দেলাওয়ার ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও আবদুল জব্বার সেক্রেটারি
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। বাকশালী শাসনের ফলে গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চলছে সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্র। এ অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা, ইসলাম ও গণতন্ত্র রার আন্দোলনে নতুন বছরে নতুন শপথ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রশিবির। গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০১৩ সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়ে মো. দেলাওয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০১৩ সেশনের জন্য সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মো.দেলাওয়ার হোসেন সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত এবং মো.আবদুল জব্বার সেক্রেটারি পুনঃমনোনীত হয়েছেন। গত ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এ তিন দিন সারা দেশে একযোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
৩০ ডিসেম্বর রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং নবনির্বাচিত সভাপতির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি মো.দেলাওয়ার হোসেন ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী ২০১৩ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে মো. আবদুল জব্বারকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।
শপথ পরবর্তী বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, আওয়ামী সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ধারাবাহিক খুন, গুমের ফলে মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এইসব খুন, গুমের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙ্গুল সরকারের দিকেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে একদিকে বিশ্বজিত হত্যার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে বিকাশের মত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই চলছে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্রশিবিরের ইবির দুই নেতা আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে এ বছরের শুরুতে র্যাব গ্রেফতার করে গুম করে ফেলে। শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সীমাহীন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পুলিশ গুলি করে জয়পুরহাটে বদিউজ্জামান ও দিনাজপুরে মুজাহিদকে শহীদ করেছে। সরকার বিডিআরের মতো পুলিশকেও বিতর্কিত ও মর্যাদাহীন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদেরকে দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করছে। পুলিশকে সরকারি পেটোয়া বাহিনীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। শিবির সভাপতি বলেন. দেশ এক কঠিন সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না আনতে সরকারের একগুয়েমি দেশকে কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি শিক্ষাঙ্গনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মাধ্যমে দেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে। ছাত্রসমাজকে বিপথগামী করতে পরিকল্পিতভাবে ধর্মবিমুখ করা হচ্ছে। সরকার বিদেশী সংস্কৃতি আমদানিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশজ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে অনৈতিকতার সয়লাবে দেশ ভেসে যাচ্ছে। নানা দিক থেকেই দেশকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেয়া এই সরকারকে দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেলাওয়ার বলেন,ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকার ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জামায়াত নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আটকে রেখে অবৈধ ট্রাইবুনাল গঠন করে যে প্রহসন চালানো হচ্ছে তা আজ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। চারদিক থেকেই এই প্রহসনের বিচার বন্ধ করার দাবি উঠলেও সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গোঁয়ারের মতো পথ চলছে। এই সরকারের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে ইসলামপ্রিয় তাওহীদি জনতাসহ মুসলিম বিশ্ব আজ ুব্ধ। সরকারের ইসলাম বিরোধী অবস্থানের ফলে ইতোমধ্যেই মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। বিদেশে বাংলাদেশ আজ শ্রমবাজার হারিয়ে ফেলছে। দেশকে পতনের তলানীতে নিতে থাকা এই সরকারকে আর কোনোভাবেই ক্ষমতায় থাকতে দেয়া যায় না। উল্লেখ্য, প্রতি বছর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের ফলে গত দুই বছরের ন্যায় এবারো সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এবারো নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়নের কাজ কার্যকরী পরিষদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে ২০১২ সেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সমাপনী অধিবেশন সম্পন্ন করা হয়। ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো.দেলাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল জববারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্য ছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন এবং ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক।
