ঢাকা: শুক্রবার: ১১ কার্তিক ১৪১৯, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৩, ২৬ অক্টোবর ২০১২

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত জামায়াত কর্র্মী হাবিবুর রহমান

আবদুল্লাহ্ আল মেহেদী

২৮ অক্টোবর ২০০৬ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কালো দিবস। দিনটি জাতির জীবনে এক রক্তভেজা ইতিহাসের জন্ম দিয়ে গেল। এই ইতিহাস এতই বেদনার যে তা কখনো ভুলবার নয়, মুছবারও নয়; বরং চির অমলিন এক স্মৃতিজাগানিয়া হৃৎকম্পন! বিশ্বের ইতিহাসে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। হিটলার, মুসোলিনী ও স্টালিনরা হত্যা করেছিলেন লাখ লাখ মানুষ। এসব নৃশংস হত্যার পরিসংখ্যান হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ময়দানের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে নিঃসন্দেহে হিটলাররা লজ্জিত হতেন। কারণ তারা মানুষ হত্যার পর লাশের উপর উঠে ‘নৃত্যোল্লাস’ করার মতো পাশবিকতা প্রদর্শন করেননি। অথচ ২৮ অক্টোবর ২০০৬ বাংলাদেশে কী ঘটেছিল তা দেশীয় মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষ যেমন প্রত্যক্ষ করেছিল তেমনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কল্যাণে সমগ্র বিশ্বও তা অবলোকন করেছিল। সেদিন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর মানুষ। আর নিদারুণভাবে কলঙ্কিত হয়েছিল মানবতা। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মত পার্থক্যকে কেন্দ্র করে এমন পাশবিক কায়দায় মানুষ হত্যার দৃশ্য এর আগে কখনো কোথাও দেখা যায়নি।

আজ ঘটনার প্রায় ৬ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য ঐ ঘটনার হোতাদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়া করানো তো দূরের কথা, বরং বর্তমান সরকার চরম নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে সেদিনের সকল মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নিহতদের মা-ভাই-বোনদের চোখের পানির ন্যূনতম মূল্য দিতেও ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তাই প্রশ্ন জাগে এই সরকারের হাতে মানবতা কতটুকু নিরাপদ?

তবে আমরা নিরাশ হতে চাই না। মানবতার দুশমনদের বিচার একদিন অবশ্যই হবে। হয়তো দুনিয়ার আদালতে রায় ঘোষিত হবে না, কিন্তু মহান বিচারক আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের আদালতে এই  নির্মমতার অবশ্যই বিচার হবে এবং দোষীরা চরম শাস্তির সম্মুখীন হবে এ বিশ্বাস বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের।

রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি জাতীয় উন্নতির প্রধান শর্ত। রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য পোষণ করা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য শিক্ষণীয়। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে মানবতার জয়গান গাওয়া হোক আমাদের একমাত্র ব্রত।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যে নারকীয় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে আমার বিশ্বাস শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে বা মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত জঘন্য, মর্মান্তিক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা ঘটার পেছনে স্বাভাবিক কোনো কারণই তখন ছিল না।

এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর হত্যা, নিষ্ঠুরতা ও পৈশাচিকতার জন্য ‘পল্টন ট্র্যাজেডি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে সেদিন প্রকাশ্যে হত্যার অভিযান চালানো হয়েছিল। ক্ষমতার লোভ এবং ক্ষমতায় যেতে না পারার আফসোস কোনো দল ও তার প্রধান নেতা-নেত্রীকে কতটা নিষ্ঠুর করতে পারে, তারই এক ভয়ঙ্কর উদাহরণ হয়ে আছে ২৮ অক্টোবর।

কথাটা বলার কারণ, দিনটি জাতির জন্য উৎসবের দিন হয়ে ওঠার কথা ছিল। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিনই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। ফলে কয়েক ঘণ্টা আগের ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ফিরে এসেছিল অন্য সব রাজনৈতিক দলের সমান কাতারে। বিএনপি ও জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচিও ছিল আর দশটা দলের মতো। আওয়ামী লীগ সেদিন পল্টন ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করেছিল। বিএনপি নয়া পল্টনে এবং জামায়াত বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

জামায়াতের কর্মীরা তখন সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করছিলেন। তার আগে কোনো মিছিল বা পাল্টা মিছিল হয়নি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তা সত্ত্বেও আচমকা হামলা চালিয়েছিল লগি-বৈঠাধারীরা। বেছে বেছে টার্গেট ঠিক করেছিল তারা। লগি-বৈঠার আঘাতে ঢলে পড়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম। বিবিএ সম্মানের তৃতীয় বর্ষের কৃতী ছাত্র ছিলেন তিনি। মৃত্যু হয়েছিল দাখিলে স্ট্যান্ড করা ছাত্র গোলাম কিবরিয়ার। আইইএলটিএস করছিলেন তিনি। কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করা সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জসিম উদ্দিন, হাবিবুর রহমান এবং পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে আসা জসিম উদ্দিনও প্রাণ হারিয়েছিলেন। এদের বাইরে নারায়ণগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, কুড়িগ্রামের তরুণ ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, মেহেরপুরের হিজুলিয়া গ্রামের আব্বাস, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা জামায়াত নেতা জাবিদ আলী, নীলফামারীর জলঢাকার কাপড় ব্যবসায়ী সাদের এবং গাজীপুরের জামায়াত নেতা রুহুল আমীনকেও হত্যা করেছিল লগি-বৈঠাধারী ঘাতকরা।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে হত্যার দৃশ্যগুলো যারা দেখেছিলেন তারাই স্বীকার করেছেন, কতটা সুপরিকল্পিত ছিল সেদিনের হত্যাকাণ্ড। ভিড়ের মধ্য থেকে বেছে বেছে জামায়াত ও শিবিরের ওই নেতা-কর্মীদের টেনে এনে লগি ও বৈঠা দিয়ে নির্বিচারে পেটানো হয়েছে। ছুরি ও লাঠিও ব্যবহার করেছিল ঘাতকরা। কয়েকজনকে দেখা গেছে, পিস্তল দিয়ে গুলি করতে। সবচেয়ে নিষ্ঠুর ছিল পেটানোর ঘটনাগুলো। প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ জন এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। হামলা চালানো, পেটানো ও ধাক্কা মেরে রাজপথে ফেলে দেয়ার দৃশ্যগুলো থেকে পরিষ্কার হয়েছিল, ঘাতকদের প্রত্যেকে একই বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফলাফল ছিল না। কোনো বিশেষ স্থান থেকে ঘাতকদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। এজন্যই পল্টন থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে ঘাতকরা একই কৌশলে হামলা চালিয়েছিল। লগি-বৈঠা ও লাঠি দিয়ে পেটানো এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার স্টাইলও ছিল অভিন্ন। সবশেষে ছিল উল্লাসের পালা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিষ্ঠুরতা ও পৈশাচিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল ঘাতকরা। রক্তাক্ত লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়া এবং লাশের ওপর নৃত্য করেছে তারা। রক্ত হিম করা এসব দৃশ্য দেখেছিল দেশ ও বিদেশের মানুষ। যারা দেখেছিল তারা ভীত-আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত না হয়ে পারেনি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাও ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে হাজার হাজার ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ ও টিভি ক্যামেরার সামনে অভিযান চালানো হলেও এবং জামায়াত নেতারা উপর্যুপরি অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি। অর্থাৎ হত্যা করার জন্য পুলিশ লগি-বৈঠাওয়ালাদের আগেই লাইসেন্স দিয়ে রেখেছিল!

লগি-বৈঠার নিষ্ক্রিয়তার কারণে শুধু নয়, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সবকিছুর পেছনে ছিল একই পরিকল্পনা। প্রধান কারণ ছিল পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও জোট সরকারকে ‘ফেলে’ দিতে না পারার দুঃখ এবং আগামীতেও ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে না বলে পাওয়া আগাম সংবাদ। এজন্যই শেখ হাসিনা লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছিলেন। নেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে এমন একটি দিনেই লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালানো হয়েছিল যেদিন নির্দলীয় একটি কেয়ারটেকার সরকার সবে দায়িত্ব নিয়েছিল। নির্বাচনে অংশ নেয়ার সামান্য ইচ্ছা থাকলেও যে কোনো দলেরই তখন নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে ওঠার কথা। অন্যদিকে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার পাশাপাশি দাবির পর দাবি তুলে আওয়ামী লীগ এবং তার সঙ্গীরা ঝামেলা পাকিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অযৌক্তিক অনেক দাবি পূরণ করার পরও আওয়ামী জোট ঘাড় বাঁকিয়ে রেখেছিল। কেয়ারটেকার সরকারের প্রতিটি উদ্যোগকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল গৃহযুদ্ধের ভয় পর্যন্ত দেখিয়েছিলেন।

২০০৫ সালের ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে দেয়া সমাপনী ভাষণে কোনো দেশের নাম না নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ কারো চোখ রাঙানিকে ভয় করে না, বাংলাদেশ কারো নির্দেশে চলবে না।’ বেগম খালেদা জিয়া সেই সাথে রাজনীতিসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বন্ধ করার জন্যও কঠোর উচ্চারণযোগে বিদেশীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পরদিন দাতা বা উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্দেশে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান বলেছিলেন, আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে তারা বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে পারে।

সঙ্গে সঙ্গে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছিল। দেশ ও সংসদ ফেলে সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাকি ‘লম্বা লম্বা’ কথা বলছেন! শেখ হাসিনার পর লাফিয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। ভারতের তৎকালীন মন্ত্রী বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক শেষে দেশে ফিরেই তিনি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী নাকি বাংলাদেশকে ‘বন্ধুহীন’ করার চক্রান্ত করেছেন! উল্লেখ্য এর মাত্র কিছুদিন আগেই অনেকটা আকস্মিকভাবে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল আওয়ামী লীগ। ‘রোডম্যাপ’ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে হলে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হিসেবে এই প্রস্তাব এবং তার ভিত্তিতে আন্দোলন ও মহাজোট গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কথা মনে রাখতে হবে। ঘটনাপ্রবাহের ওই পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইসের একটি মন্তব্যও স্মরণ করা দরকার।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসের ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছিল। ‘বিকল্প শক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা তা দেখতে পাবেন’। বাংলাদেশের জনগণকে সত্যি সত্যি ‘তা’ দেখতে হয়েছে। দুই নেত্রীকে ‘মাইনাস’ বা বিতাড়িত করার আয়োজন সংক্রান্ত যে খবর গাফফার চৌধুরী জানিয়েছিলেন সেটাই ‘উদ্দিন’ সাহেবদের মাসগুলোতে ‘মাইনাস টু থিওরি’ হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সুতরাং ধরে নেয়া যায়, ‘রোডম্যাপ’ তৈরি হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথম দিকে কিংবা তারও আগে। কোন দেশ ঠিক কোন দেশকে ‘সঙ্গে’ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপারে ‘পদক্ষেপ’ নিয়েছে সে কথাও আর অজানা থাকার কথা নয়। সমগ্র এ ঘটনাপ্রবাহে নির্ধারক হিসেবে এসেছে আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গীদের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব। সঙ্গে ছিল তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং বিশেষ কয়েকটি দৈনিক ও বেসরকারি টেলিভিশন। জোট সরকারের পাঁচ বছরে বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে শেখ হাসিনা জনগণের আস্থাও অর্জন করতে পারেননি। নিজেদের তো বটেই, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’সহ কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার জরিপেও দেখা গিয়েছিল, আওয়ামী লীগ অন্তত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। শেখ হাসিনাও দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। মূলত এই হতাশা থেকেই আওয়ামী লীগ দেশকে হ্যারি কে টমাস বর্ণিত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এজন্যই শুরু হয়েছিল লগি-বৈঠার তাণ্ডব, যা শেষ পর্যন্ত ১/১১-কে অনিবার্য করেছিল। এটা যে সুপরিকল্পিত এক আয়োজন ছিল সে কথা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, মইন-ফখরুদ্দিনের সরকারকে তারাই এনেছিলেন। ওই সরকার ছিল শেখ হাসিনাদেরই ‘আন্দোলনের ফসল’।

বলা দরকার, আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করাই শুধু ১/১১-এর উদ্দেশ্য ছিল না। শেখ হাসিনা এবং তার সঙ্গীরা প্রলোভনের শিকার হয়ে পড়লেও ১/১১-এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি ও জামায়াতসহ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী দলগুলোকে বাধাগ্রস্ত ও পর্যুদস্ত করা, সম্ভব হলে একেবারে নির্মূল করে দেয়া। এই একটি ক্ষেত্রে চিন্তায় অবশ্য ভুল করেছিল অন্তরালের শক্তিগুলো। প্রায় ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে জামায়াতের মতো ইসলামী কোনো দলকে তো বটেই, বিএনপির মতো মূলত ইসলামী ভাবধারার দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী একটি দলকেও ধ্বংস করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো দেশপ্রেমবর্জিত ফ্যাসিস্ট কোনো দল বিএনপি ও জামায়াতের বিকল্প হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে হতাশ আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করা এবং জাতির ওপর একটি অনির্বাচিত সরকার চাপিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল সত্য, কিন্তু তাই বলে ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা যায়নি। এই শক্তি বরং অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একই কারণে এখন আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে নির্যাতন ও দমন অভিযান। কিন্তু অমন চেষ্টাই সব নয়। বরং ইতিহাসের আলোকে আগাম বলে রাখা যায়, মইন উ’রা যা পারেননি তা শেখ হাসিনাও পারবেন না।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com