ঢাকা, শুক্রবার, ২১ পৌষ ১৪১৯, ২১ সফর ১৪৩৪, ৪ জানুয়ারি ২০১৩

হতাশ করলেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

তরুণ সমাজ ধর্মের কালজয়ী আদর্শকে গ্রহণ করছে

আবুল ওয়াফী
সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের একটি লেখা অনেকের মতো আমাকেও দারুণভাবে হতাশ করেছে। জাফর ইকবালের লেখার আমি একজন মনোযোগী পাঠক। তিনি দেশের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও কথাশিল্পী। ছোটদের জন্য তার লেখালেখির কারণে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তাছাড়া একজন মুক্তমনের প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ বলেও তাকে মনে করা হয়। কিন্তু ‘তোমরা যারা শিবির করো’ শিরোনামে জাফর ইকবালের লেখাটি পাঠ করে দারুণভাবে হোঁচট খেতে হলো। তিনি লিখেছেন, একজন কুণ্ঠিতভাবে আমার হাতে দু’টি বই তুলে দিয়ে বললো, স্যার, আপনাকে বই দু’টি দিতে এসেছি। আমি বই দু’টি নিলাম। বিজ্ঞানের উপর চমৎকার দু’টি বই, হাতে নিয়ে বললাম, ‘থ্যাংকু। সুন্দর পাবলিকেশন্স। তারপর বই দু’টি খুললাম, ভেতরে লেখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মুহূর্তে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেল।’ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম দেখেই তিনি যে প্রতিক্রিয়ার কথা নিজেই উল্লেখ করেছেন তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর উগ্রবাদেরই প্রকাশ! একজন মুক্তমনা ও প্রগতিশীল শিক্ষকের ভিন্নমতের একটি ছাত্র সংগঠনের নাম দেখেই তার ‘সারা শরীর শক্ত হয়ে’ যাবার ঘটনা রীতিমত আতঙ্কিত হবার মতো। তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি ছাত্রদের বই দু’টি ফেরত দিয়ে অত্যন্ত কঠিন গলায় বললাম, জামায়াতে ইসলামীকে আমি কোন চোখে দেখি, তোমরা জানো না? তোমরা সেই দলের মানুষ হয়ে তোমাদের সংগঠনের বই আমাকে উপহার দিতে এসেছ? তোমরা আমাকে চেনো না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে জাফর ইকবাল তার চরম উগ্রবাদী এবং একদেশদর্শী মানসিকতারই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ‘আমি কোন চোখে দেখি’ বলে তিনি নিজেই কার্যত স্বীকার করেছেন যে, তিনি একটি রঙিন চশমা পড়েছেন যাতে তিনি সবকিছু সেই রঙিন চোখেই দেখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা অধ্যাপনা করেন সেই জ্ঞানীগুণী ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা হয়ে থাকেন জ্ঞানের সাধক, সহনশীল, নমনীয় এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এ কি উগ্রমূর্তি মুহাম্মদ জাফর ইকবালের! সেই তুলনায় তো যে ছাত্র দু’টি জাফর ইকবালের রাজনৈতিক মতাদর্শ জানার পর বিজ্ঞানের উপর প্রকাশিত তাদের দু’টি বই দিতে গিয়েছিল। তারা অনেক বেশি উদার ও মুক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে। যে বই দু’টির প্রশংসা জাফর ইকবাল নিজেই করেছেন, ‘চমৎকার বই’, ‘সুন্দর পাবলিকেশন্স’ বলে তেমন কোনো একটি বইও কি অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন তার হাতে তুলে দিতে পেরেছে?

জাফর ইকবাল লিখেছেন, ‘আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একটি নতুন বাংলাদেশের সন্তান এবং তারা বড় হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দেবে। আমি যখন সেই কথাটা তাদের বলি, আমার ধারণা, তারা আমার কথা বিশ্বাস করে। তাই তাদের অনেকেই আমার কাছে উৎসাহের কথা, অনুপ্রেরণা কিংবা স্বপ্নের কথা শুনতে আসে। শিবিরের এই দু’টি ছেলে নিশ্চয়ই ভেবেছিল, তাদের এই চমৎকার বই দু’টি আমাকে মুগ্ধ করবে, আমি উৎসাহ  সূচক কিছু বলব। অন্য দশজন তরুণের মতো তারা ও এক ধরনের দাবি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি তাদের আশা পূরণ করতে পারিনি। আমার ভয়ঙ্কর রকমের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে তারা নিশ্চয়ই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।’ জাফর ইকবালের কাছে প্রশ্ন, নতুন বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে যারা বড়  হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দেবে, বলে তিনি মনে প্রাণে যে বিশ্বাস পোষণ করেন তারা কারা? যারা চাঁদাবাজি করে, টেন্ডারবাজি করে, ভর্তি বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্য করে, শিক্ষক পিটায়, ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়, সহকর্মীদের হত্যা করে, চাপাতি-বন্দুক-পিস্তল দিয়ে মানুষ খুন করে, ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে তারা কি জাফর ইকবালের বিশ্বাস মতে ‘বড় হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দিতে’ পারবে? নাকি যারা এই পরিবেশেও বিজ্ঞানের উপর চমৎকার সুন্দর বই পাবলিস করতে সক্ষম তারাই দেশটাকে বদলে দিতে পারবে। ছাত্রশিবিরের যে ছেলেদের ১৯৭১ সালে জন্মও হয়নি জাফর ইকবাল কেন তাদেরকে ১৯৭১ সালের জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন তা আমার বোধগম্য নয়। জাফর ইকবালের তীব্র প্রতিক্রিয়াটা কি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে না ইসলামের বিরুদ্ধে? তাছাড়া ১৯৭১ সালের জামায়াতে ইসলামী তো নেই। বাংলাদেশ যেমন তার ভাষায় ‘একটি নতুন বাংলাদেশ’ জামায়াতে ইসলামীও তো একটি নতুন জামায়াতে ইসলামী। ইসলামের ব্যাপারে তার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে এতটা ভয়ঙ্কর এবং হতবুদ্ধি করার মতো প্রতিক্রিয়া দেখানোর কি আছে?

অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের আলোচিত লেখাটিতে যে ধরনের জ্ঞানের গভীরতা, স্বচ্ছতা, সত্যানুসন্ধিতা বা আদর্শিক দিগদর্শন থাকা উচিত ছিল তার কোনোটারই সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেছেন, ‘যে বয়সটি হচ্ছে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার বয়স’। একটা বিশেষ বয়সেই মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে হবে আর বাকি বয়সে কি মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা থাকতে নেই? তিনি লিখেছেন, যে বয়সে তাদের স্বপ্ন দেখার কথা দেশের বড় বড় লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক নিয়ে’Ñ তার একথাগুলো বিভ্রান্তিকর। কোনো দেশের তরুণ কখনো এসব নিয়ে স্বপ্ন দেখে না। কারণ বড় বড়, লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক সামগ্রিকভাবে কোনো দেশে অবদান রাখলেও তাদের আবেদন চিরঞ্জীব বা কালজয়ী নয়। ইতিহাসে অনেক বীর, দার্শনিক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, আইনজ্ঞ, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা-বাগ্মীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং সভ্যতার বিকাশে মানব জাতির জীবনমান উন্নয়নে অসাধারণ এবং অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন তারা। এইসব মহান ব্যক্তিদের কথা ইতিহাস স্মরণ করবে। কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে আরেক দল মহামানবের আবির্ভাব হয়েছে যারা হচ্ছেন নবী-রাসূল ও আম্বিয়ায়ে কেরামগণ যারা মানবজাতিকে সত্য, ন্যায়, সুবিচার, মহানুভবতারআদর্শ উপহার দিয়েছেন যা চিরঞ্জীব ও কালজয়ী। জাফর ইকবাল যদি তাদের মতো উন্নত চরিত্র, নৈতিকতার শক্তিতে বলীয়ান মহামানব ও সত্যের সাধকদের নিয়ে যুব সমাজকে স্বপ্ন দেখার কথা বলতে পারতেন তাহলে সেটা হতে পারতো সত্যিকারের দিগদর্শন। তিনি ‘পয়লা বৈশাখ রাজপথে রবীন্দ্র সঙ্গীত’ গাওয়ার কথা বলেছেন। প্রশ্ন হলো যেসব দেশে রবীন্দ্র সঙ্গীত নেই সেখানকার যুবকরা কি দিয়ে অনুপ্রাণিত হবে? তিনি ‘মুক্তচিন্তার কথা’ বলেছেন এবং ‘আদর্শ নিয়ে ভাবালুতায় ডুবে যাওয়ার কথা’ বলেছেন। এই মুক্ত চিন্তা বা আদর্শটা কি তা কিন্তু সুস্পষ্ট করে বলেননি।

‘যে বয়সে ছেলেমেয়ের ভেতর সহজ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম নেয়ার কথা, সেই বয়সে তারা সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শিখে’  বলে তিনি কিসের ইঙ্গিত করেছেন? ছাত্রশিবিরের ছেলেরা যেহেতু মেয়েদের সাথে উদ্দাম মেলামেশা করে না বা পর্দা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করে, এটাকেই তিনি বলেছেন ‘সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শিখে’। হায়রে কপাল এই ধরনের বিকৃত চিন্তার শিক্ষকদের কারণেই হয়তো আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে তা উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন পর্যন্ত করা হয়!

আমার কাছে ভীষণ খারাপ লেগেছে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তার এই আলোচিত লেখাটিতে কয়েকটি গল্পের অবতারণা করেছেন। যেমন একটি গল্প ‘আমার মনে আছে, আমি বহুকাল পরে যখন প্রথম এই দেশে ফিরে এসেছিলাম, তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা মিছিল দেখে এক ধরনের অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন লক্ষ্য করেছিলাম একজন ছাত্র তার হাতের ফাইল দিয়ে নিজের মুখটি ঢেকে রেখেছে। যেন আমি তার মুখটা দেখতে না পারি। আমার সামনে এই পরিচয় দিতে তার লজ্জা ...।’ এটা যে নিতান্তই একটি গল্প তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আরেকটি গল্প ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র একবার আমাকে একটি  এসএমএস করে জানিয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধার  সন্তান, খুব ভালো ছাত্র এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার খুবই ইচ্ছা। তার বিভাগীয় প্রধান জামায়াতে ইসলামীর লোক এবং তাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে সে যদি শিবির না করে তাহলে তাকে শিক্ষক হতে দেয়া হবে না। সেজন্য সে শিবিরে যোগ দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তার কোনো অহঙ্কার নেই’। একজন ছাত্র কেন শিবির করে তার একটি উত্তর তিনি নাকি এর মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন। তার মতে তরুণরা শিবির করে ‘কোনো স্বপ্ন নয়, কোনো আদর্শ নয়, শুধু স্বার্থ, শুধু চাওয়া-পাওয়া’। জনাব জাফর ইকবালের কাছে প্রশ্ন লাখ লাখ ছাত্র ছাত্রশিবির করে। তারা কি সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার জন্য শিবির করে? তিনি আরও লিখেছেনÑ এই দলে যোগ দিলে চাকরি পাওয়া যায়, হলে সিট পাওয়া যায়, কলেজে ভর্তি হওয়া যায়। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, আদর্শ ছাড়া খুব বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। শিবিরের যদি কোনো আদর্শই না থাকবে তাহলে এই সংগঠনটি টিকে আছে কেমন করে বা এতটা অগ্রসরই হচ্ছে কেন যা জাফর ইকবালদের মাথা ব্যথার কারণ সৃষ্টি করেছে?

নিবন্ধের শেষের দিকে সত্য কথা বলার নাম করে তিনি যা বলেছেন তা তার চরম মিথ্যাচার অথবা নিদারুণ অজ্ঞতা। তিনি তো বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম শুনলে তার শরীর শক্ত হয়ে যায়। সুতরাং জামায়াত বা শিবির সম্পর্কে তিনি সঠিক কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন মনে করেননি বা সত্যানুসন্ধান না করেই একটি বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে বসে আছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা যারা শিবির করো, তারা সম্ভবত কখনোই খোলা মন নিয়ে ... কারও সাথে কথা বলো না।’ এ কথাটি শিবিরের জন্য নয় বরং অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের জন্যই প্রযোজ্য। এ লেখার শুরুতে তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন শিবিরের দুইজন ছেলে তার সাথে কথা বলতে গিয়েছিল এবং তিনি তাদের সাথে খোলা মনে আলাপ করার পরিবর্তে যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন যাতে শিবিরের ছেলে দু’জন ‘হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল’।

লেখাটির শেষাংশে জাফর ইকবাল বদলে যাওয়া নতুন পৃথিবীর কথা বলেছেন, ‘নতুন পৃথিবী হচ্ছে মুক্তচিন্তার, পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক একটা পৃথিবী। এই নতুন পৃথিবীর মানুষেরা অসাধারণ, তারা একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছে, একে অন্যের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে শিখেছে, একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দিতে শিখেছে’।

প্রশ্ন হচ্ছে জাফর ইকবাল কি নিজেকে মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বা অন্যের চিন্তাকে আদৌ কোনো মূল্য দিতে শিখেছেন, ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছেন? শিবিরের ছাত্র দু’জনের সাথে জাফর ইকবাল যে ধরনের আচরণ করেছেন তা কোনো মুক্তচিন্তার পরিচায়ক নয়। ‘জামায়াতে ইসলামীকে তিনি কোন চোখে দেখেন’ একথা ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজেই জানান দিয়েছেন, অন্যের চিন্তার মূল্য তিনি দেন না বা অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও করতে জানেন না। তিনি তার সংকীর্ণ চিন্তা ও ধ্যান-ধারণার বাইরে আসতে ব্যর্থ। জাফর ইকবাল আরেকটি মন্তব্য করেছেন, এই নতুন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কোনো বিভাজন নেই’। পৃথিবী সম্পর্কে যারা খোঁজ-খবর রাখেন তারাই ভালো বলতে পারবেন তার এই মূল্যায়ন কতটা সঠিক। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, নৃতত্ত্ব এবং অর্থনৈতিক বিভাজনের কি চিত্র বিশ্ববাসী দেখছে মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, সিরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিস্তিন, চেচনিয়া, রাশিয়া, চীন, আমেরিকাসহ বিশ্বের দিকে দিকে। মানুষে মানুষে বিভাজন বর্তমান সভ্যতা ক্ষত-বিক্ষত এবং বিপর্যস্ত। অশান্ত এই পৃথিবীতে চলছে সংঘাত, সন্ত্রাস, বৈষম্য, বিভাজন এবং বড় বিপন্ন পৃথিবী নামের এই গ্রহের মানুষগুলো। মানুষ মানুষকে পিটিয়ে মারছে, মানুষ মানুষকে অপহরণ করছে, মানুষ পশুত্বকে হার মানিয়েছে; প্রতিনিয়ত মানুষের ঘৃণ্য অপরাধ চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে পত্র-পত্রিকায়, টেলিভিশনে ইন্টারনেটে, ব্লগে। এই নতুন পৃথিবীর মনোলোভা চিত্র এঁকে জাফর ইকবাল যে চমক সৃষ্টি করে তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন তার সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। তার এতটা অগভীর এবং বাস্তবতাবিবর্জিত মূল্যায়নে অনেকেই নিশ্চিতভাবে হতাশ হবেন।

জাফর ইকবালকে স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজন মনে করছি যে, শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বের তরুণ সমাজই পারে বিশ্বটাকে বদলে দিতে। বিশ্বটাকে বদলে দিয়ে নতুন এক বিশ্ব গড়ে তোলার কাজটা ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী শুরু হয়ে গিয়েছে। জাফর ইকবালদের মতো যারা ইসলামকে সাম্প্রদায়িকতা বলে গণ্য করেন, কোনো ইসলামী সংগঠনের নাম দেখলে যাদের ‘শরীর শক্ত হয়ে যায়’, কোনো ইসলামী দলকে যারা বিশেষ চোখে দেখেন, ধর্মহীনতা বা অধার্মিকতাকে যারা উৎসাহিত করেন, মুসলমান হয়েও যারা ইসলাম নিয়ে গর্ব অনুভব করেন না বা ইসলামের পক্ষ অবলম্বন করতে হীনম্মন্যতায় ভোগেন তারা যতই বিভ্রান্ত থাকুন বা ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করুন না কেন নতুন বিশ্বের জাগ্রত তরুণ সমাজ  তাদের মোকাবেলা বা উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাবে। ধর্মের অন্তর্নিহিত শক্তিই মানব সভ্যতার জীয়নকাঠি ও নির্মাতা। তরুণ সমাজ দেশে দেশে অধার্মিক বা ধর্মহীন শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে এবং ধর্মের সার্বজনীন, কালজয়ী আদর্শকে গ্রহণ করছে। ওরাই ঝঞ্ঝা-বিুব্ধ, অশান্ত এবং বিপন্ন এই বিশ্বটাকে বদলে দিয়ে একটি নতুন বিশ্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হবে আশা করা যায়। ভোগবাদ ও বস্তুবাদকে পদাঘাত করেই এগিয়ে যাবে সেই তরুণ সমাজ।

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com