॥ সৈয়দ সাইফুল ইসলাম॥
ক্রমেই শরিকদের সঙ্গে বৈরীভাব সৃষ্টি হচ্ছে মতাসীন দল আওয়ামী লীগে। আওয়ামী ঘরানার বৃদ্ধিজীবীদের সঙ্গেও তালমিলিয়ে চলতে পারছে না দলটি। দিন যত এগুচ্ছে দেশের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে ততই দূরত্ব বাড়ছে আওয়ামী শিবিরে। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, অর্থনীতিবিদ ও আইনজীবীদের সঙ্গেও চলছে মতবিরোধ। মতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিদেশী বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে ভারত এক সময়ে আওয়ামী লীগকেই তাদের একমাত্র বন্ধু মনে করলেও এখন তা করছে না। প্রতিবেশী এই দেশটি এখন বিএনপি ও এর মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির পরিচায়ক। অবশ্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টিকে মাইনাসে রেখেই নির্বাচনীয় সমীকরণ করছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্রটি বলছেন, দোদুল্যমান জাতীয় পার্টির ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না।
বিদায়ী বছর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য ছিল বহুলালোচিত। অনেক ঘটনা দুর্ঘটনা ছিল উল্লেখ করার মতো। দেশের রাজনীতিতে ঘটেছে অনেক যোগ বিয়োগের ঘটনা। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আন্তরিকতার চাইতে দূরত্ব বেড়েছে। সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিভিন্ন পদেেপ বারবারই হোঁচট খেয়েছে। দেশের বৃদ্ধিজীবীরা সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছে। যা অতীতে করা হয়নি। বিশেষ করে আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা বেশি সমালোচনা করছে। মতাসীন দলের সংসদ সদস্য কর্তৃক জনতাকে উদ্দেশ্য করে গুলি নিপে ও জনতার প থেকে মন্ত্রীকে জুতা নিেেপর ঘটনাও ছিল টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বুদ্ধিজীবীদের ভর্ৎসনা করছেন। যা একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য মোটেই কাক্সিত নয়।
লংমার্চ থেকে শুরু করে বছরের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে মহাজোট ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে কড়া বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ। জোট না ছাড়লে দল ভেঙে তার বেরিয়ে যাবার বিষয়েও মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হয়। এরশাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও মহাজোট ছাড়ার আওয়াজ তোলা হয়। অবশ্য পরে এরশাদ ও তার দলের নেতারা কিছুটা কৌশলী ভূমিকা পালন করেন। প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়া থেকে সরে আসেন কাজী জাফর। একক নির্বাচনের বিষয়ের সঙ্গে চলে আসে মহাজোট ছাড়া না ছাড়ার বিষয়টিও। এনিয়ে মিডিয়ায় এরশাদের সব সময়েই কৌশলী বক্তব্য ছিল ‘সময় সব বলে দেবে’।
তবে বর্তমানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মহাজোট ছাড়তে পার্টির শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়তই সাবেক এই প্রেসিডেন্ট এরশাদকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া দলটি আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। এতে তার (এরশাদের) রাজনৈতিক কদর কিছুটা হলেও বেড়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এককভাবে নির্বাচন করতে প্রতিবেশী ভারতের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি। এ কারণে তিনি গতবছর ভারত সফর করেছেন।
মহাজোটের প্রধান শরীক আওয়ামী লীগের কাছে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় বিভিন্ন সময়ই ুব্ধ প্রতিক্রয়া ব্যক্ত করেছেন এরশাদ। একাধিবার একক নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ভোটব্যাংক যাচাইয়ে পরীামূলকভাবে একাধিক নির্বাচনে প্রার্থীও দেন তিনি। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের উপনির্বাচনে এরশাদের দলীয় প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। কিন্তু বিএনপি বিহীন এই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানা। ভরাডুবি হয় জাতীয় পার্টির। তারপরও আশা ছাড়েননি এরশাদ। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকে নিজেদের অবস্থান থেকে নির্বাচন দিলে আরো ভালো ফলাফল লাভ করা যাবে। মহাজোটোর এই বড় শরীক জাতীয় পার্টি আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক নির্বাচন করার ঘোষণা ও সিদ্ধান্তে অটল থাকায় ভেতরে ভেতরে মহা টেনশনে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। তারা মনে করছেন, মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টি সরে দাড়ালে এটা মহাজোটের জন্য হবে অশুভ। আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টাণ্ডলীর সদস্য বলেছেন, জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক মাঠে অনেক কথাই বলে থাকে। কিন্তু তারা কখন যে কী করবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি মনে করেন, আগামীতে একক নির্বাচনের কথা বলে এরশাদ হয়তো জোটে নিজেদের কদর বাড়াতে চেষ্টা করছেন। আর রাজনীতিতে এটা দোষের কিছু নয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্র“য়ারি ভোররাতে রাজধানীর রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রায় ১১ মাস পার হয়ে গেলেও হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সে কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক যাচ্ছেনা সরকারের। সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সাংবাদিকরা এখনো মাঠে সোচ্চার রয়েছে। পেশাজীবী অনেক সংগঠন সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে রাজপথে আন্দোলন করছেন। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে কিছু কিছু সংগঠন তাদের দাবি পূরণ না করা সরকারের ওপর েেপ আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
২৯ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আগামীতে জনগণ হয়তো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। সংবিধানে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক বলা হলেও প্রকৃতপে মাত্র একদিনের জন্য জনগণ মতাপ্রাপ্ত হন। তিনি চলমান সঙ্কট নিরসনে গণভোট আয়োজনসহ চারটি ফর্মুলা প্রস্তাব করেন।
ড. আকবর আলির প্রস্তাবিত চার ফর্মুলার প্রথমটিতে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে চাইলে প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা বা পরামর্শ চাওয়ার পরামর্শ দেন। দ্বিতীয়টিতে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ থেকে ১০ জন সদস্য নেয়া। এদের মধ্যে সরকারি দলের এমপিসহ ৫ জন সদস্য ও বিরোধী দলের প্রধানসহ ৫ জন সদস্য। সরকারি দলের ৫ জন সদস্যকে বিরোধী দল ও বিরোধী দলের ৫ জন সদস্যকে সরকারি দল নির্বাচন করবে। তৃতীয়. দুই দলই ১০ জন করে মোট ২০ জন দল নিরপে সদস্যের তালিকা দেবে। উভয় দলের ৫ জন করে মোট ১০ জন সদস্য নির্বাচন করবে সংসদ। এই ১০ জনের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান গঠন করা হবে। চতুর্থ ফর্মুলাটি হলো, যদি শীর্ষ দুই দলের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তাহলে বিরোধীদল প্রস্তাব দেবে তারা কোন কোন উপায়ে নির্বাচন করতে চায়। এসব প্রস্তাবের উপর জনগণ তাদের পছন্দের পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট দেবে। তবে শেষ ফর্মুলার বেলায় বিদ্যমান আইনে কিছু সংশোধনী আনার প্রয়োজন হতে পারে।
ড. আকবর আলি খান এর ফর্মুলা উপস্থাপনের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি কারো নামোল্লেখ না করে বলেছেন, ব্যর্থ মানুষকে দিয়ে দেশের গণতন্ত্রের সুরা হবে না। কারণ একজন ব্যর্থ মানুষ বার বারই ব্যর্থ হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়ে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। যে ফর্মুলাই এখন দেয়া হোক না কেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওই সময় তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন কেন?’ শেখ হাসিনা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক নেতা যারা দেশের প্রাচীনতম সংগঠনটি ভেঙ্গে ভিন্ন দল গড়তে চেয়েছিলেন তারা এখন আমাদের দলের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। যারা দল ভেঙ্গে গিয়ে একটি নতুন দল গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন এমন কারো কাছ থেকে আমাদের দলের ব্যাপারে কোনো কিছু শুনতে চাই না। আওয়ামী লীগের নিজস্ব পথ নিদের্শনা রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে দল এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তার গণতান্ত্রিক পন্থা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে অগ্রসর হ্েচ্ছ এবং এই পন্থা ও ঐতিহ্য ধারণ করে দলটি এগিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নির্মূল করতে অতীতে আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের আমলে অপতৎপরতা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রতিক্রিয়ায় যাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তাতে দেশের সুশীল সমাজের অনেকের মধ্যে ােভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম মূসা সরকারকে ‘চোর’ বলায় প্তি হন প্রধানমন্ত্রী। সমালোচনা করেন তার। তারা বলেছেন প্রধামন্ত্রীর চেয়ারে বসেও একজন মানুষ যখন সমালোচনা ও পরামর্শ শুনার অভ্যস্ত না হওয়া দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাঙ্খিত নয়। কারণ দেশের চলমান সঙ্কট সমাধানের জন্য যারাই যে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হবে তা ধৈর্য সহকারে শুনা ও বিবেচনা করা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনার ও হজম করার মানসিকতা নেই। তাই গুরুত্ব পাচ্ছেন না ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখের পরামর্শ। রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য কূটনীতিকরা অনেক আগ থেকেই সরকারকে একটি সংলাপে বসার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার এর কোনো কর্ণপাতই করছেন না। সংলাপের জন্য বিদেশী বন্ধুদের দেয়া তাগিদে বিরক্তির সুরে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতারা কিছুটা গর্জন করেই বলছেন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোর দরকার নেই। একথা অবশ্য ঠিক যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোর দরকার নেই। কিন্তু বিরোধীদলে থাকাকালে আওয়ামী লীগ দেশের ভেতরের বিষয়ে বিদেশীদের কাছে একাধিকবার নালিশ করতে যাওয়ার ঘটনা সবারই জানা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিঞা বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই কথা বার্তায় শালীন হতে হবে। কারণ তিনি সরকার প্রধান ও জনগণের অভিভাবক। তার কাছ থেকে দেশের মানুষ অভিভাবকসুলভ আচরণই কামনা করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের চাইতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মার্জিত হওয়া দরকার। এটা না হলে লোকেরা তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো এই সংস্কৃতি চালু রয়েছে। উন্নত দেশগুলো এখনো সরকার পরিচালনার েেত্র বিরোধীদলের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। আমেরিকার অর্থনীতিকে বাঁচাতে সম্প্রতি সমঝোতায় এসেছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে ওই দেশের প্রধান দুই দল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের সিনেটররা ব্যয় সংকোচন ও কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ঐক্যমতে পৌছেছেন। সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, করের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তারা একটি ঐক্যমতে পৌছাতে পেরেছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, মধ্যবিত্তদের কর বৃদ্ধি ঠেকানোর জন্য ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানরা একটি ঐক্যমতের দিকে এগিয়ে গেছে। কোনো ধরনের সমঝোতায় যদি পৌঁছানো না যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবারো মন্দাবস্থায় ফিরে যেতে পারে সে দেশের অর্থনীতিবিদদের এমন আশঙ্কা থেকেই দুই দল ঐক্যমতে পৌছেছে। পান্তরে আমাদের দেশে সরকারের কোনো কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা আশঙ্কা করলে সরকার তা বিবেচনায় না এনে তাদের (বুদ্ধিজীবীদের) সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে ধীর ধীরে আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলন সফল হচ্ছে। জোট সম্প্রসারণ হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ১৮ দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। অপরদিক সরকারের কর্মকাণ্ডে একঘরে হয়ে পড়ছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি দলের অনেক শরীকদের মধ্যেই টানাপোড়েন ভাব চলছে। যা, আওয়ামী শিবিরে হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, সরকারের কোনো কৌশলই সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে ফেরাতে পারবে না। আগামী নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে সরকারের কুমতলব থাকার কারণেই আদালতের রায়ের সুবিধাজনক অংশটুকু গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আদালতের রায়ে আরো দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার তা আমলে না নিয়ে পরীতি এ ব্যবস্থাটি বাতিল করেছে। জণগণের আন্দোলনের মুখে সরকার এ দাবি মানতে বাধ্য হবে বলেও মনে করেন জামায়াতের এই নেতা।
বিশিষ্ট আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচনের জন্য যে গণদাবি ওঠেছে তা মেনে নিয়ে নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা কতে হবে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে। হানাহানি, মামলা-হামলা বন্ধ হবে। যদি তা না হয়, তাহলে মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সংঘাত এড়াতে যারা সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন সরকার তাদের ওপর ভর্ৎসনা করছেন। এর ফলে এক সময় সরকারকে ভালো পরামর্শ দেয়ার লোকও পাওয়া যাবে না।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, আচরণের কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ধীরে ধীরে বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। গত চার বছরে সরকার যা করেছে তা সরকারের ভেতরের লোকেরাই মেনে নিতে পারছে না। গুম, খুন, নির্যাতন, রিমান্ড ও রাজনৈতিকবিদদের ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে সরকার। বিচার বিভাগকে দলীয়করণের মাধ্যমে মানুষকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। হলমার্ক ও পদ্মা সেতু দুর্নীতির মাধ্যমে সরকার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে বিশ্ব ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে সরকারের ভাবমর্যাদা ুণœ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কই পারে চলমান সঙ্কট নিরসন করতে। স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটানোর জন্য বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী একত্রে রাজপথে আন্দোলন করেছে। ওই সময় এই তিন দলের নেতাদের মধ্যে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সর্ম্পক। ফলে দেশের রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। বস্তুত রাজনীতির গতিপ্রবাহই পাল্টে গিয়েছিল। প্রাণ ফিরে পেয়েছিল স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকা গণতন্ত্র। যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন না হয় তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কাটা থেকেই যাবে।
