১. গত ২ জানুয়ারি মালিবাগ রামপুরা রোডে জামায়াতের মিছিল ২. জামায়াতের মিছিলে পুলিশের গুলি ৩. পুলিশের গুলিতে আহত এক জামায়াত কর্মী
নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ গুলিবিদ্ধ ২৫
স্টাফ রিপোর্টার: ২ জানুয়ারি রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ ২৫ জন গুলিবিদ্ধ ও ৪০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০-১২ জন জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মালিবাগ মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে রামপুরা রোডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ অর্তকিতে মিছিলকারীদের উপর হামলা চালায়। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মালিবাগ হতে রামপুরার দিকে যাওয়ার পথে পিছন থেকে পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশের অতর্কিত গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, নিক্ষেপের কারণে জামায়াতকর্মীরা দিগি¦দিক ছড়িয়ে পড়ে।
মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জানান, নুরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বিনা কারণে হামলা চালায়। পুলিশের হামলায় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অনন্ত ৪০ জন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিােভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী জামায়াত এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। রামপুরা- মালিবাগ রোডে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এ ঘটনা ঘটে। তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কারারুদ্ধ আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহান ও ছাত্রীসংস্থার নেত্রী এবং বিরোধীদলের কারাগারে বন্দী সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও জনদুর্ভোগ লাঘব এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে পুনর্বহাল করার দাবীতে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর প থেকে ২ জানুয়ারি সারাদেশব্যাপী বিােভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ১ জানুয়ারি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি ঘোষণাকালে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপি কেলেংকারি সংলাপ ফাঁস হওয়া ও ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে জালিয়াতির কারণে পদত্যাগের পরে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বিশ্বাস যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ঐ ট্রাইব্যুনাল দেশে-বিদেশে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। সুতরাং অবিলম্বে এ ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কারাগারে বন্দী বিরোধীদলের সকল নেতা-কর্মীকে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কারারুদ্ধ আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহানসহ ছাত্রী সংস্থার নেত্রীদের মুক্তি দিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে হবে না। দেশবাসী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে জনগণ এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করতে হবে। দেশের জনগণের মতামত উপো করে সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাতিল করে ধর্মনিরপেতা ও সমাজতন্ত্র বহাল করেছে। সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালের দাবিতে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ।
