ঈদুল আজহা আমাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদুল আজহার অপর নাম কোরবানির ঈদ। আরবি ‘কুরবুন’ থেকে ‘কোরবানি’ শব্দের উৎপত্তি। অর্থ ত্যাগের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ। হিজরি দিনপঞ্জি অনুসারে প্রতিবছর ১০ জিলহজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। কোরবানি হলো আমাদের উম্মাহর পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর সুন্নাত।
ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালনের সাথে একটি অনন্য পরীক্ষার ঘটনা বিজড়িত। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর মাধ্যমে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জানমাল ছিল আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিবেদিত। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন হজরত ইব্রাহিম (আ.) কে আদেশ করলেন, সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তাঁর উদ্দেশ্যে কোরবানি করার জন্য। এটি ছিল হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জীবনের কঠিন পরীক্ষা। তিনি নতশিরে এ নির্দেশ মেনে নিয়ে প্রিয়তম সন্তান ইসমাঈলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলেন। আল্লাহ পাক হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর কোরবানি কবুল করলেন। আল্লাহ কুদরতে পুত্র ইসমাঈল (আ.) জবেহ হলেন না, ইসমাঈলের স্থলে বেহেশত থেকে হজরত জিবরিল আ. এর আনা দুম্বা জবেহ হয়ে গেল। আল্লাহপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ঘোষণা করেন, ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাবিবল আলামীন’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু সব কিছুই বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত।
আমরাও জাতির পিতার এ সুন্নাত অনুসরণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় প্রতিবছর ১০ জিলহজ গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু কোরবানি করি। সাথে সাথে শপথ গ্রহণ করি, আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্যই আমরা আমাদের জীবন পরিচালনা করব। আমরা লোভ-লালসা, কামক্রোধ, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে প্রেম ভালোবাসার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে এই পৃথিবীকে গড়ব। কিন্তু আমরা কি তা পারছি? আল্লাহর বিধান কায়েমের জন্য আমরা কি সর্বোচ্চ ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছি? হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয়পুত্র কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন, আমরা কি সেই তুলনায় দুনিয়াবী প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ত্যাগ করছি?
আল্লাহর জমিনে তাঁর বিধান কায়েম না থাকায় আজ মানুষ মানুষের গোলামীর জিঞ্জিরে বন্দী। অধিকারহারা বুভুক্ষু মানুষের আহাজারিতে ভারি বাতাস। আমরা যারা মুসলমান বলে দাবি করি, তাদের পবিত্র দায়িত্ব মানব জাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য কাজ করা। কিন্তু আমরা নিজেরাই আজ পথহারা। আল্লাহর বিধান ভুলে বিভ্রান্তির চোরাবালিতে ডুবে আছি। আসুন, এবারের ঈদুল আজহায় শপথ নেই, আমরা জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানব জাতির মুক্তি জন্য কাজ করব।
