক ধর্মকে দানব বলে আখ্যায়িত করার কথা শুনতে পেলাম। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ তো সকল ধর্মের অধিকার ও প্রচার স্বীকার করে। কিন্তু এদের যত আক্রোশ ইসলামের বিরুদ্ধে। পশ্চিমে সাম্রাজ্যবাদী ও ইহুদি চক্র ইসলাম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তাদের মিশন হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ডিজিটাল গণতন্ত্রের লেবাসের সরকার পশ্চিমাদের চাইতেও  জঘন্যভাবে ইসলামের শিকড় কাটতে ব্যস্ত এবং জাতিকে ধর্মহীনতার অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

শেখ হাসিনার সরকার নিজেই গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে গণতন্ত্রের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। যেসব কারণে গণতন্ত্র বিপন্ন হয় সরকার নিজেই তা সৃষ্টি করছে। অতীতে এ দেশে আওয়ামী লীগই দুঃশাসন এবং জনগণের বিশ্বাস ও অধিকার খর্ব করে গণতন্ত্র বিপন্ন করেছিল। এবারকার শেখ হাসিনার সরকার একইভাবে গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশটাকে হতাশা ও অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। শেখ হাসিনার শাসনে কোথাও গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নেই। আবার যদি গণতন্ত্র বিপন্ন হয় তাহলে দেশের মানুষ ও ইতিহাস বর্তমান আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনকেই দায়ী করবে।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

সম্পাদকঃ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com