ঢাকা: শুক্রবার: ১১ কার্তিক ১৪১৯, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৩, ২৬ অক্টোবর ২০১২

হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনকে হত্যা করার পর মৃত দেহের ওপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের পৈশাচিকতা। আওয়ামী লীগের এ কোন পাশবিকতা!

আহমদ আশিকুল হামিদ
সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকলে অনেক বিপদ ও অসুবিধায় যেমন পড়তে হয়, তেমনি মাঝে-মধ্যে বিশেষ কিছু সুবিধাও পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষ হদিস পায় না এমন বহুকিছুই সাংবাদিকদের হাতে এসে যায়। ঘটনাটিকে সৌভাগ্য বলবো কি না সে প্রশ্নে না গিয়ে জানানো দরকার, কিছুদিন আগে হঠাৎ ‘কাঁদছে মানুষ কাঁদছে দেশ’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। এর বিষয়বস্তু ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত লগি-বৈঠার নিষ্ঠুর হত্যা-সন্ত্রাস। সুচিন্তিতভাবে উস্কানি দেয়া হলে রাজনৈতিক দলের কর্মি নামের ঘাতকরা কত নৃশংস ও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তারই জাজ্বল্যমান প্রমাণ রয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটির প্রতিটি দৃশ্যে। সেদিন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে রাজপথে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। ক্ষমতার লোভ এবং ক্ষমতায় যেতে না পারার আশংকা কোনো দল ও তার নেতা-নেত্রীদের কতটা নিষ্ঠুর ও উন্মাদ করতে পারে, তারই এক ভীতিকর উদাহরণ হয়ে আছে দিনটি। অথচ হত্যা-সন্ত্রাসের পরিবর্তে সেদিন দেশে উৎসব হওয়ার কথা ছিল। কারণ, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিনই প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল চার দলীয় জোট সরকার। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজের নেতৃত্বে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেছিলেন। ফলে কিছুক্ষণ আগের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ফিরে এসেছিল অন্য সব রাজনৈতিক দলের সমান কাতারে। দল দুটির ঘোষিত কর্মসূচীও ছিল আর দশটা দলের মতো। আওয়ামী লীগ সেদিন পল্টন ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করেছিল। বিএনপি নয়া পল্টনে এবং জামায়াত বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

জামায়াতের কর্মিরা তখন বিকেলে অনুষ্ঠেয় সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারা কোনো মিছিল করেননি, পাল্টা কোনো মিছিল বা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ারও ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও আচমকা হামলা শুরু করেছিল লগি-বৈঠাধারীরা। বেছে বেছে টার্গেট ঠিক করেছে তারা। লগি-বৈঠার আঘাতে ঢলে পড়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম। বিবিএ সম্মানের তৃতীয় বর্ষের কৃতী ছাত্র ছিলেন তিনি। নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে দাখিলে স্ট্যান্ড করা ছাত্র গোলাম কিবরিয়া। আইইএলটিএস করছিলেন তিনি। কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করা সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি জসিম উদ্দিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, হাবিবুর রহমান এবং প্রবাসী জসিম উদ্দিনও প্রাণ হারিয়েছিলেন। পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে এসেছিলেন জসিম উদ্দিন। ক’দিন পর, ১২ নভেম্বর বিদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। এদের বাইরে কুড়িগ্রামের তরুণ ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, মেহেরপুরের হিজুলিয়া গ্রামের আব্বাস, সাতক্ষীরার আশুনিয়া উপজেলা জামায়াত নেতা জাবিদ আলী, নীলফামারীর জলঢাকার সাবের হোসাইন এবং গাজীপুরের জামায়াত নেতা রুহুল আমীনকেও হত্যা করেছিল লগি-বৈঠাধারী ঘাতকরা। 

‘কাঁদছে মানুষ কাঁদছে দেশ’ নামের প্রামাণ্যচিত্রটি দেখলেই বুঝতে পারবেন, কতোটা সুপরিকল্পিত ছিল বিভৎস এই হত্যাকান্ডগুলো। ভিড়ের মধ্য থেকে বেছে বেছে জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মিদের টেনে আনা হয়েছিল। তারপর শুরু হয়েছে লগি ও বৈঠা দিয়ে নির্বিচারে পেটানো। ছুরি ও লাঠিও ব্যবহার করেছে ঘাতকরা। কয়েকজনকে দেখা গেছে পিস্তল দিয়ে গুলি করতে। সবচেয়ে নিষ্ঠুর ছিল পেটানোর দৃশ্যটি। প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ জন এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। হামলা চালানোর, পেটানোর এবং ধাক্কা মেরে রাজপথে ফেলে দেয়ার দৃশ্যগুলো থেকে পরিস্কার হয়েছে, ঘাতকদের প্রত্যেকে একই বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। অর্থাৎ হত্যাকান্ডগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফলাফল ছিল না। প্রকৃতপক্ষে বিশেষ কোনো স্থান থেকে ঘাতকদের কয়েকটি গ্র“পে বিভক্ত করে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। এজন্যই পল্টন থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে ঘাতকরা একই কৌশলে হামলা চালিয়েছিল। লগি-বৈঠা ও লাঠি দিয়ে পেটানোর এবং ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়ার স্টাইলও ছিল অভিন্ন। সবশেষে ছিল উল্লাসের পালা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিষ্ঠুরতা ও পৈশাচিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল ঘাতকরা। রক্তাক্ত মৃতদেহ নিয়ে টানাহেঁচড়া এবং মৃতদেহের ওপর নৃৃত্য করেছে তারা। রক্ত হিম করা এসব দৃশ্য দেখেছে দেশ ও বিদেশের মানুষ। দেখে বিবেকবান মানুষ মাত্রই স্তম্ভিত হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাও ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে হাজার হাজার ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ ও টিভি ক্যামেরার সামনেই অভিযান চালিয়েছিল লগি-বৈঠাওয়ালারা। কিন্তু জামায়াত নেতারা উপর্যুপরি অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি। যেন হত্যা করার জন্য লগি-বৈঠাওয়ালাদের আগেই ওপেন লাইসেন্স দিয়ে রেখেছিল পুলিশ!

চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর মুহূর্তেই কেন হত্যা-সন্ত্রাসের পন্থা বেছে নেয়া হয়েছিল তার কারণ বুঝতে হলে জরুরি অবস্থা জারির পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে ১/১১-এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আগত ‘উদ্দিন’ সাহেবদের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে। যেভাবেই প্রচারণা চালানো হোক না কেন, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোই ‘উদ্দিন’ সাহেবদের ক্ষমতায় এনেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এসব দেশ ও সংস্থার তৈরি করা ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করিয়ে নেয়া। ক্ষমতার লোভে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গীরা। বস্তুত আওয়ামী লীগের ক্ষমতালিপ্সা ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবই ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করার সুযোগ তৈরি করেছিল। ‘উদ্দিন’ সাহেবদের দিনগুলোতে পুতুলের মতো ব্যবহৃত হয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা দখলকারী একটি অপশক্তির সেবাদাসের ভূমিকা পালন করতেও সামান্য লজ্জা বোধ করেননি দলটির নেতা-নেত্রীরা। ক্ষমতার জন্য এতটাই আগ্রহ ছিল তাদের!

‘রোডম্যাপ’ তৈরি করার প্রধান কারণ ছিল চার দলীয় জোট সরকারের দেশপ্রেমিক অবস্থান। জোট সরকার ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তেল ও গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদও বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেক বারই ঘোষণা করেছিলেন, ‘বাংলাদেশ কারো চোখ রাঙানিকে ভয় করে না, বাংলাদেশ কারো নির্দেশে চলবে না।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানো’ বন্ধ করার জন্যও খালেদা জিয়া বিদেশিদের সতর্ক করেছিলেন। শুরু হয়েছিল এখান থেকেই। শেখ হাসিনাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, জোট সরকার বিদেশিদের যতো বিরোধিতা করবে তিনি ততো বিদেশিদের সমর্থন জানাবেন। শেখ হাসিনার এ মনোভাবেরই সুযোগ নিয়েছিল বিদেশি শক্তিগুলো। ২০০৫ সালের মার্চ মাসে ভারত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইস ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বাংলাদেশের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে’ এবং এই প্রক্রিয়ায় ভারতকে ‘সঙ্গে রাখবে’। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একযোগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাবে। এর পর দৃশ্যপটে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে. টমাস। ২০০৫ সালের ১৪ জুন হ্যারি কে. টমাস ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ‘বিকল্প শক্তি’ ক্ষমতায় আসবে। এই শক্তির পরিচিতি সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত টমাস বলেছিলেন, ‘আপনারা তা দেখতে পাবেন।’ তিনি আরো বলেছিলেন, যে কোনো অচলাবস্থা দেশকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার’ দিকে নিয়ে যেতে পারে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ই ঘটানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, ‘বিকল্প শক্তি’ সম্পর্কে জানান দেয়ার ক’দিন পরই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা হ্যারি কে. টমাসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত টমাস জানিয়েছিলেন, ‘বিকল্প শক্তি’ সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা ‘ঠিকই’ বলেছেন। ‘রোডম্যাপ’ সম্পর্কে বুঝতে হলে হ্যারি কে. টমাসের কথাগুলো এবং তার সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে । রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে. টমাসের ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছিল। ‘বিকল্প শক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা তা দেখতে পাবেন’। বাংলাদেশের জনগণকে সত্যি সত্যি ‘তা’ দেখতে হয়েছিল। সুতরাং ধরে নেয়া যায়, ‘রোডম্যাপ’ তৈরি হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথম দিকে কিংবা তারও আগে। কোন দেশ ঠিক কোন দেশকে ‘সঙ্গে’ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপারে ‘পদক্ষেপ’ নিয়েছে সে কথাও এতদিনে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। সমগ্র এ ঘটনাপ্রবাহে আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গীদের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব থেকেছে নির্ধারক হিসেবে। জোট সরকারের পাঁচ বছরে বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেননি বলে শেখ হাসিনা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। নিজেদের তো বটেই, ভারতসহ কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার জরিপেও দেখা গিয়েছিল, আওয়ামী লীগ অন্তত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। শেখ হাসিনাও দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।  মূলত এ হতাশা থেকেই আওয়ামী লীগ দেশকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এজন্যই শুরু হয়েছিল লগি-বৈঠার তান্ডব, যা শেষ পর্যন্ত ১/১১-কে অনিবার্য করেছিল। এটা যে সুপরিকল্পিত এক আয়োজন ছিল সে কথা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘উদ্দিন’ সাহেবদের সরকারকে তারাই এনেছিলেন। ওই সরকার ছিল শেখ হাসিনাদের ‘আন্দোলনের ফসল’! হত্যা-সন্ত্রাসকেও তারা ‘আন্দোলন’ বলতে লজ্জা বোধ করেননি।

বলা দরকার, আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করাই ১/১১-এর একমাত্র বা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল না। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি ও জামায়াতসহ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী দলগুলোকে বাধাগ্রস্ত ও পর্যুদস্ত করা, সম্ভব হলে একেবারে নির্মূল করে দেয়া। কিন্তু অন্তরালের শক্তিগুলো বুঝতে পারেনি যে, প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী কোনো দলকে তো বটেই, ইসলামী ভাবধারার দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী কোনো দলকেও ধ্বংস করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো দেশপ্রেমহীন ফ্যাসিস্ট কোনো দল বিএনপি ও জামায়াতের বিকল্প হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে হতাশ আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গীদের নিয়ে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন ভণ্ডুল করা এবং জাতির ওপর তত্ত্বাবধায়ক নামের বন্দুকধারী একটি সরকারকে চাপিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল সত্য, কিন্তু ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা যায়নি। এই শক্তি বরং অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এজন্যই ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ‘ডিজিটাল’ কারচুপির আশ্রয় নিতে হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্রের নোংরা পথে পা বাড়াতে হয়েছে। নানা ঘটনা ও তথ্যের মধ্য দিয়ে এতদিনে সবই প্রকাশিত হয়েছে। এখনো প্রকাশিত হচ্ছে। এককালের ‘বাঘা’ নেতা আবদুল জলিলও অনেক তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। জনগণের জানতে বাকি থাকেনি যে, লগি-বৈঠার হত্যা-সন্ত্রাস থেকে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের সরকার গঠন পর্যন্ত সবকিছুই ঘটেছে একই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে। এই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত লগি-বৈঠার হত্যা-সন্ত্রাসের মূল কারণ।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com