ঢাকা, শুক্রবার, ২১ পৌষ ১৪১৯, ২১ সফর ১৪৩৪, ৪ জানুয়ারি ২০১৩

বর্তমান মহাজোট সরকার ৪ বছর অতিক্রম করেছে, সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র এক বছর। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তুলে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার নয়া পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। নয়া পদ্ধতিতে সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের প্রকৃত মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আর অক্টোবর মাস থেকে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

বর্তমান সরকার বিগত নির্বাচনে তার মেনিফেস্টোতে বলেছিল দেশ ও দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য  আমাদের অঙ্গীকার ও কর্মসূচি হচ্ছে সঙ্কটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ সুখী সুন্দর জীবন গড়ে তোলা। এলক্ষ্যে তারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দারিদ্র্য ঘুচাও বৈষম্য রুখো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাঁচটি বিষয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। এছাড়াও আরো অনেক অঙ্গীকারের কথা আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের নীতিমালায় বলা হয়েছিল ক্ষমতায় আসলে তারা ঘরে ঘরে চাকরির ব্যবস্থা করবে। এককথায় আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোতে খুবই আকর্ষণীয় করে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু চার বছর শেষে আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে তার অধিকাংশই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে ঘরে ঘরে চাকরির ক্ষেত্রেও সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে। সুশাসনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমে প্রকাশ করা হবে এবং দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যসহ এমপি ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রকাশ করা হয়নি।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বরং দেশে একটি নয়া রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। বিশেষ কারণে আমাদের দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিগত চারটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায়ই অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুইটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচন করেই আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় এসেছে। অথচ আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের আওতায় নির্বাচন করার ব্যবস্থা চালু করেছে যা এদেশের আপামর জনগণ সমর্থন করেনি।

বিগত চার বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এ সময়ে সরকারের অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি। অপরদিকে সরকার দেশে আরো নতুন সঙ্কট তৈরি করেছে। যে সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার কারণ হচ্ছে সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মসূচি নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। আমরা মনে করি সরকারের হাতে এখনও এক বছর সময় আছে এ সময়ে সরকার যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে তাহলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এ কামনা করি।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com